স্টিম্বল একটা ছুরি হাতে নিয়ে টারজনের ঘরে যাবার জন্য প্রস্তুত হতে লাগল।
স্টিম্বল চলে গেল তোলোগ শেখকে বলল, স্টিম্বল টারজানকে হত্যা করলে টারজনের লোকেরা এলে আমরা বলব আমাদের কোন দোষ নেই। তাকে আমরা রাতের মত আশ্রয় দিয়েছিলাম কিন্তু স্টিম্বল তাকে হত্যা করেছে।
এদিকে আতিজা ঘুমোয়নি। কান পেতে সব কথা শুনে সে টারজানকে সতর্ক করে দেবার জন্য তার ঘরে গেল। কিন্তু ঘরে ঢুকতে যেতেই তোলোগ তাকে ধরে ফেলল। বলল, এই বিদেশী জায়েদের বন্ধু বলে তাকে বাঁচাতে যাচ্ছিস? চলে যা এখান থেকে।
কিন্তু আতিজা সেখান থেকে চলে আসতেই পিছন থেকে টারজান ধরে ফেলল তোলোগকে। তার গলা টিপে ধরল এমনভাবে যে সে চীৎকার করতে পারল না। তারপর তাকে হত্যা করে তার বিছানায় শুইয়ে রেখে ঘর থেকে নিঃশব্দে বেরিয়ে গেল বনের মধ্যে।
এদিকে স্টিম্বল ঘরে ঢুকে কাপড় ঢাকা তোলেগের মৃতদেহটাকে ঘুমন্ত টারজান ভেবে বারবার ছুরিটা বসিয়ে দিতে লাগল সেই দেহের মধ্যে। অবশেষে সে টলতে টলতে শেখের কাছে চলে গেল।
সঙ্গে সঙ্গে শেখের মূর্তিটা পাল্টে গেল। সে চীৎকার করে সবাইকে জড়ো করে বলল, স্টিম্বলকে বেঁধে বন্দী করে রাখ ও আমাদের বন্ধু টারজানকে হত্যা করেছে। কাল ওর বিচার হবে।
কাপড় ঢাকা অবস্থাতেই সেই রাত্রিতে তোলোগের মৃতদেহটাকে কবর দিল ওরা। পরদিন সকালে তোলোগকে শিবিরের কোথাও পাওয়া না গেলে অনেকে বলল, সে হয়ত একা একা কোথাও শিকার করতে বেরিয়ে গেছে।
পরদিন সকালে শেখ শিবির গুটিয়ে সর্দার বাতালোর গায়ে গিয়ে নিজেই হাজির হলো। সর্দার তাকে যথেষ্ট খাতির করে বলল, আমরা তোমাকে পথ দেখিয়ে দেব। তবে আমাদের জাতির সব ক্রীতদাসকে। মুক্তি দিতে হবে।
শেখ বলল, তাহলে আমাদের মালপত্র বইবে কারা?
বাতান্দো বলল, নিমুরের উপত্যকা পর্যন্ত আমরা সবাই যাব। তারপর আমাদের সঙ্গে ক্রীতদাসরা চলে আসবে।
ধনরত্নের লোভে তাতেই রাজী হয়ে গেল শেখ। শেখ বাতান্দোর সঙ্গে উত্তর দিকে একটা পাহাড়ের কাছে শিবির স্থাপন করে তার দলের মেয়েদের রেখে উপযুক্ত পাহারার ব্যবস্থা করল। তারপর কিছু সশস্ত্র। আরব আর তার দেশ থেকে আনা কিছু ক্রীতদাস নিয়ে পাহাড়ের ওপারে সেই উপত্যাকাটায় গিয়ে। পৌঁছল।
বাতান্দো একটা উঁচু জায়গা থেকে শেখকে দেখাল, উপত্যকাটার ওধারেই আছে সেই নিষিদ্ধ নগরী নিমুর।
নিমূর থেকে কিছু দূরে উপত্যকাটার ওধারে সিটি অফ সেপালকার নামে একটি নগরী ছিল। সেই নগরীর রাজা ছিল বোহান। আজ হতে সাতশো বছর আগে এই দুই দেশের মধ্যে ঝগড়া-ঝাটি এবং যুদ্ধবিগ্রহ লেগেই থাকত। পরে এক চুক্তিবলে শান্তি স্থাপিত হয়।
