‘ওই চিঠি লেখার দুদিনের মধ্যে হোয়াইট হাউসে একটা সঙ্গীতের আসর বসানো হয় প্রথম যে দুজন মিসেস ট্যাফট আর আমাকে সম্ভাষণ জানালো তারা ওই স্বামী-স্ত্রী। যদিও স্ত্রীর নাকি সাংঘাতিক রোগ!’
এস. হুরক হলেন আমেরিকার এক নম্বর সঙ্গীত সংগঠনকারী। প্রায় বিশ বছর ধরে তিনি শিল্পীদের নিয়ে কাজ করছেন–তাঁদের মধ্যে ছিলেন এইসব বিখ্যাত শিল্পীরা, যেমন চ্যালিয়াপিন, ইসাডোরা ডানকান আর পাভলোভা। মিঃ হুরক আমায় বলেন যে খেয়ালী শিল্পীদের নিয়ে চলতে গিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা হলো,এই সব শিল্পীদের জন্য দরকার সহানুভূতি–একমাত্র সহানুভূতি দেখিয়েই এই সব খেয়ালীদের এড়ানো যায়।
তিন বছর যাবৎ তিনি ছিলেন ফিওডোর চ্যালিয়াপিনের সঙ্গীত সংগঠক। চ্যালিয়াপিন ছিলেন খ্যাতিমান শিল্পী, তাঁর মত কেউই গান গেয়ে মাতিয়ে তুলতে পারেনি। তবু চ্যালিয়াপিন ছিলেন সব সময় একটা সমস্যা। ঠিক যেন একেবারে কোন দুষ্টু ছেলে। চ্যালিযানপিন কেমন ছিলেন সেটা মিঃ হুক নিজেই বলেন : ‘সব দিক দিয়েই সে অতি জঘন্য।’
উদাহরণ দিলেই ব্যাপারটা বোঝা যাবে। চ্যালিয়াপিন হয়তো যেদিন গাইবার কথা সেদিন দুপুরের দিকে মিঃ হুরকের কাছে ফোন করে বললেন, ‘আমার দারুণ শরীর খারাপ। আমার গলা ফুলে ঢোল। আজ রাতে গান গাওয়া অসম্ভব।’
মিঃ হুরক কি তা শুনে তর্ক জুড়ে দিতেন? মোটেই না। তিনি জানতেন এভাবে কখনও এই সব শিল্পীদের দিয়ে কাজ করানো যায় না। বরং তিনি বেশ সহানুভূতি নিয়ে হোটেলে ছুটে গিয়ে বলতেন : ‘কি দুঃখের কথা! বেচারি! অবশ্যই আপনার পক্ষে গান গাওয়া সম্ভব নয়। আমি এখনই অনুষ্ঠান বাতিল করছি। এতে অবশ্য আপনার কয়েক হাজার ডলার ক্ষতি হবে, তা যাক, আপনার খ্যাতির পক্ষে তা কিছুই না।’
চ্যালিয়াপিন তাতে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতেন : ‘একবার বিকেলের দিকে এসো দেখা যাক কেমন থাকি।’
পাঁচটার সময় মিঃ হুরক আবার হোটেলে ছুটলেন সেই সহানুভূতি নিয়ে। আবার তিনি অনুষ্ঠান বাতিল করতে চাইলেন। আবারও চ্যালিয়াপিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, আরও পরে একবার এসো। তখন হয়তো ভালো হয়ে যেতে পারি।
সাড়ে সাতটায় সময় চ্যালিয়াপিন গান গাইতে রাজী হলেন তবে একটা শর্তে, মিঃ হুরককে ঘোষণা করতে হবে তাঁর গলা আজ ভালো নেই। মিঃ হুরক মিথ্যে করে বলতেন তাই করবেন। কারণ তিনি জানতেন এছাড়া তাকে স্টেজে নামানো যাবে না।
ডঃ আর্থার আই. গেটস তাঁর এডুকেশনাল সাইকোলজিতে বলেছেন : সারা পৃথিবীর মানুষই সহানুভূতির কাঙাল। শিশু আগ্রহ নিয়ে তার আঘাত দেখাতে চায় বা ইচ্ছে করে কাটাকুটি করে বাবা মার সহানুভূতি আকর্ষণ করে। বয়স্করাও তাই করে … তাদের আঘাত, দুর্ঘটনা বা রোগের কথা বাড়িয়েই বলতে চায়। উদ্দেশ্য সহানুভূতি আকর্ষণ। নিজেকে করুণা করা প্রায় সব মানুষের মধ্যেই আছে।
