ফোরোস বলল, থান তোমরা, এগোবে না। আমি রাজা। রাজার আদেশ।
মেনোফ্রা বলল, আমি রানী। আমি বলছি যাও, রাজাকে মুক্ত করে আন।
ফোরোস বলল, আমি ঠিক আছি। আমাকে মুক্ত করার প্রয়োজন নেই।
তখন একজন অফিসার গিয়ে ক্যান্ডোকে ডেকে আনল।
ক্যান্ডো এসে রানীর সব কথা শুনে রানীকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে কি আলোচনা করল। তারপর সে টারজনের সামনে এসে বলল, সব ঠিক হয়ে গেছে। রানী অনুমতি দিয়েছেন। তোমরা কাল সকালেই প্রাতরাশ খাওয়ার পর মুক্তি পেয়ে চলে যাবে। তোমাদের সঙ্গে প্রহরী দেয়া হবে। এখন রাত্রিকাল। তাই বেরোন ঠিক হবে না। শুধু তোমরা কথা দেবে তোমরা রাজার কোন ক্ষতি করবে না।
টারজান বলল, কথা দিলাম।
পরদিন সকাল হতেই উডের মুখে হাসি ফুটে উঠল। সে ভাবল সব বিপদ কেটে গেছে একেবারে। সে বলল, এখন আমার ক্ষিদে পেয়েছে। এখন খাবার চাই।
এমন সময় কে একজন দরজার তালা খুলে দুটো খাবারের থালা ঘরের মধ্যে রেখেই দরজা বন্ধ করে চলে গেল।
খাবার মানে শক্ত জিনিস কিছু নেই। শুধু দু’থালা ঝোল। তরল ঝোলের সঙ্গে কুচি কুচি মাংস মেশানো ছিল। ওরা তিনজনে ভাগ করে তাই খেল।
ফোরোস বলল, এটা খুবই সুস্বাদু খাবার। মেনোফ্রা ভাল খাবারই পাঠিয়েছে।
কিন্তু সে খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুম নেমে এল গনফালার চোখে। সে বলল, আমার বড় ঘুম পাচ্ছে। চোখ দুটোকে খুলে রাখতে পারছি না।
উডেরও তাই হলো। উডও তাই বলল।
দেখতে দেখতে সকলেরই চোখ জড়িয়ে এল। গভীর ঘুমে অচৈতন্য হয়ে উঠল সবাই।
একটি ঘরের মধ্যে খাটের উপর পাতা বিছানায় কনুইয়ের উপর ভর দিয়ে হাতের তালুতে মাথা রেখে শুয়ে ছিল মেনোফ্রা। দরজার কাছে চারজন যোদ্ধা পাহারায় নিযুক্ত মেনোফ্লার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল ক্যাভো। তার পায়ের দিকে খাটের নিচে উড আর গনফালা অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে ছিল। ফোরোসও অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে ছিল। তবে তার হাত পা বেঁধে রাখা হয়েছিল।
মেনোফ্রা ক্যান্ডোকে জিজ্ঞাসা করল, আমার কথামত বুনো লোকটাকে ক্রীতদাসদের ঘরে বেঁধে রেখেছ?
ক্যান্ডো বলল, হ্যাঁ রানীমা। সে খুব বলবান বলে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছি।
উডই প্রথমে চোখ খুলল। তার জ্ঞান ফিরলে সে দেখল তার পাশে শুয়ে আছে গনফালা। তার তখনো জ্ঞান ফেরেনি। তবে শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে তার বুকটা ওঠানামা করছিল বলে বুঝল সে এখনো বেঁচে আছে।
উড এবার রানী ও ক্যান্ডোর পানে তাকিয়ে অভিযোগের সুরে বলল, এইভাবে তোমরা তোমাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি পালন করছ। আমাদের আর একজন কোথায়?
ক্যান্ডো বলল, সে নিরাপদেই আছে। রানীমা দয়া করে তোমাদের কাউকেই মারেননি।
উড আবার জিজ্ঞাসা করল, আমাদের নিয়ে কি করতে চাও তোমরা?
