কারখানা-পিছু টাকুর গড় সংখ্যা
ইংল্যাণ্ড কারখানা-পিছু টাকুর গড় সংখ্যা ১২,৬০০
ফ্রান্স ,, ১৫০০
প্রুশিয়া ,, ১৫০০
বেলজিয়াম ,, ৪০০০
স্যাক্সনি ,, ৪৫০০
অস্ট্রিয়া ,, ৭০০০
সুইজারল্যাণ্ড ,, ৮০০০
ব্যক্তি-পিছু টাকুর গড় সংখ্যা
ফ্রান্স একজন ব্যক্তি-পিছু ১৪ টাকু
রাশিয়া ,, ২৮
প্রুশিয়া ,, ৩৭
ব্যাভেরিয়া ,, ৪৬
অস্ট্রিয়া ,, ৪৯
বেলজিয়াম ,, ৫০
স্যাক্সনি ,, ৫০
সুইজারল্যাণ্ড ,, ৫৫
জার্মানির ক্ষুদ্রতর রাষ্ট্রসমূহ ,, ৫৫
গ্রেট ব্রিটেন ,, ৭৪
মিঃ রেভগ্রেভ বলেন, “এই তুলনা গ্রেট ব্রিটেনের পক্ষে আরো কম অনুৰুল যেহেতু এক বিরাটসংখ্যক কারখানায় শক্তির সাহায্যে বয়নের কাজ সুতো তৈরির সঙ্গে একযোগে পরিচালিত হয় (অথচ উল্লিখিত সারণীতে বয়নকারীদের বাদ দেওয়া হয়নি, এবং বিদেশের কারখানাগুলি প্রধানতঃ সুতা তৈরির কারখানা; যদি কঠোরভাবে সমানে সমানে তুলনা করা যেত, আমি আমার জেলায় এমন অনেক তুলল-কারখানা দেখতে পারতাম, যেখানে ২,০০০ মাকুর কাজ দেখছে মাত্র একজন লোক (মাইণ্ডার) এবং তার সঙ্গে দুজন সহকারী, দৈনিক উৎপাদন করছে ২২০ পাউণ্ড সুতোযার দৈর্ঘ্য হবে ৪০০ মাইল” (কারখানা-পরিদর্শকের রিপোর্ট, ৩১শে অক্টোবর, ১৮৬৬ সাল, পৃ: ৩১-৩৭)।
এটা সুপরিজ্ঞাত যে, পূর্ব ইউরোপে এবং এশিয়ায়, ইংরেজ কোম্পানিগুলি রেলপথের নির্মাণকার্য শুরু করেছে এবং তা করতে গিয়ে, তদ্দেশীয় শ্রমিকদের পাশাপাশি কিছু সংখ্যক ইংরেজ শ্রমিকও নিযুক্ত করেছে। বাস্তব প্রয়োজনের চাপে তারা এইভাবে বাধ্য হয়েছে শ্রম-তীব্রতায় জাতিগত পার্থক্যকে হিসাবের মধ্যে ধরতে, অবশ্য তাতে তাদের কোনো ক্ষতি হয়নি। তাদের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, এমনকি যদি মজুরির উচ্চতা শ্রমের গড় তীব্রতার মোটামুটি অনুরূপ হয়, তাহলে আমরা শ্রমের আপেক্ষিক দাম সাধারণতঃ বিপরীত দিকে পরিবর্তিত হয়।
তাঁর প্রথম অর্থ নৈতিক লেখাগুলির একটিতে,“মজুরির হার প্রসঙ্গে প্রবন্ধে”[৪] এইচ ক্যারি প্রমাণ করতে চেষ্টা করেন যে, বিভিন্ন জাতির মজুরি জাতীয় কর্মদিবসের উৎপাদনশীলতার মাত্রার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ভাবে আনুপাতিক; এই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক থেকে তিনি এই সিদ্ধান্ত টানেন যে, সর্বত্রই মজুরির হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে শ্রমের উৎপাদন শীলতার অনুপাতে। উদ্বৃত্ত-মূল্যের উৎপাদন সম্পর্কে আমাদের সমগ্র বিশ্লেষণটি প্রমাণ করে দেয় ক্যারির এই সিদ্ধান্তটি কত আজগুবি; তার