রঙ্গুলা বলল, কথা দিচ্ছি মালিক। আমি তাই করব।
টারজান বলল, তাহলে তোমাদের লোকদের বল ঐ বন্দীর বাঁধন খুলে তাকে যেন ছেড়ে দেয় তারা। তারপর গায়ের গেট খুলে দেয় যেন। আমরা চলে যাব।
রঙ্গুলা চীৎকার করে তার লোকদের সেইমত হুকুম দিল। টারজানও তখন তার গলা থেকে ফাসটা খুলে দিল।
ওবরস্কি এই সব ব্যাপার দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গিয়েছিল একেবারে। গাছের উপর থেকে টারজান এবার ইংরেজিতে তাকে বলল, তুমি গাঁয়ের বাইরে বনের ধারে চলে যাও। ওরা তোমার কোন ক্ষতি করবে না। আমি যাচ্ছি এখনি।
ওবরস্কি টারজনের কথামত গাঁয়ের বাইরে বনের মধ্যে ঢুকতেই তার পিছনে গিয়ে হাজির হল টারজান। ওবরকি মুখ ঘুরিয়ে বলল, কে তুমি?
টারজান বলল, আমি বাঁধদলের রাজা টারজান।
ওবরস্কি আগেই টারজনের নাম শুনেছিল। সে ভেবেছিল টারজান কোন রক্ত মাংসের মানুষ নয়। সে শুধু আফ্রিকার রূপকথার এক কাল্পনিক চরিত্র।
বনের মধ্যে যেতে যেতে টারজান বলল, আমার পিছু পিছু এস।
ওবরস্কি বলল, তোমাকে আমার ধন্যবাদ জানানো হয়নি। তুমি এসে আমাকে উদ্ধার না করলে আজ আমার জীবন চলে যেত।
টারজান কিন্তু সে কথার কোন উত্তর না দিয়ে নীরবে পথ চলতে লাগল।
অবশেষে তারা একটা ফাঁকা জায়গায় একটা নদীর ধারে এসে থামল। চাঁদের আলো ছড়িয়ে পড়েছিল ফাঁকা জায়গাটায়।
কিন্তু সে সৌন্দর্য ভাল করে উপভোগ করতে না করতেই দুটো সিংহ দেখে ভয় পেয়ে গেল ওরস্কি। তাদের মধ্যে একটা সিংহ আর একটা সিংহী ছিল। সিংহীটা ওদের দেখে গর্জন করতে লাগল।
টারজান ওবরস্কিকে বলল, কোন ভয় নেই, তুমি দাঁড়াও। সিংহীটাকে আমি চাই না, দেখি কি ব্যাপার।
ওবরস্কি সেইখানে ভয়ে ভয়ে দাঁড়িয়ে কাঁপতে লাগল। সে দেখল টারজান সিংহটার দিকে এগিয়ে গেল। সে ভাবল টারজান পাগল।
কিন্তু ওরস্কি আশ্চর্য হয়ে দেখল টারজান এক দুর্বোধ্য ভাষায় কথা বলছে সিংহটার সঙ্গে। সে বলল, টার্মাঙ্গানী এসেছে, জাদ-বাল-জা তুমি তোমার সিংহীটিকে সাবধান করে দাও।
জাদ-বাল-জা নামে সিংহটা কাছে গিয়ে কি বলতেই সিংহীটি চলে গেল। জাদ-বাল-জাও তার সঙ্গে চলে গেল।
টারজান এবার ওবরস্কির ঘাড়ে একটা হাত রেখে বলল, জাদ-বাল-জা আর তোমার কোন ক্ষতি করবে না কখনো। সে এবার থেকে তোমার গন্ধ খুঁকে তোমাকে চিনতে পারবে।
টারজান এবার ঘাসের উপর সটান শুয়ে পড়ে বলল, এখানেই শুয়ে পড়। জাদ-বাল-জা পাহারা দেবে যাতে আমাদের কোন ক্ষতি না হয়। আচ্ছা তুমি এ অঞ্চলে কিভাবে এলে?
