রাজা প্রধান পুরোহিতকে জিজ্ঞাসা করল, মেয়েটা কি কোন দেবী?
ওদের কথাবার্তা বুঝতে পেরে প্যাট্রিসিয়া বলল, আমি বনদেবতা চের জীবনসঙ্গিনী। তিনি যখন এর আগে এই নগরে এসেছিলেন তখন তোমরা তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করায় তিনি রেগে আছেন তোমাদের উপর। তোমরা যদি বুদ্ধিমান হও তাহলে আমাকে পাঠিয়ে দাও তার কাছে। যদি তা না করো তাহলে তিনি তোমাদের ধ্বংস করবেন।
রাজা মাথা চুলকাতে চুলকাতে জিউকে জিজ্ঞাসা করল, তোমরা ত দেবতাদের চেন। বনদেবতা চে কি চিচেন ইৎজাতে এসেছিল? তোমরা কি সে দেবতাকে কাঠের খাঁচায় ভরে রেখেছিলে? আর সেই দেবতাই বলির মেয়েটাকে চুরি করে নিয়ে যায়?
প্রধান পুরোহিত জিউ বলল, না, সে ছিল একজন মানুষ।
তথাপি আমাদের তাড়াহুড়ো করে কোন কাজ করা উচিৎ হবে না। মেয়েটাকে এখন কুমারীদের মন্দিরে রেখে দাও কিছুকালের জন্য। ..
এই বলে রাজা দু’জন পুরোহিতকে ডেকে প্যাট্রিসিয়াকে কুমারীদের মন্দিরে নিয়ে যেতে বলল, সঙ্গে সঙ্গে আদেশ দিল, তার সঙ্গে যেন ভাল ব্যবহার করা হয়।
প্যাট্রিসিয়া কিছুটা খুশি হলো এই অবস্থায়। সে ভাবল তার কথাগুলো প্রধান পুরোহিত বিশ্বাস না করলেও কিছুটা রেখাপাত করেছে রাজার মনে। যাইহোক কিছুদিনের জন্য অন্তত অব্যাহতি। তাতে টারজান তাকে উদ্ধার করার কিছুটা সময় পাবে অন্তত।
টারজান বনের ভিতর থেকে স্মিৎসদের শিবিরটার অবস্থা দেখতে লাগল। সে ভাবল চারজন সশস্ত্র লোকের সামনে যাওয়া ঠিক হবে না। তার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো জেনেত্তেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া।
গাছপালার আড়ালে লুকিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল। ওরা আরো কাছে এল এবং লস্কররা মালপত্র নামিয়ে রাখলে টারজান প্রস্তুত হলো তার তীর ধনুক নিয়ে।
সহসা টারজনের ধনুক থেকে একটা তীর ছুটে গিয়ে ক্রাউজের বুকে বিঁধল। তীরটা বুকে গাঁথা অবস্থাতেই সামনের দিকে মুখ থুবড়ে পড়ে গিয়ে ক্রাউজ যন্ত্রণায় আর্তনাদ করতে করতে মরে গেল।
অন্য সকলে ভয় পেয়ে গেল। উবানোভিচ বলল, কি হলো?
স্মিৎস বলল, ক্রাউজ মৃত। কেউ তীর মেরেছে বন থেকে।
আব্দুল্লা বলল, টারজান ছাড়া আর কে?
স্মিৎস বলল, কোথায় সে?
টারজান বলল, এই যে এখানে আমি। আমার আরো অনেক তীর আছে। জেনেত্তে, তুমি সোজা আবার বনের ভিতরে চলে এস। কেউ তোমাকে বাধা দিতে এলে তার অবস্থা ক্রাউজের মতই হবে।
জেনেত্তে তাড়াতাড়ি শিবির থেকে বনের ভিতরে চলে এল। তাকে বাধা দেবার জন্য কেউ হাত তুলল না।
স্মিৎস চীৎকার করতে লাগল, আমি তাকে দেখে নেব।
এই বলে সে রাইফেল তুলে টারজনের কণ্ঠস্বর লক্ষ্য করে গুলি করল।
আবার একটা তীর গিয়ে স্মিসের বুকটাকে বিদ্ধ করল। সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল বুকে হাত দিয়ে।
জেনেত্তে তার কাছে আসতেই গাছ থেকে লাফিয়ে পড়ল টারজান। তাকে বলল, শিবিরের অবস্থা কি?
