উসুলা আশ্চর্য হয়ে বলল, ওঃ মালিক, তাহলে সে আপনি নন!
জেন বলল, সোনা হীরে যাক, আমরা ফিরে এসেছি এবং বাড়িতে কোরাক আছে, এটাই যথেষ্ট।
টারজান ফিরে এল (দি রিটার্ন অফ দি টারজান)
জাহাজে যেতে কাউন্টেস দ্য কুদ আবেগের সঙ্গে বলল, চমৎকার।
কাউন্টপত্নীর চোখে চোখ পড়তেই একজন যুবক উঠে ডেকের দিকে চলে গেল। কাউন্টপত্নী জাহাজের এক কর্মচারীকে বলল, এ ভদ্রলোক কে?
কর্মচারীটি বলল, ভদ্রলোকের নাম মঁসিয়ে টারজান, আফ্রিকা যাবার জন্য টিকিট কেটেছেন।
ডেকে দাঁড়িয়ে অতীতের সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতের ভাবনা করতে লাগল টারজান। যে বিশাল জঙ্গলে অজস্র সিংহ ও জন্তুদের মাঝে জন্মের পর থেকে তার জীবনের বাইশটি বছর কাটিয়েছে সে, সে জঙ্গলের মধ্যে আবার ফিরে যাবার আনন্দ ও উত্তেজনার আবেশে আচ্ছন্ন হয়ে উঠল তার মন। অবশ্য সে আবার সেখানে ফিরে গেলে কেউ তাকে অভ্যর্থনা জানাবে না। একমাত্র ট্যান্টর বা একটা হাতি ছাড়া তার কোন বন্ধু নেই সেখানে।
এক সময় টারজান যখন ডেকের উপর দিয়ে যাচ্ছিল তখন দেখল এক জায়গায়, রোকোফ আর পলভিচ একজন অবগুণ্ঠিতা মহিলার সঙ্গে উত্তেজিতভাবে তর্ক-বিতর্ক করছে।
রোকোফের হাবেভাবে টারজান বুঝল সে মহিলাটিকে দৈহিক পীড়নের ভয় দেখাচ্ছে। সে তাই যেতে যেতে থেমে গেল। রোকোফ টারজানকে তখনো দেখতে পায়নি। সে মহিলাটির একটা হাত ধরতে না ধরতেই টারজান তার লোহার মত শক্ত একটা হাত দিয়ে রোকোফের ঘাড় ধরে তাকে সজোরে ঠেলে দিল। রোকোফ এবার টারজনের মুখপানে তাকিয়ে বলল, কি চাও তুমি? তুমি কি এতই নির্বোধ যে নিকোলাস রোকোফকে অপমান করছ?
টারজান কোন কথা না বলে রোকোফকে এমনভাবে আবার ঠেলে দিল যে সে ডেকের উপর পড়ে গেল।
রোকোফ উঠে দাঁড়িয়ে রেগে বলল, শুয়োর কোথাকার। এর জন্য তোমায় মরতে হবে।
এই বলে সে পকেট থেকে রিভলবার বার করে টারজানকে লক্ষ্য করে গুলি করার জন্য উদ্যত হলো। মহিলাটি মিনতি করে বলল, ও কাজ করো না রোকোফ।
কিন্তু টারজান নির্ভয়ে এগিয়ে গেল রোকোফের দিকে। যেতে যেতে বলল, বোকার মত কাজ করো না।
রোকোফ গুলি করল। কিন্তু রিভলবারে গুলি ছিল না তখন। টারজান তখন তার হাত থেকে রিভলবারটা কেড়ে নিয়ে রেলিং পার করে সমুদ্রের জলে ফেলে দিল।
এবার দু’জনে মুখোমুখি দাঁড়াল। রোকোফ বলল, তুমি নিকোলাস রোকোফকে অপমান করলে, তার ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করলে। এবার তুমি রোকোফ কে তা বুঝতে পারবে।
টারজান বলল, তুমি যে একটা কাপুরুষ তা আমি বুঝেছি।
