এই কারণেই বলছি আপনার জীবনের চিত্তাকর্ষক যে কোন ঘটনার সজীব বর্ণনার অদ্ভুত মাদকতাময় ক্ষমতা থাকে। শ্রোতাদের মন আকর্ষণ করা যায় এটা দিয়ে। এর কারণ আপনি শ্রোতাদের বলবেন এমন অবস্থায় পড়লে কি করা দরকার।
খুঁটিনাটি বর্ণনা দিয়ে কথা শুরু করুন
উদাহরণ দিয়ে কথিকা শুরু করার কারণ হল চট করে শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা। দেখা গেছে বহু বক্তাই একাজে গোড়াতেই ব্যর্থ হন যেহেতু তারা নানা রকম বাড়তি বক্তব্য রাখতে চান, কৌশল করতে চান, মাঝে মাঝে মার্জনা চান। শ্রোতারা এসব পছন্দ করে না। যেমন ধরুন কেউ যদি বলেন, বক্তৃতা দিতে আমি তেমন অভিজ্ঞ নই,-এ ধরণের কথা অত্যন্ত ক্ষতিকারক। এছাড়াও অন্য কিছু পথ এড়িয়ে চলা ভালো। যেমন, ধরুন : যে ঘটনা সম্পর্কে বলবেন সে সম্বন্ধে ভালো তৈরি না থাকা বা কোন উপদেশ দান করেই শুরু করা।
“জনসংযোগের সহজ পদ্ধতি”
এবার এ বিষয়ে কি করণীয় তা বিখ্যাত সাময়িক পত্র আর সংবাদপত্রের লেখকদের কাছে শুনুন : ‘১৯৪২ সালে আমায় এক হাসপাতালের শয্যায় আশ্রয় নিতে হয়’ বা ‘গতকাল আমার স্ত্রী যখন কফি ঢালছিলেন…’, বা ‘গত জুলাইতে আমি যখন ৪২ নং হাইওয়ে ধরে জোরে গাড়ি চালাচ্ছিলাম…’, এই ধরণের কথা দিয়ে বক্তব্য শুরু করলে ফল লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
আসলে আপনি যদি আপনার কথিকা এমন সমস্ত কথা দিয়ে শুরু করেন যাতে এই সব প্রশ্নের অর্থাৎ কে? কখন? কোথায়? কি? কিভাবে? বা কেন-উত্তর থাকে, তাহলে জানবেন সেটা হবে সেই প্রাচীনতম পদ্ধতি। অর্থাৎ এর মধ্যে থাকছে একটি গল্পের সম্ভাবনা। অনেকদিন আগে’-এই কথা দিয়ে সুরু করলে দেখতে পাবেন শিশুদের কল্পনার জগৎ কেমনভাবে খুলে যায়। বয়স্কদের ব্যাপারেও তাই ভুলবেন না। প্রথম কথা দিয়ে তাদেরও আপনি জয় করতে পারেন।
হাসির গল্প দিয়ে শুরু করবেন না।
এটা অত্যন্ত দুঃখের কথা যে নতুন কোন উঠতি বক্তা প্রায়ই ভাবে বক্তা হিসেবে একটু মজার চরিত্র হওয়াই ভালো। তার মধ্যে হয়তো কোন রকম সরলতার চিহ্নও নেই, অথচ মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই তার মনে হয় বুঝি স্বয়ং মার্ক টোয়েনই ভর করেছে তার উপর। অতএব সে তথাকথিত কোন হাসির গল্প দিয়ে বক্তৃতা আরম্ভ করতে যায়। বিশেষ করে সময়টা যদি নৈশভোজনের পর হয়। ফল কি রকম হয় এতে? ফলে হয় কুড়ির মধ্যে ঊনিশ বারই চরম ব্যর্থতা-অর্থাৎ শ্রোতাদের আগ্রহ জাগেনা।
এর কারণ হল মানুষকে প্রাণ খুলে হাসানো সবচেয়ে কঠিন কাজ–এজন্য দরকার নিরবচ্ছিন্ন অধিকার। এ অনেকটাই নির্ভর করে ব্যক্তিগত চরিত্রের আর ব্যক্তিত্বের উপর। এ অনেকটা জন্মগত ক্ষমতা-সকলের এ ক্ষমতা থাকে না। কোন হাসির গল্প হাসির উদ্রেক করবেই এর কোন নির্দিষ্ট কারণ কখনও থাকে না–কারণ এ গল্প বলার সার্থকতা নির্ভর করছে বক্তার বলার ভঙ্গির উপর। মার্ক টোয়েনের পক্ষে যা সম্ভব অপরের পক্ষে তা কখনই সম্ভব নয়। মনে রাখা দরকার কোন গল্প বলে মার্ক টোয়েন যেভাবে খ্যাতি অর্জন করেন অন্যের পক্ষে তা আকাশ কুসুম।
