“মালিকেরা সবাই আত্মগোপন করে আছে।” রিপোর্ট করলেন ইমরান। “আমরা রেড অ্যালার্ট জারি করলেও লোকগুলো অত্যন্ত চতুরতার সাথে নিজেদেরকে ঢেকে রেখেছে। বেশ ভালো রকম পরিকল্পনা করেই নামা হয়েছে এ কাজে। ধরা পড়ে গেলে কী করবে সেটাও আগে থেকেই প্ল্যান করা আছে।”
“ওয়ালেসকে আপনি বিশ্বাস করেন?” জানতে চাইল কলিন। “অদ্ভুত সব জায়গায় তাকে ছড়ি ঘোরাতে দেখা গেছে। এতগুলো ব্যাপার কাকতালীয় হতে পারে না। অলিম্পিয়াসের সমাধি খননকাজে অর্থ সাহায্য করেছেন। উনার ট্রাস্ট পিটার আর স্ট্যাভরসকে নিয়োগ দিয়েছে। যারা ডাকাত আর বদমাশ ছাড়া কিছু নয়। টাইটান ফার্মার চেয়ারম্যানও তিনিই। আর তার কোম্পানির সাথে যুক্ত মেডিকেল সেন্টারেই এসব ধোয়াটে এক্সপেরিমেন্ট চলছিল। সেন্টার ভাড়া নেয়া হলেও যোগসূত্র অবশ্যই আছে।”
কয়েক মুহূর্ত সবাই নীরব হয়ে থাকল। তারপর প্যাটারসন জানাল, “তোমার কথাগুলোকে একেবারে অগ্রাহ্য করছি না। কিন্তু কোনো প্রমাণও নেই হাতে। ওয়ালেস টাইটানের নন-এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান। যার মানে কোম্পানির সব সিদ্ধান্তে নাক গলানোটা তার এক্তিয়ারে পড়ে না। এমনকি এর মাঝে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য বাড়ি ভাড়া নেয়ার সিদ্ধান্তও আছে। তাই সম্ভাবনা আছে যে অর্ডারের কাজে দিল্লির ফ্যাসিলিটি ব্যবহার সম্পর্কে সে সত্যিই ওয়াকিবহাল নয়। আর জয়পুর তো টাইটানের নয়ই। তাই টাইটানের সাথে যে দুই ফ্যাসিলিটির সম্পর্ক নেই ওয়ালেস সে দাবি করতেই পারে।”
“আর খনন কাজ?” কলিন হার মানতে নারাজ। রাধার অকাল মৃত্যু এখনো মেনে নিতে পারেনি। তাই মেয়েটার মৃত্যুর জন্য কাউকে না কাউকে তো দায়ী হতেই হবে।
প্যাটারসন মাথা নেড়ে জানালেন, “এবারও না বলব। ওয়ালেসের ট্রাস্টের পরিচালক হলো সিমার পার্কার। সমস্ত নিয়োগ সেই দেয়। ওয়ালেস নয়। স্ট্যাভরস আর কুপারের কথা কখনো শোনেইনি। আমরা পার্কারের ব্যাকগ্রাউন্ডও চেক করেছি। একেবারে পরিষ্কার। কুপারের কাগজপত্র জাল ধরা পড়েছে। নিখুঁতভাবে জাল করা হয়েছে। একেবারে সিআইএ’র মত। ওরা সত্যিই পেশাদার। তোমার কথামত যদি পার্কারকেও সন্দেহ করতে চাই; হাতে কোনো প্রমাণই নেই।”
“কিন্তু, অন্তত নজর রাখার ব্যবস্থা তো করা যায়, তাই না?” নিরাশ হতে চায় না কলিন।
“এখানে খুব সাবধানে পা ফেলতে হবে।” উত্তরে জানালেন প্যাটারসন, “সম্মিলিত বাহিনি হিসেবে আমাদের কেসের জন্য এখনো ততটা বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে পারিনি। প্রথমবার অ্যাকশনে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছি। ঠিক তাই; ব্যর্থই হয়েছি। যা ঘটেছে তাকে আর অন্য কোনোভাবে ব্যাখ্যা করার উপায় নেই। কারণ যাই হোক না কেন ফলাফলকে মেনে নিতেই হচ্ছে। অন্য কারো উপর যদি অভিযোগ চাপাতে চাই, কে বিশ্বাস করবে আমাদেরকে? আমরা যাদের কথা বলছি তাদের উপর নজরদারির জন্য কে রাজি হবে?”
