একদিন মলাদের দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ ও বিরক্ত হয়ে পরদিন তার সঙ্গে ডুয়েল লড়তে চাইল ব্লেক।
ডুয়েলের আগে ব্লেকের পরম বন্ধু রিচার্ড কতকগুলো সৎ পরামর্শ দিল।
রিচার্ড বলল, সে যদি তোমার রক্তপাত ঘটিয়ে ক্ষান্ত হতে চাইত তাহলে কিছু বলার ছিল না। কিন্তু এক্ষেত্রে সে তোমার মৃত্যু ঘটাতে চায়। তার প্রথম কারণ তুমি তাকে পাঁচজনের সামনে অপমান করেছ। দ্বিতীয় কারণ সে রাজকন্যাকে বিয়ে করতে চায় এবং এজন্য সে তোমার প্রতি ঈর্ষান্বিত। কারণ সে জানে রাজকন্যার প্রতি তোমার দুর্বলতা আছে।
ব্লেক হেসে উড়িয়ে দিতে চাইল রিচার্ডের কথাটা।
পরদিন সকাল সাতটা বাজতেই ওরা রাজপ্রাসাদের সামনের প্রাঙ্গণে গিয়ে উপস্থিত হলো। ব্লেক আর মলাদ দু’জনেরই সঙ্গে একজন করে নাইট থাকবে। ব্লেকের সঙ্গে থাকবে রিচার্ড। রাজা এক জায়গায় বসল। রানী ও রাজকন্যা জিনালদা তার পাশেই বসেছিল। দর্শকরা সব চারদিকে ঘিরে বসল। দু’পক্ষেরই প্রচুর সমর্থক ছিল।
ডুয়েল শুরু হয়ে গেল। জয়ঢাক বাজতে লাগল। ব্লেক আর মলাদ দু’জনেই ঘোড়ায় চড়ে এসে দু’জনের মুখোমুখি হলো।
ব্লেক মলাদের সামনে এলেই তার ঢালটা ফেলে দিল মাটিতে। মলাদ তার তরবারি দিয়ে ব্লেকের মাথায় আঘাত করতে এলেই ব্লেক ঘোটা সরিয়ে নিয়ে তার লক্ষ্য ব্যর্থ করে দিল। তারপর অকস্মাৎ তার তরবারি দিয়ে মলাদের পাঁজরের উপর এক জায়গায় আঘাত করল। জায়গাটা ছিঁড়ে গিয়ে রক্ত পড়তে লাগল। মলাদের কোন আঘাতই লাগল না ব্লেকের গায়ে। একমাত্র মলাদের হাত থেকে তরবারিটা পড়ে গেল। এক্ষেত্রে নিয়ম অনুসারে মলাদকে ব্লেকের কাছে প্রাণভিক্ষা করতে হবে। কিন্তু অহঙ্কারের বশে তা করল না মলাদ। তা না করলেও উদারতাবশত ব্লেক মলাদের সহযোগী নাইটকে আর একটি তরবারি দিতে বলল মলাদকে।
মলাদকে আবার তরবারি দেয়া হলে আবার লড়াই শুরু হলো। দর্শকরা সবাই বুঝতে পারছিল ব্লেকই জিতছে। এবার মলাদ জয়লাভের জন্য জোর চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না। ব্লেকের তরবারির এক প্রচণ্ড আঘাত মলাদের মাথায় লাগাতেই মলাদ ঘোড়া থেকে সোজা মাটিতে পড়ে গেল।
ব্লেক তখন ঘোড়া থেকে নেমে মলাদের বুকের উপর একটা পা রেখে তার গলার উপর তরবারির মুখটা ঠেকিয়ে রাজাকে বলল, হে রাজন, আমি লড়াইয়ে জয়ী হলেও আমার প্রতিপক্ষ এই নাইটকে হত্যা করব না। এ আপনার কাজে নিযুক্ত থেকে আপনার সেবা করে যেতে পারবে।
এই বলে রিচার্ডের সঙ্গে সেখান থেকে তার বাসায় চলে গেল। সকলেই ব্লেককে নিমুরের সর্বশ্রেষ্ঠ নাইট বলে অভিনন্দন জানাতে লাগল।
