৭। দেখানো হয়ে গেলে দ্রষ্টব্যটি সরিয়ে নিন।
৮। দ্রষ্টব্যটি টেবিলের উপরে রেখে আস্তে আস্তে তার ব্যাখ্যা করবেন–তাহলেই শ্রোতাদের মধ্যে আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে পারবেন
দৃশ্যমান বস্তু আজকাল সহজবোধ্যভাবে বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় ব্যবহার হতে শুরু করেছে। আপনি যা বলতে চান তা বোঝাবার ক্ষেত্রে এর চেয়ে ভালো উপায় আর নেই।
কথা বার্তায় অভিজ্ঞ দুজন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বলেছেন যে পরিষ্কারভাবে কথা বা বক্তব্য বুঝিয়ে বলার দক্ষতা জন্মায় কেবল ভাল রকম শিক্ষা আর নিয়মানুবর্তিতার উপর। লিঙ্কন যেমন বলেছিলেন স্পস্ট বলার জন্য আমাদের ঐকান্তিক আগ্রহ থাকা দরকার। নক্স কলেজের প্রেসিডেন্ট ডঃ গ্যালিভারকে তিনি একবার বলেছিলেন অল্প বয়সে তিনি কিভাবে এই আগ্রহ গড়ে তোলেন :
‘ছোট বেলার যে স্মৃতি আমার মনে পড়ে তার মধ্যে রয়েছে কেউ আমায় কোন কথা বললে তা যদি বুঝতে না পারতাম তাহলে ভয়ানক রাগ হত। আমার মনে হয় না আর কোন ব্যাপারেই আমার রাগ হত। এটা তখন থেকেই আমার মেজাজ খারাপ করে দিত, তা আজও সেইভাবেই আছে। আমার মনে পড়ছে আমার ছোট্ট ঘরে গিয়ে অনবরত রাত্রিতে পায়চারি করতে করতে পড়শীদের বলা কিছু কথাবার্তার অর্থ বোঝার চেষ্টা করতাম। যতক্ষণ না কথাগুলো স্পষ্ট কোন অর্থ উপলব্ধি করতাম ততক্ষণ আমার স্বস্তি ছিল না।এ ব্যাপারটা তখন থেকেই আমার বাতিকে দাঁড়িয়ে গেছে, আজও তার পরিবর্তন ঘটেনি।
একজন বিখ্যাত প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনও এসম্বন্ধে কিছু মন্তব্য করেছেন। সেটা এই রকম :
‘আমার বাবা ছিলেন একজন অতিমাত্রায় বুদ্ধিজীবি মানুষ। আমার সেরা শিক্ষালাভ হয় তাঁরই কাছে। বাবা কোন সময়েই অস্পষ্ট অগোছালো কথা সহ্য করতে পারতেন না। গোড়া থেকে শুরু করে তাঁর একাশি বছর বয়সে মৃত্যুকাল পর্যন্ত (১৯৪৩ পর্যন্ত) আমি যাই শিখতাম তার কাছে নিয়ে যেতাম।
আমি যা লিখতাম তিনি সবই চেঁচিয়ে পড়তে বলতেন, ব্যাপারটা আমার কাছে বেশ কষ্টকর হত। পড়ার ফাঁকে তিনি মাঝে মাঝেই থামিয়ে দিয়ে বলতেন, ‘যে কথা লিখেছ তার মানে কি?’ আমি তাঁকে সেটা বুঝিয়ে বলতাম আর দেখতাম লেখার চেয়ে বলাই ভালো হয়েছে। লেখায় এভাবে বলোনি কেন? বাবা শুনে বলতেন, ‘কোন পাখি মারার জন্য সারা এলাকা জুড়ে গুলি চালাবে না, বরং রাইফেল দিয়ে নির্দিষ্ট পাখিকেই মারতে চেষ্টা করবে।’
০৮. বক্তব্যকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা
একবার একদল স্ত্রী পুরুষ ভয়ঙ্কর এক ঝড়ের তাণ্ডবের সামনে পড়েছিলেন। অবশ্য সত্যিকার ঝড় নয়, তবে তার চেয়েও বোধ হয় বেশি। আসলে তারা মরিস গোল্ডস্ল্যাট নামে একজন মানুষ ঝড়ের মুখে পড়ে যান। ওই দলের একজন এইভাবে ঘটনাটি বর্ণনা দিয়েছিলেন :