অতএব যদি অপরকে স্বমতে আনতে চান ৯ নম্বর নিয়ম হল :
অপরের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করুন।
১৯. সকলের পছন্দসই আবেদন
উনবিংশ পরিচ্ছেদ
সকলের পছন্দসই আবেদন
আমি আমেরিকার মিসৌরীতে জেসি জেমসের খামারের কাছে মানুষ হয়েছিলাম। কিয়ারশীতে জেসি জেমসের খামার ঘুরেও আমি দেখেছি। সেখানে জেসি জেমসের ছেলে এখনও বাস করেন।
তার স্ত্রী আমাকে অনেক কাহিনী শুনিয়ে বলেছেন জেসি কেমন করে ট্রেন লুট করতেন আর ব্যাঙ্ক ডাকাতি করে সেইসব টাকা পয়সা আশে পাশের চাষীদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন যাতে তারা বন্ধকী সম্পত্তি উদ্ধার করতে পারে।
জেসি জেমস নিজেকে একজন আদর্শবাদী বলে ভাবতেন, ঠিক যেমন ডাচ শুলজ, ‘দুই বন্দুক’ ক্রাউলে আর অল ক্যাপোন দুই প্রজন্ম পরে ভেবেছে। আসল কথাটা হলো আপনি যাকেই দেখুন–এমন কি আয়নায় যাকে দেখবেন তারই নিজের সম্পর্কে বেশ একটা উঁচু ধারণা আছে। সে নিজের সম্পর্কে ভাবতে চায় সে চমৎকার আর নিঃস্বার্থ।
জে, পিয়েরপন্ট মর্গ্যান তাঁর এক বিশ্লেষণে বলেছিলেন যে কোন মানুষের কাজ করার পিছনে দুটো কারণ কাজ করে। একটা যা শুনতে ভালো আর একটা আসল।
লোকটি কিন্তু আসল কারণটাই ভাবে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু আমাদের প্রত্যেকেই আদর্শবাদী হওয়ায় যেটা বা যে উদ্দেশ্য শুনতে ভালো লাগে সেটাই ভাবতে চাই। অতএব মানুষকে পরিবর্তিত করতে হলে মহত্তর উদ্দেশ্যের কাছেই আবেদন রাখতে হবে।
ব্যবসায় কাজ করা কি অতি বেশি রকম আদর্শবাদী কাজ বলে মনে হয়? দেখা যাক। পেনসিলভানিয়ার গ্লেনডেনের ফ্যারেল-মিচেল কোম্পানীর হ্যাঁমিলটন জে. মিচেলের কথাই ধরুন। মিঃ ফ্যারেলের একজন অসন্তুষ্ট ভাড়াটে বাড়ি ছেড়ে দেবার ভয় দেখাচ্ছিলেন। ভাড়াটের মেয়াদ এখনও চার মাস ছিল, ভাড়া ছিল মাসে পঞ্চান্ন ডলার। তা সত্ত্বেও তিনি নোটিশ দেন শর্ত থাকা সত্ত্বেও। এই সব ভাড়াটে আমার বাড়িতে সারা শীতকালেই বাস করেছে-এই সময়টা বছরের সবচেয়ে খরচ সাপেক্ষ, মিঃ ঘটনাটা এইভাবেই আমার ক্লাসে বর্ণনা করেন। আমি তাই জানতাম আগামী শীতের আগে আর ভাড়া দিতে পারবো না। আমি বুঝলাম দুশ কুড়ি ডলার জলে যেতে বসেছে–বিশ্বাস করুন আমি অন্ধকার দেখলাম।
সাধারণত এমন হলে আমি ওই ভাড়াটেকে উপদেশ দিতাম লীজের চুক্তি আর শর্ত আবার পড়তে। আমি তাকে জানাতাম তিনি চলে গেলে তাকে পুরো টাকাই দিতে হবে–আর আমি আদায় করার চেষ্টা করব।
