এই যাদু ফর্মূলা কার্যকরী হওয়ার একটা কারণও আছে। এ অতি আদর্শ। কারণ এই ফর্মুলা ছোট আকারের ভাষণ বা বক্তব্যর পক্ষেই যোগ্য যেহেতু এর মধ্যে বেশ একটু রহস্য জড়ানো থাকে। শ্রোতা আপনার বলা কাহিনীতে পছন্দমত জিনিসই খুঁজে পায়-দু-তিন মিনিটের ওই ভাষণ তাকে উত্তেজিতও করে তোলে। আবার আপনার শুরু করার মধ্যে কোন ত্রুটি বা ভুল পথ থাকলে উল্টোটাই ঘটে যেতে পারে। যেমন ধরুন, কোন সভায় আপনি যদি এই বলে শুরু করেন : ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আমি এখানে এসেছি আপনাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে পাঁচ ডলার করে আদায় করতে, তাহলে সভাস্থল ছেড়ে যাওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যাবে।
এবার দেখুন ঠিক এমনই কোন সমাজসেবামূলক কাজে লেল্যাণ্ড কোম্পানী রাষ্ট্রসঙ্রে পক্ষে শিশুদের জন্য কিভাবে সাহায্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হন :
‘আমার প্রার্থনা একাজ যেন আবার করতে না হয়। কোন শিশু আর মৃত্যুর মাঝখানে মাত্র একটা বাদাম-এর চেয়ে দুঃখজনক চিন্তা আর কি আছে? আশা করি আপনাকে একাজ কখনও করতে হবে না আর তার স্মৃতিকে পালন করতেও হবে না। আপনারা যদি জানুয়ারী মাসের কোন একদিন এথেন্সের শিশুদের কণ্ঠস্বর শুনতেন আর তাদের দৃষ্টি লক্ষ্য করতেন। …অথচ তাদের জন্য একটিন বাদাম ছাড়া আর কিছুই রেখে আসতে পারিনি। চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি অস্থি চর্মসার শিশুদের নিয়ে তাদের মায়েরা আমার কাছে ঠেলাঠেলি করে এগিয়ে আসার চেষ্টা করছে।’
‘তাদের উন্মত্ততা আমাকে যেন ভাসিয়ে দিতে চাইছিল। আমার চোখের সামনে শুধু শত শত মেলে ধরা হাত। সে হাত ভিক্ষা চাইছিল। কিন্তু আমি শুধু কতকগুলো বাদাম ছাড়া আর কিছুই দিতে পারলাম না।…হ্যাঁ, এ অভিজ্ঞতা যেন আপনাদের কারও না হয়।’
এই যাদু ফর্মুলা ব্যবসা সংক্রান্ত লেখাতেও কাজে লাগাতে পারা যায়। এছাড়াও সহকর্মী আর অধঃস্তন কর্মীদের উপদেশ দানেও কাজে লাগানো চলে। মেয়েরা তাদের সন্তানদের কোন বিষয়ে শিক্ষা দিতেও এটিকে কাজে লাগাতে পারেন। এর এক সার্বজনীন আবেদন রয়েছে। আপনার দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রেও দেখবেন মনস্তত্ত্বের দিকে এর আবেদন অনস্বীকার্য।
এমন কি বিজ্ঞাপনের কাজেও এই ফর্মুলার আবেদন অস্বীকার করার উপায় নেই। এভারেডী ব্যাটারী প্রতিষ্ঠান ইদানীং এই যাদু ফর্মুলা কাজে লাগিয়ে দূরদর্শনে কিছু অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেছেন। এই অনুষ্ঠানে কোন বিশেষ একজনের একরাতের অভিজ্ঞতা, যেমন তার গাড়ি উল্টে যাওয়ার বিষয়ে বর্ণনা দেয়। এই বর্ণনা দেওয়ার পর সেই মানুষটি জানায় কিভাবে গাড়ির হেডলাইটের আলোর সাহায্য পেলেন-সেই আলো অবশ্যই এভারেডী ব্যাটারীর সাহায্যে জ্বলেছিল। এরপর ঘোষক জানায়, এভারেডী ব্যাটারী কিনে বিপদ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন। আমার অবশ্য জানা নেই এই অনুষ্ঠান দেখে এভারেডী ব্যাটারীর বিক্রি কি পরিমাণে বেড়েছে, তবে এটা জানি এই যাদু ফর্মুলায় দর্শকরা জানতে পারেন এমন অবস্থায় কি করতে হবে। এরই বা মূল্য কম কি। এই ফর্মূলাতেই জানা যাবে কি করণীয় বা কি করা উচিত নয়।
