***
তথ্যসূত্র
১. গৌতমের জন্ম ও ‘অগ্রসর হওয়া’র তারিখ এখন বিতর্কিত। পশ্চিমা পণ্ডিতগণ এক সময় অনুমান করেছিলেন যে, ৫৬৩ সাল নাগাদ জন্ম গ্রহণ করেছেন তিনি। সুতরাং, সে অনুযায়ী ৫৩৪-এর দিকে গৃহত্যাগ করে থাকবেন। কিন্তু সাম্প্রতিক পণ্ডিতগণ আভাস দিয়েছেন, ৪৫০ বিসিই নাগাদ গৌতম গৃহত্যাগ করে থাকতে পারেন। হেইনয বারচ্যান্ট, ‘দ্য ডেইট অভ বুদ্ধ রিকনসিডারড’, ইন্দোলোজিয়া টরিনেনসিন, ১০।
২. গৌতমের ছেলের নাম ছিল রাহুলা, সাধারণভাবে যা ‘বাঁধন’ হিসাবে অনুবাদ করা হয়। কোনও কোনও আধুনিক পণ্ডিত এই উদ্ভাবনকে প্ৰশ্ন সাপেক্ষ মনে করেছেন।
৩. মাজহিমা নিকয়া ৩৬.১০০।
৪. প্রাগুক্ত, ২৬, ৩৬, ৮৫, ১০০।
৫. জাতকা, ১: ৬২
৬. ল্যুক ৯: ৫৭-৬২; ১৪: ২৫-২৭; ১৮: ২৮-৩০।
৭. মাজহিমা নিকয়া, ২৬।
৮. আঙুত্তারা নিকয়া, ৩: ৩৮।
৯. মির্চা এলিয়াদ, দ্য মিথ অভ দ্য ইটারনাল রিটার্ন অর কসমস অ্যান্ড হিস্ট্রি, (অনু. উইলার্ড জে. ট্রাস্ক) প্রিন্সটন. এন জে, ১৯৫৪।
১০. মাজহিমা নিকয়া, ২৬
১১. উদনা, ৮: ৩।
১২. সুত্তা-নিপাতা, ৩: ১।
১৩. কার্ল জেস্পারস, দ্য অরিজিন অ্যান্ড গোল অভ হিস্ট্রি, অনু. মাইকেল বুলক, লন্ডন ১৯৫৩।
১৪. প্রাগুক্ত, ২-১২।
১৫. প্রাগুক্ত, ৭, ১৩।
১৬. প্রাগুক্ত, ২৮-৪৬।
১৭. জেনেসিস ২-৩।
১৮. জোসেফ ক্যাম্পবেল, অরিয়েন্টাল মিথলোজি, দ্য মাস্কস্ অভ গড, নিউ ইয়র্ক, ১৯৬২, ২১১-১৮।
১৯. বিনয়া: কুলাভাগ্য ৬: ৪; ৭: ১।
২০. মাজহিমা নিকয়া, ৪।
২১. আলফ্রেড ওয়েবার, কালচারজেশিকতে আলস কাল্পচারসাযিওলোজি, লেইডেন, ১৯৩৫; দাস ব্রাজিশচে আন্দ দাই জেসাচিশতে, হামবূৰ্গ, ১৯৪৩।
২২. রিচার্ড এফ, গমব্রিচ, থেরাভেদা বুদ্ধজম: আ সোশ্যাল হিস্ট্রি ফ্রম অ্যানেশেন্ট বেনারেস টু মডার্ন কলোম্বো, লন্ডন ও নিউ ইয়র্ক, ১৯৮৮, ৩৩-৫৯।
২৩. প্রাগুক্ত, ৩৩-৩৪; হারমান অলদেনবার্গ, দ্য বুদ্ধা: হিজ লাইফ, হিজ ডকট্রিন, হিজ অর্ডার (অনু. উইলিয়াম হোয়ে), লন্ডন, ১৮৮২, ১৯-২১, ৪৪-৪৮: ট্রেভর লিঙ, দ্য বুদ্ধা: বুড্ডিস্ট সিভিলাইজেশন ইন ইন্ডিয়া অ্যান্ড সিলোন, লন্ডন, ১৯৭৩, ৬৬-৬৭।
২৪. সুকুমার দত্ত, বুড্ডিস্ট মঙ্কস অ্যান্ড মনেস্টারিজ অভ ইন্ডিয়া, লন্ডন, ১৯৬২, ৭৩।
২৫. জেস্পারস, অরিজিন অ্যান্ড গোল, ৪৮-৪৯।
২৬. প্রাগুক্ত, ৫৫।
২৭. মার্শাল জি.এস. হজসন, দ্য ভেঞ্চার অভ ইসলাম, কনশিয়েন্স অ্যান্ড হিস্ট্রি ইন আ ওঅর্ল্ড সিভিলাইজেশন, ৩ খণ্ড, শিকাগো ও লন্ডন, ১৯৭৪, ১০৮-৩৫।
২৮. লিঙ, দ্য বুদ্ধা, ৩৮-৫৫; মাইকেল কারিথার্স, দ্য বুদ্ধা, অক্সফোর্ড ও নিউ ইয়র্ক, ১৯৮৩, ১৩-১৮; গমব্রিচ, থেরাভেদা বুদ্ধজম, ৫০-৫৯।
২৯. লিঙ, দ্য বুদ্ধা, ৪৮-৪৯।
৩০. গমব্রিচ, থেরাভেদা বুদ্ধজম, ৩৪৯-৫০; কারিথার্স, দ্য বুদ্ধা, ১২-১৪। ৩১. লিঙ, দ্য বুদ্ধা ৫৩-৬৩; মাইকেল এডোয়ার্ডস্, ইন দ্য ব্লোইং আউট অভ আ ফ্লেইম: দ্য ওঅর্ল্ড অভ দ্য বুদ্ধা অ্যান্ড দ্য ওঅর্ল্ড অভ ম্যান, লন্ডন, ১৯৭৬, ২৭-২৯।
