মাগরা বলল, বন্দীই ছিলাম। আমরা পালিয়ে এসেছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এর থেকে সেখানে বন্দী থাকাই ভাল ছিল।
এবার যে সাদা পোশাক পরা লোকটা হেলেনকে ধরে এনেছিল সে লোকটা তার শিরস্ত্রাণ খুলে ফেলতে দেখা গেল লোকটা বুড়ো আর তার মাথার চুলগুলো সাদা।
হেলেন বলল, আমাকে বন্দী করে রেখেছিল ওরা। ডুবুরির পোশাক পরে পালিয়ে আসি আমি।
থোবোজদের আসল দেবতা হলো ঐ বৃদ্ধ চোন। চোন বলল, আমি একটা লোককে কেটে তার নাড়ী-ভূঁড়ি নিয়ে দেবতাদের কাছে জানতে চাইব এরা আমাদের শত্রু কিনা। মেয়েটা মিথ্যা কথা বলছে। যদি ওরা শত্রু না হয় তাহলে মেয়েটা আমার সেবাদাসী হবে। আর যদি দৈববাণীতে বলে এরা আমাদের শত্রু তাহলে ওদের বলি দেয়া হবে।
মাগরা বলল ও যদি আসল দেবতা হয় তাহলে ও জানত আমরা শত্রু নই। তুমি মোটেই দেবতা। নও। তুমি দুষ্ট প্রকৃতির একটা লোক।
পুরোহিতরা মাগুরাকে মারতে উদ্যত হলো। কিন্তু চোন তাদের বাধা দিয়ে বলল, না, মারবে না।
এদিকে গুপ্ত পথ পার হয়ে আতন থোম হীরের কৌটোটা বুকে করে ছুটতে লাগল। তার পিছনে লাল টাস্কও ছুটছিল।
পাহাড়ের ধার দিয়ে ছুটতে ছুটতে একটা ফাঁকা জায়গায় গিয়ে পড়ল ওরা। সেখানে বাঁদর-গোরিলা উঙ্গো তার দলের সঙ্গে খেলা করছিল। সে আতন থোম আর লাল টাস্ক ছুটতে দেখে রেগে যায় প্রথমে।
টারজান, দার্ণৎ, লাভাক আর হার্কুফ প্রথমে হেলেন যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল সেখানে এল। হেলেনকে সেখানে দেখতে না পাওয়া গেলেও হার্কুফ সেই হীরের কৌটোটা পেয়ে গেল।
এমন সময় জলপোশাক আর ঘোড়ার মুখোশ পরা ছয়জন তোক কোথা থেকে এসে আক্রমণ করল ওদের। ওদের ঘিরে ফেলল চারদিক দিয়ে। টারজান একজনকে সঙ্গে সঙ্গে মেরে ফেলতে আক্রমণকারীদের একজন দার্ণৎকে আক্রমণ করল। টারজান দার্ণৎতের সাহায্যে এগিয়ে গেলে আক্রমণকারীদের একজন লাভাকের পেটের মধ্যে তার মুখোশের তীক্ষ্ণ শিংটা ঢুকিয়ে দিলে লাভাক সঙ্গে সঙ্গে মারা গেল। টারজান তখন তার ত্রিশূল দিয়ে আর একজন আক্রমণকারীকে বধ করলে বাকি আক্রমণকারীরা পালিয়ে গেল।
টারজান তখন বলল, ব্রুলার মারা গেছে। হীরের কৌটোটা চুরি হয়ে গেছে। এবার আমি আমার কথামত হেরাতের কাছে ফিরে যাব।
হার্কুফ বলল, আমার হাতে যে কৌটোটা রয়েছে এটাই হলো হীরকদের পিতা।
টারজান হার্কুফকে বলল, তুমি কৌটোটা নিয়ে যাও হেরাতের কাছে। বলবে, আমি একটা নৌকা পেলে থোবোজে গিয়ে দেখা করব তার সঙ্গে।
হার্টফ থোবোজে গিয়ে হেরাতের হাতে হীরের কৌটোটা তুলে দিয়ে সব কথা বলল। বলল, টারজনের সাহায্য ছাড়া হীরকদের পিতাকে উদ্ধার করতে পারতাম না। তারা এখন বিপন্ন। তাদের উদ্ধারের জন্য এখনি আমাদের সাহায্য পাঠানো উচিৎ।
