প্রথম প্রহরী বলল, লোকটা অবশ্য এখনো অনেক দূরে আছে। তবে তার পোশাক দেখে ত ক্যাথনির লোক বলে মনে হচ্ছে না। ওর পোশাকটা অদ্ভুত ধরনের মনে হচ্ছে।
প্রহরীদের অফিসার আরো উপরে উঠে গিয়ে ভাল করে দেখুল। পরে বলল, লোকটা ক্যাথরি নয়। লোকটা হয় খুব বোকা না হয় খুব সাহসী। তা না হলে একা ও এ্যাথনিতে আসত না।
স্ট্যানলি উড একা হাঁটতে হাঁটতে নগরদ্বারের কাছে এসে পড়লে প্রহরীরা যে ভাষায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগল সে ভাষা বুঝল না সে।
উড ইশারা করে বলল, সে বন্ধু।
গেট খুলে বেরিয়ে এল প্রহরীরা। তারা উডের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করল। কিন্তু উড তাদের কোন কথা বুঝতে না পারায় তারা নগরের ভিতরে নিয়ে গেল।
উড দেখল রাস্তার দু’পাশে ছোট ছোট পাকা দোকান ঘর রয়েছে।
উডকে দেখার জন্য রাস্তার ধারে ধারে কিছু ভিড় জমে উঠল। তাদের ভাষা বুঝতে না পারার জন্য খুবই অস্বস্তিবোধ করতে লাগল উড। গনফালা সম্বন্ধে সে কার কাছে কিভাবে খোঁজখবর নেবে তা বুঝতে। পারল না। তাছাড়া ওরা বন্দী করবে না অতিথি হিসেবে রেখে দেবে তাও বুঝতে পারল না।
উড ঠিক করল যেমন করে হোক ওদের ভাষাটা আগে শিখে নিতে হবে।
উডকে প্রথমে নগরের মাঝখানে এক বিরাট প্রাচীর দিয়ে ঘেরা একটা বড় বাড়ির উঠোনে নিয়ে যাওয়া হলো।
উডকে সেখান থেকে বার করে তার দিয়ে ঘেরা একটা চারকোণা ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানে শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণকায় মিলে প্রায় পঞ্চাশজন বন্দী ছিল। উড বুঝল তাকে ওরা বন্দী করেছে।
হঠাৎ বন্দীদের মধ্যে কে একজন উডের নাম ধরে ডাকতেই চমকে উঠল উড। দেখল, শ্বেতাঙ্গ বন্দীদের মধ্যে স্পাইক আর স্ট্রোল রয়েছে।
স্পাইককে দেখার সঙ্গে সঙ্গে রাগে জ্বলে উঠল উডের সর্বাঙ্গ। সে ঘুষি পাকিয়ে তাকে মারতে গেল। স্পাইক আর স্ট্রোলই বিশ্বাসঘাতকতা করে গলফান ও গনফালাকে চুরি করে নিয়ে পালায়।
কিন্তু স্পাইক রাগল না। সে উডকে বলল, কি করে তুমি এলে এখানে? এখন ওসব করে বা ঝগড়াঝাটি করে কোন লাভ হবে না। এখন একযোগে কাজ করতে হবে। উদ্ধারের কথা ভাবতে হবে।
উড বলল, গনফালা কোথায়? তাকে নিয়ে কি করেছ তোমরা?