১। নিজের জীবনের কোন ঘটনা বর্ণনা করুন
আপনার বক্তব্যের বেশির ভাগ অংশই জুড়ে থাকবে এই জীবন কাহিনীর টুকরো কথা। এই কথা বলার মধ্য দিয়ে আপনি শ্রোতাদের শোনাবেন আপনার অভিজ্ঞতার কাহিনী যা থেকে শিক্ষালাভ করেছেন। মনস্তত্ববিদরা বলেন আমরা দুটো পথে শিক্ষালাভ করি : এক কার্যকারীতার লিখনে, যাতে পরপর ঘটমান বহু ঘটনা আমাদের ব্যবহারিক জীবনধারা বদলে দিতে পারে। আর দুই, ফলাফলের নিয়মে, যাতে যে কোন একটি মাত্র ঘটনাও জীবনের মধ্যে বিরাট পরিবর্তন এনে দিতে পারে। আমরা সকলেই আমাদের জীবনে এধরণের অভিজ্ঞতা লাভ করি। এসব ঘটনার কথা আমাদের হাতড়ে বেড়াতে হয় না কারণ সেগুলো আমাদের স্মৃতির উপরের স্তরেই ভাসমান অবস্থায় থাকে। আমাদের ব্যবহার অনেকটাই এই অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে। এই সব ঘটে যাওয়া ঘটনাকে পুরোপুরি জীবন্তভাবে বর্ণনা করে আমরা অন্যদের ব্যবহার প্রভাবিত বা বদল করতে পারি। এর একটা আশ্চর্য রকম কারণ বর্তমান–যেহেতু ওই ঘটনার শরিক হলে মানুষের যা হত, কথায় হুবহু বর্ণনা করলে অনেকটা সেই অভিজ্ঞতাই হয় মানুষের। অতএব আপনি যখন আপনার জীবনের সেই ঘটনা বর্ণনা করবেন তখন এমন সজীব করে তুলবেন যে বর্ণনাকে যেন শ্রোতারাও সেই অভিজ্ঞতার স্বাদ পায়। এজন্য আপনাকে অনেক ব্যাখ্যা দিতে হতে পারে–আর সেটা নির্ভর করবে আপনি কতটা জীবন্ত করতে পারেন আপনার বক্তব্য তারই উপর।
নিচে যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে তা থেকে আপনার কার্যকারী ছোট্ট কথিকা স্পষ্ট, আবেগময় আর অর্থময় হয়ে উঠতে পারবে।
ব্যক্তিগত কোন অভিজ্ঞতা থেকে উদাহরণ রাখুন
ঘটনামূলক কোন উদাহরণ যদি এমন কোন উদাহরণ হয় যা আপনার জীবনে বেশ নাটকীয় প্রভাব ফেলেছে। তাহলে তার শক্তি এক্ষেত্রে হয় চমৎকার। সে ঘটনা হয়তো অল্প কোন সময়ের তবুও তা যেন আপনার জীবনে এমন ছাপ রাখে যা থেকে আপনি অবস্মিরণীয় কোন শিক্ষাই পেয়ে থাকতে পারেন। খুব বেশি দিন নয়, আমাদেরই একজন আমাদের ক্লাসে এই রকম একটা উদাহরণ রাখেন। ঘটনাটা তার জীবনের–নৌকা উল্টে যাওয়ার পর তার সাঁতারে জীবন বাঁচানোর চেষ্টার ভীতিকর কাহিনী। আমার ধারণা তার কাহিনী শোনার পর প্রত্যেক শ্রোতাই এ ধরণের অবস্থায় পড়লে বক্তার মতই উল্টো নৌকার উপর পড়ে থেকে সাহায্যের অপেক্ষা করতে চাইবে। আর একজন শোনান খড় মাড়াই করার কোন উল্টে পড়া কল আর এক শিশুর কাহিনী। বর্ণনাটা এতই জীবন্ত হয়েছিল যে আমার মনে গেঁথে আছে। তাই শ্রোতাদের মতই আমরা সকলেই নিশ্চয় বাড়িতে ওই ফল সম্বন্ধে সতর্কতা অবলম্বন করতে চেয়েছি। আমাদের ক্লাসে আরও এমন অনেক কাহিনী শোনা গেছে। এমন এক কাহিনী ছিল রান্নাঘরের গ্যাস থেকে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার কাহিনী। আমার বিশ্বাস ওই কাহিনী শুনে অনেকেই হাতের কাছে আগুন নেভানোর যন্ত্র রেখে দেবার ব্যবস্থা করেছেন।
