এরপর আবার কেবিনে ফিরে এল।
সেদিন তাদের দল থেকে একটু দূরে জঙ্গলের এক জায়গায় টিকা একা একা আহার সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত ছিল। তার ছেলে গজন তার কাছে খেলা করছিল। এমন সময় টুগ নামে অন্য এক দলের বাঁদর গোরিলা এসে হাজির হলো সেখানে।
টিকা তাকে দেখেই দাঁত বার করে তেড়ে এল। টিকা গজনকে সাবধান করে দিয়ে বলল, তুমি গাছে উঠে পড়।
টুগ টিকাকে ধরতে গেলে গজন গাছের উপর থেকে গালাগালি দিতে লাগল। টুগ তখন টিকাকে ছেড়ে দিয়ে গাছের উপর উঠে গজনকে ধরতে গেল। গজন উপর ডালে উঠে গেলে টুগ সেই ডালটা ধরে জোর নাড়া দিতে লাগল। তখন গজন গাছ থেকে মাটিতে টিকার পায়ের কাছে পড়ে গেল। সে জোর আঘাত পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলল। টুগ এবার টিকাকে জোর করে ধরে কাঁধের উপর তুলে নিয়ে পালিয়ে গেল।
এদিকে টপ ঘুরতে ঘুরতে একটা গাছের উপর থেকে দেখতে পেল একটা হায়েনা একটা ঘুমন্ত ছেলের বুকের উপর মুখ লাগিয়ে শুঁকছে। সে এবার তার ছেলে গজনকে চিনতে পারল। সঙ্গে সঙ্গে গাছ থেকে লাফ দিয়ে মেনে ছুটে সেখানে চলে গেল। হায়েনাটাকে ধরে তার গলাটা টিপে তাকে বধ করে ছুঁড়ে ফেলে দিল তার প্রাণহীন দেহটাকে। তারপর চীৎকার করে তার দলের লোকদের ডাকতে লাগল।
তাদের চীৎকার শুনতে পেয়ে কেবিন থেকে ছুটে এল টারজান। টারজান গজনের দেহটা পরীক্ষা করে দেখল তার দেহে তখনো প্রাণ আছে। সে বলল, এ কাজ কে করেছে? টিকা কোথায়?
টগ বলল, আমি তার কিছুই জানি না।
টারজান মাটিটা পরীক্ষা করে গন্ধ শুঁকে বলল, অন্য দলের একটা বাঁদর-গোরিলা এই কাজ করেছে।
বাঁদর-গোরিলারা শত্রুর উপর প্রতিশোধ নেবার জন্য টিকার খোঁজে যেতে চাইল। কিন্তু টারজান বলল, আমি টগকে নিয়ে যাব। একটা মাত্র বাঁদর- গোরিলা এসে টিকাকে নিয়ে গেছে।
এই বলে টারজান টগকে সঙ্গে করে ঝড়ের বেগে চলে গেল। বাতাসে টুগ আর টিকার গন্ধ পাচ্ছিল সে। তাই ঠিক পথ ধরে এগোতে লাগল সে।
টুগ টিকাকে কাঁধে করে তার দলের কাছে যাচ্ছিল। পথে সে টিকাকে বশ করার অনেক চেষ্টা করে। কিন্তু টিকা প্রতিবারই তাকে কামড়াতে থাকে। টুগও তাকে আঘাত করে। এইভাবে যেতে যেতে পথে টুগ তার দলের দু’জন বাঁদর-গোরিলার সঙ্গে দেখা পেয়ে যায়।
এমন সময় একটা ছোটা বাঁদর টারজানদের সেই দিকে এগিয়ে আসতে দেখে টুগদের সাবধান করে দেয়। টুগরা তখন একটা ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে পড়ে। কিন্তু টারজান বাতাসে গন্ধ শুঁকে ঠিক জায়গাতেই এসে পড়ে। টিকা চীৎকার করে তাদের উপস্থিতির কথা জানিয়ে দেয়। টুগ তখন তাকে জোর একটা ঘুষি মেরে ফেলে দেয়।