ব্লেক বলল, আমি যে দেশের মানুষ সে দেশের এটাই হলো রীতি। শত্ৰু পরাজিত বা নিরস্ত্র হলে তাকে আঘাত করা উচিৎ নয়।
রাজা নিজে স্বীকার করল ব্লেকের কাছে, সত্যিই তোমার উদারতা ও বীরত্ববোধের তুলনা হয় না। তুমি যে দেশের মানুষ সে দেশের রীতিনীতি আমার জানতে ইচ্ছা করছে।
সেদিন শেখের মঞ্জিলে ফেজুয়ানের কথামত বাতান্দোরা না আসায় ইবন জাদ খুব ভাবছিল। এমত অবস্থায় কি করা যায় তা নিয়ে যুক্তি করছিল তোলোগের সঙ্গে। তখন রাত্রিকাল।
এমন সময় হঠাৎ টারজান তাদের সামনে এসে হাজির হতেই চমকে উঠল সবাই। ইবন জাদ বলল, টারজান এসে গেছে। আল্লার অভিশাপ নেমে আসুক ওর মাথায়।
আরবদের মধ্যে স্টিম্বলকে দেখেই টারজান প্রথমে তাকে বলল, ব্লেক কোথায়?
স্টিম্বল বলল, আমি জানি না। সে ত অন্য দিকে গেছে।
টারজান বলল, তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
এরপর শেখ ইবন জাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে টারজান বলল, তুমি আমাকে মিথ্যা কথা বলেছ। তুমি, বলেছিলে ব্যবসার খাতিরে তোমরা এখানে আছ। অথচ তোমরা একটা প্রাচীন নগরীতে গিয়ে ধনরত্ন। লুণ্ঠন করে আনার জন্যই এখানে আছ।
শেখ ব্যস্ত হয়ে বলল, কে বলেছে তোমাকে এ কথা? এটা মিথ্যা কথা। বল কে বলেছে?
টারজান বলল, যে বলেছে সে মিথ্যাবাদী নয়। যে বলেছে সে হলো জায়েদ।
টারজান এবার শেখকে বলল, কালই তোমাদের এখান থেকে রওনা হতে হবে। তোমরা সোজা তোমাদের দেশে চলে যাবে। তোমাদের মনের মধ্যে কুমতলব না থাকলে কেন তোমরা এর আগে আমাকে বন্দী করে আমার জীবননাশের চেষ্টা করো?
তোলোগ সঙ্গে সঙ্গে বলল, না না, আমি ঠাট্টা করছিলাম তোমার সঙ্গে। আমি মারতে চাইনি।
টারজান বলল, যাই হোক, আমার শোবার জন্য একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দাও। এবার যেন কোন চক্রান্ত করো না।
এদিকে সবাই শুয়ে পড়লে শেখ তার ভাই তোলোগের সঙ্গে যুক্তি করতে লাগল। শেখ ঘুমন্ত টারজানকে ছুরি মেরে হত্যা করার কথা বলল তোলোগকে।
শেখ বলল, যেমন করে হোক ওকে সরানো চাই। আমরা এতদিন এখানে বসে থেকে ধনরত্ন না নিয়ে শুধু হাতে ফিরে যেতে পারব না। এক কাজ করো, স্টিম্বলকে ডেকে আন।
স্টিম্বল এলে শেখ বলল, টারজান বলেছে তুমিই ব্লেককে হত্যা করেছ। তার জন্য আগামীকাল হত্যা করবে টারজান তোমায়।
স্টিম্বল বলল, তুমি আমাকে বাঁচাও। তোমাকে অনেক ধনরত্ন দেব আমি।
শেখ বলল, আমি কোন কিছু করতে পারব না। তুমি নিজেই নিজেকে উদ্ধার করতে পার। তুমি ঘুমন্ত টারজানকে ছুরি মেরে হত্যা করতে পার। তোমাকে আমি এই সুযোগ দিতে পারি।
স্টিম্বল বলল, আমি কখনো কাউকে হত্যা করিনি জীবনে।
শেখ বলল, হয় হত্যা কর না হয় নিতহ হও।
