যাই হোক কোন রকম গোলমাল না করে আমি অন্য পথ ধরবো ঠিক করলাম। আমি এখনও বিশ্বাস করি না আপনি চলে যেতে চান। এই ভাড়া খাটানোর ব্যাপারে আমার বহু বছরের অভিজ্ঞতায় আমি মানব চরিত্র বেশ বুঝতে শিখেছি আর আমি প্রথমেই বুঝতে পেরেছি আপনি এক কথার মানুষ। আসলে, আমি এতই নিশ্চিত যে বাজি ধরতেও আমি রাজি।
এখন আমার প্রস্তাব হলো, আপনার মতটা কটা দিন চাপা রেখে আর একবার ভাবুন। এরপর আপনি যদি আজ থেকে মাসের প্রথমে যখন ভাড়া নেওয়া হয় তখন আসেন আর আমায় বলেন আপনি চলে যেতে চান তাহলে ধরে নেব আপনার মতটাই ঠিক। আপনি চলে যেতে চান। তাহলে বুঝবো আপনার কথাটাই ঠিক আর আমার ধারণা ভুল। তবে আমি এখনও বিশ্বাস করি যে আপনি এক কথার মানুষ আর চুক্তি মেনে চলবেন। তাছাড়া চুক্তি অনুসারে আমরা হয় মানুষ না হয় বাদরবেছে নেবার ব্যাপারটা আমাদেরই।
যাই হোক নতুন মাস পড়লে ঐ ভদ্রলোক স্বয়ং এসে তার ভাড়া দিয়ে গেলেন। তিনি আর তার স্ত্রী, দুজনে আলোচনা করে থেকে যাওয়াই ঠিক করেন। তারা ঠিক করেন সম্মানের কাজ হলো লীজের চুক্তিটা মেনে চলা।
প্রয়াত লর্ড নর্থক্লিফ জীবিতকালে একবার সংবাদপত্রে তাঁর একটা ছবি প্রকাশ হলো। যেটা তিনি চাননি। তিনি সম্পাদককে একটা চিঠি লেখেন। তাতে তিনি কি লিখেছিলেন : দয়া করে আমার ঐ ছবি আর ছাপবেন না, আমার ওটা পছন্দ নয়। না, তিনি মানুষের মহত্ত্বের আর মাকে ভালবাসার নীতির কাছে আবেদন রেখেছিলেন, তিনি লেখেন : দয়া করে আমার এই ছবি আর ছাপবেন না, ওটা আমার মায়ের পছন্দ নয়।
জন ডি, রকফেলার (ছোট) যখন তার ছেলেমেয়েদের ছবি কাগজে ছাপতে দেয়া পছন্দ করতেন না তখন তিনি হৃদয়ের কাছে আবেদন রাখতেন। তিনি কখনই বলতেন না, আমি চাই না ওদের ছবি ছাপা হোক।’ তিনি যা চাইতেন তা হলো ছেলেমেয়েদের যাতে ক্ষতি না হয়। তিনি বলেছিলেন : আপনারা তো জানেন, ছেলেরা কেমন। আপনাদের নিজেদেরও তো ছেলেমেয়ে আছে। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন তাদের বেশি প্রচার করা ক্ষতিকর।
সাইরাস এইচ কে, কার্টিস মেইনের যে দরিদ্র ছেলেটি তার উল্কাগতি জীবনে লক্ষ লক্ষ টাকা করেছিলেন ‘দি স্যাটারডে ইভনিং পোস্ট’ আর ‘লেডিজ হোম জার্নালের মালিক হয়ে–তিনিও গোড়ায় যখন শুরু করেন তখন অন্যান্য কাগজের মত লেখার জন্য টাকা দিতে পারতেন না। শুধু টাকার জন্য বড় বড় লেখকদের দিয়ে তিনি লেখাতে পারতেন না। তাই তিনি তাদের হৃদয়ের কাছেই আবেদন রাখতেন। যেমন একটা উদাহরণ দিচ্ছি–তিনি অমর সাহিত্যিক লিটল উইমেনের লেখিকা লুইশা মে অ্যালক্ট যখন তাঁর খ্যাতির মধ্যগগনে তাঁকে দিয়েও লেখাতে পেরেছিলেন। তিনি সেটা করতে পেরেছিলেন, অ্যালক্টের পছন্দ মত প্রিয় দাঁতব্য প্রতিষ্ঠানে একশ ডলার দান করে।
ঠিক এখানেই সন্দিহান মানুষেরা বলতে পারেন : ‘ওহ্ এধরনের কথা নর্থক্লিফ বা রকফেলার মত অর্থবান বা ভাবপ্রবণ উন্নাসিকের পক্ষে ঠিক আছে। তবে যে সব কাঠখোট্টা শক্ত মানুষের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করতে হয় তাদের কাছে এর কদর কতটা সেটাই দেখার বিষয়।’
আপনি হয়তো ঠিক। এ ব্যাপারে এটা চলবে না–আর সবক্ষেত্রেই যে কাজ হবে তাও ঠিক নয়। তবে এখন যে ফল পাচ্ছেন তাতে যদি সন্তুষ্ট থাকেন তাহলে বদলাবার চেষ্টা করবেন কেন? আর যদি সন্তুষ্ট না হন তাহলে পরীক্ষা করে দেখতে দোষ কী?
