পিটার বলল, পল, তুমি একে নিয়ে যাও ক্যাপ্টেনের কাছে, আমি এখানে পাহারায় থাকি। তুমি না আসা পর্যন্ত এখানেই থাকব আমি।
পল ব্লেককে নিয়ে এগিয়ে চলল। ক্রমে তারা একটা পাহাড়ের ভিতর দিয়ে চলে যাওয়ার পর সুড়ঙ্গপথ ধরল।
অনেকক্ষণ যাওয়ার পর ওরা এক প্রাচীন প্রাসাদের সামনে এসে পৌঁছল। গেটে ব্লেককে দেখতে পেয়ে রিচার্ডের কাছে এসে নানারকম প্রশ্ন করতে লাগল মেয়ে ও পুরুষরা।
রিচার্ড তাদের বলতে লাগল, ইনি হচ্ছেন স্যার জেমস হান্টার ব্লেক। ইনি একজন নাইট।
এবার ওদের রাজার কাছে ব্লেককে নিয়ে গেল রিচার্ড। রাজার চেহারাটা লম্বা এবং দামী পোশাক পরা। রাজা ব্লেককে আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করল। ব্লেকের ভিজে ও ছিন্নভিন্ন পোশাক দেখে তাকে নাইট বলে মনে হলো না তার।
রাজকন্যা পাশে দাঁড়িয়েছিল। সে বলল, ওঁকে কিন্তু শত্রু বলে মনে হচ্ছে না বাবা।
ব্লেক বলল, আমি একজন আমেরিকাবাসী।
রিচার্ড রাজাকে বলল, না ও শত্রু নয়। আমি দায়িত্ব নিচ্ছি। ওকে কোন না কোন একটা কাজ দিন।
রাজা ব্লেককে বলল, তুমি কাজ করবে?
ব্লেক একবার রাজকন্যার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, হ্যাঁ করব।
স্টিম্বল ব্লেকের সন্ধানে পথ চলতে চলতে এক সময় শেখের শিবিরের কাছে এসে পড়ল। ফেজুয়ান নামে একটা ক্রীতদাস তখন বাইরে পাহারা দিচ্ছিল। সে স্টিলকে দেখতে পেয়েই তাকে ধরে নিয়ে গেল শেখ ইবন জাদের কাছে। বলল, একজন শ্বেতাঙ্গ বিদেশীকে বন্দী করে এনেছি।
শেখ স্টিম্বলকে প্রশ্ন করল, কে তুমি?
স্টিম্বল বলল, আমি খেতে না পেয়ে মরতে বসেছি। আগে আমাকে কিছু খাবার দাও।
শেখ খাবার আনতে বলল। শেখের কথা স্টিম্বল বুঝতে না পারায় ফাঁদ ফরাসী ভাষায় স্টিম্বলকে জিজ্ঞাসা করল, তুমি কে বিদেশী? কোথা থেকে আসছ?
স্টিম্বল ফরাসী ভাষা বুঝতে পেরে বলল, আমি একজন আমেরিকান। জঙ্গলে পথ হারিয়ে ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েছি।
শেখ ভাবল স্টিম্বলকে আটকে রেখে পরে মুক্তিপণ হিসেবে মোটা রকমের টাকা আদায় করা যাবে। সে তাই ফাঁদকে বলল, একে তোমার তাবুতে বন্দী করে রাখ।
ফাদ স্টিম্বলকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে বলল, শেখ তোমায় মেরে ফেলত। ফাদ তোমায় রক্ষা করেছে।
স্টিম্বল বলল, আমি তোমায় অনেক টাকা দেব। ধনী করে দেব তোমায়।
কয়েকদিনের মধ্যে ফাদের সঙ্গে ভালভাবে পরিচিত হয়ে উঠল স্টিম্বল। সে ফাদকে বুঝিয়ে দিল আমেরিকায় তার অনেক বিষয়সম্পত্তি আছে। ফাঁদও ভাবল তাকে দিয়ে তার অনেক উপকার হবে। ফাদ স্টিম্বলকে বুঝিয়ে দিল শিবিরের মধ্যে একটা ষড়যন্ত্র চলছে।
ফাদ রাতেরবেলায় প্রায়ই লক্ষ্য করত, রাতের খাওয়ার পর কাজকর্ম সেরেই আতিজা গোপনে জায়েদের সঙ্গে দেখা করতে যায়।
