আরো একটি দৃষ্টান্ত। ১৮১৫ সালের জন্য জ্যাকব এই হিসাবটি দেন। কয়েকটি বিষয়ের ক্ষেত্রে আগেকার লেনদেন মিটমাটের দরুণ হিসাবটি খুবই ত্রুটিপূর্ণ, যাই হোক আমাদের কাজের পক্ষে যথেষ্ট। এতে তিনি ধরে নিয়েছেন গমের দাম কোয়ার্টার পিছু ৮ শিলিং এবং একর পিছু ফলনের পরিমাণ ২২ বুশেল।
উৎপন্ন দ্রব্যের দাম এবং তার মূল্য একই ধরে নিয়ে আমরা এখানে উত্ত মূল্যকে দেখতে পাই নানা শিরোনামে বন্টিত : মুনাফা, সুদ, খাজনা ইত্যাদি। এসব সম্পর্কে সবিস্তারে আমাদের কিছু করার নেই; আমরা কেবল এগুলিকে এক সঙ্গে যোগ করি এবং তার ফল দাঁড়ায় ৩ পা, ১১শি. এপে. পরিমাণ একটি উত্ত মূল্য বীজ ও ধান বাবদে ব্যয়িত ৩ পা. ১৯শি. এপে. পরিমাণ অর্থ হল স্থির মূলধন এবং আমরা তাকে ধরে নিই শূন্য বলে। তারপর থেকে গেল ৩ পা ১০ শি . পে, যেটা হল অগ্রিম-প্রদত্ত মূলধন এবং আমরা তার জায়গায় পেলাম নূতন উৎপাদিত যা সূচিত করে ১০০% ভাগে বেশি উদ্ব-মূল্যের হার। শ্রমিক তার কাজের দিনের অর্ধাংশেরও বেশি দিয়েছে উদ্বৃত্ত-মূল্য উৎপাদনের জন্য, যা বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন অছিলায় নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছে।[৯]
————
১. “যদি আমরা বিনিয়োজিত স্থিতিশীল মূলধনের মূল্যকে প্রদত্ত অগ্রিমের একটি অংশ হিসাবে গণ্য করি, তা হলে আমরা বছরের শেষে এই মূলধনের বাকি মূল্যকে অবশ্যই বার্ষিক প্রতিদানের ( ‘রিটার্নস’-এর একটি অংশ হিসাবে গণ্য করব।” ( ম্যালথাস, “প্রিন্সিপ লস অব পলিটিক্যাল ইকনমি”, দ্বিতীয় সংস্করণ, লণ্ডন, ১৮৩৬, পৃঃ ২৬৯।)
২. লুক্রেটিয়াস যা বলছেন, তা স্বতঃস্পষ্ট “nil posse creari de nihilo”, যেখানে কিছুই নেই, সেখানে কিছুই সৃষ্টি হতে পারে না।” মূল্যের সৃজন হল শ্রম শক্তির শ্রমে রূপান্তরণ। স্বয়ং শ্রমশক্তিও হল পুষ্টিকর পদার্থের মাধ্যমে মানবদেহে স্থানান্তরিত শক্তি।
৩. ঠিক যেমন ইংরেজরা ‘মুনাফার হার’, ‘সুদের হার প্রভৃতি কথা ব্যবহার করে। বাংলা পঞ্চম-ষষ্ঠ গ্রন্থে উত্তমূল্যের পরিচয় লাভের সঙ্গে সঙ্গে আমরা দেখতে পাব, মুনাফার হার কোনো কুহেলি নয়। আমরা যদি প্রক্রিয়াটি উলটে দেই, তা হলে আমরা না বুঝতে পারব এটি, না বুঝতে পারব ওটি।
৪. ( তৃতীয় জার্মান সংস্করণে সংযোজিত টীকা)-লেখক এখানে প্রচলিত অর্থ নৈতিক ভাষার আশ্রয় নিয়েছেন। স্মরণীয় যে ইতিপূর্বেই দেখানো হয়েছে, আসলে শ্রমিকই ধনিককে ‘অগ্রিম’ দেয়, ধনিক শ্রমিককে ‘অগ্রিম’ দেয়না।-এফ, এঙ্গেলস।।
