টারজান বলল, তোমরা মালপত্রও সব নিয়ে এসেছ। তার শাস্তিস্বরূপ তোমাদের এখন আমাদের সঙ্গে তুয়েন বাকা যেতে হবে।
মবুলি বলল, আমার লোকরা ভয় পাচ্ছে।
টারজান বলল, যেখানে টারজান যাচ্ছে সেখানে ভয়ের কোন কারণ নেই।
এরপর তিনদিন ধরে গ্রেগরিদের সফরি আশেয়ারের পথে এগিয়ে চলল।
বড় বড় পাথরে ভরা পথটা দিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে একটা অদ্ভুত জন্তুর পায়ের ছাপ দেখল টারজান। যেন একটা বিরাটকায় সরীসৃপের গন্ধ পেল। কিছুদূর পা চালিয়ে সাবধানে গিয়ে সে দেখল একজন শ্বেতাঙ্গ যোদ্ধা সামনে একটা বিরাটকায় সরীসৃপ দেখে ভয়ে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
টারজান বুঝল এই শ্বেতাঙ্গ নিশ্চয় এ অঞ্চলের অদিবাসী। তার কাছ থেকে এখানকার অনেক তথ্য পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সরীসৃপটা এখনি তাকে গিলে খেলে সে তথ্য আর পাওয়া যাবে না। সে তাই ছুরি হাতে গিয়ে সরীসৃপার গলার কাছে এক দুর্বল অংশে ছুরিটা বসিয়ে দিল। সূরীসৃপটা তবু কায়দা হলো না, সে লড়াই করে যেতে লাগল। টারজানও বারবার ছুরিটা তার গায়ে কমাতে লাগল।
দু’জনের চেষ্টায় সরীসৃপটা মরে গেলে শ্বেতাঙ্গ যোদ্ধা টারজনের সামনে দাঁড়িয়ে বলল, তুমি শত্রু না মিত্র?
টারজান বলল, আমি তোমার বন্ধু। আমি হচ্ছি টারজান। তুমি কে?
যোদ্ধা বলল, আমি খোবোজ নগরীর অধিবাসী, নাম থেটান।
টারজান বলল, আমি আশেয়ারে যেতে চাই।
যোদ্ধা বলল, তুমি এমন একটা ব্যাপারের কথা বললে যাতে আমি কোন সাহায্য তোমায় করতে পারব না। আশেয়ারের লোকেরা আমাদের চিরশত্রু। সেখানে তোমাকে নিয়ে গেলে আমাদের দুজনকে তারা হয় মেরে ফেলবে না হয় বন্দী করে রেখে দেবে। আমি বরং আমাদের রাজার কাছে তোমাকে নিয়ে যেতে পারি।
টারজান মবুলিদের বলল, তোমরা সব মালপত্র নদীতে দাঁড়ানো নৌকাতে তুলে দাও।
নৌকাটা এগিয়ে চলল।
সহসা লাভাক সামনে অদূরে একটা নৌকা দেখতে পেয়ে বলল, ঐ দেখ!