অভ্যাসগত অবিবেচক ও ভাসাভাসা ভঙ্গিমায় এক গাদা পরিসংখ্যানের তালগোল পাকান পিণ্ড নিয়ে এদিক ওদিক কসরৎ না করে, তিনি নিজে যদি এমনকি তার প্রতিজ্ঞাগুলিও প্রমাণ করতে পারতেন! তার বক্তব্যের সবচেয়ে ভাল দিক এইটাই যে, তিনি বলেননি, তাঁর তত্ত্ব অনুসারে যা যা হওয়া উচিত, ঠিক তাই তাই হয়েছে। কেননা, রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ স্বাভাবিক অর্থনৈতিক সম্পর্কসমূহকে ভেস্তে দিয়েছে। অতএব, বিভিন্ন জাতীয় মজুরিগুলিকে গণ্য করতে হবে যেন তার প্রত্যেকটির যে-অংশ ট্যাক্সের আকারে রাষ্ট্রের হাতে যায়, তাই শ্রমিকের নিজের হাতে এসে গিয়েছে। মিঃ ক্যারির কি আরো বিবেচনা করে দেখা উচিত ছিল না যে ঐ “রাষ্ট্রীয় ব্যয়গুলি” ধনতান্ত্রিক বিকাশের স্বাভাবিক” ফল নয়? যে-ব্যক্তিটি সর্বপ্রথমে ঘোষণা করেছিলেন যে, ধনতান্ত্রিক উৎপাদনের সম্পর্কসমূহ হল প্রকৃতি ও যুক্তির শাশ্বত নিয়ম,-যার অবাধ ও সুষম ক্রিয়াশীলতা ব্যাহত হয় কেবল রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের দ্বারা এবং যিনি পরে আবিষ্কার করেছিলেন যে বিশ্ববাজারের উপরে ইংল্যাণ্ডের শয়তানি প্রভাবই (যে-প্রভাব, মনে হয়, ধনতান্ত্রিক উৎপাদনের প্রাকৃতিক নিয়মাবলী থেকে উদ্ভূত হয় না), রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপকে অর্থাৎ রাষ্ট্র কর্তৃক, ওরফে, সংরক্ষণতন্ত্র”-কর্তৃক, প্রকৃতি ও যুক্তির ঐ নিয়মাবলীর সংরক্ষণেকে অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছিল, সেই ব্যক্তিটির পক্ষে এমন ধারা যুক্তি প্রদর্শন খুবই শোভন। তিনি আরো আবিষ্কার করেছিলেন যে, রিকার্ডো ও অন্যান্যদের যেসব উপপাদ্যে উপস্থিত সামাজিক বৈরিতা ও বিরোধগুলি সূত্রায়িত হয়েছে, সেই উপপাদ্যগুলিতে বাস্তব অর্থ নৈতিক গতিপ্রকৃতির তত্ত্বগত ফল নয়, বরং, বিপরীত, ইংল্যাণ্ডে ও অন্যত্র ধনতান্ত্রিক উৎপাদনের বাস্তব সম্পর্কগুলিই রিকার্ডো ও অন্যান্যদের তসমূহের ফল। সর্বশেষে, তিনি আবিষ্কার করলেন যে, বাণিজ্যই শেষ পর্যন্ত ধনতান্ত্রিক উৎপাদনের সহজাত সৌন্দর্য ও সুষমা সমূহের সংহার সাধন করে। আরো এক পা এগোলেই, সম্ভবত, তিনি আবিষ্কার করে ফেলবেন ধনতান্ত্রিক উৎপাদনে একটিই মাত্র খারাপ জিনিস আছে, সেটি হল মূলধন নিজেই। বিবেচনা-বৃত্তির এমন নিদারুণ অভাব এবং এমন মিথ্যা পাণ্ডিত্যের ভড়ং যার আছে, তিনিই হতে পারেন, তার সংরক্ষণবাদী বিধর্মিতা সত্ত্বেও, বাষ্টিয়াট এবং আজকের দিনের তাবৎ অবাধ বাণিজ্যকামী আশাবাদীদের গোপন উৎস।