মেনোফ্রা বলল, বুনো লোকটাকে সিংহের মুখে ফেলে দেয়া হবে। আর আমার উদ্দেশ্য সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের হত্যা করা হবে না।
কি তোমার উদ্দেশ্য?
কিছুক্ষণের মধ্যেই জানতে পারবে।
এই বলে সে ক্যান্ডোকে আদেশ করল, একজন পুরোহিতকে ডেকে আন। ফোরোস এখনি জেগে উঠবে।
গনফালা এবার জেগে উঠে বসে বলল, আমরা এখন কোথায়? কি হয়েছে?
উড বলল, আমরা এখন বন্দী। ওরা আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
গনফালার চোখে জল এসেছিল। উড তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, সাহস অবলম্বন করো, ধৈর্য ধরো।
এমন সময় ফোরোস, জেগে উঠল। মেনোফ্রা বলল, ইঁদুরটা জেগে উঠেছে।
ফোরোস বলল, তুমি তাহলে আমাকে উদ্ধার করেছ?
এখন তা বলতে পার। পরে বুঝতে পারবে।
ফোরোস বলল, ক্যান্ডো, আমার বাঁধন খুলে দাও। রাজাকে এভাবে বেঁধে রাখাটা ভাল দেখায় না।
আমার কিন্তু ভালই লাগছে দেখতে। তপ্ত লোহার শিকল দিয়ে তোমাকে বেঁধে রাখা উচিত ছিল।
এমন সময় একজন যোদ্ধা এসে খবর দিল, পুরোহিত এসে গেছে।
মেনোফ্রার আদেশে উড আর গনফালা একটা বেঞ্চের উপর বসল।
পুরোহিত ঘরে ঢুকলে মেনোফ্রা তাকে বলল, এদের বিয়ে দিয়ে দাও।
বিস্ময়ে অবাক হয়ে গেল উড আর গনফালা। গনফালা বলল, এটা কখনই স্বাভাবিক বিয়ে নয়। এর মধ্যে কোন কুমতলব আছে।
অল্প সময়ের মধ্যেই বিয়েটা হয়ে গেল। বিদ্রুপের হাসি ফুটে উঠল মেনোফ্লার মুখে। রাগে লাল হয়ে উঠল ফোরোসের মুখখানা।
বিয়েটা হয়ে গেলে মেনোফ্রা ফোরোসকে বলল, আমাদের দেশের আইন তুমি জান। রাজা বা প্রজা যেই হোক, এদের মাঝখানে এলেই তার মৃত্যুদণ্ড ভোগ করতে হবে। এবার ফোরোস চিরদিনের মত মেয়েটাকে হারাল। আমি তোমাকে বাঁচিয়ে রাখব। একই ঘরে তুমি মেয়েটার সঙ্গে বাস করবে। কিন্তু খুব সাবধান। আমি তোমার উপর লক্ষ্য রাখব।
এরপর সে রক্ষীদের বলল, এই লোকটাকে ক্রীতদাদের ঘরে নিয়ে যাও। তবে দেখবে এর যেন কিছু না হয়। আর ফোরোস ও মেয়েটাকে আমার ঘরের পাশের ঘরটায় তালাবন্ধ করে রাখবে।
এদিকে টারজান জ্ঞান ফিরলে দেখল তার হাত পা শিকল দিয়ে বাঁধা। তার গলায় লোহার বেড়ী। সে যে ঘরে বন্দী হয়ে আছে সে ঘরে আর কেউ নেই।
সূর্যের অবস্থান দেখে সে বুঝল খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মেশানো ছিল এবং সেই খাবার খেয়ে এমন ঘুমে অচৈতন্য হয়ে পড়েছিল সে। ওষুধের ক্রিয়া এখন শেষ হয়ে গেছে। জ্ঞান ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই উড আর গনফালার জন্য ভাবনা হতে লাগল তার।
সহসা টারজান দেখতে পেল রক্ষীরা উডকে তার ঘরের দিকে নিয়ে আসছে।
