হাতিটা শিবিরের সামনে থামতেই টারজান মেয়েটিকে ধরে নামাল হাতির পিঠ থেকে।
ইৎজল চা ভাবল এরা সবাই দেবতা। তাই তার আর ভয় হলো না।
শিবিরের সকলে বিস্ময়ে এমন অভিভূত হয়ে পড়েছিল যে কেউ কোন কথা বলতে পারল না।
টারজান প্যাট্রিসিয়ার কাছে গিয়ে বলল, আমি আশা করি এই মেয়েটির তুমি দেখাশোনা করবে।
প্যাট্রিসিয়া প্রতিবাদের সুরে প্রশ্ন করল, আমি?
হ্যাঁ তুমি।
কর্নেল তখন টারজানকে বললেন, এ সবের মানে কি স্যার?
টারজান বলল, আমাদের দক্ষিণে এক নগর আছে। ওখানকার লোকেরা নরবলি দেয় ওদের দেবতার কাছে। এই মেয়েটিকে ওরা বলি দিতে যাচ্ছিল। হঠাৎ আমি সেখানে গিয়ে পড়ি। আমি তখন ওকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি।
প্যাট্রিসিয়া বলল, আমিই ওকে দেখব।
কোন বৈচিত্র দেখা গেল না। প্যাট্রিসিয়া ইৎজল চাকে ইংরেজি শেখাতে লাগল। টারজানও ইজ্জলের কাছ থেকে তাদের ভাষা শিখতে লাগল।
টারজান মাঝে মাঝে বনের মধ্যে শিকারে গিয়ে একটা করে বনশুয়োর শিকার করে আনত। সে ছাড়া অন্য কেউ শিকারে যেত না।
এদিকে চিচেন ইৎজা নগরের প্রধান পুরোহিত চান ইপ জিউ তখনো রেগে ছিল প্রচণ্ডভাবে। মন্দির থেকে বলি চুরি হয়ে গেছে। মন্দির অপবিত্র হয়ে গেছে। দেবতারা রেগে যাবেন।
রাজা চিৎ কং জিউ বলল, মনে হয় দেবতা চে-ই তোমার বলিকে নিয়ে গেছে।
প্রধান পুরোহিত বলল, না না বনদেবতা নয়, সেদিন জালন দিন সমুদ্রের ধারে যে সব বিদেশীদের দেখেছিল ও তাদেরই একজন। তুমি একশোজন যোদ্ধা পাঠিয়ে বিদেশীদের শিবির থেকে ইৎজল চাকে ধরে আনাও।
সেদিন সকালে টিবেট কয়েকজন নাবিককে নিয়ে সাইগন জাহাজ থেকে নৌকার জন্য কাঠ সংগ্রহ করতে যাচ্ছিল। তখন শিবিরের অন্য সকলে প্রাতরাশ খাবার জন্য এক জায়গায় জড়ো হয়েছিল।
কর্নেল বলল, প্যাট্রিসিয়া কোথায়?
জেনেত্তে বলল, আমি উঠে তাকে দেখতে পাইনি। তার আগেই সে কোথায় চলে গেছে।
ইৎজল চা বলল, প্যাট্রিসিয়া ও টারজান আলাদা আলাদা সময়ে বেরিয়ে গিয়ে জঙ্গলে মিলিত হয়।
কর্নেল বললেন, প্যাট্রিসিয়া যদি জঙ্গলে যায় তাহলে আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করব টারজান যেন তার পাশে থাকে।
এদিকে প্যাট্রিসিয়া নদীটা ধরে উত্তর-পূর্ব দিকে এগোতে লাগল। ভাবল টারজানও গাছের ডালে ডালে সেই দিক দিয়েই দ্বীপটার অন্য প্রান্তে এগিয়ে চলেছে।
প্যাট্রিসিয়া দেখল তার পাহাড়ী পথটা ক্রমশ উঁচু হয়ে গেছে সামনে। সে ভাবল পাহাড়টায় উঠে দ্বীপটার কোথায় কি আছে ভাল করে দেখবে। উঠতে উঠতে এক জায়গায় গিয়ে ক্লান্ত হয়ে বসে পড়ল প্যাট্রিসিয়া।
এমন সময় ক্রোচ বলল, সমুদ্রের বেলাভূমি দিয়ে যেন কারা আসছে?
