গনফালা বলল, তোমরা আমাদের শিবিরে চলে আসতে পার। আমরাও রেলস্টেশনের দিকেই যাব।
সে কথার উত্তর না দিয়ে স্পাইক তাকে বলল, তোমার বন্দুকটা ত চমৎকার। একবার দেখি।
গনফালা কোন সন্দেহ না করেই বন্দুকটা তুলে দিল তার হাতে।
গনফালা বলল, তোমাদের লোকেরা আমার মৃত লোকটাকে আমাদের শিবিরে বয়ে নিয়ে যাক।
স্পাইক বলল, আমরা তোমাদের শিবিরে যাব না।
তুমি আর তোমাদের শিবিরে ফিরে যাবে না।
কি বলতে চাও তোমরা?
তুমি যাবে আমাদের সঙ্গে।
না, আমি যাব না।
স্পাইক বলল, দেখ গনফালা, আমরা তোমার সঙ্গে কোন ঝামেলা করতে চাই না। তোমাকে কোনরকম আঘাত করতেও চাই না। সুতরাং আশা করি তুমি শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের সঙ্গে আসবে। তোমাকে আমাদের প্রয়োজন আছে।
কিন্তু কেন? কি প্রয়োজন?
তুমি ছাড়া হীরেটা কোন কাজ করছে না।
কাজ করছে না মানে?
আমরাও মাফকার মত এখানে একটা রাজ্য গড়ে তুলতে চাই এই ধাতুটার সাহায্যে। এর একটা অলৌকিক শক্তি আছে। আমরা সেই শক্তির সাহায্যে সে রাজ্যের রাজা হব আর তুমি হবে তার রানী।
স্ট্রোল তাকে থামিয়ে বলল, না তুমি তা পার না। ওর উপর আমারও অধিকার আছে। ও আমার।
গনফালা বলল, না, আমি তোমাদের কারোরই হবে না। তোমরা বোকা। তোমরা আমাকে জোর করে নিয়ে গেলে তোমাদের খুঁজে বার করে হত্যা করা হবে। যদি তোমাদের মাথায় সুবুদ্ধি থাকে ত আমাকে ছেড়ে দেবে।
স্পাইক বলল, না তোমাকে যেতেই হবে আমার সঙ্গে।
ভন আইক পর পর দুটো গুলি করে একটা সিংহকে মেরে ফেলে। উডের ভাগ্যে কোন শিকার জোটেনি। সে তখন গনফালার নিরাপত্তার কথা ভেবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল।
দু’ঘন্টা ধরে তারা গনফালার খোঁজ করে বেড়াল। তার নাম ধরে ডাকল। কিন্তু তাকে দেখতে পেল না বা তার কোন সাড়া পেল না। তারপর খুঁজতে খুঁজেত গনফালার সঙ্গে সিংহটার যেখানে লড়াই হয়। সেখানে এসে পড়ল তারা। দেখল বন্দুকবাহকটার মৃতদেহের উপর একটা সিংহ মরে পড়ে আছে। কিন্তু গনফালা সেখানে নেই। মৃত লোকটার বন্দুকও নেই।
শিবিরে গিয়ে দেখল গনফালা সেখানেও নেই।
তখন বিকাল হয়ে গেছে। তবু উড বলল, এখনি তার খোঁজে বার হতে হবে। সে তখন শিবিরের সব লোককে তিন দলে ভাগ করে দুটি দল সে নিজে ও ভন আইককে নিয়ে বেরিয়ে গেল। একটি দলকে শিবির রক্ষার কাজে রেখে গেল। বলল, তারা যেন সারারাত একটি বড় অগ্নিকুণ্ড জ্বেলে রাখে এবং মাঝে মাঝে বন্দুকের আওয়াজ করে। গনফালা যাতে পথ হারিয়ে ফেললে ফিরে আসতে পারে শিবিরে।
কিন্তু উড বা ভন আইক কোন খোঁজ পেল না গনফালার। অবশেষে পরদিন দুপুরবেলায় ক্লান্ত ও অবসন্ন হয়ে ফিরে এল শিবিরে।