“কিন্তু এভাবে তো ওদেরকে পার পেতে দেয়া যায় না।” রুখে দাঁড়াল কলিন।
“তুমি কি আবেগের বশবর্তী হয়ে বলছ নাকি কোনো শক্ত কারণ আছে?” পাল্টা প্রশ্ন ছুড়লেন প্যাটারসন। “আমরাও তোমার মতই ভাবছি। আমার জন্য টাস্ক ফোর্সের প্রতিজন সদস্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ। আবেগপ্রবণ হয়ে লাভ নেই। আর যুক্তি বলছে যে এখন কারো উপর আঙুল তোলার উপায় নেই। যদি প্রমাণ মিলে যায় আমিই সবার আগে সবকটার রক্ত শুষে নেব। কিন্তু তার আগে আমার হাত বাঁধা।”
সবাই আবারো একেবারে নিশ্চুপ হয়ে গেল। কিন্তু কলিনকে মানতেই হল যে প্যাটারসন সত্যি কথা বলছেন। তিক্ত হলেও সত্য। এর সাথে আর কোনো তর্ক চলে না।
“সাক্সেনার খবর কী?” জানতে চাইল বিজয়।
“একেবারে লাপাত্তা।” উত্তরে জানালেন প্যাটারসন, “সাক্সেনাকেও সেন্টারের সাথে জড়ানো যাচ্ছে না। প্রমাণ করার জন্য কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও নেই।”
“তার মানে লোকটার কিছুই হবে না?” বিজয় যেন কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছে না, “গুপ্ত ঘাতকের হাত থেকে ইমরান কোনোমতে বেঁচে ফিরেছে আর রাধাতো মারাই গেছে।” রাধার নাম উচ্চারণ করতেই ধরে এলো গলা, “তাতেও কি লোকটার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয় না?”
“আমরা তাকে গ্রেফতার করতে পারি।” ভদ্রভাবে জানালেন ইমরান, “তুমি আর আমি তাকে শুধু সন্দেহ করছি; কিন্তু কোনো প্রমাণ নেই। যাই হোক শকুনের মত খুঁজছি। আগে হোক পরে তোক ধরা তাকে পড়তেই হবে। তারপর দেখাবো মজা।”
“আমাদেরকে আসলে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এগোতে হবে। যাই করি না কেন, যার বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলি না কেন; আইনের মধ্যেই থাকতে হবে।”
চুপ করে আছে বিজয়। চেহারায় ক্ষোভের স্পষ্ট চিহ্ন ফুটে উঠেছে।
“তো ঠিক আছে। আমার মনে হয় যুক্তরাষ্ট্র আর ভারতীয় সরকারকে রিপোর্ট করার জন্য যা যা প্রয়োজন, আমি পেয়ে গেছি।” সংক্ষেপে জানালেন প্যাটারসন, “টাস্ক ফোর্সের জন্য শুরুটা তেমন ভালো হল না। শত্রু পালিয়ে গেছে। সাথে ভাইরাস। তাই অনেক কাজ করতে হবে। ভাইরাসকে পৃথক করে কাঙ্ক্ষিত দ্রবণ প্রস্তুতে নিশ্চয় খুব বেশি সময় নেবে না। তার আগেই তাদেরকে থামাতে হবে। অথচ হাতে তেমন কোনো প্রমাণও নেই। তাই চলো কাজে লেগে পড়ি। দেখা যাক কী করা যায়। নিশ্চয় কোনো না কোনো রাস্তা বের হবে। ইতিহাস অর্ডারকে উপেক্ষা করলেও একেবারে অবহেলা নিশ্চয় করেনি।”