বোল্টন বলল, এ যে দেখছি ক্রাউজ আর স্মিৎস আসছে। হা হা, তাদের সঙ্গে উবানোভিচ আর আব্দুল্লাও আছে।
তারা সকলেই তখন খাপ থেকে পিস্তল বার করে নীরবে অপেক্ষা করতে লাগল।
ক্রাউজ শিবিরে তাদের সামনে এসে বলল, আমাদের কোন আগ্নেয়াস্ত্র নেই। দু’জন লোককে আমরা আপনাদের এখানে পাঠিয়েছিলাম। তারা ফিরে যায়নি। আমাদের আরো দু’জন লোককে সিংহতে ধরে নিয়ে গেছে। আপনারা আমাদের এভাবে বিপদের মধ্যে ছেড়ে দেবেন না। দয়া করে আমাদের এই শিবিরে থাকতে দিন। আমরা আপনাদের আদেশ মেনে চলব।
কর্নেল বলল, টারজান ফিরে এলে গোলমাল ও অশান্তির সৃষ্টি হবে।
ক্রোচ বলল, আমার মনে হয় ওদের তাড়িয়ে দেয়া অমানুষিকতার কাজ হবে।
কর্নেল বললেন, অন্তত টারজান ফিরে না আসা পর্যন্ত তোমরা এখানে থাক ক্রাউজ।
ক্রাউজ বলল, ধন্যবাদ কর্নেল। আমরা সত্যিই ভাল ব্যবহার করব।
প্যাট্রিসিয়া কিছুক্ষণ সেখানে বসে থাকার পর আবার কিছুটা এগিয়ে চলল। সেখান থেকে সমুদ্র দেখা যাচ্ছিল। জায়গাটা বড় শান্ত আর সুন্দর। সে ভাবল শিবির থেকে মাঝে মাঝে বেড়াতে আসবে এখানে।
হঠাৎ ঝোপ থেকে একটা বাঘ বেরিয়ে পড়ল তার সামনে। তার লেজটা নাড়ছিল।
তার কাঁধ হতে রাইফেলটা নামিয়ে পর পর দু’বার গুলি করল প্যাট্রিসিয়া।
শিবিরে তখন জেনেত্তে বলছিল, আমার কিন্তু ভাল মনে হচ্ছে না। ওদের থাকতে দেয়া মোটেই উচিৎ হয়নি।
হ্যান্স দ্য গ্রোত্তে বলল, আমি ওদের দিকে নজর রাখব।
এমন সময় ওরা সকলে রাইফেলের দুটো গুলির শব্দ শুনতে পেলেন। কর্নেল বললেন প্যাট্রিসিয়া নিশ্চয় কোন বিপদে পড়েছে।
এই বলে তিনি ঘর থেকে তাঁর রাইফেলটা এনে যেদিক থেকে গুলির শব্দ এসেছিল সেই দিকে ছুটে গেলেন। তাঁর পিছু পিছু রাইফেল হাতে হ্যান্স, ক্রোচ আলজি ও বোল্টনও ছুটে বেরিয়ে গেল।
ওরা সবাই জঙ্গলের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল স্মিৎস ক্রাউজের দিকে ঘুরে বলল, কি মজা। এবার দেখা যাক অস্ত্রশস্ত্র কি আছে। এটা আমাদের সুবর্ণ সুযোগ।
জেনেত্তে তার ঘরে ছুটে গিয়ে তার রাইফেলটা তুলে নিতেই স্মিৎস তাকে বাধা দিল।
ওরা চারজন তখন একে একে সব অস্ত্রশস্ত্র ও রসদ বার করল। তারপর পিস্তল উঁচিয়ে ওদের লস্করদের বাধ্য করল ওদের সব মালপত্র বয়ে নিয়ে যেতে। ক্রাউজ বলল, আমাদের যা যা দরকার সব পেয়ে গেছি।
জেনেতে বাধা দিতে ক্রাউজ তাকে আঘাত করল।
জেনেত্তের সব বাধাদানকে অগ্রাহ্য করে তাকে টানতে টানতে নিয়ে গেল ক্রাউজ।
জালন দিন আর তার একশোজন যোদ্ধা যখন সমুদ্রতীরবর্তী বিদেশীদের শিবিরের দিকে এগিয়ে আসছিল বনের মধ্যে দিয়ে তখন তারা দুটো রাইফেলের গুলির আওয়াজ পায়। কিন্তু বন্ধুদের গুলি সম্বন্ধে কোন ধারণাই ছিল না তাদের, জালন দিন ছিল সবার আগে।
