তবে পায়রাদের ক্ষেত্রে আমরা অন্য একটি ঘটনা জানি। শ্লেটপাথরতুল্য নীল পাখিদের সব জাতের ডানায় দুটি কালো ডোরা দাগ, সাদা কটি, লেজের শেষে একটি ডোরা দাগ, বাইরের পালকের কিনারার নিচে সাদা দাগ মাঝেমাঝে আবির্ভূত হয়। এইসব চিহ্নগুলি পিতামাতা পাহাড়ি পায়রার বৈশিষ্ট্য বলে এ থেকে আমি ধরে নিই যে নিঃসন্দেহেই এটি একটি পূর্বানুবৃত্তির ঘটনা এবং কয়েকটি জাতে নূতন, তবুও সদৃশ পরিবৃত্তি বা পরিবর্তনের আবির্ভাবের ঘটনা নয়। আমার মনে হয় আমরা দৃঢ় সিদ্ধান্তেই আসতে পারি, কারণ আমরা দেখেছি এইসব রঙ্গিন চিহ্নগুলির দুটি ভিন্ন ও বিভিন্ন রঙের জাতের সঙ্করিত বংশধরে আবির্ভূত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে, এবং এ ক্ষেত্রে বংশগতির নিয়মানুসারে কেবল সংকরণ প্রক্রিয়ার প্রভাব ছাড়া কতিপয় চিহ্ন সমেত শ্লেটপাথরতুল্য নীল রঙের পুনরাবির্ভাব কেবলমাত্র জীবনের বহিঃপরিবেশ ঘটাতে পারে না।
এটি একটি অতি বিস্ময়কর ঘটনা যে সম্ভবতঃ শত শত বংশের পর লুপ্ত হওয়া বৈশিষ্ট্যসমূহ পুনরাবির্ভূত হবে। কিন্তু যখন একটি জাত কেবলমাত্র একবার অন্য কোন জাতের সঙ্গে সংকরিত হয়, তখন বংশধরটি মাঝেমাঝে অনেক বংশধরে বিদেশি জাতের বৈশিষ্ট্যে প্রত্যাবর্তনের প্রবণতা দেখায়–কেউ কেউ বলেন এক ডজন বা এমনকি এক কুড়ি বংশ ধরে। সাধারণভাবে বললে-বারো বংশ পরে একজন পূর্বপুরুষ থেকে রক্তের অনুপাত কেবলমাত্র ২০৪৮-এ ১ হয়, এবং তথাপি আমরা লক্ষ্য করি যে সাধারণ বিশ্বাস হল–বিদেশি রক্তের এই অবশিষ্টাংশ পুনরাবির্ভাবের একটি প্রবণতাকে ধরে রাখে। একটি বংশ, যা সংকরিত হয়নি এবং যাতে উভয় পিতামাতায় তাদের পূর্বপুরুষের কিছু বৈশিষ্ট্য লুপ্ত হয়েছে, তা বলবান বা দুর্বল যা-ই হোক, লুপ্ত বৈশিষ্ট্যের পুনর্জননের প্রবণতাটি, বহু সংখ্যক বংশপরম্পরা ধরে প্রেরিত হয়ে থাকবে–যেমনটা পূর্বে বলা হয়েছিল। একটি জাতে লুপ্ত হওয়া কোন বৈশিষ্ট্য যখন বিরাট সংখ্যক বংশের। পর পুনরাবৃত্তি হয়, তখন সবথেকে সম্ভাব্য প্রকল্পটি এই নয় যে একটি একক বিগত শত বংশ দ্বারা অপসারিত একজন পূর্বপুরুষের বৈশিষ্ট্যটি হঠাৎ গ্রহণ করে, বরং প্রত্যেক পর্যায়ক্রমিক বংশে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যটি প্রচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে এবং পরিশেষে অজ্ঞাত অনুকূল পরিবেশে বিকশিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, গোলা পায়রাদের ক্ষেত্রে, যারা কদাচিৎ নীল বর্ণের পাখিরা জন্ম দেয়, এটি সম্ভবপর যে প্রত্যেক বংশে নীল পালক উৎপন্ন করার একটি প্রচ্ছন্ন প্রবণতা রয়েছে। বিরাট সংখ্যক বংশপরম্পরা ধরে এরূপ একটি প্রবণতার বংশগতভাবে প্রেরণের বিমূর্ত অসম্ভবতা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় অথবা অবর্ধক বা লুপ্তপ্রায় অঙ্গদের একইরূপে বংশগতভাবে প্রেরণের তুলনায় বিরাটতর নয়। একটি অঙ্কুর সৃষ্টি করার জন্য কেবল একটি প্রবণতাই বাস্তবিক পক্ষে কোন কোন সময় বংশগতভাবে প্রেরিত হয়।
