শেষ বিষয়টি চিন্তা করতে গিয়ে মাথা নাড়লেন জেরাল্ড। সামনের দিকে ড. পলা কেইন খুব বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবেন, বোঝা যাচ্ছে। জেরাল্ড জানেন, এই দুই বয়স্কা নারীর পার্টনারশিপ রিসার্চ ক্ষেত্র ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। ড. পলা কেইন-ই গতকাল রাতে ড. মারশিয়াকে বাড়ি ফিরতে না দেখে হেলিকপ্টার নিয়ে সার্চ পার্টি পাঠানোর জন্য তোড়জোর শুরু করেছিলেন।
মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে বিষয়টি ভেবেছিলেন জেরাল্ড। বিভিন্ন গবেষক প্রায়ই জঙ্গলে রাত কাটিয়ে থাকেন, সেটা কোনো ব্যতিক্রম ব্যাপার নয়। কিন্তু যখন তিনি শুনলেন ড. মারশিয়া আর ওয়ার্ডেন ওয়ালেনবার্গ প্রাইভেট স্টেট অ্যান্ড প্রিজার্ভের কাছে থাকা পার্কের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে গেছেন, তখন আর বিছানা থেকে না নেমে থাকতে পারেননি।
তার নেতৃত্বে একটি জরুরি অভিযান শুরু করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। রাতের নির্জনতাকে নষ্ট করে কোলাহল করে অভিযান পরিচালনাও করা হয়েছিল কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। জিন তার বোতলে ফিরে গেছে।
তবে এখনও একটি কাজ করা বাকি।
কাজ ঝুলিয়ে রাখার কোনো মানে হয় না।
ফোন তুলে একটি প্রাইভেট নাম্বারে ডায়াল করলেন তিনি। নোটপ্যাডে কলম দিয়ে দাগাতে দাগাতে ওপাশে ফোন ধরার জন্য অপেক্ষা করছেন।
রিপোর্ট, ওপাশ থেকে কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।
এইমাত্র তার সাথে ইন্টারভিউ শেষ করলাম।
তারপর?
সে কিছুই দেখেনি… ঠিকভাবে কিছুই দেখতে পায়নি।
মানে কী?
এক ঝলক দেখে আরকি। কিন্তু চিনতে পারেনি।
একটু দীর্ঘ নীরবতা।
নার্ভাস হয়ে পড়লেন জেরাল্ড। তার দেয়া রিপোর্ট সম্পাদনা করে দেয়া হবে। সিংহ। এটাই লেখা থাকবে রিপোর্টে। আমরা আরও কয়েকটা গুলি করে এই ব্যাপারটা এখানেই দুই-একদিনের মধ্যে শেষ করে দেব। আর এই লোকটাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ভেরি গুড। কী করতে হবে জানা আছে তো?
কেলজ একটু আপত্তি তুললেন। তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই বিষয়ে আর ঘাটাতে সাহস পাবে না। খুব ভাল করে ভয় পাইয়ে দিয়েছি। আমার মনে হয় না…
রাইট। কিছু মনে করতে হবে না। যা নির্দেশ দেয়ার দিয়েছি। ব্যাপারটা দুর্ঘটনার মতো করে সাজাবে।
লাইন কেটে গেল।
ক্রাড়লে রিসিভার নামিয়ে রাখলেন কেলজ। রুমের ভেতরে ফ্যান চলার পরেও তার শ্বাস নিতে কষ্ট হতে লাগল। দিন বাড়ার সাথে গরমও বাড়ছে। ফ্যানে কিছু হচ্ছে না।
অবশ্য এই গরমের ফলে তার কপাল থেকে ঘাম ঝরল না। ঘাম ঝরার অন্য কারণ আছে।
যা নির্দেশ দেয়ার দিয়েছি।
আর কেলজ ভাল করেই জানেন, নির্দেশ অমান্য করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
ডেস্কে থাকা নোটপ্যাডের দিকে তাকালেন তিনি। আনমনে এই চিত্রকর্ম এঁকে বসে আছেন। মনের অজান্তে মনের ভেতরে থাকা ভয়ের প্রতিচ্ছবি নোটপ্যাডে উঠে এসেছে।
জেরাল্ড পৃষ্ঠাটি দ্রুত ছিঁড়ে ফেললেন। ছিঁড়ে কুটিকুটি করলেন, কোনো প্রমাণ রাখলেন না। রাখা চলবেও না। এটাই নিয়ম।
তাকে নির্দেশ দেয়া আছে।
ব্যাপারটা দুর্ঘটনার মতো করে সাজাবে।
.
