আগত দলের প্রধান বলল, তুমি মহান তারেক ইবনে যিয়াদ! স্পেন তোমার।
তারেক : না আমার নয়। বরং এটা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের মুক হবে। যিনি আমাকে বিজয়ের সু-সংবাদ প্রদান করেছেন। ইসলামে কেউ বাদশাহ হয় না। বাদশাহী হয় কেবল আল্লাহর। তাঁর বাদশাহীতে সকল মানুষের থাকে সমমর্যাদা ও অধিকার।
গোথা সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি বলল, আমরা কি এ বিশ্বাস করতে পারি যে, আমরা আমাদের অধিকার পূর্ণ মাত্রায় পাব?
তারেক : তোমরা যে অধিকার ফিরে পাবে তা তোমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও স্মরণ রাখবে। তোমরা কেন এসেছ। শহরে কি কোন হকিম বা শাহী খান্দানের কেউ নেই।
তারেক জবাব পেলেন, শহর পুরো খালি। ফৌজরাও শহর ছেড়ে চলে গেছে। একজন জেনারেল ছিল তাকেও রডারিকের ছেলে কতল করেছে। শাহী মহলে আপনাকে ইন্তেকবাল জানান হবে।
এ প্রতিনিধি দলের সাথে জুলিয়ান ও আণ্ডপাসের যদি পূর্ব পরিচয় না থাকত তাহলে তারেক একেও প্রবঞ্চনা মনে করতেন।
তারেক তার বাহিনী নিয়ে কেল্লার দিকে অগ্রসর হলেন।
***
মুসলমানরা শহরে প্রবেশ করার পর শহরে যেসব লোক ছিল তারা ধ্বনি দিয়ে তাদেরকে ইন্তেকাল জানাল। শহরের ফৌজ যেখানে বিশ্রাম করত সেখানে মুসলমান ফৌজদেরকে বিশ্রামের জন্যে নিয়ে গেল। তারেক ইবনে যিয়াদ, তার অন্যান্য সালার ও জুলিয়ন-আওঁপাসকে শাহী মহলে নিয়ে যাওয়া হলো।
ঐ শহরে যেসব ধন-দৌলত মুসলমানদের হস্তগত হলো তা ছিল অপরিসীম। তারেকের নির্দেশে শাহী মহলের তামাম মনি-মুক্তা এক কামরাতে একত্রিত করা হলো। তার মাঝে স্পেনের বাদশাহের মুকুটও ছিল। পঁচিশটি মুকুট পাওয়া গেল, যা সম্পূর্ণ স্বর্ণের ছিল। মুসলমানরা কোন ঘরে প্রবেশ করেনি, কোন প্রকার লুটতরাজের কাছেও যায়নি। কেবল যেসব ঘর খালি পড়েছিল সেখান থেকে মূল্যবান সম্পদ তারা একত্রিত করেছিল।
পুরো টলেডো শহর এখন তারেকের কজায়। ইহুদী ও. গোথা সম্প্রদায়ের লোক তার কাছে একত্রিত হয়েছে। তিনি তাদের মাঝ থেকে কয়েক জনকে নির্বাচন করে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের হুকুম দিলেন।
সবেমাত্র প্রভাত হয়েছে। তারেককে জানান হলো এক নওজোয়ান ঈসায়ী লাড়কী তার সাথে মুলাকাত করতে চায়। তারেক মুলাকাতের ইজাযত দিলেন। এক সুন্দরী যুবতী ললনা তারেকের কাছে এলো, তার চেহারাতে রয়েছে ভীতির চিহ্ন। পদযুগল কাঁপছে থর থর করে।
তারেক দুভাষীর মাধ্যমে বললেন, তাকে বল, ভয়ের কোন কারণ নেই। আমি অন্যদের মতই সাধারণ একজন মানুষ। তাকে জিজ্ঞেস কর কেন এসেছে কোন মুসলমান তাকে কষ্ট দিয়েছে কিনা?