৫. এই গ্রন্থে আমরা এ পর্যন্ত আবশ্যিক শ্রম-সময়’ কথাটি ব্যবহার করেছি কোনো পণ্য উৎপাদনের জন্য কোনো সামাজিক অবস্থায় যে-সময় আবশ্যক হয়, তাকে বোঝাবার জন্য। এখন থেকে শ্রমশক্তি নামক বিশেষ পণ্যটি উৎপাদনের জন্য যে-সময়ের আবশ্যক হয়, তা বোঝাতেও আমরা কথাটি ব্যবহার করব। বিভিন্ন অর্থ বোঝাবার জন্য একই পরিভাষার ব্যবহার অসুবিধাজনক। কিন্তু কোনো বিজ্ঞানেই তা সম্পূর্ণ পরিহার করা যায় না। গণিত বিজ্ঞানের উচ্চতর শাখাগুলির সঙ্গে নিম্নতর শাখাগুলিকে তুলনা করে দেখুন।
৬, হের উইলহেলম রশার একটা ঘোড়ার ডিম পেয়েছেন। তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ। আবিষ্কারটি করেছেন যে, যদি, এক দিকে উত্তমূল্যের গঠন বা উদ্ধৃত্ত উৎপন্ন এবং তজ্জনিত মূলধনের সঞ্চয়ন হয়ে থাকে ধনিকের মিতব্যয়ের ফল, তা হলে অন্য দিকে, সভ্যতার নিম্নতম পর্যায়গুলিতে প্রবলেরাই বাধ্য করে দুর্বলকে ব্যয়সংকোচ করতে (পূর্বোক্ত, ৭৮)। কিসের ব্যয়সংকোচ? শ্রমের? কিংবা অতিরিক্ত ধনসম্পদের, যার তখন কোনো অস্তিত্বই ছিল না? সে জিনিসটি কি যা বুশারের মত লোকদের প্রণােদিত করে ধনিকের কমবেশি আপাত-গ্রাহ্ন কৈফিয়ৎ গুলির পুনরাবৃত্তি করে উত্তমূল্যের উৎপত্তির এবং তার উত্তমূল্যে আত্মীকরণের ব্যাখ্যা দান করতে? সে জিনিসটি হল, তাদের যথার্থ অজ্ঞতা ছাড়াও, মূল্য ও উত্তমূল্যের একটি বিজ্ঞান সিদ্ধ বিশ্লেষণ এবং তা থেকে কর্তৃপক্ষে, অরুচিকর কোনো ফল-লাভ সম্পর্কে তাদের আত্মরক্ষামূলক আতংক।
৭. যদি উদ্ধ-মূল্যের হার শ্রমশক্তির শোষণের একটি যথাযথ সূচক, তা হলেও এটি কোনক্রমেই শোষণের অপেক্ষিক পরিণামের সূচক নয়। যেমন যদি আবশ্যিক এম হয় = ৫ ঘণ্টা এবং উদ্ধত্ত-শম ৫ ঘণ্টা, তা হলে শোষণের মাত্রা ১০ ০%। শোষণের পরিমাণ এখানে মাপা হয়েছে ৫ ঘণ্টার দ্বারা। কিন্তু, অন্য দিকে, যদি আবশ্যিক শ্রম হয় ৬ ঘণ্টা এবং উদ্ধত শ্রম ৬ ঘণ্টা, তা হলে শোষণের মাত্রা থেকে যায় আগের মতই ১০০%, সেখানে শোষণের যথার্থ মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে ২০%-৫ ঘণ্টা থেকে ৬ ঘণ্টা।
৮. উল্লিখিত তথ্যের উপরে আস্থা রাখা যায়, ওগুলি আমাকে দিয়েছিলেন ম্যাঞ্চেস্টারের একজন সুতাকল মালিক। ইংল্যাণ্ডে একটি ইঞ্জিনের অশ্ব-শক্তি আগে গণনা করা হত তার ‘সিলিণ্ডার’-এর ব্যাস থেকে, বর্তমানে নির্দেশকে ( ‘ইণ্ডিকেটর’-এ) যে যথার্থ অশ্বশক্তি দেখানো হয়, তাকেই গ্রহণ করা হয়।
৯. যে-হিসাবগুলি দেওয়া হয়েছে, সেগুলি দৃষ্টান্ত মাত্র। বস্তুত, আমরা ধরে নিয়েছি, দাম = মূল্য। কিন্তু তৃতীয় গ্রন্থে আমরা দেখতে পাব যে এমনকি গড় দামের কেত্রেও এমন সরল ভাবে এটা ধরে নেওয়া যায় না।