রোকোফ মেয়েটিকে আঘাত করছে কিনা জানবার জন্য পিছন ফিরতেই সে দেখল মেয়েটি চলে গেছে সেখান থেকে। টারজান তখন সেখানে আর না দাঁড়িয়ে ডেকের উপর বেড়াবার জন্য অন্যত্র চলে গেল।
সেদিন রাতে খাওয়া শেষ হতেই ডেকের উপর বেড়াতে বেড়াতে জাহাজের সেকেন্ড অফিসারের সঙ্গে কথা বলছিল টারজান। পরে অফিসার চলে গেলে সে একাই বেড়াতে লাগল। হঠাৎ সে রোকোফ আর পলভিচের গলার আওয়াজ পেল। ওরা তাকে দেখতে পায়নি। রোকোফ পলভিচকে অনুচ্চস্বরে বলছে যদি সে চীৎকার করে তাহলে তার গলাটা টিপে ধরে থাকবে চুপ না করা পর্যন্ত।
কথাটা টারজনের কানে যাবার সঙ্গে সঙ্গেই এক দুঃসাহসিক অভিযানের আকাক্ষা প্রবল হয়ে উঠল। তার মধ্যে। সে আড়াল থেকে রোকোফের গতিবিধি লক্ষ্য করতে লাগল। টারজান দেখল ওরা ফাস্ট ক্লাস কেবিনের দিকে চলে গেল। ওরা দরজার সামনে দাঁড়াতেই টারজান একটা গলির মধ্যে গিয়ে আড়ালে দাঁড়িয়ে রইল।
দরজায় ঘা দিতেই ভিতর থেকে এক নারীকণ্ঠ বলল, কে?
রোকোফ বলল, আমি ওলগা,-নিকোলাস। ভিতরে আসতে পারি?
নারীকণ্ঠ তখন আবার বলল, কেন আমাকে এভাবে পীড়ন করছ নিকোলাস?
রোকোফ বলল, দরজা খোল, কথা আছে।
এবার দরজাটা ভিতর থেকে খোলার শব্দ হলো। রোকোফ ঘরে না ঢুকেই মহিলাটিকে চুপি চুপি কি বলতেই মহিলাটি বলল, না, তুমি যতই ভয় দেখাও তোমার দাবি আমি মেনে নিতে পারব না।
রোকোফ বলল, ঠিক আছে আমি ঢুকব না। তবে তোমাকে খুব শিগগিরই হার মানতেই হবে।
এরপর মহিলাটি কিছু বলার আগেই রোকোফ পলভিচকে কি ইশারা করতে পলভিচ ভিতর থেকে দরজাটা বন্ধ করা বন্ধ করে তালা দিয়ে দিল। রোকোফ দরজার উপর কান পেতে রইল ভিতরের কথাবার্তা শোনার জন্য।
নারীকণ্ঠ বলল, কাপুরুষ কোথাকার! তুমি বেরিয়ে যাও এখনি এবং আর কখনো আসবে না।
এক মুহূর্তে সব চুপ হয়ে গেল একেবারে। তারপর নারীকণ্ঠের এক আর্ত চীৎকার শোনা গেল। সঙ্গে সঙ্গে আবার চুপ হয়ে গেল সে কণ্ঠ।
নারীকণ্ঠ চুপ হবার সঙ্গে সঙ্গে টারজান তার গুপ্ত স্থান থেকে বেরিয়ে এল। রোকোফ চমকে উঠে পালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু টারজান তার জামার কলারটা ধরে ফেলল। তারপর টারজান তার দানবিক শক্তির চাপ দিয়ে কেবিনের তালাবন্ধ দরজাটা ভেঙ্গে দিয়ে রোকোফকে সঙ্গে নিয়ে ঘরে ঢুকল।
এবার মহিলাটি মৃদু হেসে অভ্যর্থনা জানাল টারজানকে।
টারজান বলল, আমি এর আগেই ধূমপান ঘরে ওদের দেখেছি। এই ধরনের লোক ভাল কিছু সহ্য করতে পারে না।
মহিলাটি বলল, মঁসিয়ে টারজনের বীরত্ব ও শক্তির কথা আমার স্বামী সব বলেছেন। তিনি আপনার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতার ঋণে ঋণী।
টারজান বলল, আপনার স্বামী?
হুঁ, আমার স্বামী হলেন কাউন্টেস দ্য কুদ।
