সেখান থেকে জলের ভিতর দিয়ে হেলেনকে নিয়ে যাবার জন্য তিনজন টোম বা ডুবুরি এসে হেলেনকে তার পরনের পোশাক খুলে ডুবুরির পোশাক আর শিরস্ত্রাণ পরতে বলল। তার পর তাকে নিয়ে মন্দির থেকে চলে গেল।
রাত গম্ভীর হলে মন্দিরের পুরোহিতরা তাদের আপন আপন ঘরে শুতে গেলে টারজান তার দেহের অসীম শক্তি দিয়ে খাঁচার দুটো রড বেঁকিয়ে ফাঁকা করে খাঁচা থেকে বেরিয়ে এল। তারপর হাকুফের খাঁচাটাকেও একইভাবে ফাঁকা করে তাকে মুক্ত করে দিল।
হার্কুফ টারজানকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতে লাগল। ডুবুরিদের ঘরে গিয়ে ওরা দেখল তারা সবাই ঘুমোচ্ছে। তাদের ঘর থেকে দুটো ডুবুরির পোশাক আর শিরস্ত্রাণ নিয়ে নিল। দুটো ডুবুরি পোশাক আর দুটো শিরস্ত্রাণ পরে নিল। তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে জলের তলা দিয়ে একটা বড় পাকা বাড়ির দিকে এগিয়ে গেল। বাড়িটার ছাদের উপরে গিয়ে ওরা বুঝল এ বাড়ির নিচের তলায় একটা ঘরে বন্দী আছে হেলেন।
এদিকে সেই বাড়ির পীড়নাগারে হেলেনকে নিয়ে গিয়ে বাইরে থেকে দরজাটা বন্ধ করে দেয় ডুবুরিরা। ঘরের মধ্য একটা মই ছিল। ঘরটার মধ্যে জল ঢুকছিল। হেলেন বুঝল এই ঘরেতে অনেক বন্দীকে রেখে তাকে ধীরে ধীরে ডুবিয়ে মারা হয়। ঘরের মেঝেটা প্রথমে জলে ডুবে গেল। হেলেন মইয়ের একটা সিঁড়িতে উঠল। এইভাবে যতই জল উঠতে থাকে ততই মইয়ের একটা উঁচু সিঁড়িতে উঠতে থাকে হেলেন। তখন জলে ভরে গেছে গোটা ঘরটা।
হেলেন যখন জলের উপর ভাসতে শুরু করেছে তখন টারজান আর হার্কুফ দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে হেলেনকে উদ্ধার করে নিয়ে এল কিন্তু তাদের মুখে ও মাথায় শিরস্ত্রাণ আর ডুবুরি পোশাক থাকায় তাদের চিনতে পারল না।
এদিকে ডুবুরিদের মধ্যে একজন হঠাৎ জেগে উঠে যখন দেখল তাদের দুটো জল পোশাক আর শিরস্ত্রাণ চুরি হয়ে গেছে তখন সে ছুটে মন্দিরে গিয়ে পুরোহিতদের জাগাল। পুরোহিতরা তখন খাঁচাগুলো পরীক্ষা করে দেখলো দুটো খাঁচা শূন্য। বন্দীরা পালিয়ে গেছে অথচ তালাচাবি ঠিক আছে। শুধু রেলিংগুলো বাঁকানো।
সঙ্গে সঙ্গে ছয়জন ডুবুরি ত্রিশূল হাতে পলাতক বন্দীদের খোঁজে বেরিয়ে পড়ল। তারা বুঝল বন্দীরা যখন জল পোশাক আর শিরস্ত্রাণ নিয়ে গেছে তখন অবশ্যই হেলেন নামে সেই বন্দিনী মেয়েটাকে উদ্ধার করতে গেছে।
তাদের ধারণাই ঠিক। টারজান আর হার্টফ যখন হেলেনকে নিয়ে সেই বাড়িটা থেকে বেরিয়ে আসছিল তখন তাদের দেখতে পেল ডুবুরি যোদ্ধারা। তারা গিয়ে টারজানকে ঘিরে ফেলল।
জলের ভিতরে কিভাবে লড়াই করে ছয়জন যোদ্ধাকে ঘায়েল করবে তা ভেবে পেল না টারজান। তবু সেই প্রথমেই দু’জন যোদ্ধাকে মেরে ফেলল ত্রিশূল দিয়ে। আর দু’জন যোদ্ধা টারজানকে ধরতেই হেলেন তার ত্রিশূলটা একটা যোদ্ধার বুকে বসিয়ে দিল। এইভাবে পাঁচজন যোদ্ধা মারা গেল একে একে। একজন পালাচ্ছিল কিন্তু সে গিয়ে খরব দিয়ে আরো যোদ্ধা আনবে বলে তাকে ধরে মেরে ফেলল টারজান।
এরপর মন্দিরের পথে না গিয়ে জলের তলা দিয়ে অন্য পথ ধরল হার্কুফ। তারা ঠিক করল আশেয়ার নগরী থেকে কিছুটা দূরে হোরাস হ্রদের কূলে এক জায়গায় উঠবে তারা।
গ্রেগরি আর মাগরা টারজান ফিরে না আসা পর্যন্ত সেখানেই অপেক্ষা করতে লাগল।
হঠাৎ মাগরা গ্রেগরিকে হাত বাড়িয়ে দেখাল, একটা গুহা মনে হচ্ছে না?
