সৌজন্যবশত হাততালি দিলো সবাই।
গ্রে জানে, ও যদি জিততো তাহলে হাততালি আরও জোরে হতো। তবে পাশ থেকে একজনকে হাততালি দিতে দেখে যারপরনাই অবাক হলো ও।
ফিওনা।
দাঁত বের করে হাসল মেয়েটি। চলো, এখান থেকে বের হই।
অন্য সবার সাথে দরজার দিকে পা বাড়াল ওরা। বেরোতে বেরোতে কয়েকজন ব্যর্থ ক্রেতা ওকে সান্তনা দিল। রাস্তায় পৌঁছে গেল সবাই। যে যার গন্তব্যে রওনা হলো।
ফিওনা ওকে টেনে নিয়ে কয়েক দোকান পেছনে থাকা একটি পেস্ট্রি শপে গেল। এখানে লোহার টেবিল আর পর্দার সুব্যবস্থা আছে। গ্রেকে নিয়ে সুস্বাদু লোভনীয় চকলেটের ডিসপ্লের সামনে দাঁড়াল ফিওনা। চকলেটের পাশাপাশি এখানে ডেনিশ স্যান্ডউইচও আছে।
তবে ফিওনা এসবের দিকে কোনো নজর দিল না। ওর ভেতরে অদ্ভুত উল্লাস খেলা করছে।
তুমি এত খুশি কেন? গ্রে অবশেষে প্রশ্ন করল। আমরা তো নিলামে হেরে গেছি।
জানালার দিকে তাকিয়ে আছে গ্রে। নিজের পেছন দিকটার প্রতি নজর রাখা দরকার। তবে যেহেতু বাইবেল বিক্রি হয়ে গেছে সে হিসেবে বিপদ হয়তো আগের মতো নেই, গ্রে ভাবল।
আমরা ওদেরকে ভুগিয়েছি! বলল ফিওনা। দাম তুলে দিয়েছি ৩ মিলিয়ন পর্যন্ত। ফাটাফাটি!
আমার তো মনে হয়, টাকা-পয়সা ওদের কাছে তেমন কোনো ব্যাপার না।
ফিওনা খোঁপা থেকে পিন বের করে চুলগুলো ছেড়ে দিল। ঝপ করে অনেকখানি বয়স কমে গেল ওর। চোখগুলো উজ্জ্বল, খুব খুশি, তবে ওই উজ্জ্বলতার মাঝে একটু বিদ্বেষেরও ছাপ দেখা গেল।
ওর এরকম আচরণ দেখতে দেখতে হঠাৎ পেটের ভেতরে কী যেন মোচড় দিয়ে উঠল গ্রের।
ফিওনা, কী কাণ্ড করেছ তুমি?
নিজের পার্স খুলে গ্রের দিকে কাত করে ধরল। উঁকি দিল গ্রে।
ও খোদা! ফিওনা… তুমি…
চামড়ায় মোড়ানো পুরোনো একটি গ্রন্থ ওর পার্সে জায়গা করে নিয়েছে।
ঠিক একই রকম দেখতে একটি ডারউইন বাইবেল মাত্র বিক্রি হয়ে গেল।
এটা আসলটা? প্রশ্ন করল গ্রে।
যখন পেছনের রুমে ছিলাম তখন ওই ব্যাটা কানা নিলামদারের নাকের নিচ দিয়ে এটা নিয়ে নিয়েছি।
কীভাবে…?
টোপ ফেলে মাছ ধরার মতো ব্যাপার। বাইবেলের সঠিক মাপ ঠিক করে নিতে আমার প্রায় সারাদিন লেগেছিল। পরে অবশ্য ওটাকে একটু ঘষা-মাজা করেছি। তারপর কেঁদে বুক ভাসিয়ে, চিৎকার চেঁচামেচি আর একটু আনাড়িপনা দেখিয়েছি… শ্রাগ করল ও। ব্যস, কাজ হয়ে গেল।
তোমার কাছে যেহেতু বাইবেল ছিলই তাহলে কেন আমাকে দিয়ে দর হাঁকালে…? গ্রে ব্যাপারটা অনুধাবন করল। তুমি আমাকে ব্যবহার করেছ। খেলেছ আমার সাথে।
আরে না। দুই পেন্স দামের ভুয়া জিনিসের জন্য ওই বেজন্মাগুলোর পকেট থেকে তিন মিলিয়ন ডলার খসিয়ে দেয়ার জন্য করেছি!