লিঙ্কন যে কাহিনী শুনিয়ে একদিন বিখ্যাত হন সে কাহিনী পড়ে নিতে পারেন আপনারা। লিঙ্কনের কাহিনী শোনার জন্য মানুষ বহু মাইল দূর থেকে চলে আসত। সারারাত ধরেই তারা তা শোনার অপেক্ষায় থাকত।
শ্রোতাদের সহজে খুশি করার একটা পথ হল নিজের সম্পর্কে ঠাট্টা করা। বিখ্যাত বক্তা এডউইন জেমস ক্যাটেল বলেছেন তিনি জীবনে কখনও মজার কোন কাহিনী শোনান নি। তাঁর মতে যে কোন কাহিনীকে হতে হবে প্রয়োজনীয়, বিশ্বাসযোগ্য।
তাহলে কি শুরু করা দরকার গুরুগম্ভীর কোন বিষয় দিয়ে? না, তাও নয়। এমন বিষয় দিয়ে শুরু করুন যা শ্রোতাদের মনোমত হতে পারে, যার বৈশিষ্ট্য আছে, যাতে আগ্রহ জাগে।
২. নিজের বক্তব্য রাখুন, শ্রোতাদের কাছে কি চান
বলুন কাজ আদায় করার জন্য যে উদাহরণ রাখলেন, তাতে আপনার সময়ের তিন চতুর্থাংশ খরচ হয়ে গেছে। ধরুন আপনি দু’মিনিট কথা বলেছেন। তাহলে আপনার হাতে আর বিশ সেকেণ্ডই আছে যাতে শ্রোতাদের কাছে যে বক্তব্য রেখেছেন তাদের কাছে কাজ পেতে, তার পুরো ফল লাভের জন্য। বিশদ বর্ণনার সময় আর নেই। এখন সরাসরি কাজের সময় উপস্থিত এ হল সংবাদপত্রের ঠিক বিপরীত কাজ। প্রথমেই হেডলাইন যা দিয়ে আপনি প্রথমে দেবেন কাহিনীর সার বস্তু। তারপর ওই হেডলাইন দিয়ে কাজের আবেদন জানাবেন। এটা তিনটি নিয়ম মেনে চলা যায় :
আপনার মন্তব্য সংক্ষিপ্ত আর নির্দিষ্ট করুন
শ্রোতাদের কাছে কি চাইছেন স্পষ্ট করুন। শ্রোতারা যখন স্বচ্ছভাবে সব বুঝতে পারবে তখনই কাজ হবে। যেমন ধরুন পরোক্ষ কোন ইঙ্গিত দিলে তাতে কাজ হয় না। যেমন এরকম বললে কাজ হবে না : স্থানীয় অনাথ আশ্রমে আপনারা সাহায্য দিলে উপকার হয়। বরং যদি সরাসরি প্রত্যক্ষ কোন কাজের বিষয় বলা যায়, যেমন : আগামী রবিবার অনাথ আশ্রমে পঁচিশটি ছেলেকে চড়ুইভাতি করাতে নিয়ে যাবেন আপনারা এতে ঢের বেশি সাড়া মেলে। যেমন ধরুন যদি বলা যায় : আপনাদের দাদু-দিদিমাদের দেখাশোনা করা উচিত। বরং যদি বলেন : ‘প্রতি সপ্তাহ শেষে দাদু-দিদিমাকে দেখে আসুন’, তাহলে অনেক কাজ হবে।
সহজ করে বলুন, কাজ হবে
বক্তব্যের বিষয় যাই হোক না কেন, তাকে শ্রোতাদের কাছে গ্রহণ যোগ্য হওয়ার কাজটি নির্ভর করে বক্তারই ভঙ্গির উপর। বক্তাকে এমন ভাবে তা বলতে হবে যাতে শ্রোতারা সহজে কাজে উদ্বুদ্ধ হয়। মনে করুন আপনি চাইছেন শ্রোতাদের স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে তোলার কাজ করতে। এটা করতে হলে এরকম কখনই বলবেন না : এই মুহূর্ত থেকে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে চেষ্টা করুন। এটা এতই সাধারণ কথা যে কাজে লাগানো শক্ত। বরং বলতে পারেন : ‘কোন অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হলে পরের পাঁচ মিনিট তার নাম অন্তত পাঁচবার মনে করুন। এ হল সরাসরি কাজে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান।
