যে সব বক্তারা বর্ণনামূলক কাজের ব্যাখ্যা করেন তারা অন্যদের চেয়ে ঢের ভালভাবে শ্রোতাদের কাজে নিয়োজিত করতে পারেন। আপনি যে কথা বলবেন সেটা নঙর্থকভাবে বা সোজাসুজি বলবেন তা নির্ভর করছে শ্রোতাদের মনোভাবের উপর। নঙর্থক দিক থেকে বক্তব্য পেশ করলে দেখা গেছে শ্রোতাদের মধ্যে তার প্রতিক্রিয়া হয় অনেক বেশি। কিছুদিন আগে ইলেকট্রিক বাল্ব বিক্রির কোন এক বিজ্ঞাপনে এই রকম নর্থক কথা কাজে লাগানো হয় এইভাবে : বাল্ব চুরি করা উচিত নয়।
প্রত্যয়ী ভঙ্গীতে দৃঢ়ভাবে বক্তব্য রাখবেন
যে কথা বলতে চান সেটাই আপনার মূল সূত্র। অতএব সেটা এমনভাবে শ্রোতাদের সামনে রাখবেন যেন তার পিছনে প্রত্যয় আর দৃঢ়তা থাকে। খবরের কাগজে যেমন হেডলাইন থাকে, তারপর থাকে বর্ণনা। ঠিক সেই ভাবেই আপনার বক্তব্যের সারটুকু আগেই দৃঢ়ভাবে বলে ফেলুন। শ্রোতাদের মাঝে আপনার ছাপ ফেলতেই হবে, তাই কাজটা এমনভাবে করবেন যেন শ্রোতারা আপনার আন্তরিকতা সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হতে পারে। এভাবে বলতে পারলে সেই যাদুকরী ফর্মূলার তৃতীয় ধাপ চমৎকার কাজে লাগানো হয়ে যাবে।
৩। শ্রোতাদের চাহিদা মত ব্যাখ্যা রাখবেন
একাজ করার সময়ও চাই ছোট করে বলার ক্ষমতা আর সূক্ষ্মতা। এই ব্যাখ্যা করার কাজে বক্তাকে শ্রোতাদের জানাতে হবে তারা এ থেকে কি ধরণের শিক্ষা লাভ করতে পারে বা পুরস্কার পেতে পারে।
মনে রাখা চাই ব্যাখ্যাটি যেন বক্তব্য অনুযায়ী হয়
জনসংযোগের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য সম্বন্ধে অনেক কথাই বলা হয়েছে। এই বিষয়টি বিশাল আর অপরকে কাজে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে বেশ কার্যকরও তাতে সন্দেহ নেই। এই পরিচ্ছদে, যে ছোট কথিকায় শ্রোতাদের উদ্বুদ্ধ করা যায় সম্পর্কে বলা হচ্ছে তাতে অল্পকথায় বেশি লাভের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। মনে রাখবেন উদাহরণ হিসেবে যা বলবেন আপনার শ্রোতাদের কাছে চাহিদাও যেন তার সঙ্গে মিল রেখেই বলা হয়। যেমন ধরুন, পুরনো গাড়ি কিনে আপনার যা অর্থকরী লাভ হয়েছে এবং তার উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া চাই শ্রোতাদের একাজ করলে তাদের কি লাভ হবে।
মনে রাখবেন একটি মাত্র ব্যাখ্যাই শুধু দিতে হবে
বেশিরভাগ বিক্রয় প্রতিনিধিই তার পণ্যসামগ্রী সম্বন্ধে অন্তত আধ ডজন ব্যাখ্যা দিয়ে বলতে পারেন তার পণ্য কেন কেনা উচিত। আপনার ব্যাপারেও ঠিক তাই হতে পারে–অর্থাৎ আপনার বক্তব্য যে ঠিক তার জন্য আপনিও অন্তত আধ ডজন কথা বলতে পারেন। তবু এটা ঠিক যে সব কটি কারণের মধ্যে মাত্র সেরা একটিই বেছে নিয়ে তাই বলা উচিত। এই একটার উপর নির্ভর করেই আপনার বক্তব্য প্রমাণ করতে হবে। বিজ্ঞাপনের যেমন কোন পণ্য সম্পর্কে এককথায় অনেকখানি বলা যায়। আপনার কথার সমর্থনেও তাই করতে হবে। এই বিজ্ঞাপন যদি ভাল করে কয়েকবার পড়েন তা হলেই কথাটির সারমর্ম বুঝতে অসুবিধা হবে না। বিজ্ঞাপনের ব্যাপারটা এই কাজে সত্যিই সার্থক-এগুলো লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবেন যে একটা বিজ্ঞাপনে নানা সুবিধার কথা কেউ বলে না। এক্ষেত্রে একটা বিষয়েই জোর দেওয়া হয়।
বেতার, দূরদর্শন বা খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন খুঁটিয়ে দেখলেই আশ্চর্য হয়ে যাবেন যে সেই যাদু ফর্মূলা তারা কেমন সুন্দরভাবেই কাজে লাগায়। কোন পণ্য কেনায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করাই কিন্তু ওই বিজ্ঞাপনের আসল উদ্দেশ্য।
এধরণের উদাহরণ অবশ্য অন্যভাবেও দেওয়া যায়। যেমন কোন উদাহরণ দেখিয়ে, কোন কিছু করে ‘দেখিয়ে, ইত্যাদির মাধ্যমে। এই সম্পর্কে তেরো পরিচ্ছেদের দীর্ঘ বক্তৃতার কথায় বলা হবে। এক্ষেত্রে অর্থাৎ ছোট্ট কথিকার ব্যাপারে যেটায় ব্যক্তিগত ছোট্ট উদাহরণ রাখা হয়। সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই শ্রোতাদের উদ্যোগী হতে খুবই কার্যকর ভূমিকা নেয়।
০৭. জানাবার জন্য বক্তৃতা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সভায় একবার জনৈক বক্তা এমন বক্তৃতা করেন যে শেষপর্যন্ত সভার সকলে বেশ বিরক্তই বোধ করতে আরম্ভ করেন। এ কাহিনী হয়তো কেউ কেউ শুনেও থাকবেন। ভদ্রলোক ছিলেন একজন উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মচারী, অথচ কথা বলার কৌশল তাঁর একেবারেই জানা না থাকায় অনেকক্ষণ ধরে শুধু উদ্দেশ্যহীনভাবেই বকে যান তিনি। কোন রকমেই তাঁর বক্তব্যের বিষয় পরিষ্কার হলনা। ফলে যা হওয়ার তাই হয়, কমিটির সদস্যদের মধ্যে অসহিষ্ণুভাব জাগতে আরম্ভ করে। শেষ পর্যন্ত আর থাকতে না পেরে ম্যানুয়েল জেমস আরভিন জুনিয়র, নামে একজন সদস্য উঠে দাঁড়িয়ে বেশ চোখা একটা মন্তব্য শোনালেন।
তিনি বলেছিলেন মাননীয় বক্তার কথা শুনে তাঁর পরিচিত এক ভদ্রলোকের কথা মনে পড়ছে। ভদ্রলোক তাঁর উকিলকে জানান তিনি তাঁর স্ত্রীকে ত্যাগ অর্থাৎ ডাইভোর্স করতে চান, যদিও স্ত্রী সুন্দরী, চমৎকার রাঁধতে পারেন আর মা হিসেবেও ভালো, একেবারে আদর্শ।
তাহলে বিচ্ছেদ চাইছেন কেন?’ উকিল জিজ্ঞাসা করলেন।
‘কারণ সে সারাক্ষণ বকবক করে’, স্বামী উত্তর দিলেন।
‘কোন্ বিষয়ে বকবক করেন?’
‘সেটাই তো ঝামেলা’, স্বামী জবাব দিলেন।
বহু বক্তার ক্ষেত্রেও সেই একই কথা, তা তিনি স্ত্রী বা পুরুষ যাই হোন। তাদের শ্রোতারা জানে না তাঁরা কি বলতে চান। তাঁরা তা বলেন না। তাঁরা তাঁদের বক্তব্য স্পষ্ট করেন না।
