বিদেশী টারজনের নাম শুনে বলল, হ্যাঁ আমি টারজানকেই খুঁজছি।
এরপর বিদেশী বিভিন্ন দিকে হাত দিয়ে দেখিয়ে ওমতের কাছ থেকে জানতে চাইল টারজান এখন কোথায় এবং কোন দিকে গেছে।
তার উত্তরে ওমৎ তাকে জানাল আজ থেকে পাঁচ দিন আগে টারজান ঐ পাহাড়ের উপর দিয়ে কোথায় গেছে তা কেউ জানে না।
তখন বিদেশী একাই পাহাড় পার হয়ে টারজনের খোঁজে বেরিয়ে যেতে চাইল।
ওমৎ বলল, চল আমরাও ওর সঙ্গে যাই। আমাদের লোকদের হত্যা করার জন্য আমরা কোর-উলফ লুনের লোকদের শাস্তি দেব।
তাদেন বলল, আগামীকাল সকাল পর্যন্ত বিদেশীকে অপেক্ষা করতে বল। কাল আমরা অনেক যোদ্ধা। সঙ্গে নিয়ে যাব।
ওমৎ মেনে নিল তাদেনের কথাটা। রাত্রিবেলায় বিদেশী একটি গুহাতে রাত কাটাল।
পরদিন সকালেই ওমৎ একশোজন যোদ্ধাকে সঙ্গে করে কোর-উলফ-লুনের বিরুদ্ধে এক সামরিক অভিযানে বার হল। তার সঙ্গে সেই শ্বেতাঙ্গ বিদেশী এবং বন্ধু তাদেনও রইল।
মন্দিরের পাঁচিলটা পার হয়ে মাটিতে লাফ দিয়ে নেমে পানাৎ লীর কথা ভাবতে লাগল টারজান। সে এখনো মুক্তি পায়নি। কিন্তু এখন এতসব শত্রুর মাঝখানে আবার ফিরে গিয়ে পানাৎ লীর খোঁজ করে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা সম্ভব নয়।
অবশেষে টারজান ঠিক করল প্রাসাদের উঠোন দিয়ে না গিয় সে মন্দিরের তলা দিয়ে যে সব ঘর ও বারান্দা আছে তার ভিতর দিয়ে যাবে।
মন্দিরসংলগ্ন পাঁচিলটা আবার পার হয়ে মন্দিরের ভিতরে ঢুকতেই টারজান দেখল সেখানে বিশেষ কেউ নেই, কারণ পুরোহিতরা সব তাকে খোঁজার কাজে ব্যস্ত। তাই দ্রুত এগিয়ে যেতে লাগল। এক সময় একজন পুরোহিত তার সামনে হঠাৎ এসে পড়তেই টারজান অতর্কিতে তার ছুরিটা পুরোহিতের বুকে বসিয়ে দিল। তার দেহটা মাটিতে লুটিয়ে পড়তেই টারজান তার মাথার পোশাকটা তুলে নিজের মাথার উপর চড়িয়ে নিল আর তার লেজটা কেটে নিয়ে তার পরনের কৌপীনের সঙ্গে যুক্ত করে সেটা হাতে ধরে রইল। তারপর আবার নিষিদ্ধ বাগানের দিকে দ্রুতপায়ে এগিয়ে চলল।
কিছুক্ষণ পর টারজান দেখল ওলোয়া চিন্তান্বিত অবস্থায় বাগানের মধ্যে ঢুকল। কিছুক্ষণের মধ্যে একদল লোক বাগানের মধ্যে এসে সোজা রাজকন্যা ওলোয়ার সামনে এসে বলল, যে বিদেশী লোকটি নিজেকে জাদ-বেন-ওথোর পুত্র ডোর-উলফ-ওথো নামে নিজেকে ঘোষণা করেছে সে আসলে ভণ্ড প্রতারক। সে পালিয়ে গেছে। আমরা তাকে এই নিষিদ্ধ বাগানে খুঁজতে এসেছি।
ওলোয়া আশ্চর্য হয়ে বলল, কই? আমি ত দেখিনি তাকে। এ বাগানে আমি ছাড়া আর কেউ নেই।
তখন অনুসন্ধানকারী পুরোহিতরা বাগান ছেড়ে চলে গেল। তারা চলে যেতেই ব্যস্তভাবে ছুটতে ছুটতে পানাৎ লী এসে হাজির হলো। তাকে দেখেই ওলোয়া প্রশ্ন করল, কি হয়েছে পানাৎ লী?
