টারজান বলল, কিন্তু আমাকে আশেয়ারে যেতেই হবে। সেখানে আমার সঙ্গীরা বন্দী হয়ে আছে। তাদের উদ্ধার করতে হবে। তারপর সেখান থেকে ব্রুলার আর হীরকদের পিতাকে হেরাতের কাছে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে মাগরা আর গ্রেগরি আছে।
থেটান বলল, তারা আগেই পালিয়েছে। হেরাৎ ক্ষেপে গেছে।
থেটান যখন দেখল সে কোনক্রমেই টারজানকে প্রতিনিবৃত্ত করতে পারবে না। তখন সে বলল, আমি তোমাকে আমার নৌকায় করে আশেয়ারের ঘাটে দিয়ে আসবে।
টারজান বলল, দু’জন সঙ্গী আছে একটা গুহার মধ্যে। তাদেরও নিয়ে যেতে হবে।
থেটান তার নৌকাটা নিয়ে টারজনের কথামত হ্রদের একদিকের কূলে গিয়ে ভেড়াল। টারজান হেলেন আর হাকুফের নাম ধরে ডাকতে লাগল। হেলেন আর হার্কুফ বেরিয়ে এসে টারজানকে এত তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে দেখে আশ্চর্য হয়ে গেল।
টারজান তাদের নিয়ে নৌকায় চাপাল। নৌকা ছেড়ে দিল। নৌকাটা হ্রদের মাঝামাঝি যেতেই আশেয়ারের চারটে নৌকা থেটারেন নৌকাটাকে ঘিরে ফেলল। অনেকগুলো মশালের আলো তাদের উপর পড়ল। আশারীয় যোদ্ধারা যুদ্ধের ধ্বনি দিতে লাগল।
টারজান সঙ্গে সঙ্গে জল পোশাক আর শিরস্ত্রাণ পরে ফেলল। হেলেন আর হার্কুফকেও তা পরতে বলল। তারপর হ্রদের জলে হেলেনের হাত ধূরে ঝাঁপ দিল। আশেয়ারের যোদ্ধাদের এড়িয়ে যাবার জন্য গভীর জলে ডুব দিল তারা।
সকাল হতেই টারজান হেলেনকে নিয়ে মন্দিরের দিকে রওনা হলো। কিছুটা যেতেই হাকুফের দেখা। পেয়ে গেল। হাফই তখন আশেয়ারের পথে ওদের নিয়ে যেতে লাগল। কিছুটা পথ যেতেই ওরা একটা। পুরনো ভাঙ্গ নৌকা ডুবে থাকতে দেখল। হাকু সেটা দেখতে পেয়ে তার উপরে লাফ দিয়ে কিসের খোঁজ করতে লাগল। হঠাৎ একটা মণিমুক্তা খচিত কৌটো পেয়ে আনন্দে লাফাতে লাগল হার্কুফ।
পরে একটা জায়গায় থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে হার্কুফ বলল, এখানে অপেক্ষা করব। রাত না হওয়া পর্যন্ত আমরা মন্দিরে যাব না। মন্দিরের পুরোহিতরা যখন উপাসনা করতে যাবে, যখন মন্দির ফাঁকা থাকবে তখনি ওরা মন্দিরে গিয়ে ঢুকবে এবং বন্দীদের মুক্ত করবে।
মন্দিরের একটা খোলা জানালা দিয়ে ভিতরের দিকে তাকাতে লাগল হার্কুফ। অবশেষে উপাসনার সময় হয়ে গেলে সে টারজানকে বলল, এখানে হেলেন দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করবে আমাদের জন্য।
এই বলে হেলেনের পায়ের কাছে সেই কৌটোটা নামিয়ে রেখে টারজানকে মন্দিরে নিয়ে চলে গেল হার্কুফ।
টারজান আর হার্কুফ তাদের ত্রিশূলে একটা করে মাছ গেঁথে নিয়ে মন্দিরের ভিতরে ঢুকে বন্দীদের খাঁচার সামনে গিয়ে দেখতে লাগল। তখন মন্দিরে ফ্রলার বা কোন পুরোহিত ছিল না।
