২। আমি আরও পরিষ্কার করে বললাম ক্রেতার মতামত আর বক্তব্য না শুনে আমি কোন মতামত দেব না। আমি আরও জানালাম কোম্পানী কোন দাবীই নির্ভুল এ কথা বলতে চায় না।
৩। আমি জানালাম তিনি গাড়ি সম্বন্ধে আমার চেয়েও অভিজ্ঞ।
৪। আমি তাকে কথা বলতে দিলাম আর সহানুভূতির সঙ্গে শুনলাম তিনি যা চান।
৫। এরপর ক্রেতা যখন কিছু যুক্তি মানার অবস্থায় এলেন তখন আমি সব ব্যাপারটি তার সামনে রাখলাম আর জানালাম ব্যাপারটা ঠিক মত চালনা করা হয়নি। আমি প্রথমে বললাম, আপনাকে আমি জানাতে চাই যে আমাদের লোক আপনার বিরক্তি উৎপাদন করেছে। তাই আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনার কথা শুনে আমি আনন্দিত। আমি আপনার কাছে ওই বিল সম্বন্ধে একটা নিবেদন রাখতে চাই। আমি অনুরোধ করতে চাই এটা দেখে যদি মনে করেন ঠিক দিয়ে দেবেন। আপনি যা বলবেন তাই হবে।’
‘তিনি কি বিল ঠিক করে দেন? অবশ্যই। অন্য সব ক্রেতারা কি টাকাটা দিয়ে দেন? হ্যাঁ ছ’জনের মধ্যে পাঁচ জনই ১৫০ থেকে ৪০০ ডলার দিয়ে দেন। একজন কিছুই দেবেন না সাফ বলেছেন। আসল কথাটা হলো দুবছরে আমরা তাদের আবার নতুন গাড়ি বিক্রি করি।’
‘অভিজ্ঞতা আমায় শিখিয়েছে, মিঃ টমাস বলেছেন যে, যখন ক্রেতাদের সম্বন্ধে কোন কিছু জানা যায় সেখানে ধরে নিতে হবে সে সৎ, সত্যবাদী আর দাম মিটিয়ে দিতে উদগ্রীব।
অতএব আপনি যদি অপরকে আপনার মতে আনতে চান তাহলে দশ নম্বর নিয়ম হলো :
‘অপরের মহত্বের প্রতি আবেদন রাখুন।‘
২০. চলচ্চিত্র এটা করে, রেডিও যা করে আপনিও করেন না কেন
বিংশ পরিচ্ছেদ
চলচ্চিত্র এটা করে, রেডিও যা করে আপনিও করেন না কেন
কয়েক বছর আগে দি ফিলাডেলফিয়া ইভনিং বুলেটিনের বিরুদ্ধে একটা অত্যন্ত দুরভিসন্ধিমূলক নিন্দার গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। বেশ ঈর্ষামূলক গুজব ছড়ানো হচ্ছিল। বিজ্ঞাপনদাতাদের বলা হচ্ছিল যে ঐ কাগজে বড় বেশি রকম বিজ্ঞাপন থাকে আর খবর খুবই কম থাকে। এ কাগজ তাই আর পাঠকদের কাছে পছন্দ নয়। দ্রুত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তাই এই গুজব বন্ধ করতে হবে।
কিন্তু কীভাবে?