খুব শীঘ্রি ওরা টের পাবে ওটা আসল জিনিস নয়, বলল গ্রে, কণ্ঠে ভয়।
জানি। কিন্তু ততক্ষণে আমিও পগার পার হয়ে যাব।
কোথায়?
তোমার সাথে। ফিওনা পার্স বন্ধ করল।
জ্বী, না।
তোমার মনে আছে, মাটি তোমাকে একটা ভেঙ্গে দেয়া লাইব্রেরির কথা বলেছিল?
গ্রে জানে ফিওনা কী বলতে চাইছে। গ্রিট্টি নেয়াল ওকে আভাস দিয়েছিলেন কে বা কারা যেন পুরো বিজ্ঞানীদের লাইব্রেরিকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তিনি ওকে বিলের আসল কপি দেখাতে যাবেন এমন সময় হামলাটা হলো, সব নষ্ট হয়ে গেল
কপালে হাত দিল ফিওনা। আমার কাছে সব ঠিকানা লিখে রাখা আছে। ও এক হাত সামনে বাড়িয়ে দিল। তাহলে?
ভ্রু কুঁচকে হ্যান্ডশেক করতে যাচ্ছিল গ্রে।
মুখ হাঁড়ি করে ফিওনা হাত সরিয়ে নিল। তার আগে, আবার হাত বাড়িয়ে দিল ও, হাতের তালু পেতে দিয়েছে। আমি তোমার আসল পাসপোর্ট দেখতে চাই। তোমার কী মনে হয়, ভুয়া পাসপোর্ট আমি চিনি না?
ওর দিকে তাকাল গ্রে। এই মেয়ে এর আগে ওর পাসপোর্ট চুরি করেছিল। এখন হাবভাব দেখে সুবিধের মনে হচ্ছে না, একদম নাছোড়বান্দা। ভ্রু কুঁচকে স্যুটের গোপন পকেট থেকে আসল পাসপোর্ট বের করল গ্রে।
ফিওনা পড়ল। গ্রেসন পিয়ার্স। রেখে দিল টেবিলে। অবশেষে… নাইস টু মিট
পাসপোর্ট ফেরত নিল গ্রে। এখন বলল, বাইবেলটা এলো কোথা থেকে?
বলব, যদি তুমি আমাকে তোমার সাথে নাও।
ঠাট্টা কোরো না। তুমি একটা বাচ্চা মেয়ে, আমার সাথে আসতে পারো না।
বাচ্চা মেয়ে, সাথে কিন্তু ডারউইনের বাইবেলও আছে।
ফিওনার ব্ল্যাকমেইল দেখে গ্রে বিরক্ত হলো। ওর কাছ থেকে এই বাইবেল ছিনিয়ে নেয়া গ্রের বাঁ হাতের খেলা কিন্তু তথ্য তো আর ওভাবে আদায় করা যাবে না।
ফিওনা, এটা কিন্তু কোনো ছেলেখেলা নয়।
শক্ত করে ওর দিকে তাকাল ফিওনা। তুমি কি ভেবেছ, আমি সেটা বুঝি না? শীতল গলায় বলল ও। আমার মাট্টিকে যখন ব্যাগে করে নিয়ে যাচ্ছিল তখন তুমি কোথায় ছিলে? ব্যাগে করে নিচ্ছিল ওরা।
চোখ বন্ধ করল গ্রে। মেয়েটা ওর নার্ডে আঘাত করেছে তবে ও নরম হলো না। ফিওনা, আমি দুঃখিত। টানটান গলায় বলল ও। কিন্তু তুমি যেটা বলছ সেটা সম্ভব নয়। আমি পারব না…।
বিস্ফোরণের ধাক্কায় ভূমিকম্পের মতো দোকান দুলে উঠল। ঝনঝন করে উঠল সামনের গ্লাসগুলো। গ্রে আর ফিওনা উঠে গিয়ে দাঁড়াল জানালার কাছে। রাস্তা ধোয়ায় ছেয়ে গেছে। ধোয়ার কিছু অংশ যাত্রা শুরু করেছে ঝাপসা আকাশের দিকে।
গ্রের দিকে তাকাল ফিওনা। দাঁড়াও আমি আন্দাজ করে বলছি, কোথায় হয়েছে।