৩২. রিচার্ড এফ. গমব্রিচ, হাউ বুদ্ধজম বিগান: দ্য কন্ডিশন্ড জেনেসিস অভ দ্য আর্লি টিচিংস, লন্ডন ও আটলান্টিক হাইল্যান্ডস্, এনজে. ১৯৯৬, ৩১-৩৩; থেরাভেদা বুদ্ধজম, ৪৬-৪৮; কারিথার্স, দ্য বুদ্ধা, ২৪-২৫; লিঙ, দ্য বুদ্ধা, ৪৭-৫২।
৩৩. লিঙ, দ্য বুদ্ধা, ৬৫-৬৬; অলদেনবার্গ, দ্য বুদ্ধা, ৪১-৪৪।
৩৪. চ্যান্দোগ্য উপনিষদ, ৬: ১৩।
৩৫. অলদেনবার্গ, দ্য বুদ্ধা, ৫৯-৬০।
৩৬. প্রাগুক্ত, ৬৪; ক্যাম্পবেল, অরিয়েন্টাল মিথলোজি: দ্য মাস্কস্ অভ গড, ১৯৭-৯৮।
৩৭. দত্ত, বুড্ডিস্ট মঙ্কস, ৩৮-৪০।
৩৮. জাতকা ১, ৫৪-৬৫, হেনরি ক্লার্ক ওয়ারেন’র বুদ্ধজম ইন ট্রান্সলেশন-এ, ক্যাম্ব্রিজ, ম্যাস, ১৯০০, ৪৮-৬৭।
৩৯. দিঘা নিকয়া ২: ২১-২৯।
৪০. জাতকা, ১: ৬১।
৪১. প্রাগুক্ত, ১: ৬৩।
২. অন্বেষণ
সূদূরবর্তী রাজ্য শাক্য পেছনে ফেলে মগধ রাজ্যে প্রবেশের পর নতুন সভ্যতার প্রাণকেন্দ্রে এসে পৌঁছেছিলেন গৌতম। পালি কিংবদন্তী আমাদের জানাচ্ছে, প্রথমে অল্প কিছুদিন মগধের রাজধানী অন্যতম শক্তিশালী উন্নয়নশীল নগর রাজাগহের বাইরে অবস্থান করেন তিনি। খাবার ভিক্ষা করার সময় আর কেউ নন, খোদ রাজা বিম্বিসারার নজরে পড়ে যান। তরুণ শাক্য ভিক্ষুকে দেখে এতই মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি যে তাঁকে আপন উত্তরাধিকারী নির্বাচিত করতে চেয়েছিলেন।[১] এটা স্পষ্টতই রাজাগহে গৌতমের প্রথম পদার্পণের কাল্পনিক অলঙ্করণ। তবে ঘটনাটি তাঁর ভবিষ্যৎ মিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে। গৌতম ছিলেন কাপিলবাস্তুর নেতৃস্থানীয় পরিবারগুলোর একটির সদস্য, রাজা ও অভিজাতজনদের সঙ্গে অনায়াসে মিশতে পারতেন তিনি। শাক্যতে কোনও গোত্রপ্রথা ছিল না। কিন্তু সমাজের মূল স্রোতধারায় পৌঁছানোর পর নিজেকে ক্ষত্রিয় হিসাবে তুলে ধরেছেন তিনি সরকারের পক্ষে উপযোগি গোত্রের সদস্য। কিন্তু বহিরাগত কারও মতো বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে বৈদিক সমাজের কাঠামো পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছিলেন গৌতম। ব্রাহ্মণদের সমীহ করার জন্যে বড় করা হয়নি তাঁকে; কখনওই তাঁদের সঙ্গে সমস্যায় পড়েননি তিনি। পরে নিজস্ব মতবাদ প্রতিষ্ঠা করার পর তিনি উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে যে কোনও রকম কঠোর শ্রেণীবিন্যাসে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এই সমালোচনামূলক অবস্থান শহরগুলোয় তাঁকে সুবিধাজনক অবস্থান দেবে যেখানে গোত্র-প্রথা ভেঙে পড়ছিল। গৌতমের প্রথম আহ্বানস্থল প্রত্যন্ত অঞ্চল না হয়ে বিরাট শিল্পনগরী হওয়ার বিষয়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কর্মজীবনের অধিকাংশ সময়ই শহর ও নগরে কাটাবেন তিনি, যেখানে নগরায়নের সঙ্গে আবির্ভূত পরিবর্তন ও উত্থানপতনের ফলে সৃষ্ট ব্যাপক অস্থিরতা ও বিস্ময়ের উপস্থিতি ছিল। পরিণামে বেশ আধ্যাত্মিক তৃষ্ণাও ছিল।
