টিবস্ এতক্ষণে সাহস করে বলল, যদি অনুমতি কর তো বলি, আমিও তোমার সঙ্গে একমত।
এতক্ষণে টারজনের খেয়াল হল সবরভ সরে পড়েছে।
বারকয়েক তার নাম ধরে ডাকল, কিন্তু কোন সাড়া মিলল না।
ব্রাউন বলল, তার প্রতীক্ষায় আমরা কি এখানেই বসে থাকব?
টারজান জবাব দিল,। আমি যাচ্ছি কাভুরুদের গ্রামের খোঁজে। পূর্ব দিকে কোথাও আমার লোকজনেরা রয়েছে। তোমাদের নিয়ে তাদের কাছে যাব। চল।
মইটার শেষ ধাপে পৌঁছে একটা অস্পস্ট শব্দ জেনের কানে এল। কাছেই কে যেন নড়াচড়া করছে। সঙ্গে সঙ্গে সে ভাল করে কান পাতল। উপরের চতুষ্কোণ ফোকড় দিয়ে সামান্য আলো আসায় ঘরের অন্ধকার কিছুটা হাল্কা হয়েছে। একটি পরিচিত কণ্ঠস্বর ইংরেজিতে বলল, ম্যাডাম তুমি! তারা তোমাকেও ধরেছে?
আনেৎ, তুমি এখানে? তাহলে প্রিন্স তোমাকে চুরি করে নি?
না ম্যাডাম। একটা ভয়ঙ্কর সাদা মানুষ মন্ত্র বলে আমাকে অসহায় করে এখানে তুলে এনেছে। সাহায্যের জন্য চীৎকার করতে পারি নি। কোন রকম বাধা পর্যন্ত দেই নি। স্বেচ্ছায় তার কাছে এলাম। আর সে আমাকে গাছের উপর তুলে নিয়ে চলে এল।
ওদেরই একজন আমাকে ওই একইভাবে এনেছে আনেৎ। ওরা যাদু জানে। ওরা কি তোমার কোন ক্ষতি করেছে আনে।
তা করে নি। তবে আমি খুব ভয় পেয়ে গেছি। না জানি আমাকে নিয়ে ওরা কি করবে।
কি করবে বলে তোমার মনে হয়? জেন প্রশ্ন করল। কোন রকম আঁচ কিছু পেয়েছ।
না ম্যাডাম, কিছু বুঝতে পারছি না। তোমাকেও ওরা কিছু বলে নি?
যে লোকটি আমাকে ধরে এনেছে তার নাম ওগলি। সে শুধু বলেছে যে আমাকে কাবান্দাবান্দার কাছে নিয়ে যাবে। যতদূর জেনেছি সেই তাদের সর্দার। তারা বড় বাজে লোক।
ওইটুকু বললে সব বলা হয় না ম্যাডাম। তারা ভয়ংকর লোক। এ সময় মঁসিয়ে ব্রাউন যদি এখানে থাকত। হায়, তার সঙ্গে আর আমার দেখা হবে না। আমার মন বলছে, এখানেই আমার মরণ হবে।
বাজে কথা রাখ আনেৎ। ওসব কথা মুখেও এনো না। এখন আমাদের একমাত্র চিন্তা-কেমন করে এখান থেকে পালাব।
পালাব? তার কি কোন উপায় আছে ম্যাডাম?
জেন আশ্বাস দিয়ে বলল, আমি দেখেছি এই কুঠুরিতে ঢোকার মুখে কোন পাহারা নেই; রাতেও যদি কোন পাহারা না বসায় তাহলে সহজেই আমরা ছাদে উঠে যেতে পারব। তারপর সেখান থেকে কি ঘটবে কপালে তা ভবিতব্যই জানে; তবু একবার চেষ্টা করে তো দেখতে হবে।
আপনি যা বলবেন ম্যাডাম।
তাহলে আজ রাতেই।
স্-শ, ম্যাডাম! কে যেন আসছে।
মইয়ের মুখে একটা লোক দাঁড়াল। হুকুম করল, চলে এস! দু’জনই।
জেন দীর্ঘশ্বাস ফেলল। হায়রে দুরাশা।
দু’জন ছাদে উঠে গেল। লোকটিকে চিনতে পেরে জন বলল, এবার কি হবে ওগলি? আমাদের মুক্তি দেবে কি?