এটা এইভাবে করা হয়।
বুলেটিন দৈনিক কাগজ থেকে সব পড়ার বিষয়বস্তু নিয়ে একসঙ্গে করে একটা বই হিসেবে বের করে। বইটির নাম দেয়া হয় একদিন’। তাতে ছিলো ৩০৭ পাতা-এর দাম হতে পারতো প্রায় দু ডলার! তা সত্ত্বেও বুলেটিন সমস্ত খরব আর বিজ্ঞাপন একসঙ্গে যে বই বের করলো তার দাম দু ডলার না রেখে রাখা হলো দু সেন্ট।
এই বই ছাপার ফলে নাটকীয়ভাবে প্রমাণ করা গেল বুলেটিনে পাঠ্যবস্তু অনেকটাই থাকে। এতে বক্তব্য আরও পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছিল, বলা হয়েছিল আরও সুন্দরভাবে আর নাটকীয়ভাবে, বক্তৃতা বা সংখ্যাতত্ত্ব দিয়ে এমন করা যেত না।
এ যুগটাই হলো নাটকীয়তায় ভরা যুগ। কেবল সত্য প্রচার করে কাজ হয় না। সত্যকে স্পষ্ট, আগ্রহের আর নাটকীয় করতে হবে। আপনার দরকার ওস্তাদী। সিনেমায় এরকম করা হয়। রেডিও এটা করে। তাই মনোযোগ আকর্ষণ করতে গেলে আপনাকেও তাই করতে হবে।
যে সব দোকানদার কাঁচের শোকেস প্রদর্শনের কাজে দক্ষ তারা নাটকীয়তার ক্ষমতা জানেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যে কোম্পানী ইঁদুর মারার বিষ তৈরি করে সেজন্য তারা তাদের শোকেসে দুটো জ্যান্ত ইঁদুর প্রদর্শন করায় এতে তাদের বিক্রি পাঁচ গুণ বেড়ে যায়।
জেমস বি. বয়ন্টন, দি আমেরিকান উইকলির জনৈক কর্তাব্যক্তি। তার একটা মার্কেট রিপোর্ট বানানো দরকার ছিল। তিনি কাজ করতে গিয়ে নানা বাধার সামনে পড়েন। শেষ অবধি তাঁর কাজের পদ্ধতি বদল করার ফলেই তিনি সফল হতে পারেন অপরকে তিনি তর্ক না করে স্বমতে আনেন।
অতএব অপরকে স্বমতে আনতে চাইলে ১১নং নিয়ম হল :
আপনার ভাবনাকে নাটকীয় করে তুলুন।
২১. যখন অন্য কিছুতে কাজ হয় না, এটা চেষ্টা করুন
একবিংশ পরিচ্ছেদ
যখন অন্য কিছুতে কাজ হয় না, এটা চেষ্টা করুন
চার্লস শোয়াবের কারখানার একজন ম্যানেজার ছিল, তাঁর কর্মচারিরা ঠিকমত কাজ করত না।
শোয়াব তাই জানতে চাইলেন : ‘এটা কি রকম ব্যাপার যে আপনার মত পাকা লোকও কারখানার উৎপাদন ঠিক মত করাতে পারছেন না?
‘তা জানি না’ লোকটি জবাব দিল, ‘আমি সকলকে চাপ দিচ্ছি, নানাভাবে চেষ্টা করছি, ভয়ও দেখিয়েছি, চাকরি খতম করতে চেয়েছি। কিন্তু কিছুতেই কাজ হয়নি। ওরা উৎপাদন করছে না।’
তখন দিনের কাজ শেষ হয়ে রাতের শিফট শুরু হতে চলেছে।
‘আমাকে এক টুকরো চকখড়ি দিন তো।’ শোয়াব বললেন। তারপর কাছাকাছি থাকা কর্মীটির দিকে তাকিয়ে বললেন, আজকের শিফটে কত উৎপাদন করেছ?
‘ছয়।’
আর কোন কথা না বলে শোয়ব মেঝের বুকে বড় করে একটা ‘ছয়’ সংখ্যা লিখে চলে গেলেন।
রাত্রে শিফট শুরু হলে কর্মীরা ‘ছয়’ সংখ্যাটা দেখে এর মানে জানতে চাইল।
‘বড় কর্তা এসেছিলেন, দিনের শিফটের কর্মীটি জানাল। তিনি জানতে চান আমরা কত উৎপাদন করেছি এবং তিনি চকখড়ি দিয়ে ওটা লেখেন।‘
পরদিন সকালে শোয়াব এসে দেখলেন রাতের শিফটের কর্মীরা ৬ সংখ্যাটা মুছে বড় করে একটা ‘৭’ লিখে গেছে।
পরের দিন, দিনের শিফটের কর্মীরা কাজ করতে এসে বড় আকারে লেখা ‘৭’ কথাটা লক্ষ্য করলো। ওঃ তাহলে রাতের শিফট মনে করে তারা দিনের শিফটের চেয়ে ভালো? বেশ ওরা রাতের শিফটকে কিছু শিক্ষা দিতে তৈরি হল। তারা যাওয়ার সময় মেঝের বড় অক্ষরে ‘১০’ সংখ্যাটি লিখে যায়। ঘটনা গড়িয়ে চললো।