ওবরস্কি তখন আমেরিকা থেকে কখন কিভাবে কি কারণে আফ্রিকার জঙ্গলে এল তা সব বলল।
টারজান তা শুনে বলল, আমি যদি জানতাম তুমি ঐ সফরির লোক তাহলে আমি তোমাকে উদ্ধার করতাম না।
ওবরস্কি বলল, কেন?
টারজান বলল, তোমাদের দলনেতা লোকটা বড় খারাপ। ষে নিগ্রোভৃত্যদের প্রায়ই চাবুক মারত।
ওবরস্কি বলল, লোকটাকে আমি দেখতে পারতাম না। শুধু টাকার জন্য ছবিতে অভিনয় করতে আসি আমি। লোকটা পরিচালক হিসেবে খুব নামকরা। তবে বড় মদ খায় আর মদ খেয়েই চাবুক মারত লোকগুলোকে।
ঈয়াদ নামে এক আরব যুবক আতুইকে বলল, এই মেয়েটাকে ধরে এনে আমার মনে হয় ভুল করেছে শেখ। শ্বেতাঙ্গরা রাইফেল নিয়ে আমাদের ধরতে আসবে।
আতুই বলল, হীরের দেশের উপত্যকা আমরা কোনদিন খুঁজে না পেলেও আমরা শুধু হাতে দেশে ফিরে যাব না। মেয়ে দুটো বিক্রি করে দিলে মোটা দাম পাওয়া যাবে। এমন কি ওদের দলের শ্বেতাঙ্গরাও মুক্তিপণ হিসেবে অনেক টাকা দিয়ে ফিরিয়ে নিতে পারে ওদের। তাছাড়া ম্যাপটাতে ইংরেজি ভাষায় যেসব কথা লেখা আছে তা পড়ার জন্য মেয়ে দুটোর দরকার। আমি ইংরেজি বলতে পারি। কিন্তু পড়তে বা লিখতে পারি না।
সকাল থেকে সারাটা দিন ধরে অশ্বারোহী আরবরা ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছিল মেয়ে দুটোকে নিয়ে। নাওমি এক সময় রোন্ডাকে বলল, আর আমি হাঁটতে পারছি না। আমি মূৰ্ছিত হয়ে পড়ব।
সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়লে শেখ শিবির স্থাপন করল পথের ধারে এক জায়গায়।
সন্ধ্যার পর শেখ আতুইকে ম্যাপটা আনতে বলল। বলল, আমাকে বুঝিয়ে দাও কোথায় হীরকদেশের উপত্যকাটা আছে আর সেখানে যাবার পথটাই বা কোনদিকে।
আতুই আবার রোন্ডাকে ডাকল।
রোন্ডা ম্যাপটা দেখে হাসতে লাগল। হাসতে হাসতে বলল, কোথায় হীরকদেশঃ ও ত কল্পনা। আমাদের যে ছবি হবে তাতে ঐ ধরনের জায়গার একটা কল্পনা করা হয়েছে।
আতুই বলল, দেখ, বেদুইনদের তুমি ঠকাতে পারবে না। তুমি যদি আমাদের এটা দেখিয়ে না দাও তাহলে তোমার গলা কেটে দেব।
নাওমি ভয়ে শিউরে উঠে রোন্ডাকে বলল, তুমি ওদের বুঝিয়ে দাও। কেন এমন করছ?
রোন্ডা তখন ম্যাপটার উপর ঝুঁকে পড়ে শেখকে বোঝাতে লাগল। এক জায়গায় হাত দিয়ে বলল, এটা হলো উত্তর দিক। এটা হলো হীরক দেশের উপত্যকা। এখানে কতকগুলো তীর রয়েছে। এগুলো হচ্ছে পথ নির্দেশ। উপত্যকায় যাবার পথ। উপত্যকার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে একটা নদী রয়েছে। সেই নদীটা আবার আর একটা বড় নদীতে পড়েছে। এখানে এক নরখাদক উপজাতীদের বস্তি আছে।
শেখ একটা আঙুল দিয়ে বলল, এটা বোধ হয় ওস্বাম্বি জলপ্রপাত আর এটা হলো বানসুটোদের গাঁ। আগামীকাল আমরা এই নদীটা পেরিয়ে ফাঁকা প্রান্তরটায় গিয়ে পড়ব। তারপর একটা রুক্ষ্ম পাহাড় পাব।