জেনেত্তে যা যা ঘটেছিল সব বলল। টারজান তখন বলল, ওরা তাহলে স্মিৎস আর তার সঙ্গীদের শিবিরে থাকতে দিয়েছিল। কর্নেলের নির্বুদ্ধিতায় আমি আশ্চর্য হয়ে গেছি। এই বলে জেনেত্তেকে কাঁধে তুলে নিয়ে গাছের উপরে উঠে গাছে গাছে ডাল ধরে ধরে শিবিরের দিকে এগিয়ে চলল টারজান।
এদিকে বনের আড়ালে গা-ঢাকা দিয়ে হ্যান্স আর টিবেট যখন স্মিৎসদের শিবিরের কাছে পৌঁছল তখন সে দেখল শিবিরের সামনে দু’জন লোক মরে পড়ে আছে।
আব্দুল্লা হ্যান্স আর টিবেটকে দেখায় সঙ্গে সঙ্গে রাইফেল থেকে গুলি চালাল। কিন্তু কোন গুলিই লাগল না তাদের গায়ে।
হ্যান্স তখন হাঁটু গেড়ে বসে টিবেটকে বলল, তুমি উবানোভিচকে আর আমি আব্দুল্লাকে মারব।
এই বলে তারা গুলি চালাতেই উবানোভিচ ও আব্দুল্লা মাটিতে পড়ে গেল।
কিন্তু জেনেত্তেকে দেখা গেল না শিবিরে। হ্যান্স দেখল, ক্রাউজ, আব্দুল্লা আর উবানোভিচ মরে গেছে। কিন্তু স্মিৎস তখনো যন্ত্রণায় ছটফট করছে। হ্যান্স তাকে বলল, জেনেত্তে কোথায়?
স্মিৎস কোনরকমে বলল, বন্য লোকটা তাকে নিয়ে গেছে।
হ্যান্স বলল, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, সে এখন নিরাপদ।
হ্যান্স আর টিবেটের সঙ্গে যে তিনজন নাবিক এসেছিল তারা সবাই মিলে অস্ত্রশস্ত্রগুলো নিল। বাকি সব মালপত্র স্মিৎসদের লস্করদের শিবির সাইগনে নিয়ে যেতে বলল।
এইভাবে তারা শিবির সাইগনের দিকে রওনা হলো।
এদিকে শিবিরের অবস্থা দেখে বিরক্ত হয়ে উঠল টারজান। সে বলল, শিবিরে ওদের ঢুকতে দেয়া উচিৎ হয়নি।
কর্নেল বললেন, দোষটা আমার। ওরা নিরস্ত্র, একটা নরখাদক সিংহ কাছেই ঘুরে বেড়াচ্ছিল। তাই মানবতার খাতিরে আমি ওদের থাকতে দিই।
এমন সময় স্মিৎসদের শিবির থেকে গুলি বিনিময়ের আওয়াজ শোনা যেতে লাগল।
টারজান বলল, এখন প্যাট্রিসিয়াকে খুঁজে বার করতে হবে। তোমরা ঠিক জান আদিবাসীরা তাকে ধরে নিয়ে গেছে তাদের নগরে?
কর্নেল বললেন, আমি দুটো গুলির শব্দ পেয়ে ছুটে যাই সেইদিকে। কিন্তু একসোজন আদিবাসী যোদ্ধা ঘিরে ফেলে আমাদের। ওদের চারজন আমাদের গুলিতে মারা যেতে ওরা পালিয়ে যায়। তখন আমরা তাদের আর অনুসরণ করতে পারিনি। আমরা প্যাটকে দেখতে পাইনি বটে, তবে মনে হয়। আমাদের সঙ্গে ওদের দেখা হওয়ার আগেই ওকে ওদের একটা দল তাকে ধরে নিয়ে যায়।
এরপর টারজান ইৎজল চাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করল, তোমাদের নগরের লোকরা প্যাট্রিসিয়াকে কি করবে বলত?
