‘প্রেয়সীকে চুমু দেবার আগে কখনও বিয়ে করবেন না। বিয়ের আগে কোন মেয়েকে প্রশংসা করা তো স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু বিয়ের পরে সেটা করা হলো বিশেষ প্রয়োজন-আর আপনার পক্ষে নিরাপত্তারও কারণ বটে। বিয়েতে স্পষ্ট কথার স্থান নেই। এটা হলো কূটনীতির জায়গা।‘
আপনি যদি প্রতিদিনের বিবাহিত জীবন সুখে শান্তিতে কাটাতে চান তাহলে কোন ভাবেই আপনার স্ত্রীর ঘরকন্নার কাজে মাথা গলাবেন না বা তার কাজের সঙ্গে আপনার মায়ের কাজের তুলনা করবেন না। বরং অন্যদিকে, বারবার তার ঘরকন্নার কাজের প্রশংসা করবেন আর খোলাখুলি বার বার তার মতো একজনকে বিয়ে করেছেন বলে নিজেকে ধন্যবাদ দেবেন। বলবেন তার মধ্যে পেয়েছেন ভেনাস আর মিনার্ভার রূপ। মাংস যদি শক্ত হয়ে যায় বা রুটি যদি পুড়ে যায় একদম অভিযোগ করবেন না। বরং বলবেন আজকের রান্নাটা তার রোজের মতো হয়নি। আর তাতেই আপনার স্ত্রী আবার সযতে সব কিছু করার ব্যবস্থা করবেন।
এমন ব্যবহার কিন্তু আচমকা করতে চাইবেন না–তাহলে তার সন্দেহ হতে পারে। যেমন ধরুন আজ বা আগামী কাল রাত্তিরে আপনার স্ত্রীর জন্য একগুচ্ছ ফুল বা কিছু মিষ্টি নিয়ে এলেন। তবে শুধু বলবেন না ‘হ্যাঁ এটা আমার আগেই করা উচিত ছিল। বরং মুখে কিছু হাসি ছড়িয়েই ঘরে ঢুকবেন। সঙ্গে বলবেন প্রেমময় দুটো চারটে কথাও। আরও বেশি সংখ্যায় যদি স্বামী স্ত্রী একাজ করতো তাহলে বোধ হয় আমাদের দেশে ছটা বিয়ের মধ্যে একটা বিবাহ বিচ্ছেদও আর হতো না।
.
কোন মেয়েকে আপনার প্রেমে পড়ানোর জন্যে কি করতে হবে শুনবেন? বেশ তবে সেই গোপন রহস্যটা বলে দিই শুনুন। এটায় কাজ হবেই, তবে কৌশলটা আমার নয়। আমি এটা ধার করেছি ডরোথি ডিক্সের কাছ থেকে। তিনি একবার বিয়ে পাগলা একজনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। লোকটা অন্ততঃ তেইশ বার সুন্দরীদের হৃদয় আর তাদের ব্যাঙ্ক তহবিল জয় করেছিল (তবে একটা কথা আড়ালে জানাই লোকটার সঙ্গে ডরোথি ডিক্সের দেখা হয় জেলখানায়)। ডরোথি ডিক্স তার কাছে ঐ প্রেমে পড়ার কৌশলের কথা জানতে চেয়েছিলেন। সে জবাব দেয় এতে রহস্য কিছুই নেই : আপনাকে যা করতে হবে তা হলো মেয়েটির সম্বন্ধে অনর্গল শুধু কথা বলে যান, ব্যস তাতেই কাজ হবে।
পুরুষদের সম্পর্কেও একই কৌশল খাটে। ডিসরেলী একবার বলেন : যে কোন পুরুষের সঙ্গে তার নিজের বিষয়েই বলুন, দেখতে পাবেন সে ঘন্টার পর ঘন্টা শুনে যাবে। ডিসরেলী ছিলেন অতি ধুরন্ধর মানুষ। তার মতো কেউ ব্রিটিশ সাম্রাজ্য চালাতে পারেনি।
অতএব মানুষ আপনাকে পছন্দ করুক তাই যদি চান তাহলে এই নিয়মটা মেনে চলুন : অপর ব্যক্তিকে শ্রেষ্ঠত্ব অনুভব করার সুযোগ দিন–আন্তরিকভাবে সেটা করবেন।