যাই হোক, আমার একজন প্রাক্তন ছাত্র জেমস এল, টমাসের বলা সত্য কাহিনী পড়তে ভালোই লাগবে।
গল্পটা এর রকম।
কোন মোটর গাড়ি কোম্পানির ছয়জন ক্রেতা গাড়ি সাফাই বা সারানোর টাকা দিতে অস্বীকার করে। কেউই পুরো বিল ভুল তা বলেনি, তবে তারা প্রত্যেকেই দাবি জানায় কোন একটা দাবি ভুল। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই প্রত্যেকে প্রতিটি অংশে সই করেছিল, তাই কোম্পানী জানতো বিল ঠিকই ছিল–আর তারা তাই বলে দেয়। এটাই ছিল প্রথম ভুল।
কোম্পানির টাকা আদায়কারী দপ্তর পাওনা টাকা আদায় করতে এই পথ নেয়। আপনার কি ধারণা তারা সফল হয়?
১। তারা প্রত্যেক খরিদ্দারের কাছে সোজাসুজি গিয়ে জানায় তারা টাকা আদায় করতে এসেছে, সেটা অনেক দিন বাকি পড়ে আছে।
২। তারা পরিষ্কার করে জানায় কোম্পানী সম্পূর্ণ ঠিক আর ক্রেতা অর্থাৎ তারা সম্পূর্ণ ভুল।
৩। তারা আরও জানালো, কোম্পানী গাড়ির ব্যাপারে যা জানার তার চেয়ে অনেক বেশি জানে। তাহলে তর্কাতর্কির ব্যাপার কোথায়?
৪। ফলাফল : তারা তর্ক করতে শুরু করে।
এই পথের কোনটায় কি ক্রেতা খুশি হলো আর পাওনাও মিটে যায়? সেটা নিজেই বুঝতে পারবেন।
আসলে এর ফলে অবস্থাটা এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়ায় যে কোম্পানি প্রায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মনস্থ করে। ঠিক তখনই ব্যাপারটা কোম্পানীর জেনারেল ম্যানেজারের নজরে আসে। ম্যানেজার ওই ব্যাপারে খোঁজ নেন। তিনি জানতে পারলেন ক্রেতারা সবাই অতীতে তাদের পাওয়া ঠিক মতই মিটিয়ে দিয়েছেন। অতএব কোথাও কোন ভুল হয়েছে–আর সে ভুল আদায় পদ্ধতির মধ্যে আছে। অতএব তিনি জেমস এল. টমাসকে ডেকে টাকাটা আদায়ের দায়িত্ব দিলেন।
মিঃ টমাস নিচের পদ্ধতি গ্রহণ করেন।
১। প্রত্যেক ক্রেতার কাছে প্রথম যাওয়ার পর মি. টমাস বলেছেন, আমার মনে ছিল এ বিলটা অনেকদিনের পাওনা–আর আমাদের কথাই সম্পূর্ণ ঠিক। তবে আমি সে সম্পর্কে একটা কথাও বলিনি। আমি জানালাম আমি জানতে এসেছি কোম্পানি কি করেছে আর কি করেনি।