সেই থেকে প্রতি বছর তিনদিন ধরে এক যুদ্ধ-ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দুই দেশের নাইট ও বীরপুরুষেরা এই প্রতিযোগিতায় যোগদান করতে পারে। যে দেশ এই প্রতিযোগিতায় জয়ী হয় সেই দেশ বিজিত দেশের রাজার কাছ থেকে পাঁচজন সুন্দরী মেয়েকে বাছাই করা হয়। দুটি দেশ থেকেই পাঁচজন করে সুন্দরী মেয়েকে পুরস্কার হিসেবে সাজিয়ে রাখা হয়। যে দেশ জয়লাভ করে সেই দেশের বীর নাইটদের হাতে বিজিত দেশ তাদের পাঁচজন মেয়েকে তুলে দেয়।
মোট তিনদিন ধরে এই অনুষ্ঠান চলে। প্রতিদিন কয়েকবার করে খেলা হয়। প্রতিবার বিরাট খোলা মাঠটার দু’দিকে একশোজন করে দুই দেশের নাইট ঘোড়ায় চেপে সারবন্দীভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। এবার। দক্ষিণ দিকে নিমুরের দল আর উত্তর দিকে সিটি অফ সেপালকারের দল ছিল। জয়ঢাক বাজতে থাকে। সঙ্কেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দু’পক্ষের নাইটরা এক এক জন বীর প্রতিপক্ষকে বেছে নিয়ে আক্রমণ করে। ঘোড়ার উপর থেকে তরবারি আর কখনো বা বর্শা দিয়ে যুদ্ধ হয়।
যাই হোক, খেলা শেষে দেখা গেল দুই পয়েন্টে নিম্নরই জয়লাভ করল প্রতিযোগিতায়। নিমুরের নাইটরা সবাই ঘোড়ায় করে উল্টোদিকে প্রতিপক্ষদের শিবিরে চলে গেল পুরস্কার নেবার জন্য।
এমন সময় সিটি অফ সেপালকারের রাজা বোহান তিন-চারজন নাইট আর একটা খালি ঘোড়া এনে
রাজকন্যা জিনালদাকে জোর করে ধরে খালি ঘোড়াটায় চাপিয়ে তীর বেগে ঘোড়া ছুটিয়ে পালিয়ে গেল। তার নাইটরাও চলে গেল তার পিছু পিছু।
এদিকে বাতান্দোরা সেই শূন্য বিরাট উপত্যকার প্রান্ত থেকে চরে গেলে শেখ তার দলবল আর। অনেকগুলো বন্দুক নিয়ে উপত্যকাটা পার হয়ে সেই নিষিদ্ধ নগরীর দিকে এগিয়ে চলতে লাগল। সে নিমুরের পথে না গিয়ে বোহানের রাজ্য সিটি অফ সেপালকারের পথে যেতে লাগল।
শেখ নগরদ্বারে গিয়ে দেখল বাইরে লোকজন বেশি নেই। মাত্র দুই তিনজন প্রহরী নগরদ্বারে হাতে শুধু বর্শা আর কোমরে তরবারি নিয়ে পাহারা দিচ্ছে।
শেখের লোকেরা বন্দুক থেকে একটা গুলি করতেই একজন প্রহরী মারা গেল আর একজন আহত হলো।
নগরের মধ্যে ঢুকে বিশেষ কোন বাধা পেল না শেখরা। তাদের হাতে বন্দুক দেখে এবং দুই-একটা গুলি খেয়ে ভয়ে পালাতে লাগল সবাই।
শেখ তার দলের লোকদের নিয়ে সোজা রাজপ্রাসাদে ঢুকে পড়ল। প্রাসাদের মধ্যে শেখ দেখল অনেক মণিমুক্তা, সোনা প্রভৃতি মূল্যবান ধাতু ছড়ানো রয়েছে।
শেখ ইবন জাদ অনেকগুলো বস্তা বার করে তাতে যতদূর সম্ভব ধাতুগুলো ভরে নিল। তারপর সেই সব ধনরত্ন নিয়ে অবাধে ও নিরাপদে চলে না গিয়ে সে অন্য একটা পরিকল্পনা করল।
