এদিকে আলেমতেজোর রাজপ্রাসাদের দা সেরা যখন যুদ্ধের প্রস্তুতির ব্যাপারে ব্যস্ত ছিল তখন এক ফাঁকে ক্রাম্প আর মিনস্কি প্রাসাদের বাইরে বনের মধ্যে পালিয়ে যায়।
ওরা আলেমতেজোর যোদ্ধাদের সঙ্গে যাতে দেখা না হয় তার জন্য ঘুরপথে এগিয়ে যাচ্ছিল। এজন্য সারারাত ধরে পথ চলার পর সকালে ওরা রুকুরি পাহাড়ের পাদদেশে গিয়ে পৌঁছল। সেই পাহাড়ের মধ্যেই এক জায়গায় টারজান নামধারী লোকটা, ডাটন আর সান্দ্রা লুকিয়েছিল।
এদিকে সান্দ্রা সেই পাহাড়ের কোলে এক জায়গায় সকাল হতেই জেগে উঠল ঘুম থেকে।
ওরা তিনজনেই আর দেরী না করে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে লাগল।
সান্দ্রা ক্লান্তি আর ক্ষুধাজনিত দুর্বলতায় পথ চলতে পারছিল না। ডাটন খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল।
টারজান নামধারী লোকটা হঠাৎ বলল, মনে হচ্ছে সামনের ঐ বাঁশবনটায় কি একটা বড় জন্তু রয়েছে। দেখি কোন শিকার পাওয়া যায় কি না।
এই বলে সে একটা তীর ছুঁড়ে দিল বাঁশবনটার ভিতরে।
কিন্তু বাঁশবনের মধ্যে মালগাশের বাঁদর-গোরিলাদের দলটা আহার খুঁজছিল; ওরা বুঝতে পারেনি।
একটা বাঁদর-গোরিলার গায়ে তীরটা লাগায় ওরা ক্ষেপে গিয়ে বেরিয়ে এল।
টারজান নামধারী লোকটা বলল, ওরা দেবতার সেবক।
সে বাঁদর-গোরিলাগুলোকে থামতে বলল। বলল আমি হচ্ছি তোমাদের দেবতা। তোমরা থাম। আমার কথা শোন। কিন্তু ওরা থামল না। ওরা ওদের তিনজনকেই আক্রমণ করল ভয়ঙ্করভাবে।
ডাটন বর্শা দিয়ে যাকে আঘাত করল সেই বাঁদর-গোরিলাটা তার বর্শাটা কেড়ে নিয়ে ভেঙ্গে দিল। ডাটন তার বর্শাটা দিয়ে আঘাত করতে সেও সেটা ভেঙে দিল। বাঁদর-গোরিলাগুলো এর পর বর্শার বাট দিয়ে টারজান-নামধারী লোকটার মাথায় জোর আঘাত করায়। সে অচেতন হয়ে পড়ে গেল মাটিতে। তাদের একজন ডাটনকে তুলে নিয়ে ঘাড়ে একটা জোর কামড় দিতে সেও লুটিয়ে পড়ল।
এবার একজন সান্দ্রাকে তুলে নিয়ে পালাতে লাগল।
সারাদিন ধরে অনেক খুঁজেও আহারের কোন সন্ধান পেল না ক্রাম্পরা। রাত্রি হতেই শীতে কাঁপতে কাঁপতে শুয়ে পড়ল তারা দুজনে।
সকাল হলে ক্রাম্প বলল, ঐ দেখ, একটা মানুষ হয়ত ঘুমোচ্ছে।
মিনস্কি বলল, আরে, এই লোকটাই ত টারজান যে মেয়েটাকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল।
এদিকে টারজান নামধারী লোকটা চেতনা ফিরে পেয়ে ততক্ষণে উঠে বসে চারদিকে তাকাচ্ছিল। সে সান্দ্রা আর ডাটনের খোঁজ করছিল। কিন্তু তাদের কাউকে দেখতে পেল না। শুধু দেখল দু’জন শ্বেতাঙ্গ তার দিকেই আসছে।
ওরা কাছে এলে নকল টারজান বলল, তোমরা কি করে এলে এখানে? মিস পিকারেলকে দেখেছ? কোন খবর জান তার?
