টারজান বলল, আমাকে আশেয়ারে গিয়ে ব্রুলার আর হীরকদের পিতাকে এখানে নিয়ে আসতে হবে। গ্রেগরির মেয়ে আর আমার সবচেয়ে অন্তরঙ্গ বন্ধু সেখানে আছে।
হেরাৎ বলল, ঠিক আছে যাও। কোন সাহায্য দরকার হলে বলবে।’
টারজান বলল, আমি একাই যাব। তব কোন সাহায্যের দরকার হলে ফিরে এসে জানাব।
আশেয়ারের রাজপ্রাসাদের একটি ঘরে লাল টাস্ক উত্তেজিতভাবে বলে উঠল, আমি এ কাজ পারব না। আমাকে মরতে হবে এর জন্য।
আতন থোম তাকে আশ্বস্ত করে বলল, এতে বিপদের কোন ঝুঁকি নেই। সব ঠিক হয়ে আছে। এ কাজ করতে পারলে তুমি আশেয়ারের ভাবী রাজার আপনজন হয়ে উঠবে। তার ফলে হীরকদের পিতার খুব কাছাখাছি চলে আসবে। তাছাড়া আকামেন তোমাকে সাহায্য করবে। সে তোমাকে রাণীর শোবার ঘরে নিয়ে যাবে। তারপর তোমাকে কি করতে হবে তা তুমি জান।
এমন সময় দরজা ঠেলে আকামেন এসে ঘরে ঢুকল। থোম বলল, সব ঠিক, লাল টাস্ক এ কাজ করবে।
আকামেন বলল, রানী এখন শুয়েছে। দরজার সামনে কোন প্রহরী নেই।
লাল টাস্ক গিয়ে ছুরি হাতে ঘরে ঢুকল। আকামেন বাইরে দাঁড়িয়ে রইল। কিন্তু ছুরি হাতে লাল টাস্ক রাণীর বিছানার দিকে এগিয়ে যেতেই পর্দা ঠেলে একদল যোদ্ধা ঘরে ঢুকেই লাফিয়ে পড়ল টাস্কের উপর। রানী আটকা উঠে বসল বিছানার উপর। বলল, এই লোকটা, আকামেন আর আতন থোমকে আমার দরবার ঘরে নিয়ে যাও। সামন্তদের সব ডাক।
রাণীর সিংহাসনের সামনে তিনজনকে দাঁড় করালে রানী আকামেনকে বলল, তুমি এই দু’জন লোকের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছ আমাকে হত্যা করার জন্য। কারণ তুমি রাজা হতে চাও। তাদের একজন আমাকে কথাটা জানিয়ে দেয়। তোমাদের এখনি প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত না করে খাঁচায় আবদ্ধ করে রাখার হুকুম দিচ্ছি। তোমাদের বন্দীদশা আরো দুঃসহ করে ভোলার জন্য তোমাকে অর্ধেক করে খাবার দেয়া হবে। তোমাদের একটা করে হাত আর পা কেটে ফেলা হবে। এইভাবে তোমাদের আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, বিশ্বাসঘাতকতার পরিণাম কী ভীষণ এবং বিপজ্জনক হতে পারে।
ব্রুলারের মন্দিরে বন্দীদের খাঁচায় আবদ্ধ করে রাখা হলো আকামেন, থোম আর টাস্ককে। তার খাঁচা থেকে হীরের কৌটোটাকে দেখতে পাচ্ছিল আতন থোম।
টারজান আর থেটান, গ্রেগরি আর লাভাক যে ঘরে শৃঙ্খলিত অবস্থায় বন্দী ছিল সেই ঘরে গিয়ে তাদের বলল, হেরাৎ তোমার মুক্তি দিয়েছেন।
টারজান বলল, তোমরা এখন মুক্ত অবস্থায় শহরের মধ্য ঘুরে বেড়াতে পারবে। আমি আশেয়ার থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত এখানেই থাকবে তোমরা।
গ্রেগরি বলল, আশেয়ারে যাবে কেন?
টারজান বলল, তোমার মেয়ে আর দার্ণৎতের খোঁজে। তার উপর তোমাদের মুক্তির জন্য ব্রুলার আর হীরকদের পিতাকে এখানে নিয়ে আসতে হবে।
লাভাক বলল, সিংহদুটো মারা হয়েছে?