টারজান আর টগ এবার শত্রু গোরিলাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। টগ একা টুগ আর অন্য একজন। গোরিলার সঙ্গে লড়াই করতে লাগল। টারজান শুধু সবচেয়ে বড় গোরিলাটার সঙ্গে লড়াই করতে লাগল। পরে এক সময় টারজান ছুরিটা বার করে গোরিলাটার বুকে আমূল বসিয়ে দিতেই সে পড়ে গেল। টারজান তখন টগের সাহায্যে এগিয়ে গেল।
টারজনের হাতে একটা গোরিলা মারা যায়। এবার টুগ আর অন্য গোরিলাটা টারজনের জোর ঘুষি খেয়ে রক্তাক্ত দেহে অবসন্ন হয়ে হাঁপাতে লাগল। তারা আর লড়াই করতে পারছিল না।
এবার টুগ তাদের ভাষায় চীৎকার করে তাদের দলের গোরিলাদের ডাকতে লাগল। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রায় কুড়িজন গোরিলা এসে টারজান আর টগকে আক্রমণ করল। টিকা একটা গাছের উপর উঠে পড়ল। কিন্তু সে যখন দেখল টারজান আর টগ দু’জনে এতগুলো গোরিলার সঙ্গে পেরে উঠবে না তখন গাছ থেকে নেমে সে টারজনের কাছে গিয়ে দাঁড়াল।
হঠাৎ টিকার কি মনে হলো সে টারজনের কোমর থেকে বাজীর থলেটা নিয়ে নিল। থলেটার মধ্যে ছোট ছোট কতকগুলো বিস্ফোরক বোমার মত বস্তু ছিল।
টিকা এবার থলে থেকে সেই ছোট ছোট বোমাগুলো একটা একটা করে বার করে শত্রু গোরিলাদের লক্ষ্য করে ছুঁড়তে লাগল। জোর আওয়াজ শুনে আর ধোয়া দেখে ভয়ে পালিয়ে গেল শত্রুরা। তারা এ জিনিস কখনো দেখেনি। তাই দারুণ ভয় পেয়ে গেল।
একদিন টারজান যখন তার কেবিনের দিকে যাচ্ছিল তখন বাতাসে একদল নিগ্রো শিকারীর গন্ধ পেল।
টারজান গাছের উপর দেখল মবঙ্গার গাঁয়ের একদল শিকারী একটা বড় বড় চাকাওয়ালা খাঁচা টেনে টেনে নিয়ে আসছে। টারজান বুঝল সিংহ শিকারের জন্য খাঁচাটা এক জায়গায় রেখে যাবে তারা। তারপর পরদিন সকালে শিকারসমেত খাঁচাটা নিয়ে যাবে তাদের গায়ে। খাঁচার ভিতরে একটা ছাগল ছিল। ছাগলটা প্রাণভয়ে ক্রমাগত চীৎকার করছিল।
শিকারীরা চলে গেলে টারজান গাছ থেকে নেমে খাঁচার কাছে চলে গেল। সে তার ছুরি দিয়ে ছাগলটাকে মেরে কিছুটা মাংস খেল। তারপর সে শিকারীরা যে পথে গেছে সেই পথে গাছে গাছে এগিয়ে যেতে লাগল।
এইভাবে মাইল দুয়েক যাবার পর টারজান দেখল শিকারীর দল তাদের গায়ের কাছে চলে গেছে। শুধু যাদুকর ডাক্তার রাব্বা কেগা দল থেকে পিছিয়ে পড়েছে। সে একটা গাছের তলায় বসে পঁড়িতে হেলান দিয়ে বিশ্রাম করছিল।
ভণ্ড কেগাকে ঘৃণা করত টারজান। টারজান দেখল তাকে হত্যা করার এই হলো সুবর্ণ সুযোগ। তারপর কেগার গলা টিপে ধরে তাকে খামার কাছে নিয়ে গিয়ে খাঁচাতে ঢুকিয়ে তাকে বেঁধে রেখে খাঁচাটা বন্ধ করে দিল। কিন্তু এর ভয়ঙ্কর পরিণতি কি হবে তা বুঝতে পারল কেগা।
