১ এবং ২ এর মধ্যে বর্নিত ভিন্ন ভিন্ন বিষয় দুটির মধ্যে তুলনা করলে দেখা যাবে। যে অপেক্ষিক মূল্যের একই পরিবর্তন সম্পূর্ণ বিপরীত কারণে ঘটতে পারে। যথা ২০ গাজ ছিট = ১ কোট এর বদলে ২০ গজ ছিট = ২ কোট পেতে পারি, হয় এই জন্য যে ছিটের মূল্য দ্বিগুণ হয়ে গেছে, অথবা এইজন্য যে কোটের মূল্য অর্ধেক কমে গেছে; আবার ২০ গজ ছিট = অর্ধ কোট হতে পারে, হয় এইজন্য যে ছিটের মূল্য অর্ধেক কমে গেছে, অথবা এইজন্য যে কোটে বা মূল্য দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
৩। যথাক্রমে ছিট এবং কোট তৈরী করবার জন্য প্রয়োজনীয় শ্ৰম-সময় একই সঙ্গে, একই দিকে এবং একই অনুপাতে বেড়ে গেল। এক্ষেত্রে ২০ গজ ছিট ১টি কোটের সমান থেকে যাবে তাদের মূল্য যতই পরিবর্তিত হোক না কেন। তাদের মূল্যের পরিবর্তন ধরা পড়বে যখন তাদের তুলনা করব এমন তৃতীয় পণ্যের সঙ্গে, যার মূল্য স্থির আছে। যদি সমস্ত পণ্যের মূল্য একই সঙ্গে এবং একই অনুপাতে বাড়তো কিংবা কমতে, তাদের আপেক্ষিক মূল্যের কোন পরিবর্তন হতো না। তাদের মূল্যের প্ৰকৃত পরিবর্তন ধরা পড়বে সেই পণ্যের কোন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সময়ের মধ্যে কম। সময়ে অথবা বেশি সময়ে উৎপন্ন হচ্ছে তা থেকে।
৪। যথাক্রমে ছিট এবং কোট, সুতরাং এই পণ্যদ্বয়ের মূল্য, একই দিকে অথচ ভিন্ন ভিন্ন অনুপাতে, অথবা বিপরীত দিকে অথবা অন্য কোনভাবে পরিবতিত হতে পারে। পণ্যের অপেক্ষিক মূল্যের উপর এই সমস্ত সম্ভাব্য হ্রাসবৃদ্ধির প্রভাব ১, ২ এবং ৩ এর ফলাফল থেকে কষে বার করা যেতে পারে।
এইভাবে মূল্যের পরিমাণগত পরিবর্তন তার আপেক্ষিক প্ৰকাশে, অৰ্থাৎ অপেক্ষিক মূল্যের পরিমাণ যাতে প্ৰকাশিত হয় সেই সমীকরণের ভিতরে প্ৰতিফলিত হয় না, স্বচ্ছ ভাবেও নয়, পরিপূর্ণভাবেও নয়। যে-কোনো একটি পণ্যের মূল্য স্থির থাকলেও তাঁর আপেক্ষিক মূল্যের হ্রাসবৃদ্ধি হতে পারে। তার মূল্যের হ্রাসবৃদ্ধি হলেও তার আপেক্ষিক মূল্য স্থির থাকতে পারে; এবং, সর্বোপরি, তার মূল্যের এবং আপেক্ষিক মূল্যের হ্রাসবৃদ্ধি যুগপৎ একসঙ্গে হলে তা যে সমপরিমাণেই হবে এমন কোন কথা নেই।(৫)
৩. মূল্যের সমার্ঘ রূপ
আমরা দেখেছি যে কি পণ্য (ছিট)। ভিন্ন প্রকারের একটি পণ্যের (কোটি) ব্যবহার মূল্যের মাধ্যমে নিজ মূল্য প্রকাশ করে দ্বিতীয় পণ্যেটির ওপর ছাপ দিয়ে দেয় একটি বিশেষ ধরনের মূল্যের অর্থাৎ সমার্ঘরূপের। যেহেতু কোটি নিজেস্ব আকৃতির বহিভূত কোন পৃথক মূল্যরূপ ধারণ করছে না, এবং যেহেতু তার সঙ্গে ছিটে সমীকরণ হচ্ছে, সেই হেতু ছিট নামক পণ্যটি তার মূল্যগুণ জাহির করতে পারছে। সুতরাং ছিটেল যে মূল্য আছে সে কথা প্ৰকাশ করা হচ্ছে এই বলে যে, তার সঙ্গে কোটের সরাসরি বিনিময় হতে পারে। কাজেই, আমরা যখন একটি পণ্যকে সমার্ঘরূপ আখ্যা দিই, তখন আমরা এই তথ্যটিই বিকৃত করি যে, তার সঙ্গে অন্যান্য পণ্যের সরাসরি বিনিময় হতে পারে।