এ বইটা আপনারা বেশ কিছুক্ষণ ধরেই তো পড়ে চলেছেন। বইটা এবার বন্ধ রেখে পাইপের তামাক ঝেড়ে ফেলে কাছাকাছি মানুষটির উপর ওই তত্ত্বটা একটু কাজে লাগান দেখি–সঙ্গে সঙ্গে এর যাদুকরী ক্ষমতাটাও লক্ষ করতে ভুলবেন যেন।
অল্প কথায় নিজেকে অপরের কাছে পছন্দসই করে তোলার উপায় :
১নং নিয়ম : অপরের সম্পর্কে আন্তরিকভাবে আগ্রহী হয়ে উঠুন।
২নং নিয়ম : হাসুন।
৩নং নিয়ম : মনে রাখবেন কোন মানুষের কাছে তার নিজের নামটি যে কোন ভাষাতেই সবচেয়ে মিষ্টি।
৪নং নিয়ম : ভালো শ্রোতা হোন। অপরকে তার নিজের বিষয়ে বলতে উৎসাহ দিন।
৫নং নিয়ম : অন্যের আগ্রহের ব্যাপার নিয়ে কথা বলুন।
৬নং নিয়ম : অপর ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ ভাববার সুযোগ দিন–আন্তরিকভাবেই তা করুন।
১০. আপনি তর্কে জিততে পারবেন না
দশম পরিচ্ছেদ
আপনি তর্কে জিততে পারবেন না
যুদ্ধের ঠিক পরেই লন্ডন শহরে এক রাতে আমি মহামূল্যবান একটা শিক্ষালাভ করেছিলাম। সে সময় আমি স্যার রস স্মিথের ম্যানেজার ছিলাম। যুদ্ধের সময় স্যার রস প্যালেষ্টাইনে অস্ট্রেলিয়ার একজন দক্ষ বৈমানিক ছিলেন। তারপর যুদ্ধ থেমে যাওয়ার ঠিক পরেই, পৃথিবীর প্রায় অর্ধেকটা মাত্র ত্রিশ দিনে উড়ে এসে তিনি সবাইকে তাজ্জব করে দেন। এরকম কাজ করার কথা আগে প্রায় কেউ ভাবেইনি। ব্যাপারটা দারুণ উত্তেজনা জাগিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া সরকার তাঁকে পঞ্চাশ হাজার ডলার পুরস্কার দেন আর ইংল্যাণ্ডের রাজা তাঁকে নাইট উপাধি দান করেন। বেশ কিছুদিন তিনি ইউনিয়ন জ্যাকের নিচে সবচেয়ে আলোচিত মানুষ হয়ে ওঠেন। তিনি হয়ে ওঠেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের চার্লস লিণ্ডবার্গ। আমি এক রাতে স্যার রসের সম্মানে দেওয়া এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলম। নৈশভোজ চলার সময় আমার ঠিক পাশেই যে ভদ্রলোক বসেছিলেন তিনি একটা গল্প শোনালেন আমায়। তাতে একটা উদ্ধৃতি ছিল।
ভদ্রলোক বললেন কথাটা বাইবেলে আছে। তাঁর ভুলই হয়েছিল। এটা আমি ভালো করেই জানতাম, একেবারে নিশ্চিত এতে কোন সন্দেহই ছিল না। অতএব নিজেকে খুব জ্ঞানী গুণী প্রমাণ করার জন্য আমি একটা ব্যাপার করলাম। আমি তার ভুল ধরানোর চেষ্টা করলাম। তিনি নিজের কথাতেই আঁকড়ে রইলেন। কি? শেক্সপীয়ার থেকে? অসম্ভব! অসম্ভব! এটা নিশ্চয়ই বাইবেলের। এটা তার জানা আছে!
ভদ্রলোক আমার ডানদিকে বসেছিলেন। আমার বাঁ পাশে ছিলেন আমার একজন পুরনো বন্ধু, মিঃ ফ্রাঙ্ক গ্যামণ্ড। মিঃ গ্যামও বহু বছর ধরে শেক্সপিয়রকে নিয়ে গবেষণা করে আসছেন। অতএব সেই ভদ্রলোক আর আমি দুজনেই মি. গ্যামন্ডকেই সাক্ষী মানতে রাজি হলাম। মি. গ্যামন্ড সব শুনে যাওয়ার পর টেবিলের তলা দিয়ে আমার পায়ে ধাক্কা মারলেন, তারপর বললেন : ‘ডেল, তুমিই ভুল করছ। ভদ্রলোকের কথাই ঠিক। এটা বাইবেলেই আছে।’
