উড এসে তাকে বলল, আমি ত ভাবছিলাম তোমাকে ওরা মেরে ফেলেছে।
এরপর যা ঘটেছিল তাদের ভাগ্যে সব টারজানকে বলল সে। শেষে বলল, মেনোফ্রা একটা মেয়ে। নয়, রাক্ষসী, একটা পশু। কিন্তু ওরা আমাদের না বেঁধে শুধু তোমাকে বাঁধল কেন তার কিছু জান?
টারজান বলল, ওরা হয়ত আমাকে নিয়ে কোন বিশেষ মজা পেতে চায়।
বিকালের দিকে ভালথর এসে দেখা করল টারজনের সঙ্গে। ভালথর বলল, টারজান তুমি?
টারজান বলল, হ্যাঁ ভালথর, আমি।
এরপর ভালথর এসে বলল, তুমি তাহলে আবার ফিরে এসেছ? আমি ত ভেবেছিলাম তোমাকে আর দেখতেই পাব না। কি হয়েছিল?
উড তাকে যা যা হয়েছিল সব বলল।
ভালথর বলল, মেনোফ্রা যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন গনফালা নিরাপদ। কিন্তু ক্যান্ডো মেনোফ্রাকে বেশিদিন বাঁচতে দেবে না। তখন ফোরোস আবার রাজা হবে। সে রাজা হলে সে তোমাকে ধ্বংস করবে। তখন গনফালার আর কোন আশা থাকবে না। ভূতপূর্ব রাজা জাইগো আবার শাসনক্ষমতায় ফিরে না এলে অবস্থার কোন উন্নতি হবে না।
একজন লম্বা নিগ্রো টারজনের কাছে এসে বলল, আমাকে চিনতে পারছ না মালিক?
টারজান বলল, হ্যাঁ পারছি। তুমি হচ্ছ জেম্বা। তুমি ক্যাথনিতে যুডোর বাড়িতে কাজ করতে। কি করে এলে এখানে?
জেম্বা বলল, একবার অভিযানের সময় এরা আমাকে বন্দী করে আনে। সেই থেকে বন্দী হয়ে আছি। এরা বড় নিষ্ঠুর। এখানে খাটুনিও বেশি। আমি এখন ক্যাথনিতে ফিরে যেতে চাই।
টারজান বলল, সেখানে গেলে তুমি স্বাধীনতা পাবে। তোমার পুরনো মালিক এখন ক্যাথনির রাজা হয়েছে।
সে যদি জানতে পারে আমি এখানে বন্দী হয়ে আছি তাহলে সে এ্যাথনির উপর যুদ্ধ ঘোষণা করে আমাকে মুক্ত করবে।
ভালথর বলল, তাহলে ক্যাথনির সেনাদলকে আমরা বরণ করে নেব। কিন্তু তার সম্ভাবনা নেই। কারণ তাকে তোমার সম্বন্ধে কিছু জানাবার কোন উপায় নেই।
টারজান বলল, আমার এই গলার বেড়ীটা একবার খুলতে পারলে আমি নিজে ক্যাথনিতে গিয়ে যুডোর সেনাবাহিনীকে নিয়ে আসতাম। যুডো নিজে এসে আমার বন্ধুদের মুক্ত করত।
দিনকতক এইভাবে কেটে গেল। তবু মনের জোর কমে না টারজনের।
একদিন বিকালবেলায় ক্রীতদাসরা কাজ থেকে ফিরলে কয়েকজন অফিসার এসে প্রতিটি ক্রীতদাসকে গুণে হিসাব নিতে লাগল। সব ক্রীতদাসদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগল। টারজান জানতে পারল কয়েকজন ক্রীতদাসের একটি দল পালাবার চেষ্টা করে এবং তাদের হাতে একজন অফিসার নিহত হয়। হিসাব নিয়ে দেখা গেল তিনজন ক্রীতদাস পালিয়ে গেছে। তাদের মধ্যে জেম্বাও আছে।
অফিসাররা চলে গেলে টারজান দেখল ক্রীতদাসরা সব বিক্ষুব্ধ হয়ে আছে। একটু উস্কানি পেলেই তাদের চাপা ক্ষোভ ফেটে পড়ে আগুনের মত জ্বলে উঠবে। ভালথর তাদের বুঝিয়ে ধৈর্য ধরে শান্ত হয়ে থাকতে বলল।