ওরা এগিয়ে গিয়ে দেখল সত্যিই একটা বড় গুহা। ভিতরে ঢুকে দেখল ভিতর দিকে একটা বারান্দা চলে গেছে। অন্ধকার হলেও কিছু কিছু দেখা যাচ্ছিল। মাগরা ভিতের ঢুকতে নিষেধ করছিল, গ্রেগরিকে। কিন্তু গ্রেগরি শুনল না।
মাগরা বলল, মনে হয় অন্ধকারে চুপিসারে কারা যেন আমাদের পিছু নিয়েছে।
হঠাৎ একটা হাত এসে মাগরার ঘাড়টা ধরে কোথায় নিয়ে গেল তাকে। চীৎকার করার সুযোগও পেল না। গ্রেগরি পিছন ফিরে দেখল মাগরা নেই। কিছুক্ষণের মধ্যেই আর একটা হাত এসে গ্রেগরিকে ধরল।
গ্রেগরি আর মাগরাকে ধরে একই জায়গায় নিয়ে আসা হলো। ওরা বুঝল সাদা পোশাক পরা থোবোজের একদল অধিবাসী এই গুহাতেই ছিল।
হোরাস হ্রদের কূলে উঠে টারজান বলল, আমি একটা নৌকা পেলে আশেয়ারে চলে যেতাম। সেখানে আমার কাজ আছে।
সন্ধ্যার অন্ধকার ঘন হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে টারজান, হেলেন ও হাকুফের কথা না শুনে হোরাসের জলে ঝাঁপ দিল। হেলেন আর হার্কুফ সেখানেই রয়ে গেল।
টারজান আশেয়ারের কূলের দিকে অর্ধেকটা পথ আঁতার কেটে যেতেই একটা নৌকার আলো দেখতে পেল। একটা নৌকার মশালের আলো তার কাছে পড়তেই সে জলে ডুব দিল। জলে ডুবে ডুবে অনেকটা গিয়ে জলের উপর মাথা তুলল। সে ভাবল আশেয়ারের নৌকা হলে সে আবার ধরা পড়বে।
টারজান আবার সাঁতার কেটে এগিয়ে যেতে থাকলে হঠাৎ নৌকাটার কাছে এসে পড়ল। কারণ তখন কোন আলো ছিল না নৌকাটাতে। নৌকা থেকে দু’জন যোদ্ধা টারজানকে ধরে তুলে নিল নৌকাতে। টারজান এবার দেখল যোদ্ধাদের মাথায় কালো পালক রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে সে থেটানের গলার আওয়াজ শুনতে পেল।
থেটান বলল, আমরা আলো না জ্বেলে আশেয়ারের সীমানাটা পার হচ্ছিলাম। আমরা যাচ্ছিলাম কিছু ক্রীতদাসদের খোঁজে। তুমি কোথায় যাচ্ছিলে?’
টারজান বলল, আমি যাচ্ছিলাম আশেয়ারের ঘাট থেকে একটা নৌকা চুরি করে আনতে।
থেটান বলল, তুমি কি পাগল হয়েছ?