একদিন রাত্রিবেলায় ফাদ দেখল খাওয়ার পর তার তাবুর সামনে শেখ বসে বিশ্রাম করছে। সে আরও দেখল শিবিরের বাইরে একা একা আতিজার জন্য অপেক্ষ করছে জায়েদ। এই অবসরে সে জায়েদের তাঁবুর ভিতরে গিয়ে তার গুলিভরা বন্দুকটা এনে জায়েদের কাছে দাঁড়িয়ে শেখকে লক্ষ্য করে। একটা গুলি করল।
কিন্তু গুলিটা শেখের মাথার উপর দিয়ে গিয়ে একটা জায়গায় পড়ল। গুলি করেই বন্দুকটা জায়েদের পায়ের কাছে ফেলে দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরল ফাঁদ। তারপর চেঁচামেচি করতে লাগল। শেখ ও অন্যান্য সকলে ছুটে এলে ফাঁদ বলল, আল্লার নামে বলছি শেখ, জায়েদ তোমাকে গুলি করেছিল। আমি ওকে ধরে ফেলেছি।
জায়েদ আশ্চর্য হয়ে বলল, ও মিথ্যা কথা বলছে শেখ। আমি এ কাজ করিনি।
ফাদ বলল, দেখুন এ বন্দুকটা কার।
সকলে পরীক্ষা করে দেখল বন্দুকটা জায়েদেরই। কেউ জানত না ওটা ফাদ লুকিয়ে জায়েদের ঘর থেকে নিয়ে আসে।
শেখ হুকুম দিল, আজ জায়েদকে বেঁধে এক জায়গায় রেখে দাও। কাল সকালেই ওকে গুলি করে হত্যা করা হবে।
আতিজা শেখকে অনেক করে বলল। জায়েদের জন্য বারবার প্রাণভিক্ষা চাইল। কিন্তু কোন ফল হলো না।
রাত্রিতে সবাই শুয়ে পড়লে আতিজা চুপি চুপি জায়েদের কাছে চলে গিয়ে তার হাতের বাঁধন কেটে তাকে মুক্ত করে বলল, বাইরে একটা ঘোড়া রেখেছি, তুমি এই মুহূর্তে এখান থেকে পালিয়ে যাও।
জায়েদ কোন কথা না বলে চলে গেল। তিন দিন ধরে সমানে ঘোড়ায় করে বনের মধ্য দিয়ে যেতে লাগল জায়েদ।
হঠাৎ ঘোড়াটা বনপথে যেতে যেতে একটা সিংহ দেখে একটা লাফ দিতেই জায়েদ পড়ে গেল ঘোড়ার পিঠ থেকে। মাটি থেকে উঠেই জায়েদ দেখল একটা সিংহ তার উপর ঝাঁপ দেবার জন্য উদ্যত হয়েছে।
এমন সময় জায়েদ দেখল কোথা থেকে এক দৈত্যাকার শ্বেতাঙ্গ এসে সিংহটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তার গাড় ধরে তার উপর একটা ধারাল ছোরা বসাতে লাগল। এবার জায়েদ চিনতে পারল এই দৈত্যাকার শ্বেতাঙ্গই টারজান যে একদিন শেখের শিবিরে বন্দী ছিল।
জায়েদ ভাবল টারজান তাকে শেখের লোক ভেবে মারতে পারে। তাই সে অনুনয় বিনয় করে বলল, আমাকে মেরো না, শেখ আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছে।
টারজান বলল, শেখ আমার দেশে কি করছে? কি চায় সে, ক্রীতদাস না হাতির দাঁত?
জায়েদ বলল, এ দুটোর কোনটাই চায় না সে। সে চায় নিমুরের ধনরত্ন।
টারজান বলল, কিন্তু তুমি একা কেন? শেখ কেনই বা তোমায় তাড়িয়ে দিয়েছে?
জায়েদ বলল, আমি শেখের মেয়ে আতিজাকে ভালবাসতাম। তাই ফাদ চক্রান্ত করে একটা খুনের ব্যাপারে আমাকে জড়িয়ে দেয়। সে নিজে গুলি করে বলে শেখকে আমি গুলি করেছিলাম। শেখ তাই আমাকে গুলি করে হত্যা করার আদেশ জারি করে। সেইদিন রাত্রিবেলাতেই আতিজা আমার বাঁধন কেটে দিয়ে মুক্ত করে আমাকে পাঠিয়ে দেয়।