টারজান এই অবকাশে এক একটা খাঁচার রডগুলো ভেঙ্গে সব বন্দীদের মুক্ত করে দিল। আতন থোম খাঁচা থেকে ছাড়া পেয়েই হীরের সেই বড় কৌটোটা তুলে নিয়ে বুকে করে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করতেই লাল টাস্ক আর ব্রিয়ান গ্রেগরি তাকে ধরে ফেলল। যে হীরকদের পিতার জন্য তারা এতদিন ধরে এত কষ্ট করে এসেছে। সেই পিতাকে তারা কিছুতেই নিয়ে যেতে দেবে না।
টারজান আর হার্কুফ বাড়তি দুটো জল পোশাক এনেছিল। সেই দুটো দার্ণৎ আর ব্রিয়ানকে পরতে বলল টারজান যাতে তারা জলপথে হোরাস হ্রদের তলা দিয়ে পালাতে পারে তাদের সঙ্গে। টারজান বাকি বন্দীদের বলল, তোমরা বারান্দার তলা দিয়ে যে গুপ্ত পথ চলে গেছে সেই পথ দিয়ে চলে যাও।
আতন থোম তখন সেই হীরের বড় কৌটোটা বুকে করে গুপ্ত পথ ধরে ছুটতে লাগল। লাল টাস্ক আর ব্রিয়ানও তাদের পিছু পিছু ছুটতে লাগল। টারজান ব্রিয়ানকে আতন থোমের সঙ্গে যেতে নিষেধ করল। কিন্তু ব্রিয়ান শুনল না। সে বলল, আমি নরকে এতদিন কি বৃথাই এত কষ্ট ভোগ করেছি।
টারজান তখন বলল, তাহলে তোমার যা খুশি করো। আমরা যোদ্ধারা আসার আগেই জলপথে চলে যাব।
টারজান, হার্কুফ, দার্ণৎ আর লাভাক জল পোশাক পরে তৈরি হলো।
রানী আটকা তখন সামন্তদের সঙ্গে এক ভোজসভায় ছিল প্রাসাদের মধ্যে। এমন সময় একজন পুরোহিত গিয়ে এই দুর্ঘটনার কথা জানায়। রানী তা শুনে একদল যোদ্ধাকে মন্দিরে পাঠিয়ে দেয়।
লার মন্দিরে এসে চেঁচামেচি করাতে হার্কুফ তার ত্রিশূলটা ব্রুলারের বুকে বসিয়ে দিল। এমন সময় আশেয়ারের যোদ্ধারা এসে গেল। যোদ্ধাদের ফাঁদে ফেলার একটা পরিকল্পনা করেছিল হার্কুফ। তারা চারজন যখন একটা ঘরের ভিতর দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল তখন যোদ্ধারা তাদের তাড়া করে সেই ঘরে ঢুকতেই ঘরের দরজা দুটো দু’দিক থেকে বন্ধ হয়ে গেল। তারপর বাইরে হাওয়া ঘর থেকে পাম্প চালিয়ে ঘরটা জলে ভরে দিল। ফলে যোদ্ধাগুলো সব জলে ডুবে মারা গেল।
এদিকে হেলেন যেখানে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল জলের তলায় যেখানে হঠাৎ ভূতের মত ডুবুরির পোশাক পরা একটা লোক কোথা থেকে এসে তাকে জোর করে টেনে নিয়ে যেতে লাগল জলের মধ্যে দিয়ে।
অবশেষে সেই ভূতুড়ে যোদ্ধা জলপপাশাক পরা লোকটা হেলেনকে নিয়ে হ্রদের পারে সেই পাহাড়ের গুহাটায় নিয়ে গেল যেখানে মাগরা আর গ্রেগরিকে থোবোজের পুরোহিতরা আটকে রেখেছিল। হেলেনকে দেখে আশ্চর্য হয়ে গেল গ্রেগরি। বলল, হেলেন তুই! ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, তুই এখনো বেঁচে আছিস।
হেলেন বলল, তুমি এখানে কি করছ বাবা? টারজান আমাকে বলেছিল, তুমি আর মাগরা থোবোজে বন্দী হয়ে আছে।