একই গণের সব প্রজাতিরা একটি সাধারণ পিতামাতা থেকে উদ্ভূত হয়েছে বলে মনে করা হয় বলে আশা করা যেতে পারত যে এরা একটি সদৃশ বা অনুরূপ উপায়ে মাঝেমাঝে পরিবর্তিত হবে, যাতে করে দুই বা ততোধিক প্রজাতির ভ্যারাইটিরা পরস্পরের সদৃশ হবে অথবা একটি প্রজাতির একটি ভ্যারাইটি কোন কোন বৈশিষ্ট্যে, অন্য ও ভিন্ন প্রজাতির অনুরূপ হবে–আমাদের মতানুসারে এই অন্য প্রজাতিটি হচ্ছে একটি স্পষ্টচিহ্নিত ও স্থায়ী ভ্যারাইটি। কিন্তু অনুরূপ পরিবৃত্তির জন্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্ভবতঃ অপ্রয়োজনীয় প্রকৃতির হবে, কারণ সমস্ত কার্যকরী গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের সংরক্ষণ প্রজাতির বিভিন্ন স্বভাব অনুসারে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়ে থাকবে। আরও আশা করা যেতে পারত যে একই গণের প্রজাতিদের মধ্যে বহু পূর্বে লুপ্ত হওয়া বৈশিষ্ট্যগুলির পুনরাবির্ভাব মাঝেমাঝে দেখা যাবে। তবে যেহেতু আমরা যে কোন প্রাকৃতিক গোষ্ঠীর সাধারণ পূর্বপুরুষদের জানি না, সেহেতু আমরা পূর্বানুবৃত্তিমূলক ও সদৃশ বা অনুরূপ বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে পার্থক্য করতে পারি না। উদাহরণস্বরূপ, যদি আমরা না জানতাম যে পিতামাতা পাহাড়ি পায়রাদের পালকওয়ালা পা ও ঝুঁটি ছিল না, তাহলে আমরা বলতে পারতাম না আমাদের গৃহপালিত জাতসমূহে এইসব বৈশিষ্ট্যগুলি পূর্বানুবৃত্তিমূলক বা কেবল সদৃশ বা অনুরূপ পরিবৃত্তি কিনা; তবে চিহ্নের সংখ্যা থেকে আমরা সিদ্ধান্তে আসতে পারতাম যে নীল রঙের পূর্বানুবৃত্তি একটি ঘটনা, যা এই রঙের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং যা সম্ভবতঃ সরল পরিবৃত্তি থেকে সকলে একত্রে আবির্ভূত হয়েছে। বিভিন্ন রঙের জাতগুলির সংকরণের পর প্রায়শই নীল রং এবং কতিপয় চিহ্নের আবির্ভাব থেকে আরও বিশেষভাবে আমরা এই সিদ্ধান্ত করতে পারতাম। পূর্বে অবস্থিত বৈশিষ্ট্যদের কোন ঘটনাগুলি পূর্বানুবৃত্তিমূলক এবং কোন্ ঘটনাগুলি নূতন অথচ সদৃশ বা অনুরূপ পরিবৃত্তি হবে, যদিও প্রাকৃতিক পরিবেশে এটি সন্দেহজনক বলে পরিত্যক্ত হবে, তথাপি, আমাদের তত্ত্বানুসারে, আমরা কোন কোন সময় লক্ষ্য করে থাকব যে একটি প্রজাতির পরিবর্তনশীল বংশধররা সেই। বৈশিষ্ট্যসমূহ ধারণ করে, যেগুলি একই গোষ্ঠীর অন্য সদস্যদের মধ্যে ইতিমধ্যেই। বর্তমান রয়েছে। এবং সন্দেহাতীতভাবে বলা যায় এটিই হচ্ছে ঘটনা।