চুপ কর, কাভুরুটি হুংকার দিল। তুমি বড় বেশি কথা বল। কাবান্দাবান্দা তোমাকে ডেকেছে। তার কাছে বেশি কথা বলো না।
ওগলি জেনের হাত ধরে টান দিল- একখানি নরম, মসৃণ রোদে-পোড়া হাত। হঠাৎ থেমে গিয়ে সে ঘুরে দাঁড়াল। জেনের মুখের দিকে তাকিয়ে একটা নতুন অগ্নিশিখা জ্বলে উঠল তার চোখে। আগে তোমাকে ভাল করে দেখি নি, চাপা গলায় সে বলল। আগে তোমাকে ভাল করে দেখি নি। প্রায় অশ্রুত তার কণ্ঠস্বর।
বিদ্যুৎ-ঝলকের মত দাঁত বের করে জেন দেখাল। বলল, আমার দাঁতের দিকে তাকাও। অচিরেই এই দাঁতের মালা দুলবে তোমাল গলায়। তোমার হবে চারনরী হার।
ফ্যাসফেঁসে গলায় ওগলি বলল, তোমার দাঁত আমি চাই না গো মেয়ে। তুমি আমাকে মন্ত্রমুগ্ধ করেছ। যে নারীসঙ্গ আমি প্রতিজ্ঞা করে ত্যাগ করেছি, সেই নারীই আমাকে যাদু করেছে।
বিদ্যুতগতিতে জেন অনেক কিছু ভেবে নিল। ফিস্-ফিস্ করে বলল, ওগলি, ইচ্ছা করলেই তুমি আমাকে সাহায্য করতে পার। এ কথা কেউ কোন দিন জানবে না। রাত পর্যন্ত আমাদের সাহায্য করতে পার। এ কথা কেউ কোন দিন জানবে না। রাত পর্যন্ত আমাদের লুকিয়ে রাখ। কাবান্দাবান্দাকে বল যে আমাদের খুঁজে পাচ্ছে না, আমরা পালিয়েছি। তারপর অন্ধকার হলে আমাদের গ্রামের বাইরে রেখে এসো। কাল ফিরে এলেই তুমি আমাদের-অন্তত আমাকে বনের মধ্যে দেখতে পাবে।
ওগলি বারকয়েক মাথা নাড়ল। তারপর হঠাৎ না! বলে চীৎকার করেই ওগলি কঠিন মুঠিতে জেনের হাত ধরে তাকে টানতে টানতে এগিয়ে চলল। তোমাকে কাবান্দাবান্দার কাছে নিয়ে যাবই।
জেন শুধাল, তুমি আমাকে এত ভয় পাচ্ছ কেন? আমি তো একটি মেয়ে মানুষ মাত্র।
তাই তো তোমাকে আমার ভয়। দেখতে পাচ্ছ এখানে কোন মেয়ে মানুষ নেই। যে সব মেয়েদের কাবান্দাবান্দার জন্য আনা হয়েছে তারা ছাড়া আর কেউ নেই। আমি একজন পুরোহিত। আমরা সকলেই পুরোহিত। মেয়ে মানুষরা আমাদের অপবিত্র করে দেবে। যদি আমরা দুর্বল হয়ে তাদের ছলাকলায় ভুলে যাই, তাহলে মৃত্যুর পরে চিরকাল নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে হবে; আবার কাবান্দাবান্দা যদি সে কথা। জানতে পারে তাহলে অচিরেই আমাদের মৃত্যু হবে তীব্র যন্ত্রণায়।
দুটি মেয়েকে নিয়ে ওগলি রাজপথ ধরে ছুটতে লাগল গ্রামের পিছন দিক লক্ষ্য করে।
জেন বলল, তুমি তো কাবান্দার বন্ধু। তাকে বলে এই মন্দিরে তোমার থাকার ব্যবস্থা কর।
কেন? ওলির স্বরে সন্দেহের ছোঁয়া।
কারণ এখানে তুমিই আমার একমাত্র বন্ধু। তুমি কাছে না থাকলে আমার ভয় করবে।
একটা চাপা গর্জন করে ভুরু কুঁচকে ওগলি বলল, আবার তুমি আমাকে মজাতে চেষ্টা করছ?