‘আমরা শিকাগোয় এক মধ্যাহ্নভোজের টেবিলের চারপাশে বসেছিলাম। যে ভদ্রলোকের কথা বলছি তাকে আমরা বিখ্যাত একজন বক্তা বলেই জানতাম। কথা বলার জন্য উঠে দাঁড়াতেই আমরা তার দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকালাম।
‘তিনি বেশ শান্তভাবেই আরম্ভ করলেন–মধ্যবয়স্ক লোকটি, আচার আচরণ চমৎকার। তিনি তাঁকে আমন্ত্রণ করার জন্য ধন্যবাদ জানালেন। তিনি জানালেন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি কথা বলতে চান আর আমরা বিরক্ত বোধ করলে যেন তাকে মার্জনা করি।
‘তারপরেই এক ঝড়ের মতই তিনি আক্রমণ করলেন। সামনে ঝুঁকে তিনি শান্ত কণ্ঠেই যখন কথাটা বললেন মনে হল যেন একটা কামানের গোলা ফাটল।
‘চারপাশে একবার তাকিয়ে দেখুন, তিনি বললেন। পরস্পরের দিকে তাকান। আপনাদের কি জানা আছে আপনাদের মধ্যে কতজন ক্যান্সারে মারা যাবেন? আপনাদের প্রতি চারজনের মধ্যে একজন, যাদের বয়স পঁয়তাল্লিশের উপর। মনে রাখবেন প্রতি চারজনে একজন।
‘একটু থামলেন তিনি আর তাঁর মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তারপর তিনি বললেন, এটা নিছক নিষ্ঠুর সত্য, তবে বেশিদিন এমন থাকবে না এবং এসম্পর্কে কিছু করা যাবে। এই ধরণের কিছু ব্যাপারটা হল ক্যান্সারের চিকিৎসায় অগ্রগতি আর এর কারণ অনুসন্ধান।
তিনি টেবিলের চারদিকে আমাদের দিকে তাকলেন। আপনারা কি এই প্রচেষ্টায় সাহায্য করতে চান? তিনি প্রশ্ন করলেন।
‘হ্যাঁ’ ছাড়া আর কি কোন উত্তর হয়? আমি আর বাকি সবাই একসঙ্গে বলে উঠলাম, হ্যাঁ!
এক মিনিটের অবকাশেই মরিস গোল্ডস্ল্যাট আমাদের জয় করে ফেললেন। তিনি তাঁর নিজের বিষয়ে আমাদের টেনে নিলেন। তিনি সমাজ সেবার জন্য যা করতে চাইছিলেন তাতে তাঁর পাশে আমাদেরও দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করলেন।
সর্বত্রই শ্রোতাদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া আশা করা যে কোন বক্তারই মহৎ উদ্দেশ্য থাকে। যেমন মিঃ গোল্ডব্ল্যাটও নাটকীয়ভাবে সুন্দর কারণ দেখিয়ে আমাদের মন জয় করলেন। তিনি এবং তার ভাই নাথান প্রায় কিছু হাতে না নিয়েই একটা ডিপার্টমেন্ট স্টোরের শৃঙখল খুলে বছরে প্রায় ১০০,০০০,০০০ ডলারের ব্যবসা করে চলেছেন। কল্পনাতীত সাফল্যই তাঁরা পান কিন্তু নাথান অসুস্থ থাকায় অল্পদিন পরেই ক্যান্সারে মারা যায়। তারপর মরিস গোল্ডস্ল্যাট, গোল্ডস্ল্যাট ফাউণ্ডেশানের পক্ষে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যান্সার গবেষণার জন্য দশলক্ষ ডলার দান করার ব্যবস্থা করেন। এরপর থেকে মরিস গোল্ডব্ল্যাট ব্যবসা থেকে অবসর গ্রহণ করে জনসাধারণের সুবিধার্থে ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য তার সারা জীবন উৎসর্গ করেন।
