টারজান নিঃশব্দে মাফকার খাটের কাছে গিয়ে টেবিল থেকে অস্ত্রগুলো সরিয়ে রাখল। তারপর মাফকার ঘাড় ধরে তাকে কিছুটা নাড়াল। মাফক!জেগে উঠতেই টারজান বলল, চুপ করে থাক। তাহলে তোমার কোন ক্ষতি করা হবে না।
মাফকা তার ঘরের চারদিকে তাকাল। দেখল সাহায্যের কোন আশা নেই।
সে কাঁপা-কাঁপা গলায় বলল, বল কি চাও? তুমি আমাকে মেরো না। যা চাও তাই দেব।
টারজান এবার মাফকাকে উপুড় করে শুইয়ে তার হাত দুটো পিছন থেকে বেঁধে ফেলল। তারপর তার মুখটা আর চোখ দুটোও বেঁধে দিল। তারপর মাফকাকে তার খাটের উপর সেইভাবে ফেলে রেখে গনফালার ঘরে চলে গেল। গিয়ে দেখল গনফালা তার ঘরের মাঝখানে বিছানার উপর বসে আছে।
টারজান বলল, মাফকা যদি কোনরকম হস্তক্ষেপ না করে তাহলে মেয়েযোদ্ধারা তোমার কথা শুনবে ত?
হ্যাঁ।
কোথায় যাবে তুমি?
ইংল্যান্ডে।
ইংল্যান্ডে কেন যাবে?
কারণ আমাকে স্নেহ ও অনুগ্রহ করতেন এমন একজন আমাকে চিঠি দিয়েছিলেন। লিখেছিলেন মুক্তি পেলে আমি যেন ইংল্যান্ডে চলে যাই।
ঠিক আছে, তোমার চিঠি সঙ্গে নিয়ে প্রস্তুত হও। তুমি মুক্তি পাবে আজই। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি উড আর তার তিনজন সঙ্গী তোমার কাছে আসব। তুমি তৈরি হয়ে থাকবে। তবে তোমার মেয়েযোদ্ধারা যাতে আমাদের যেতে বাধা না দেয় তার জন্য তাহাদের হুকুম দেবে তুমি।
সেখানে থেকে বেরিয়ে টারজান সোজা সেই ঘরটায় চলে গেল উড আর তার সঙ্গীরা যেখানে ছিল। টারজান তাদের চুপি চুপি কি বলতে টারজনের পিছু পিছু তারাও বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।
টারজান তাদের সোজা মাফকার ঘরে নিয়ে গেল। হীরে আর পান্না দুটোর ধাতব তাল থেকে আলোর ছটা বেরিয়ে আসছিল ঘর থেকে। স্পাইক আর স্ট্রোল দু’জনে ধাতু দুটোর সামনে দাঁড়িয়ে এক মুগ্ধবিস্ময়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারা বুঝল পান্নার তালটা জুলিদের দেশ থেকে আনা হয়েছে।
স্ট্রোল হাত দিয়ে ধাতু দুটোকে স্পর্শ করতে গিয়ে ভয়ে স্পর্শ করতে পারল না। এই দুটো ধাতুর শক্তির কথা সে জানত।
উড আর তার সঙ্গীরা মাফকাকে বিছানায় চোখ, মুখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দারুণ বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গেল।
উড টারজানকে বলল, কি করে তুমি এ কাজ করলে?
টারজান বলল, আমি প্রথমে ধাতু দুটোকে সরিয়ে নিয়েছিলাম ওর কাছ থেকে। আসলে ঐ দুটো ধাতু থেকেই ও সব শক্তি পেত। এবার এখান থেকে চলে যাব আমরা।
এরপর উডের দিকে মুখ ঘুরিয়ে টারজান বলল, তুমি আর ভন আইক ধাতু দুটোকে নাও। স্ট্রোল আর স্পাইক মাফকাকে বয়ে নিয়ে যাবে।
ভন আইক ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করল, কোথায় যাব আমরা?
