হাতিটা হঠাৎ টারজানদের দেখতে পেয়ে শুড় দুলিয়ে সেইদিকে আসতে লাগল।
টারজান দেখল হাতিটার একটা দাঁত কালো। তা দেখে ওর হঠাৎ মনে পড়ে গেল, একদিন ও এই হাতিটাকেই গর্ত থেকে উদ্ধার করেছিল। গর্তের উপর দাঁড়িয়ে কয়েকটা হায়েনা অট্টহাসি হেসেছিল। মাথার উপর শকুনি উড়ে বেড়াচ্ছিল।
হাতিটা গর্জন করতে করতে এগিয়ে আসছিল। টারজান তখন কিছুটা তার দিকে এগিয়ে গিয়ে একটা হাত তুলে তাকে লক্ষ্য করে বলতে লাগল ডান্ডো ট্যান্টর! টারজান হো!
সে ডাক শুনতে পেয়ে থমকে দাঁড়াল সেই বিরাট হাতিটা। ভালথরকে তার পিছু পিছু আসতে বলে টারজান হাতিটার কাছে গিয়ে তার গুঁড়ে হাত বুলিয়ে তাকে বলল, টারজান! টারমাঙ্গানি!
হাতিটা তখন একে একে টারজান আর ভালথরকে শুড় দিয়ে জড়িয়ে পিঠের উপর তুলে নিল। টারজান তখন পশুদের ভাষায় পালিয়ে যেতে আদেশ করল এবং হাতিটা তার কথা বুঝল।
কাঠের বেড়া ভেঙ্গে হাতিটা বেগে চলে গেল ক্রীড়াঙ্গনের সীমানার বাইরে। এ্যাথনির যোদ্ধারাও মিছিলের হাতিগুলোর পিঠে চেপে তাদের ধরতে বেরিয়ে গেল।
টারজানরা আধ মাইল যাবার পর দেখল একদল হাতির পিঠে চেপে এ্যাথনির যোদ্ধারা তাদের ধরতে আসছে। টারজান বলল, পিঠে পাঁচ-ছয়জন করে লোক আছে। ওদের আসতে দেরী হবে।
ভালথর বলল,আর আধ ঘণ্টা যেতে পারলে আমাদের আর ধরতে পারবে না।
একসময় হঠাৎ সামনের দিকে তাকিয়ে ভয় পেয়ে গেল। টারজানকে বলল, ঐ দেখ, এক দিকে হাতির দল আর এক দিকে ক্ষুধিত সিংহের মাঝখানে পড়ে গেছি আমরা।
মুখ ঘুরিয়ে দেখল টারজান, ভয়ঙ্কর একদল সিংহ নিয়ে ক্যাথনি থেকে এক সেনাবাহিনী আসছে এ্যাথনির দিকে।
ভালথর বলল, একটা উপায় আছে। পূর্ব দিকের পাহাড়গুলোর দিকে হাতিটাকে চালিয়ে নিয়ে যাও। সেখানে গিয়ে জাইগো আর তার অনুচরদের সঙ্গে কথা বলব।
টারজান বলল, ক্যাথনি থেকে যারা আসছে তারা আমাদের বন্ধু। ওদের কাছ থেকে পালাব কেন?
ভালথর বলল, তবে তোমাকে চিনতে পারার আগে যেন শিকারী সিংহগুলোকে ছেড়ে না দেয়।
টারজান হাতিটাকে কি বলতে সে তাদের নামিয়ে দিল। তারপর টারজান হাতিটার কানে কানে কি বলতে সে মুখ ঘুরিয়ে এ্যাথনির হস্তীবাহিনীকে আক্রমণ করার জন্য ছুটে গেল।
টারজান বলল, আমরা অন্তত কিছুক্ষণ সময় পাব।
ক্যাথনির যোদ্ধাদের মধ্য থেকে একজন অফিসার টারজানকে তাদের দিকে এগিয়ে যেতে দেখে ছুটে এল টারজনের কাছে। টারজান দেখল সে হলো জেমনন। সে বলল, আমরা ত তোমাকেই উদ্ধার করতে যাচ্ছি। আমি দূর থেকেই তোমাকে দেখতে পাই।
টারজান বলল, কি করে জানলে আমি বন্দী হয়ে আছি?