ভন আইক বলল, গনফালা বেঁচে থাকলে আমাদের বন্দুকের আওয়াজ শুনে ঠিক ফিরে আসত সে।
উড বলল, সে মারা গেছে এটা আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না। তার দুটো বন্দুক ছিল। মৃত বন্দুকবাহকের বন্দুক আর সব গুলি সে নিয়েছে।
ভন বলল, কোন আশা থাকলে আমিও থেকে যেতাম। কিন্তু যেহেতু কোন আশা দেখছি না চল আমরা বাড়ির পথে রওনা হই। দেশে ফিরে গেলে তুমি সব ভুলে যাবে।
আমি আবার টারজনের কাছে ফিরে যাব। সে আমাকে সাহায্য করতে পারবে এ ব্যাপারে। যদি কেউ তাকে খুঁজে বার করতে পারে ত একমাত্র টারজানই পারবে।
দশদিন ধরে সেই শিবিরে রয়ে গেল উড। সে টারজনের বাড়িতে না গিয়ে একজন লোককে একটা চিঠি দিয়ে পাঠিয়ে দিল।
একদিন উড যখন তার শিবিরের মধ্যে শুয়ে শুয়ে গনফালার কথা ভাবছিল তখন হঠাৎ দরজার সামনে এসে দাঁড়াল টারজান। টারজানকে দেখেই লাফিয়ে উঠে পড়ল উড। উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল, টারজান। তুমি মানুষ নও দেবতা, আমি জানতাম তুমি আসবে।
টারজান বলল, তোমার চিঠি পেয়েই আমি চলে এসেছি।
উড তার ব্যর্থতার কথা সব বলল।
টারজান বলল, আজ আর হবে না। কাল খোঁজ করব।
পরদিন সকালেই উড আর টারজান সেই শিবিরটাতে গেল প্রথমে যেখানে একদিন স্পাইক আর স্ট্রোল ছিল এবং যেখান থেকে তারা গনফালার গতিবিদি লক্ষ্য করে।
আগে উড এ শিবিরটাকে দেখে ভেবেছিল এখানে হয়ত একজন নিগ্রো আদিবাসী থাকত সাময়িকভাবে। কোন শ্বেতাঙ্গ ছিল না।
কিন্তু টারজান শিবিরের উঠোনের ঘাসগুলো পরীক্ষা করে দেখে বলল, এখানে একদল লোক ছিল। তাদের মধ্যে শ্বেতাঙ্গও ছিল।
তাদের গন্ধসূত্র ধরে উত্তর দিকে উডকে নিয়ে এগিয়ে চলল টারজান। ক্রমে তারা সেই জায়গায়টায় গিয়ে পড়ল যেখানে সেই সিংহটা আর গনফালার বন্দুকবাহকটা মরে পড়েছিল।
টারজান বলল, এখান থেকেই একদল লোক ধরে নিয়ে যায় গনফালাকে।
উড বলল, সে আজ প্রায় এগার দিনের কথা।
টারজান বলল, আমি একা যাব। তুমি তোমার শিবিরে ফিরে যাও আজকের মত। কাল সকালে আমার বাড়িতে গিয়ে থাকবে। আমি গিয়ে খোঁজ করতে করতে যদি কোন সাহায্যের প্রয়োজন বোধ করি তাহলে একজন লোক দিয়ে খবর পাঠাব। তুমি তাহলে আমার ওয়াজিরিদের সঙ্গে নিয়ে আমার সাহায্যে যাবে। এখন আমার সঙ্গে এত তাড়াতাড়ি যেতে পারবে না।
এই বলে সেখান থেকে চলে গেল টারজান সঙ্গে সঙ্গে।
বিষণ্ণ মনে একা একা তার শিবিরে ফিরে গেল উড।
দু’দিন ধরে গন্ধসূত্র ধরে উত্তর দিকে এগিয়ে চলল টারজান। তারপর বাতাঙ্গো নামক এক উপজাতিদের এলাকায় এসে পড়ল। এই বাতাঙ্গোরা বড় যুদ্ধবাজ আর নরখাদক। তারা ওয়াজিরিদের চিরশত্রু।
