আমি : মিসেস অমুক, আপনি আমাকে কয়েক সপ্তাহ আগে একটা চিঠি লিখেছিলেন। তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।
তিনি (একটু কাটা কাটা মার্জিত কণ্ঠস্বর) : কার সঙ্গে কথা বলছি জানতে পারি কি?
আমি : আমি আপনার অপরিচিত। আমার নাম ডেল কার্নেগী। কয়েক রবিবার আগে রেডিওতে আমার অ্যালকট সম্পর্কে একটা কথিকা আপনি শুনেছেন। আমি তখন বোকার মতই বলেছিলাম তিনি নিউ হ্যাঁম্পশায়ারের কনকর্ডে বাস করতেন। এটা খুবই বোকার মত বলেছিলাম। তাই আমি ক্ষমা প্রার্থনা করতে চাই। আপনি যে সময় করে আমায় লিখেছেন তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।
তিনিঃ আমি দুঃখিত মিঃ কার্নেগী, আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যাওয়ায় আমি ওই চিঠি লিখেছিলাম; আমারই ক্ষমা চাওয়া উচিত।
আমি : না! না! আমি ক্ষমা চাইবেন না, আমারই সেটা করা উচিত। যে কোন স্কুলের ছেলেও এমন ভুল করতো না আমি যা করেছি। পরের রবিবারে আমি রেডিওতে ভুলটা সংশোধন করেছি আর এখন আপনার কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করতে চাই।
তিনিঃ আমি ম্যাসাচুস্টেসের কনকর্ডে জন্মেছিলাম। সেখানে আমাদের পরিবার প্রায় দুশ বছরের বাসিন্দা, আমাদের রাজ্য নিয়ে আমরা গর্বিত। মিস অ্যালকট নিউ হ্যাঁম্পশায়ারে জন্মেছিলেন বলায় আমার খুবই রাগ হয়। কিন্তু এই চিঠির জন্য অত্যন্ত লজ্জিত বোধ করছি।
আমি : আমি আপনাকে জানাতে চাই আপনি আমার দশভাগের এক ভাগও দুঃখিত নন। আমার ভুলে ম্যাসাচুস্টেসের ক্ষতি হয়নি, হয়েছে আমারই। আপনাদের মত শিক্ষিত মহিলারা কদাচিতই বেতারের কথিকা শুনে চিঠি লেখার সময় পান। আশাকরি ভবিষ্যতে এরকম বেতার কথিকায় আমার ভুল হলে সংশোধন করে দেবেন।
তিনি; আপনি যেভাবে আমার সমালোচনা গ্রহণ করেছেন তার জন্য আমি খুবই খুশি। আপনি লোক হিসেবে নিশ্চয়ই চমৎকার। আপনাকে আমি আরও ভালভাবে জানতে চাই।
অতএব তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে আর তাঁর দৃষ্টিকোণের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আমি তাঁকে মার্জনা প্রার্থী আর আমার সঙ্গে একাত্ম করতে সক্ষম হই। আমি এজন্য খুশি হই যে আমি অপমানের বদলে সদাশয়তা প্রদর্শন করেছি। আমাকে তার পছন্দ মত করে তোলায় আমি অপরিসীম আনন্দ পেয়েছিলাম, আর সেটা তাকে গোল্লায় যেতে বললে পেতাম না।