ভোর ৪টা ৫০ মিনিট।
৩৭ হাজার ফুট উঁচুতে, জার্মানি।
এক ঘন্টার মধ্যে আমরা ল্যান্ড করব, বলল মনক। তুমি আরেকবার ঘুমিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে দেখতে পারো।
টানটান হলো গ্রে। চ্যালেঞ্জার ৬০০ জেট-এর মৃদু গুঞ্জন ওকে স্বস্তি দিলেও ওর মনে ভেসে উঠছে গতকালের ঘটনাগুলো। ধাঁধা মেলানোর চেষ্টা করছে ও। চোখের সামনে ডারউইন বাইবেল খুলে বসে আছে।
ফিওনার কী অবস্থা?
মাথা নেড়ে প্লেনের পেছনের সোফার দিকে তাকাল মনক। কম্বলের নিচে শুয়ে আছে সে। অবশেষে শুয়েছে। ব্যথার ওষুধ দেয়াতে থেমেছে… বাচ্চারা কখনও মুখ বন্ধ রাখতে চায় না। বকর বকর করতেই থাকে।
কোপেনহ্যাগেন এয়ারপোর্ট থেকে একটানা বক বক করে এসেছে ফিওনা। গ্রে মনকে ফোন করে সতর্ক করে দিয়েছিল। গ্রের কথা অনুযায়ী একটি প্রাইভেট কার এসে ওদের দুজনকে অপেক্ষমাণ জেটের কাছে এনে পৌঁছে দিয়ে গেছে। রিফিউলিং (জ্বালানি) ভরা হচ্ছিল জেটে। ভিসা আর কূটনীতিক বিষয়গুলো সামাল দিয়েছেন লোগান।
তবে চ্যালেঞ্জার আকাশে উড্ডয়ন না করা পর্যন্ত গ্রে স্বস্তি পাচ্ছিল না।
গুলির আঘাতের কী খবর?
শ্রাগ করে পাশের চেয়ারে লুটিয়ে পড়ল মনক। গুলি বিদ্ধ হয়নি। জাস্ট ছুঁয়ে গেছে। তবে গভীর জখম হয়েছে কয়েকটা। সামনের কয়েকটা দিন ওকে ওগুলো বেশ ভালই যন্ত্রণা দেবে। তবে অ্যান্টিসেপটিক, লিকুইড স্কিন সিলেন্ট আর ব্যান্ডেজ দিলে আরও দুই দিন লাগবে সব সেরে যেতে। তারপর আরও লোকজনের পকেট মারবে।
ওর ওয়ালেট ঠিক জায়গায় আছে কি-না নিজের পকেট হাতড়ে দেখল মনক।
হ্যালো বলার জন্য ও পকেট মেরে থাকে।, বলল গ্রে। ক্লান্ত হাসি লুকোল ও। গ্রিট্টি নেয়াল ওকে এরকম একটি কথা গতকাল বলেছিলেন। ও খোদা, মাত্র গতকালের কথা! গতকাল?
মনকে ফিওনার সেবায় রেখে লোগানের কাছে রিপোর্ট করেছিল গ্রে। নিলাম অনুষ্ঠানে গ্রের কর্মকাণ্ড শুনে সিগমার ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর মোটেও খুশি হননি। কারণ গ্রের ওখানে যাওয়ারই কথা ছিল না। ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে। কপাল ভাল, নিলামে অংশগ্রহণকারীদের ছবি ওর পেনড্রাইভে রাখা ছিল। ওই দুই নারী-পুরুষের ছবিও আছে। সবগুলো ছবি লোগানের কাছে পাঠিয়ে দিল গ্রে। সেই সাথে বাইবেলের কিছু পৃষ্ঠা ও ওর নোটে আঁকা বিভিন্ন ছবি ফ্যাক্স করে দিল।