হেরাৎ বলল, ব্রুলার মারা গেছে। হীরকদের পিতাকে পেয়ে গেছি। আমাদের যুদ্ধের নৌকাগুলো সব প্রস্তুত করো। আমরা এখনই আশেয়ার আক্রমণ করব। আমাদের যত যুদ্ধের নৌকা আছে সব সাজাও।
হার্কুফ চলে গেলে টারজান ও দার্ণৎ আশেয়ারের পথে পা বাড়াল। টারজান হোরাস হ্রদের পাশে পাশে পাহাড়ের ধার ঘেঁষে চলতে লাগল। যেতে যেতে হঠাৎ থমকে দাঁড়াল টারজান। উঙ্গোর দলের একটা বাঁদর-গোরিলাকে দেখতে পেল। টারজান দেখল একটা বাঁদর-গোরিলা একটা গুহার সামনে উঁকি মেরে কি দেখছে। টারজান বুঝল গুহার ভিতরে নিশ্চয় এমন কিছু আছে যা কৌতূহল জাগাচ্ছে।
এদিকে চোন সেই গুহামন্দিরের মধ্যে গ্রেগরিকে বেদীর উপর শুইয়ে তার পেট কেটে নাড়ীভুড়ি বার করতে যাচ্ছিল।
এমন সময় ব্রিয়ান আর টাস্ক বাঁদর-গোরিলাদের ভয়ে সেই গুহামন্দিরে ঢুকে পড়ল।
এদিকে একদল বদর-গোরিলা এসে গুহামন্দিরে ঢুকতেই সব ওলোট-পালট হয়ে গেল। পুরোহিতরা ভয়ে পালাতে লাগল। জুখো আর গয়ান নামে দুটো বাঁদর-গোরিলা হেলেন আর মাগরাকে গোলমালের সময় ধরে তুলে নিয়ে গেল।
বাইরে গিয়ে জুথো আর গয়ানদের ঝগড়া লেগে গেল নিজেদের মধ্যে। সেই অবসরে মাগরা আর হেলেন সেখান থেকে ছুটে পালাতে লাগল। কিন্তু আশেয়ারের একটা নৌকা হ্রদের কূলের কাছ দিয়ে যেতে যেতে তাদের দেখতে পেয়ে নৌকা থামিয়ে কূলে লাফ দিয়ে নেমে তাদের ধরে ফেলল। তারপর তাদের নৌকায় চাপিয়ে নৌকা ছেড়ে দিল। তাদের আশেয়ারে রানীর কাছে নিয়ে গেল তারা।
এদিকে টারজান দার্ণৎকে নিয়ে গুহামন্দিরে ঢুকেই গ্রেগরিকে মুক্ত করল।
টাস্ক গ্রেগরিদের সঙ্গে হেলেনের খোঁজ করতে থাকাকালে হঠাৎ দেখল আতন থোম হীরের কৌটোটা নিয়ে পালাচ্ছে। সে তখন সবাইকে ফেলে থোমের পেছনে ছুটতে লাগল। আতন থোম টাস্ককে খুব কাছে আসতে দেখে একটা পাথর নিয়ে তার মাথায় সজোরে ছুঁড়ে দিতে মাথাটা গুঁড়ো হয়ে গেল টাস্কের।
বাতাসে মেয়েদের গন্ধসূত্র ধরে হেলেন আর মাগরার খোঁজ করতে করতে আর একটা গুহায় ঢুকে পড়ল টারজান। সেখানে জুযথা আর গয়ানকে দেখে হেলেন আর মাগরার কথা জিজ্ঞাসা করল। তারা বলল, নৌকা থেকে লোক এসে ধরে নিয়ে গেছে।
তখন টারজান আশেয়ারে যেতে চাইল। চোন বলল, আমার পুরোহিতরা তোমার সঙ্গে যাবে।
টারজান, দার্ণৎ, চোন তার দলের পুরোহিতদের আর উঙ্গোর বাঁদর-গোরিলাদের সঙ্গে আশেয়ারের নগরদ্বারের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল।
এদিকে হেরাও অনেক নৌকা বোঝাই যোদ্ধা নিয়ে এগিয়ে আসতে লাগল আশেয়ারের দিকে। আশেয়ারের নৌকা বোঝাই যোদ্ধারা আগে থেকেই থোবোজের নৌকা দেখে অপেক্ষা করছিল। হোরাস হ্রদের উপরে সেখানে দু’দলে প্রচণ্ড যুদ্ধ লেগে গেল।