হোয়াইট হাউসে যারা অধিষ্ঠান করেন তাদের অনবরত মানুষের সঙ্গে ব্যবহারে সমস্যায় বিব্রত থাকতে হয়। প্রেসিডেন্ট ট্যাফটও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে লিখেছিলেন সহানুভূতির রাসায়নিক মূল্য কতটা হতে পারে, বিশেষত কড়া বিদ্রূপ মনোভাবের জ্বালা দূর করতে। ট্যাফট তাঁর লেখা ‘এথিকস ইন সার্ভিস’ বইটিতে বেশ মজাদার একটা ঘটনা বর্ণনা করেছেন যাতে দেখা যায় তিনি কিভাবে এক হতাশ আর উচ্চাকাঙ্ক্ষী মায়ের বিরক্তি দূর করেন।
ট্যাফট লিখেছিলেন, ‘ওয়াশিংটনের এক মহিলা, যার স্বামীর কিছু রাজনৈতিক প্রভাব ছিল, আমার কাছে প্রায় ৬ সপ্তাহ ধরে এসে তাঁর ছেলেকে বিশেষ কোন পদে নিয়োগ করার অনুরোধ জানাচ্ছিলেন। মহিলাটি বেশ কিছু সেনেটর আর কংগ্রেস সদস্যর সমর্থনও ভালোমত যোগাড় করে চাপ সৃষ্টি করছিলেন। কিন্তু পদটার জন্য কিছু প্রযুক্তি জ্ঞানের প্রয়োজন ছিল আর তাই ওই দপ্তরের প্রধানের কথা মত আমি অন্য একজনকে ওই পদে নিয়োগ করি। এরপর ওই মায়ের কাছ থেকে একটা চিঠি পেলাম, তাতে লেখা আমি নিতান্ত অকৃতজ্ঞ। কারণ সামান্য একটু অনুরোধ রক্ষা করে আমি এক মাকে খুশি করলাম না, যা আমি পারতাম। তিনি আরো অভিযোগ কররেন তিনি আমার হয়ে ভোট সংগ্রহ করতে প্রচুর খেটেছেন আর আমি এইভাবে তার প্রতিদান দিলাম!
‘এ ধরনের কোন চিঠি পেলে প্রথমেই আপনার যা মনে হবে তা হলো ওই রকম চিঠির লেখককে বেশ কড়া ভাষায় জবাব দেওয়া, বিশেষতঃ এরকম অনধিকার চর্চার জন্য। আপনি হয়তো চিঠিটা লিখেও ফেলবেন। কিন্তু আপনি বুদ্ধিমান হলে সেটা আপাততঃ ড্রয়ারে রেখে দেবেন। তারপর দুদিন পরে যখন আবার বের করবেন তখন আর পাঠাতে চাইবেন না। ঠিক এই পথই আমিও নিয়েছিলাম। এরপর আমি মাথা ঠাণ্ডা করে এ অবস্থায় যা লেখা উচিত সেই ভাবেই ভদ্রমহিলাকে লিখে জানালাম যে পদটি পূরণে আমার ব্যক্তিগত কোন হাত ছিল না যেহেতু এর জন্য প্রযুক্তি জ্ঞান দরকার। তাই দপ্তরের প্রস্তাবই আমাকে গ্রহণ করতে হয়। আমি আরও জানালাম আমি আশা করি তার ছেলে যে কাজ করছেন তাতেই উন্নতি করবেন। এতে মহিলা কিছুটা ধাতস্থ হন আর চিঠিতে আমাকে জানান যে ওই চিঠি লেখার জন্য তিনি দুঃখিত।
‘ব্যাপারটার ওখানেই সমাপ্তি ঘটেনি। এর কিছুদিন পরে আমি আবার একটা চিঠি পেলাম এবার মহিলার স্বামীর কাছ থেকে। অবশ্য হাতের লেখাটা আগের মতই ছিল। তাতে ভদ্রলোক লিখেছেন, হতাশায় ভেঙে পড়ে স্নায়বিক রোগে তাঁর স্ত্রী শয্যাশায়ী আর সম্ভবতঃ তাঁর পাকস্থলীতে ক্যান্সার হয়েছে। এক্ষেত্রে তাঁর স্ত্রীর স্বাস্থ্যের কারণেই ওই চাকরিতে প্রথমজনকে বাতিল করে তার ছেলেকে দেয়া যায় কিনা? আমাকে আবার একটা চিঠি লিখতে হলো, এবার তার স্বামীকে। আমি লিখলাম যে আশাকরি রোগটা ওইরকম মারাত্মক হবে না আর তাঁর স্ত্রীর কঠিন রোগের জন্য আমি সমব্যাথী। আমি জানালাম প্রথম নামটি বাতিল করা সম্ভব নয়।