স্ট্রোল বলল, ওরা তাকে ধরে নিয়ে গেছে। তার পর থেকে তার আর দেখা পাইনি আমরা। যেদিন আমাদের বন্দী করে ওরা সেদিন থেকেই ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে।
স্পাইক বলল, আমার মনে হয় গনফালাকে রাজপ্রাসাদে রাখা হয়েছে। ওরা বলছে ওদের রাজার নজর পড়েছে গনফালার উপর। সেই নোংরা লোকটা গলফান আর গনফালা দুটোকেই নেবে।
উড বলল, তোমরা কি জন্য তাকে চুরি করেছিলে? যদি তোমাদের কেউ তার কোন ক্ষতি করে থাক তাহলে
স্ট্রোল বলল, আমার বোনের ক্ষতি কেউ করতে পারবে না।
স্পাইক বলল, এখান থেকে তাকে নিয়ে যাবার আগে পর্যন্ত কেউ তার কোন ক্ষতি করেনি। তবে এখান থেকে তাকে নিয়ে যাবার পর কি হয়েছে জানি না।
স্পাইক বলল, সত্যিই পাথরটা সব সময় অভিশাপ হয়ে উঠেছে আমাদের কাছে। ওটা শুধু দুর্ভাগ্যই এনেছে। আমার ও স্ট্রোলের দিকে একবার তাকিয়ে দেখ। আমাদের অবস্থা কি হয়েছে দেখ। আমার পান্নাটা হারিয়েছি, হীরেটাও হারালাম। এখন আমাদের হাতির খাদ্য একরকমের ভুষি খাওয়ানো হয়।
উড দেখল স্পাইক ইতোমধ্যেই ঐ অঞ্চলের কিছু ভাষা শিখেছে। তার কিছু কিছু কথা অন্যান্য বন্দীরা বুঝতে পারছে।
উড এবার নিজেকে বুঝিয়ে ঠিক করল, স্পাইক আর স্ট্রোলের প্রতি তার মনোভাবের পরিবর্তন করা উচিত। তারা যত শত্রুতাই করে থাক, এখন তাদের উপর কোন প্রতিশোধ নেবার চেষ্টা না করে একসঙ্গে মুক্তির কোন উপায়ের জন্য বরং চেষ্টা করা উচিত।
এরপর উডকে ভালথরের কাছে নিয়ে গিয়ে পরিচয় করিয়ে দিল ওদের ভাষায়। বলল, আমার বন্ধু তোমার কাছে তোমাদের ভাষা শিখতে চায়।
ভালথর উডের বাড়িয়ে দেয়া হাতটা মর্দন করে হাসিমুখে বলল, ঠিক আছে, ও আমাকে ইংরেজি ভাষা শিখিয়ে দেবে, আমি ওকে আমাদের ভাষা শিখিয়ে দেব।
সেদিন থেকে স্বৈরাচারী শাসক ফোরোসের প্রাসাদের অস্তাবলে হাতিদের দেখাশোনার কাজ করতে লাগল উড অন্যান্য ক্রীতদাসদের মত।
আস্তাবলের কাজ ছাড়াও আর একটা কাজ করতে হত উডকে। ভালথর, স্পাইক আর স্ট্রোলের সঙ্গে তাকে নগরের দক্ষিণ দিকে উন্মুক্ত প্রান্তরে হাতির পিঠে চড়ে গিয়ে হাতিদের বশ করতে হত। সাধারণ ক্রীতদাসদের থেকে তার বুদ্ধি বেশি ছিল বলে এ কাজের ভার দেয়া হয় তাকে।
রোজ সকালের দিকেই হাতির পিঠে চড়ে ফাঁকা মাঠে যেতে হত তাদের। একদিন সকালবেলায় মাঠ থেকে ফিরে আসার পর যখন হাতিদের গা ধুয়ে দিচ্ছিল তখন হঠাৎ হুকুম আসে তাদের আবার হাতি নিয়ে মাঠে যেতে হবে।
হাতির পিঠে চড়ে মাঠের দিকে তারা এগোতেই যোদ্ধারা তাদের বলল, একটা বুনো হাতিকে বশ করে আস্তাবলে নিয়ে আসার জন্যই তাদের পাঠানো হচ্ছে। বুনো হাতিটা মাঠের ফসলের ক্ষতি করছে এবং কিছুতেই পোষ মানতে চাইছে না।
একজন যোদ্ধা আবার বলল, হাতিটা একেবারে বুনো এবং পাগলা। তা যদি হয় তাহলে আমরা কেউ জীবন নিয়ে আর ফিরতে পারব না।
ভালথর বলল, জাইগোর শাসনকালে সামন্তরা বুনো হাতি বশ করে আনতে যেত, ক্রীতদাসদের পাঠানো হত না।
ভালথর একজন সামন্ত। তাই ভালথরের দু’পাশে যোদ্ধা ও ক্রীতদাসরা হাতি চালিয়ে যেতে লাগল। উড ছিল ভালথরের একেবারে পাশে।