টারজান বলল, হ্যাঁ, তারা এখন মৃত।
গ্রেগরি আর লাভাক দু’জনেই টারজনের সঙ্গে আশেয়ারে যেতে চাইল।
টারজান বলল, একজনকে এখানে থাকতেই হবে। একজন আমার সঙ্গে যেতে পার। আচ্ছা লাভাক এস।
তখনি যাত্রা শুরু করল ওরা।
এদিকে আশেয়ার থেকে যে নয়জন বন্দী পালিয়ে এসেছিল তারা পথ হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তাদের পাগুলো ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছিল। হার্কুফ বলল, এখন ভোর হয়ে গেছে। এখন আর পথ চলব না আমরা। এখন লুকিয়ে থাকার জন্য একটা গুহা খুঁজতে হবে।
এদিকে টারজান আর লাভাক আশেয়ারের পথে যেতে যেতে এক জায়গায় বাতাসে মানুষের গন্ধ পেয়ে থমকে দাঁড়াল। টারজান বুঝল, কয়েকজন শ্বেতাঙ্গের একটি দল মন্থর গতিতে কোথায় যাচ্ছে। তাদের দলে একটি শ্বেতাঙ্গ মেয়েও আছে।
টারজান এক জায়গায় লাভাককে দাঁড় করিয়ে রেখে একা সেই গন্ধসূত্র ধরে এগিয়ে গিয়ে দেখল দূরে নয়জন পলাতকের একটি দলকে ধরার জন্য ছয়জন আশারীয় যোদ্ধা বর্শা উঁচিয়ে ছুটছে। একটা বর্শার আঘাতে একজন পলাতক পড়ে গেল। তখন বাকি সবাই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল।
সঙ্গে সঙ্গে আশারীয় যোদ্ধারা গিয়ে তাদের ঘিরে ফেলল। বর্শার বাঁট দিয়ে পলাতকদের মারতে লাগল। যোদ্ধাদের একজন হেলেনকে মারতে গেলে দার্ণৎ একটা ঘুষিতে তাকে ফেলে দিল। এমন সময় একজন যোদ্ধা তার বর্শাটা দার্ণৎতের বুকে বসিয়ে দিতে গেল। ঠিক সেই সময় একটা তীর গিয়ে যোদ্ধার পিঠে লাগতেই সে পড়ে গেল। আশারীয় যোদ্ধারা চারদিকে তাকিয়ে দেখল কেউ কোথাও নেই। কে বা কারা কোথা থেকে তীর মারল তা বুঝতে পারল না তারা কিছুই। কিন্তু তারা কিছু বোঝার আগেই আর একটা তীর এসে আর একজন যোদ্ধাকে বিদ্ধ করল।
দার্ণৎ বলল, তোমরা আমাদের ছেড়ে দিয়ে চলে যাও। তা না হলে তোমরা সবাই মারা যাবে।
যোদ্ধারা বলল, তোমাদের ছেড়ে দিয়ে গেলেও রানী আটকার হাতে আমাদের মরতে হবে।
এই বলে তারা যেমন এক সঙ্গে বর্শা তুলে দার্ণৎদের মারতে উদ্যত হলো অমনি পর পর কয়েকটা তীর এসে বাকি যোদ্ধাদের বিদ্ধ করে মেরে ফেলল তাদের সবাইকে।
এবার টারজান ওদের সামনে এসে দাঁড়াতেই দার্ণৎ জড়িয়ে ধরল তাকে। বলল, আমি আগেই হেলেনকে বলেছিলাম এ টারজান ছাড়া আর কেউ হতেই পারে না।
হেলেন বলল, বাবা কোথায়? মাগরা কোথায়? তারা কি ডুবে গেছে সেই নৌকা ডুবির সময়?
টারজান বলল, না,তারা থোবোজের রাজবাড়িতে বন্দী আছে। অবশ্য নগর মধ্যে স্বাধীনভাবে ঘুরতে পারবে তারা। তাদের মুক্তির জন্য আমাকে আশেয়ারে গিয়ে প্রধান পুরোহিত ব্রুলারকে আর হীরকদের পিতাকে থোবোজে নিয়ে যেতে হবে।
