এক ঘণ্টা পরে তারা এক সঙ্গে আশেয়ারের পথে রওনা হলো।
সেদিন রাত্রিবেলায় গ্রেগরি থেটানকে বলল, আমরা দু’জনইে চলে যেতে চাই। তুমি আমাদের এ বিষয়ে সাহায্য করতে পার?
থেটান বলল, তোমরা টারজনের বন্ধু। সে আমাকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছে। আমি তোমাদের চলে যেতে সাহায্য করব। তোমরা হোরাস হ্রদের পশ্চিম দিকের পথ ধরে আশেয়ারের পথে চলে যাবে। থোবোজে আর ফিরে এস না।
আধ ঘণ্টার মধ্যেই থেটান গ্রেগরি আর মাগরাকে নিয়ে গুপ্ত পথ দিয়ে নগরপ্রান্তে চলে গেল। সেখানে তাদের আশেয়ারের পথটা দেখিয়ে দিয়ে বিদায় দিল।
টারজানরা সংখ্যায় মোট ছয়জন হলো। ওরা আশেয়ারে ফ্রলারের মন্দিরে যাবার গুপ্ত পথের মুখে, এসে দাঁড়াল। একটা পাহাড়ের পাশ দিয়ে সুড়ঙ্গ পথটা শুরু হয়েছে।
হার্কুফ বলল, মন্দিরের চাবিকাঠি আমার কাছে আছে। ব্রুলার কোথায় শোয় আমি জানি। ও যখন উপাসনার শেষে ঘুমোয় তখন মন্দিরে কেউ থাকে না। পুরোহিতরা আপন আপন ঘরে শুতে যায়। হীরের কৌটোটা লারের সিংহাসনের সামনে পড়ে থাকে। ব্রুলারকে ধরে ফেলতে পারলে ও তাকে হত্যার ভয় দেখালে সে কোন শব্দ না করে চলে আসতে পারে আমাদের সঙ্গে।
টারজান বলল, তোমরা সবাই এই জায়গাটায় পাহাড়ের ধারে লুকিয়ে থাক কোন গুহায়। আমি হার্কুফকে নিয়ে যাব। এক ঘণ্টার মধ্যে আমরা ফিরে না এলে তোমরা নিজেদের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা করে নিও। তুয়েন বাকার সীমানাটা যে-কোনভাবে পার হয়ে যাবে।
অন্যদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সুড়ঙ্গের মধ্যে ঢুকে পড়ল টারজান আর হার্কুফ।
এদিকে গ্রেগরি আর মাগরা সেই পথে আসতে আসতে আশেয়ার থেকে পালিয়ে আসা তিনজন বন্দীর দেখা পেল। তারা গ্রেগরিকে জিজ্ঞাসা করল, তোমরা কে?
গ্রেগরি বলল, তুয়েন বাকা থেকে বেরিয়ে যাবার পথে খুঁজছি আমরা।
পলাতকরা বলল, আমরাও তাই খুঁজছি। এস আমাদের সঙ্গে।
গ্রেগরি বলল, আমাদের সঙ্গীরা আশেয়ারের পথে গিয়েছে। তাদের খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কোথাও যেতে পারব না।
পলাতকরা বলল, আমরা তাদের দেখেছি। তারা ছিল সংখ্যায় ছয়জন। তার মধ্যে একজন মহিলা ছিল।
গ্রেগরি বলল, তারা কে কে তা জান?