যখন কোন একটি পণ্য যেমন কোট, অন্য কোন একটি পণ্যের, যেমন ছিটের সমার্ঘরূপ হিসেবে কাজ করে এবং তার ফলে যখন তা ছিটের সঙ্গে বিনিময়ের স্বভাবসিদ্ধ যোগ্যতা লাভ করে, তখনে আমরা জানি না। যে ওদের বিনিময় হতে পারে কী অনুপাতে। ছিটের মূল্যের পরিমাণ যদি দেওয়া থাকে, তাহলে এই অনুপাত নির্ভর করে কোটের মূল্যের উপর। কোট সমাৰ্দরূপ এবং ছিট আপেক্ষিক মূল্যের কাজ করুক, অথবা ছিট সমার্ঘরূপ এবং কোটি আপেক্ষিক মূল্যের কাজ করুক, কোটের মূল্যের পরিমাণ নির্ভর করে তার মূল্য-রূপ থেকে স্বতন্ত্রভাবে, তার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় শ্ৰম-সময় দিয়ে। কিন্তু কোটি যখন খ মূল্যের সমীকরণে সমার্ঘরূপের স্থান গ্ৰহণ করে তখন তার নিজস্ব মূল্যের কোন পরিমাণ প্ৰকাশিত হয় না, বরং কোটি এই পণ্যটি তখন মাত্র একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের জিনিস হিসেবে হাজির হয়।
উদাহরণ স্বরূপ, ৪০ গজ ছিটের মূল্য–কত? ২ কোট। কারণ কোটি নামক পণ্যটি এখানে সমার্ঘরূপের ভূমিকা অবলম্বন করেছে, কারণ ছিট থেকে পৃথক এই কোটের ভিতর অঙ্গীভূত মূল্য আছে, তাই নিদিষ্ট সংখ্যক কোটি দ্বারা নির্দিষ্ট পরিমাণ ছিটের মূল্য প্রকাশ করা চলে। কাজেই কোটগুলি ৪০ গজ ছিটের মূল্য প্ৰকাশ করতে পারে, কিন্তু কখনো তাদের নিজ মূল্যের পরিমাণ প্রকাশ করতে পারে না। মূল্যের সমীকরণে সমাৰ্নরূপটি যে কোনো একটি জিনিসের তথা ব্যবহার-মূল্যের, সহজ সরল একটি পরিমাণ ছাড়া আর কিছুই না, এই তথ্যটি ভাসাভাসা ভাবে লক্ষ্য করে, বেইলী, তার পূর্বের এবং পরের আরো অনেকের মতো ভুল কবে মনে করেছেন যে মূল্যের রাশিমালা শুধুমাত্র একটি পরিমাণগত সম্বন্ধ। আসল কথা হচ্ছে, কোন-পণ্য যখন সমার্ঘরূপ হয়ে দাঁড়ায় তখন তার মূল্যের কোন পরিমাণই প্ৰকাশিত হয় না।
মূল্যের সমার্ঘরূপ বিচার করতে গিয়ে যে প্রথম বৈশিষ্ট্যটি আমাদের নজরে পড়ে, তা হচ্ছে এই : ব্যবহার-মূল্য মূল্যের বিপরীত হয়েও তা-ই তার পরিচয় প্রকাশ করবার অভিজ্ঞান, তার দৃশ্যমান মূর্তরূপ।
পণ্যটির মূর্ত রূপটাই হয়ে দাঁড়ালো তার মূল্য-রূপ। কিন্তু বেশ ভাল করে লক্ষ্য করুন। ‘খ’ নামক যে-কোনো পণ্যের বেলায় এই প্রকার সমার্ঘরূপে স্থাপন শুধু তখনি চলে, যখন ‘ক’ নামক অন্য কোন পণ্য তার সঙ্গে মূল্য-সম্বন্ধে নিয়ে দাঁড়ায়, এবং তাও চলে একমাত্র এই সম্বন্ধের পরিধির মধ্যেই। যেহেতু কোন পণ্যই নিজে নিজের সমার্ঘরূপ হতে পারে না, পারে না , এইভাবে তার নিজের অবয়বটাকে দিয়েই নিজের মূল্য প্ৰকাশ করতে, সেহেতু তাকে নিজ মূল্যের সমার্ঘরূপ হিসেবে অন্ত কোন পণ্য বাছাই করতেই হবে, এবং মেনে নিতেই হবে নিজ মূল্যের রূপ হিসেবে অন্য কোন ব্যবহার-মূল্য, তথা সেই অন্য পণ্যের অবয়ব।
