১৪, পত্রটিকে গণ্য করা যায় কল-মালিকেদের ইশতাহার হিসাবে। (ফেরাও, ‘মোশন অন দি কটন ফেমিন, H.o.c. ২৭ এপ্রিল, ১৮৬৩)।
১৫. এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, এই একই মূলধন, সাধারণ অবস্থায়, যখন মজুরি-দ্বাসের প্রশ্ন থাকে, তখন গান করে সম্পূর্ণ ভিন্ন গান। তখন সব মালিকেরা সমন্বরে চিৎকার করে, কারখানা-কর্মীদের এ তথ্যটা ভালভাবে মনে রাখা উচিত যে তাদের শ্রম বাস্তবিক পক্ষেই একটা নিচু জাতের দক্ষ শ্রম, এর চেয়ে বেশি সহজে আয়ত্ত করা যায়, মান-অনুযায়ী এর চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পায় কিংবা সবচেয়ে স্বয় বিশেষজ্ঞের প্রশিক্ষণে এর চেয়ে বেশি তাড়াতাড়ি এবং বহুল পরিমাণে অর্জন করা যায়, এমন আর কোনো শ্রম নেই।‘মালিকের মেশিনারি’ ( যা আমরা জানি ১২ মাসের মধ্যে প্রতিস্থাপন করা যায় ) বস্তুতঃ পক্ষে কর্মীর (যাকে আমরা এখন জানি, ৩০ বছরের মধ্যে প্রতিস্থাপন করা যায় না) শ্রম ও দক্ষতার তুলনায় উৎপাদনের কাজে গ্রহণ করে টের বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা; কর্মীর দক্ষতা তো ছ মাসের মধ্যেই শিখে নেওয়া যায় এবং একজন মামুলি শ্রমিকই তা শিখে নিতে পারে। (এই বইয়ের পূ ৯৬, টাকা ১০ দ্রষ্টব্য)।
১৬. দেশান্তর-গমনের সাহায্যার্থে পার্লামেন্ট এক কপর্দকও অনুমোদন করেনি, পরন্তু কয়েকটি আইন পাশ করে পৌর নিয়মগুলিকে ক্ষমতা দান করল কর্মীদের অর্ধাহারে রাখতে অর্থাৎ চতি মজুরিরও কম মজুরিতে তাদের শোষণ করতে। অন্য দিকে, যখন তিন বছর পরে, গবাদি পশুর ব্যাধির প্রাদুর্ভাব ঘটল, পার্লামেন্টে চলতি রীতিনীতি বেপরোয়া ভাবে ভাঙচুর করে কোটিপতি জমিদারদের ক্ষতিপূরণের জন্য সরাসরি কোটি কোটি পাউণ্ড মঞ্জুর করল, যাদের জোত-মালিকেরা অবশ্য মাংসের দাম বেড়ে যাবার দৌলতে বিনা লোকমানেই বেরিয়ে এসেছিল। ১৮৬৬ সালে পার্লামেন্টের উদ্বোধনে জমির মালিকদের বৃষসুলভ হারবে বোঝা গেল হিন্দু না হয়েও কেউ গাভী ‘সবলা’-কে পূজা করতে পারে এবং জুপিটার না হয়েও কেউ নিজেকে ষাঁড়ে রূপান্তরিত করতে পারে।
১৭. “L’ouvrier demandait de la subsistence pour vivre, le chef demandait du travail pour gagner.” (Sismondi, 1.c. p. 91).