ক্রাম্প বলল, তুমি আমাদের শিবির থেকে তাকে চুরি করে নিয়ে যাবার পর থেকে তাকে আর দেখিনি।
টারজান নামধারী লোকটা বলল, গতকাল বিকেলে আমরা তিনজনে এইখানে এসে পড়ি। তারপর একদল বাঁদর-গোরিলা আমাদের আক্রমণ করে। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। তারপর কি হয় তা আমি জানি না।
ক্রাম্প বলল, নিশ্চয় মেয়েটাকে তারা নিয়ে গেছে।
এরপর তারা বনের দিকে চলে গেল সান্দ্রার খোঁজে।
সান্দ্রাকে বাঁদর-গোরিলাটা যখন বনের ভিতর দিয়ে কাঁধে করে বয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তখন হঠাৎ তাদের পথে উঙ্গো তার দলবল নিয়ে এসে পড়ে। উঙ্গো দেখল সচো নামে আলেমতেজোর এক বাঁদর-গোরিলা একটা শ্বেতাঙ্গ মেয়েকে নিয়ে পালাচ্ছে।
উঙ্গো সাঁচোর পথরোধ করে দাঁড়াতেই সে তার দলের বাঁদর-গোরিলাদের ডাকতে থাকে। তারা এসে পড়লে দু’দলে আবার লড়াই শুরু হয়ে যায়। সঁচো সান্দ্রাকে নামিয়ে এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে রাখে। সান্দ্রা যখন দেখল দু’দলের সব বাদর-গোরিলারা পরস্পরকে কামড়াচ্ছে এবং ভীষণভাবে মারামারি করছে। তখন সে আর দাঁড়াল না সেখানে। সে চলে গেল।
ক্রাম্প, মিনস্কি আর নকল টারজান একই সঙ্গে আহার আর সান্দ্রার অনেক খোঁজ করেও কিছুই পেল না।
ওরা ঘুরতে ঘুরতে পাহাড়ের মধ্যে একটা খনির কাছে এসে পড়ল। ওরা দেখল খনির মুখটা বেশ বড়। উপর থেকে সিঁড়ি নেমে গেছে ধাপে ধাপে। খনির ভিতরটা পঁচিশ ফুট গভীর এবং খনিটা আধ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত।
নকল টারজনের পাশে ক্রাম্প আর মিনস্কি দাঁড়িয়েছিল। ক্রাম্প আনন্দের আবেগে চীৎকার করে উঠল, খনি সোনার খনি পেয়ে গেছি। দেখ, দেখ।
ক্রাম্প সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেল সঙ্গে সঙ্গে। মিনস্কি তার পিছু পিছু গেল।
সোনার তালগুলোর লোভে উন্মত্ত হয়ে ক্রাম্প এক জায়গায় কুড়িয়ে জড়ো করে রাখতে রাখতে বলল, এগুলো সব আমার।
নকল টারজান আশ্চর্য হয়ে বলল, এগুলো নিয়ে কি করবে?
ক্রাম্প বলল, তুমি একটা বোকা। কি করব? এগুলো ইংলন্ডে নিয়ে গিয়ে বিরাট ধনী হব। এই বলে সে তার গায়ের কোটটা খুলে তার মধ্যে সোনার তালগুলো তুলে রাখতে লাগল।
নকল টারজান বলল, এগুলো বয়ে নিয়ে যাবে কি করে।
ক্রাম্প বলল, কি বলছ তুমি। এগুলো সব খাঁটি সোনা।
নকল টারজান বলল, এ সবে আমার কোন আগ্রহ নেই, এই বলে খনির মুখ থেকে সে চলে গেল।
ক্রাম্প তার কোট ও প্যান্টের মধ্যে সোনাগুলো ভরে একটা পুঁটলি করে বলল, আমার মনে হয় এর বেশি আর বইতে পারব না আমি।
সোনার পুঁটলিটা কাঁধের উপর তোলার চেষ্টা করল ক্রাম্প। কিন্তু মাটি থেকেই সেটা তুলতে পারল না।
অনেক চেষ্টায়ও ক্রাম্প তার পুঁটলিটা কাঁধে তুলতে না পারায় কতকগুলো সোনার তাল ফেলে দিয়ে সেটা কাঁধে তুলল।