সে জানত মাফকার ঘরের বাইরে বারান্দায় মেয়েযোদ্ধারা পাহারা দিচ্ছে।
টারজান বলল, আমরা প্রথমে যাব গনফালার ঘরে।
স্পাইক বলল, সে চীৎকার করে উঠলেই মেয়েযোদ্ধারা ছুটে এসে সব বানচাল করে দেবে।
গনফালার কথা তোমাকে ভাবতে হবে না। তোমাকে যা বলছি তাই করো। তবে সঙ্গে এই সব অস্ত্রগুলোও নিতে পার। বলা যায় না, দরকার হতে পারে।
তারা চলে গেল গনফালার ঘরে।
ওরা গিয়ে দেখল গনফালা যাবার জন্য প্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঘরের মাঝখানে। মাফকার অবস্থা দেখে ভয়ে চুপসে গেল। তারপর উডকে দেখে ছুটে গেল তার কাছে।
ভন আইক টারজনের দিকে তাকিয়ে বলল, আমি স্পাইকের সঙ্গে একমত। ওকে না মারলে যখন আমাদের মরতে হবে তখন আমরা ওকে খুন করব না কেন?
টারজান বলল, এখন মাফকাকে বাঁচিয়ে রাখা দরকার। কারণ কাজী মেয়েদের মনোভাব আমরা জানি না। ওকে তারা দেবতার মত মানে। মাফকাকে মেরে ফেললে ওরা ক্ষেপে যেতে পারে।
উড বলল, ক্লেটন ঠিক বলেছে।
গনফালার ঘরের বাইরে দারুণ গোলমাল ও চেঁচামেচির শব্দ শোনা গেল। অনেকে মাফকার ঘরের দরজায় ঘা দিয়ে মাফকার নাম ধরে ডাকছে।
টারজান তখন গনফালাকে বলল, তুমি মেয়েযোদ্ধাদের মধ্যে প্রধান একজনকে ডেকে জিজ্ঞাসা করো ওরা কি চায়। আমরা পাশের ঘরে যাচ্ছি।
অন্যদের ডেকে নিয়ে পাশের ঘরে চলে গেল টারজান।
গনফালা দরজার কাছে যে নাকাড়া ছিল তাতে তিনবার ঘা দিয়ে দরজা খুলে দিল। একজন মেয়েযোদ্ধা ঘরে প্রবেশ করে নতজানু হলো।
মেয়েযোদ্ধাটি বলল, জুলিরা আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে আসছে। তারা একজন দূত পাঠিয়ে তাদের পান্নার তালটাকে ফেরৎ চাইছে। তারা সংখ্যায় অনেক। আমরা তাই মাফকার শক্তির শরণাপন্ন হয়েছি। আমরা চাইছি মাফকার শক্তি দিয়ে তাদের দুর্বল করে দিতে। তখন আমরা তাদের যুদ্ধে পরাজিত করে সহজেই তাড়িয়ে দিতে পারব।
গনফালা বলল, তাদের এখন কোন শক্তি নেই, কারণ উরা এখন মৃত। আমাদের যোদ্ধাদের বল, আমি রানী গনফালা তাদের হুকুম দিচ্ছি তারা যেন জুলিদের মেরে তাড়িয়ে দেয় আমাদের নগর থেকে।
জুলিরা আমাদের নগরদ্বারে ঢুকে পড়েছে। আমাদের যোদ্ধারা ভয় পেয়ে গেছে। মাফকার শক্তি ছাড়া তারা দুর্বল বোধ করছে। কিন্তু মাফকা কোথায়? আমাদের ডাকে সে সাড়া দিচ্ছে না কেন?
গনফালা মেঝের উপর পা ঠুকে বলল, আমি যা বলছি তাই করো। আমার সামনে প্রশ্ন করার কোন অধিকার নেই তোমার। যাও, নগর রক্ষা করো। আমি রানী হিসেবে তোমাদের শক্তি যোগাব। তোমরা জুলিদের পরাজিত করবে।
মেয়েযোদ্ধাটি তখন ক্রুদ্ধভাবে বলল, মাফকাকে একবার দেখতে দাও আমাদের।