ভালথর বলল, এখন আমাদের হাতে অস্ত্র নেই। সুশিক্ষিত সশস্ত্র যোদ্ধাদের সঙ্গে পেরে উঠব না। নগরবাসীদের মধ্যেও দারুণ অসন্তোষ। জাইগো একদিন ফিরে এসে আবার রাজা হবে।
একজন ক্রীতদাস বলল, রাজা যেই হোক, আমাদের ত ক্রীতদাসই থাকতে হবে।
ভালথর বলল, না, জাইগো রাজা হলে তোমরা মুক্তি পাবে। আমি কথা দিচ্ছি।
ক্রীতদাসরা বলল, আমরা একমাত্র তোমার কথায় বিশ্বাস করি।
রাত্রিতে ক্রীতদাসরা তাদের খাবার রান্না করে নিত। হাতির মাংস আর মাঠ থেকে চুরি করে আনা কিছু শাকসজী দিয়ে একটা ঝোল রান্না করত ওরা।
টারজান আসার পর থেকে স্পাইক খুব ভয় পেয়ে যায়। সে বুঝতে পারে তারা এখান থেকে মুক্তি পেলেও হীরেটা টারজান নিয়ে নেবে। স্ট্রোলের অবশ্য কোন ভয় নেই। তার শুধু একমাত্র চিন্তা তার বোন গনফালার কেউ যেন কোন ক্ষতি না করে। এখনো তার ধারণা গনফালা তার বোন। হীরেটা সম্বন্ধে তার কোন চিন্তা নেই।
একদিন সন্ধ্যার পর একজন অফিসার এসে ভালথরের গলায় একটা লোহার বেড়ী পরিয়ে দিয়ে গেল।
ভালথর অফিসারকে বলল, জানতে পারি কি ফোরোস আমাকে এভাবে কেন সম্মানিত করেছে?
অফিসার বলল, ফোরোস নয়, মেনোফ্রার আদেশ। তিনিই এখন দেশ শাসন করছেন।
ভালথর বলল, ফোরোস তাকে বিয়ে করার আগে মেনোফ্রা ছিল একটা রাস্তার মেয়ে।
ভালথরের গলায় লোহার বেড়ী পরিয়ে দিলে ক্রীতদাসরা আরো বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠল। রানীর ধারণা ভালথরই ক্রীতদাসদের ক্ষেপিয়ে তুলছে। তাই তার এই শাস্তি।
উড একদিন জানতে পারল দু’একদিনের মধ্যেই টারজান আর ভালথরকে নগরের বাইরে ক্রীড়াঙ্গনে নিয়ে গিয়ে সিংহকে দিয়ে খাওয়ানো হবে। সিংহের সঙ্গে সকলের লড়তে হবে তাদের। অথবা হাতি দিয়ে পিষিয়ে মারা হবে।
নির্দিষ্ট দিনে বিকেলবেলায় প্রায় পঞ্চাশজন যোদ্ধা এসে টারজান আর ভালথরকে বন্দীশালা থেকে বার করে নিয়ে গেল। প্রাসাদ থেকে এক বিরাট মিছিল বেরিয়ে তা নগরের বাইরে ক্রীড়াঙ্গনে যাবে। তার সঙ্গে নগরের বহু লোক যাবে দর্শক হিসেবে।
প্রাসাদের সামনেই মিছিলটাকে গড়ে তোলা হচ্ছিল। মিছিলে অনেক সুসজ্জিত হাতি ছিল। সেই সব হাতির পিঠে একজন করে গণ্যমান্য লোকদের বসার জন্য একটা হাওদা সাজানো হয়েছিল। সব হাওদাগুলোই খোলা ছিল এবং তাতে কয়েকজন করে বসবে। একটা হাওদা রানী মেনোফ্রার জন্য বিশেষভাবে সাজানো হয়েছিল। তাতে শুধু রানী একা বসবে।
একশোটা সুসজ্জিত হাতি সারবন্দীভাবে এগিয়ে চলতে লাগল ধীর গতিতে। সশস্ত্র যোদ্ধারা পায়ে হেঁটে যেতে লাগল। দুপাশে দর্শকরা যেতে লাগল নীরবে।