জেম্বা পালিয়ে যায় এখান থেকে। সে-ই খবর দেয় আমাদের। জেষা যুডোকে খবর দেয় তোমাকে ওরা হত্যা করবে।
টারজান বলল, আমার দু-তিনজন বন্ধু এখনো বন্দী হয়ে আছে এ্যাথনিতে। তবে ফোরোদের একদল সৈন্যকে ছত্রভঙ্গ অবস্থায় এখানেই পাবে।
যুড়োও এগিয়ে এসে ওদের অভ্যর্থনা জানাল। যুড়ো ও জেমনন ভালথরকে চিনত। তারা দুজনেই ভালথরকে অভ্যর্থনা জানাল।
যুডো বলল, এ্যাথনির আগেকার সামন্তদের প্রতি আমার সমর্থন আছে।
ভালথর বলল, যুড়ো আমাদের সহায় আছে। আমরা জাইগোকে আবার সিংহাসনে বসাব। তোমাদের সিংহবাহিনীকে ছেড়ে দাও।
এদিকে কালো দাঁতওয়ালা বুনো হাতিটা এ্যাথনির হস্তীবাহিনীকে আগেই ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। অনেক যোদ্ধা হাওদা থেকে পড়ে গেছে। আক্রমণ সহ্য করতে না পেরে অনেক হাতি মরে গেছে।
এমন সময় ক্যাথনির শিকারী সিংহরা হাতিগুলোর পিঠে লাফ দিয়ে উঠে যোদ্ধাদের ছিঁড়ে খুঁড়ে খেতে লাগল। তারা হাতিগুলোর কোন ক্ষতি করল না। হাতির পিঠ থেকে নেমে এ্যাথনির যোদ্ধারা বর্শা নিয়ে আক্রমণ করার আগেই ক্যাথনির পদাতিক সৈন্যরা আক্রমণ করল। এ্যাথনির সৈন্যরা নগরে না গিয়ে বিভিন্ন দিকে পালাতে লাগল।
যুডো তার বিজয়ী বাহিনীকে নিয়ে এ্যাথনিতে প্রবেশ করল। টারজান আর ভালথর সঙ্গেই ছিল। কেউ তাদের বাধা দিল না।
তারা গিয়েই প্রথমে, উড, স্পাইক আর স্ট্রোলকে মুক্ত করল। তারপর উডকে নিয়ে তার প্রাসাদের মধ্যে গনফালার খোঁজে চলে গেল। রক্ষীরা ভয়ে পালাতে লাগল।
গনফালা যে ঘরে বন্দী ছিল সে ঘরের তালা ভেঙ্গে ঢুকে ওরা দেখল ছুরি হাতে ফোরোসের মৃতদেহের। উপর দাঁড়িয়ে আছে গনফালা। উডকে দেখতে পেয়েই গনফালা ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরল।
গনফালা বলল, মেনোফ্রা মরে যাওয়ায় ফোরোস আমায় জ্বালাতন করতে থাকে। তাই তাকে আমি। হত্যা করেছি।
জাইগোকে ডাকিয়ে আনিয়ে তাকেই এ্যাথনির সিংহাসনে বসানো হলো।
টারজান এক সপ্তাকাল এ্যাথনিতে থেকে গেল। তারপর তার বাড়ির দিকে রওনা হলো টারজান। নগরের বাইরে গিয়ে দক্ষিণ দিকে এগোতে লাগল তারা। কিছুদূর যাবার পর মুভিরোর সঙ্গে দেখা হলো তাদের। একসোজন যোদ্ধার এক দল নিয়ে টারজনের খোঁজে আসছিল মুভিরো।
স্পাইক আর স্ট্রোলকে এই শর্তে মুক্তি দিল যে তারা সোজা কোন উপকূলে চলে যাবে, এবং তারা কখনো আফ্রিকায় আসবে না। উড আর গনফালা টারজনের সঙ্গে তাদের বাড়িতে যাবে।
স্পাইকের কাতর অনুনয় বিনয়ে হীরের তালটা তাকে দিয়ে দিল টারজান। ওরা চলে গেলে উড আর গনফালা এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে টারজান হেসে বলল, ওটা আসল গনফাল নয়। আসলটা আমার বাড়িতে আছে। ওটা নকল গনফাল মাফকার কাছে থাকত। পান্নার তালটাও আমি উদ্ধার করে পথে এক জায়গায় পুঁতে রেখেছি।
রহস্য-সন্ধানী টারজান (টারজানস কোয়েস্ট)
অরণ্য-রাজ টারজান জঙ্গলের একটা পুরনো গাছের দো-ডালার ফাঁকে তৈরি পাতার বিছানায় উঠে বসল। আয়েস করে হাত-পা ছড়াল।