নৌকাটা তাদের দিকেই এগিয়ে আসছিল। থেটান বলল, আশেয়ারের নৌকা। আশেয়ারের যোদ্ধারা আছে ওতে।
ছয়টা নৌকা যোদ্ধাদের নিয়ে তাদের দিকে আসছিল।
থেটান বলল, ওরা আমাদের ধরে ফেলবে।
টারজান বলল, এখন লড়াই করা ছাড়া কোন উপায় নেই।
আশেয়ারের নৌকাগুলো কাছে আসতেই টারজনের সংকেত পেয়ে গ্রেগরির দলের লোকেরা বর্শা আর বন্দুকের গুলি ছুঁড়তে লাগল আশেয়ারের যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে। কিন্তু গুলি করতে অসুবিধে হচ্ছিল ওদের। নৌকাটা দুলছিল। তবু আশেয়ারের যোদ্ধারা অনেকে নিহত হলো। তাদের হাত থেকে ছোঁড়া একটা ছোট বর্শা এসে গ্রেগরিদের একজন নাবিককে বিদ্ধ করল। নাবিকরাও তখন টারজানদের হয়ে লড়াই করতে লাগল।
এমন সময় আশেয়ারের একটা বড় নৌকা জোরে এসে টারজানদের নৌকাটাকে ধাক্কা মারতে সেটা উল্টে গেল। যাত্রীরা সব জলে পড়ে গেল।
আশেয়ারের নৌকাগুলো সব চলে গেলে দেখা গেল সবাই জল থেকে উঠেছে। একমাত্র দার্ণৎ আর হেলেনকে পাওয়া গেল না। থেটান বলল, আশেয়ারের যোদ্ধারা তাদের জল থেকে তুলে তাদের নৌকায় চাপিয়ে নিয়ে পালিয়েছে।
তখন অন্ধকার হয়ে গেছে। লাভাক বলল, এখন ত বাচলাম, এরপর আমাদের ভাগ্যে কি আছে তা একবার ভেবে দেখ।
টারজান বলল, সামনে কি আছে তা আমরা কেউ জানি না। সুতরাং খারাপের মধ্যেও ভালটাই আশা করতে হবে।
আশেয়ার নগরীতে আলো দেখতে পেল ওরা। ওদের নৌকাটা থোবোজের দিকে এগিয়ে আসছিল। থেটান বলল, আশেয়ারের নৌকাগুলোর আলো দূরে মিলিয়ে যাচ্ছে বাঁদিকে। তার মানে নগরে ফিরে যাচ্ছে ওরা।
সারারাত এইভাবে চলার পর সকাল হতে থোবোজের ঘাটে গিয়ে পৌঁছল গ্রেগরিদের নৌকাটা। ঘাটের উপর থেকে মাথায় কালো পালকের উষ্ণীষপরা যোদ্ধারা বিদেশীদের দেখে গর্জন করে উঠল, কে তোমরা?
থেটান উত্তর দিল, রাজা হেরাতের ভাইপো থেটানের বন্ধু এরা।
যোদ্ধাদলের নেতা বলল, বিদেশীদের কোনক্রমে ঢুকতে দেয়া হয় না এই নগরীতে। আগে আমি তোমাদের সবাইকে বন্দী করে নিয়ে যাব রাজার কাছে। পরে রাজা যা করেন তাই হবে।
হেলেন আর দার্ণৎকে প্রথমে আশেয়ারের রাজপ্রাসাদের একটা অন্ধকার ঘরে আটক রাখা হলো।
ওদের দুজনকে দরবার হলে রানীর সামনে নিয়ে যাওয়া হলে আতন থোম আর লাল টাস্ককে মঞ্চের মধ্যে দেখে বিস্ময়ের আবেগে চীৎকার করে উঠল হেলেন। দার্ণৎকে দেখিয়ে বলল, ঐ দেখ।
রানীর সিংহাসনের সামনে ওদের নিয়ে যাওয়া হলে রানী আটকা কড়াভাবে ওদের জিজ্ঞাসা করল, কেন তোমরা এই নিষিদ্ধ নগরীতে এসেছ?
হেলেন বলল, আমার ভাই ব্রিয়ান গ্রেগরির খোঁজে আমরা এসেছি।
রানী আটকা বলল, মিথ্যা কথা। তোমরা হীরকদের পিতাকে চুরি করে নিয়ে যেতে এসেছ।
আতন থোম বলল, মেয়েটির কোন দোষ নেই। ওর সঙ্গীরাই হীরকদের পিতাকে চুরি করে নিয়ে যেতে এসেছে।
দার্ণৎ বলল, মেয়েটিই সত্যি কথা বলছে। ঐ লোকটাই মিথ্যা কথা বলছে। ও-ই হীরে চুরি করতে এসেছে।
রানী আটকা বলল, তোমরা সবাই মিথ্যা কথা বলছ। মেয়েটিকে মন্দিরে নিয়ে যাও। সেখানে ও সেবাদাসীর কাজ করবে। লোকটাকে বন্দী করে রাখগে।
দার্ণৎকে প্রহরীরা নিয়ে যাবার জন্য ধরতে এলে সে নিজেকে ছিনিয়ে নিয়ে হঠাৎ আতন থোমের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তার গলাটা টিপে ধরল।
কিন্তু থোমকে মেরে ফেলার আগেই যোদ্ধারা দাৎকে সরিয়ে দিল জোর করে।