পানাৎ লী বলল, কি বলব রাজকুমারী, ওরা সেই বিদেশীকে মেরে ফেলত।
ওলোয়া বলল, কিন্তু সে ত পালিয়ে গেছে।
পানাৎ লী বলল, হ্যাঁ, ওরা তার খোঁজ করছে।
ওলোয়া বলল, কিন্তু সে ত ভণ্ড প্রতারক।
পানাৎ লী বলল, তাকে তুমি চেন না রাজকুমারী।
ওলোয়া বলল, তাহলে তার সম্বন্ধে তুমি কি জান?
পানাৎ লী বলল, সে দেবতার পুত্র কি না জানি না, তবে সে যে সাধারণ মানুষের থেকে অনেক ঊর্ধ্বে একথা জোর করে বলতে পারি।
ওলোয়া বলল, সত্যিই সে বড় এক আশ্চর্যজনক লোক। হয়ত লুদনই তাকে চিনতে ভুল করেছে।
পানাৎ লী বলল, সে বেঁচে থাকলে ঠিক সে কোন না কোন উপায়ে তাদেনের হাতে তোমাকে তুলে দিত।
ওলোয়া বলল, আর কোন উপায় নেই। কারণ আগামী কালই বুলাতের সঙ্গে আমার বিয়ে হবে।
এবার ওলোয়া! ফুল তুলতে তুলতে হঠাৎ টারজান যেখানে লুকিয়েছিল সেখানে এসে পড়ল। টারজানকে দেখতে পেয়ে চীৎকার করে উঠতে যাচ্ছিল ওলোয়া। কিন্তু টারজান সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ভয়ের কিছু নেই রাজকুমারী। আমি তাদেনের বন্ধু। আশা করি তোমরা আমাকে সুদনের হাতে তুলে দেবে না।
ওলোয়া বলল, কিন্তু আমার বাবা কোতান জানতে পারলে রেগে যাবে, তার উপর প্রধান পুরোহিত লুদন হয়ত এর জন্য দেবতার কাছে আমাকে বলি দেবে।
টারজান বলল, কিন্তু তুমি না বললে ও জানবে কি করে?
ওলোয়া তখন টারজানকে বলল, আচ্ছা বিদেশী, তুমি যদি সত্যি দেবতা হও তাহলে মানুষের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছ কেন?
টারজান বলল, দেবতা ও মানুষ একসঙ্গে মিশে গেলে দেবতাদের অবস্থাও মানুদের মতই হয়।
ওলোয়া বলল, আচ্ছা তুমি তাদেনকে দেখেছ এবং তার সঙ্গে কলা বলেছ?
টারজান বলল, হ্যাঁ, আমি এক পক্ষকাল তার কাছে ছিলাম।
ওলোয়া চলে যাবার জন্য পা বাড়াতেই টারজান তাকে জিজ্ঞাসা করল, আচ্ছা রাজকুমারী, তুমি গতকাল আর একজন বিদেশীর কথা বলছিলে। কে সে?
ওলোয়া বলল, হ্যাঁ, আমি দেখিনি। তবে একটা গুজব শুনেছি একজন বিদেশিনী মহিলাকে মন্দিরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তাকে প্রধান পুরোহিত লুদন এবং আমার বাবা রাজা কোতান দু’জনেই বিয়ে করতে চায়। মহিলাটি নাকি খুব সুন্দরী।
টারজান পানাৎ লীকে বলল, তাকে মন্দিরের মধ্যে কোথায় রাখা হয়েছে জান?
পানাৎ লী বলল, আমরা কি করে জানব?
এই বলে প্রাসাদের দিকে চলে গেল পানাৎ লী।
রাত্রির অন্ধকার নেমে আসতেই নিষিদ্ধ বাগান থেকে টারজান বেরিয়ে মন্দিরের উঠোনে সেই দোতলা রুদ্ধদ্ধার ঘরটার সামনে এসে দাঁড়াল যে ঘরটা সেদিন মন্দির পরিদর্শনকালে দেখে তার কথা জিজ্ঞাসা করেছিল। সে ঘরের জানালা দরজা সব বন্ধ। লুদন বলেছিল ঘরটা খালি পড়ে আছে। ঘরখানা দেখে সেদিনই সন্দেহ জাগে তার মনে।