পলাতকরা বলল, তারা ছিল মোট ছয়জন, টারজান, দার্ণৎ, লাভাক, ব্রিয়ান গ্রেগরি, হার্কুফ আর হেলেন।
গ্রেগরি অবাক হয়ে গেল। ওরা কিভাবে মুক্ত হলো তার কিছুই বুঝতে পারল না গ্রেগরি। যাই হোক, হেলেন আর ব্রিয়ান জীবিত আছে এবং তারা টারজনের দেখা পেয়েছে জেনে খুশি হলো।
এদিকে টারজান আর হাক্ফ যখন সুড়ঙ্গপথের মধ্যে ঢোকে তখন আশেয়ারের এক পুরোহিত একটা বড় পাথরের পাশ থেকে লুকিয়ে তা দেখে।
টারজান আর হাফ সুড়ঙ্গপথটা পার হয়ে মন্দিরে ওঠার মুখে ধরা পড়ে গেল। তাদের অতর্কিত আক্রমণে ফেলে দিয়ে বেঁধে ফেলল যোদ্ধারা। তারপর তাদের মন্দিরের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হলো। এক একটি খাঁচার মধ্যে আবদ্ধ করে রাখা হলো তাদের। তারা গিয়ে দেখল দার্ণৎ, ব্রিয়ান, হেলেন আর লাভাকও খাঁচায় ভরা রয়েছে।
এমন সময় মন্দিরের সব তালাচাবির রক্ষক এসে একটা খাঁচা খুলে টারজানকে বলল, রানী তোমায় ডাকছেন।
রানী আটকা তখন সামন্তদের দ্বারা পরিবৃত হয়ে তার সিংহাসনে বসেছিল। টারজান তার সামনে গিয়ে দাঁড়াতে তার আপাদমস্তক ভাল করে নিরীক্ষণ করে বলল, তাহলে তুমিই হচ্ছ সেই মানুষ যে আমার অনেক যোদ্ধাকে মেরেছ এবং একটা নৌকা দখল করে নিয়েছ।
টারজান চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকায় আটকা রেগে গিয়ে বলল, কি, কথা বলছ না কেন?
টারজান বলল, বৃথা কথা বলে কি হবে? আমি সেদিন অনেকগুলো যোদ্ধাকে মেরেছি। গতকাল বনে আমি তোমার আরো ছয়জন যোদ্ধাকে মেরেছি।
রানী আবার জিজ্ঞাসা করল, আশেয়ারে তুমি কেন এসেছ? কেন তোমরা শত্রুতা করছ আমার সঙ্গে।
টারজান বলল, আমার যে সব সঙ্গীরা বন্দী আছে এখানে আমি তাদের মুক্ত করতে এসেছি। আমি তোমাদের শত্রু নাই। আমি শুধু আমার বন্ধুদের মুক্তি চাই।
রানী আটকা বলল, আর হীরকদের পিতা?
টারজান বলল, তার প্রতি আমার কোন লোভ নেই।
রানী আকটা বলল, আতন থোম হীরে চুরি করতে এসেছিল আর তুমি ত তার চর।
টারজান বলল, সে আমার শত্রু।
আটকা কি ভেবে নিয়ে বলল, তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে তুমি সত্য কথা বলছ। আমি তোমাকে বন্ধু হিসেবে পেতে চাই। কতকগুলো বাঁদর-গোরিলা তোমার হয়ে যুদ্ধ করেছিল। তুমি আমার বশ্যতা স্বীকার করো। তোমাকে দিয়ে আমার অনেক কাজ হবে। তুমি মুক্ত।
টারজান বলল, আর আমার বন্ধুরা? তারাও মুক্ত ত?
আটকা বলল, অবশ্যই না। ব্রিয়ান গ্রেগরি হীরকদের পিতাকে চুরি করে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। তোমার অন্য সঙ্গীরা তাকে সাহায্য করতে এসেছিল। সুতরাং তাদের মুক্তি দেয়ার কোন কথাই উঠতে পারে না।
টারজান বলল, তারা মুক্তি পেলেই আমি এখানে থাকতে পারি।
আটকা রেগে গিয়ে বলল, এই লোকটাকে নিয়ে যাও। খাঁচায় বন্দী করে রাখো।
প্রহরীরা টারজানকে নিয়ে গিয়ে আবার সেই খাঁচায় আবদ্ধ করে রাখল।
ব্রুলারের সিংহাসনের পাশে মঞ্চের উপর চেয়ারের মত যে একটা সিংহাসন ছিল তার উপর বসল রানী আটকা। সে জোর গলায় ঘোষণা করল একমাত্র মেয়েটি ছাড়া অন্য সব পলাতক বন্দীদের একে একে বলি দেয়া হবে। আর হোরাস হ্রদের তলায় যে পীড়নাগার আছে তার মধ্যে ডুবিয়ে মারা হবে মেয়েটিকে, কারণ জাইথেবকে খুন করেছিল সে।