মেয়েটি আস্তে আস্তে মাথা হেলিয়ে বল, না। কোন মুসলমান আমার দিকে ফিরেও তাকায়নি। আমার নাম লিজা। জোর পূর্বক আমাকে যাজিকা বানানো হয়েছিল। আমি শুনতে পেলাম আপনার ফৌজরা গীর্জায় গিয়ে ছিল তারা সেখানে কিছু পায়নি। আপনার লোক আমার সাথে পাঠান। গীর্জার ধন-সম্পদ আন্ডার গ্রাউন্ডে গর্তে লুক্কায়িত রয়েছে। আপনারা আসার পূর্বে যদি কেউ তা উঠিয়ে নেয় তাহলে আমাকে কোন শাস্তি দেবেন না। তারপর সে গির্জার বর্ণনা দিল। তারেক কয়েকজন ফৌজ ঐ যুবতীর সাথে পাঠালেন। তারা এসে দুটো লাশ ফরশের ওপর এবং আরো তিনটি লাশ অন্য একটি গর্তে দেখতে পেল।
তারপর ঐ যুবতীর নির্দেশনা মুতাবেক অন্য আরেকটি গর্ত খুঁড়ে খাজানার দু’টো বাক্স পাওয়া গেল।
গীর্জা থেকে যখন খাজানা সংগ্রহ হচ্ছে তখন আওপাস মেরীনার কামরাতে। যৌবনে তারা পরস্পরে এমন প্রেমের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছিল যে একে অপরের জন্যে আত্মহুতি দিতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তন ঘটিয়ে রেখেছে তার মাঝে দীর্ঘ দিনের বিচ্ছেদ। এখন তারা অর্ধ-বয়সী। মেরীনা শাদী করেনি কারণ সে ছিল রডারিকের রক্ষিতা। আওপাস সিওয়াস্তা গিয়ে শাদী করে, তার সন্তানাদিও রয়েছে।
“বাকী জীবন কি আমার সাথে অতিবাহিত করবে মেরীনা? আওপাস জিজ্ঞেস করল।”
মেরীনা : না, আওপাস! আমার বাকী জীবন ইবাদত খানাতে অতিবাহিত হবে। যাতে আমার আত্মা পূত-পবিত্র হয়। এখন আমি খোদার নৈকট্য লাভ করতে চাই।
আওপাস মুচকী হেসে বলল, দেখ যাজিকা হয়ে যেওনা আবার। এখনও তুমি যুবতী। আযাদ জিন্দেগীর সাধ কিছুটা ভোগ করতে পার।
মেরীনা : আমি যে অপবিত্র তা তুমি ভাল করেই জান। তাই আমার প্রেম ভালবাসা তোমার অন্তর থেকে বের করে দাও। একটা কাজ করতে হবে আওপাস! তাহলো স্পেন বিজয়ী সিপাহ্ সালার তারেক ইবনে যিয়াদকে একটা তুহফা দিতে চাই তুমি আমাকে তার কাছে পৌঁছে দাও।
আওপাস : পৌঁছে দেব। তবে কি তুহফা দেবে?
মেরীনা; একটি ভারী বাক্স। আগামীকাল তিন-চারজন লোক নিয়ে এসে বাক্স বহন করে আমার সাথে যাবে।
পরদিন সকালে এক বছর ধরে যার-তালাবন্ধ এমন একটি কামরা খুলে আওপাস বাক্স বের করার জন্যে গেল। দরজা খুলে বাক্সের কাছে যেতেই আওপাস দ্রুত পিছু হঠে এলো।
আওপাস : মেরীনা! এ কামরাতে কি আছে এত দুর্গন্ধ, কোন মানুষ না প্রাণী মরে পঁচে আছে।
মেরীনা : কামরা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার দরুন এ দুর্গন্ধ। তাছাড়া কামরাতে কি পড়ে আছে তার দিকেও লক্ষ্য করে দেখ। এটা ইহুদী যাদুকর বুজনের কামরা। সে এখানে মানুষের তরতাজা মস্তক, কলিজা ও হাড়-হাড়ি রাখত। এখানে সে সাপ-বিচ্ছুও রাখত। এছাড়া এমন কিছু জিনিস রাখত যার দুগন্ধে দম বন্ধ হয়ে যেত।