১৮. এই দাসত্ব-বন্ধনের একটা কদর্য নোংরা রূপ দেখা যায় ডারহাম-কাউন্টিতে। অল্প যেকটি কাউন্টিতে উপস্থিত অবস্থাবলীর দরুন কৃষি-মালিক এখনো এখনো কৃষি এমিকের উপরে অবিসংবাদিত স্বত্বাধিকার অর্জন করতে পারেনি, এই কাউন্টি তাদের মধ্যে একটি। খনি-শিল্পের অস্তিত্বের কল্যাণে শ্রমিকদের এখনো কিছু বাছ-বিচারের সুযোগ আছে। এই কাউন্টিটিতে, কৃষি-মালিক, অন্যত্র যে-রীতি চালু আছে তা থেকে বিপরীত ভাবে, এমন কৃষি-জোতের বন্দোবস্ত নেয়, যেগুলিতে শ্রমিকদের কুটির আছে। কুটিরের ভাড়া মজুরির একটা অংশ। এই কুটিরগুলিকে বলা হয় মজুরঘর।
এগুলি শ্রমিকদের ভাড়া দেওয়া হয় বণ্ডেজ’ নামে এক চুক্তির (দাসখৎ’-এর অধীনে–কিছু সামন্ততান্ত্রিক সেবা-সুবিধার বিবেচনায়; এই চুক্তির অন্যান্য শর্তের মধ্যে একটি শত শ্রমিককে বেঁধে রাখে এই বাধ্যবাধকতায় যে সে যখন অন্যত্র কাজে যাবে, তখন সে তার বদলে কাউকে, যেমন মেয়েকে রেখে যাবে তার জায়গা পূরণ করতে। খোদ শ্রমিকটিকে বলা হয় বণ্ড সম্যান’ (খৎবাঁধা মজুর)। এখানে যে-সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়, তাতে প্রকাশ পায় কিভাবে শ্রমিকের দ্বারা ব্যক্তিগত পরিভোগ পরিণত হয় মূলধনের পক্ষ থেকে পরিভোগ—কিংবা উৎপাদনশীল পরিভোগ, সম্পূর্ণ নতুন এক দৃষ্টিকোণ থেকে : “এটা খুবই অদ্ভুত যে, এই খৎবাঁধা মজুরদের বিষ্ঠা পর্যন্ত হিসেবী প্রভুটির পাওনা এবং প্রভুটি একমাত্র নিজেরটি ছাড়া আর কোনো পায়খানা ত্রিসীমানায় করতে দেয় না; বরং এখানে সেখানে কোন বাগানের জন্য একটু-আধটু সার দেবে কিন্তু তার সামন্ততান্ত্রিক অধিকারের কোনো অংশ ছেড়ে দেবে না।” (জনস্বাস্থ্য, সপ্তম রিপোর্ট, ১৮৬৪, পৃঃ :৮৮)।
১৯. এটা ভুললে চলবে না যে, শিশুদের শ্রমের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছামূলক বিক্রয়ের আনুষ্ঠানিক রূপটি পর্যন্ত উধাও হয়ে যায়।
২০. মূলধন ধরে নেয় মজুরিশ্রমের অস্তিত্ব এবং মজুরি-শম ধরে নেয় মূলধনের অস্তিত্ব। একটি অপরটির অস্তিত্বের আবশ্যিক শর্ত; তারা পরস্পরকে ডেকে আনে সহাবস্থানে। তুলো-কারখানার শ্রমিক কি তুলো-জাত দ্রব্যাদি ছাড়া আর কিছুই উৎপাদন করে না? না, সে উৎপাদন করে মূলধন। সে উৎপাদন করে মূল্যসম্ভার, যা তার শ্রমের উপরে দেয় নতুন কর্তৃত্ব এবং যা এই কর্তৃত্বের মাধ্যমে সৃষ্টি করে নোতুন মূল্যসম্ভার।” (কার্ল মার্কস : “Lohnarbeit und Kapital” : “Neue Rheinische Zeitung, No 266, ৭ই এপ্রিল, 1894) উক্ত পত্রিকায় উল্লিখিত শিবোনামায় যে-প্রবন্ধগুলি প্রকাশিত হয়েছিল, সেগুলি ১৮৪৭ সালে জার্মান Arbeiter. Verein’-এ প্রদত্ত কয়েকটি বক্ততার অংশ; ফেব্রুয়ারি-বিপ্লবের জন্য ঐ বক্তৃতাগুলির প্রকাশনা বাধাপ্রাপ্ত হয়।
২৪. উদ্বৃত্ত মূল্যের মূলধনে রূপান্তরণ
চতুর্বিংশ অধ্যায়– উদ্বৃত্ত মূল্যের মূলধনে রূপান্তরণ
প্রথম পরিচ্ছেদ —ক্রমবর্ধমান আয়তনে ধনতান্ত্রিক উৎপাদন। পণ্যোৎপাদনের বৈশিষ্ট্যসূচক সম্পত্তির নিয়মাবলীর ধনতান্ত্রিক আত্মীকরণের নিয়মাবলীতে অতিক্রমন।
