দা সেরা টারজনের সাহস আর অতিমানবিক শক্তি দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিল। কোন মানুষের এত শক্তি ও সাহস থাকতে পারে তা সে কল্পনা করতে পারেনি কোনদিন।
এবার টারজনের কাছে গিয়ে দা সেরা বলল, তুমি আমার জীবন বাঁচিয়েছ। কে তুমি এবং কিভাবে তোমার এ ঋণ আমি পরিশোধ করব?
টারজান বলল, আমি হচ্ছি বাঁদর- দলের টারজান।
দা সেরা বলল, সে ত দু’বছর আলেমতেজোর দেবতা হিসেবে ছিল। এখন চলে গেছে। তার নামই ত টারজান।
টারজান বলল, না, আমিই টারজান। সে হচ্ছে ভণ্ড, প্রতারক, আমার নাম নিয়ে কুকর্ম করে বেড়ায়। তুমি কে?
দা সেরা বলল, আমি আলেম তেজোর সৈন্যদলের প্রধান সেনাপতি অসোরিও দা সেরা। তুমি আমার অতিথি হয়ে এখানে থাকবে।
এবার সে তার সৈনিকদের বলল, এই দেখ, এই বিদেশীই হচ্ছে আসল দেবতা। আগের সেই দেবতা ভণ্ড, প্রতারক।
এ কথায় সবাই নতজানু হয়ে সম্মান দেখাল টারজানকে।
দা সেরা বলল, তুমি আমার ঘরে চল।
এই বলে সে তাকে প্রাসাদের দিকে নিয়ে যেতে লাগল।
এদিকে রাজা দা গামা তার ঘরে বসে একজন ক্রীতদাসকে ডেকে বলল, সে নাকি একটা পাগলা মোষকে ঘায়েল করেছে। দা সেরা তার ঘরে দেবতার সঙ্গে কথা বলছে।
দা গামা বলল, ওদের দুজনকেই ডাক।
এদিকে দা সেরা টারজানকে বলেছিল, তুমি এখানে থেকে যাও। আমি তোমাকে মৃত্যু ও দাসত্ব দুটোর হাত থেকেই রক্ষা করব।
টারজান বলল, তার মানে?
দা সেরা বলল, এখানে বন্দীদের হয় বলি দেয়া হয় অথবা ক্রীতদাস করে রাখা হয়।
টারজান বলল, আমি ও সব কিছুরই ভয় করি না।
দা সেরা বলল, তুমি কি জন্য এখানে এসেছ?
টারজান বলল, আমি এখানে তোমাদের সেই দেবতা ভণ্ড লোকটাকে মারতে এসেছি।
দা সেরা বলল, তুমি আমাদের দেবতাকে মারতে এসেছ? সত্যিই তুমি বীর। কিন্তু মনে কর আমরা যদি সত্যি সত্যিই তাকে দেবতা বলে বিশ্বাস করে থাকি?
টারজান বলল, আমি জানি তুমি, তোমাদের রাজা দা গামা বা প্রধান পুরোহিত রুইজ কেউ তাকে দেবতা বলে বিশ্বাস করে না। লোকটা এখন কোথায়? যে মেয়েটি এসেছি সে-ই বা কোথায়?
দা সেরা বলল, ওরা এখান থেকে পালিয়ে যাবার সময় নিগ্রো মুসলমানদের হাতে ধরা পড়ে। উপত্যকার শেষ প্রান্তে পাহাড়ের তলায় ওদের গাঁ।
টারজান বলল, আমি সেখানে যাব।
দা সেরা বলল, ওরা বড় ভয়ঙ্কর, তোমাকে মেরে ফেলবে।
তবু আমি যাব।
এত তাড়াতাড়ি করার কিছু নেই। তাকে যদি তারা হত্যা না করে থাকে তাহলে তাকে ক্রীতদাস করে রেখেছে। সে ক্রীতদাস হয়েই থাকবে সেখানে। তুমি কিছুদিন আলেমতেজোতে থাকার পর সেখানে যাবে। এখান থেকে তুমি আমাকে সাহায্য করতে পারবে।
টারজান বলল, কিভাবে আমি সাহায্য করব তোমায়?
দা সেরা বলল, দা গামা আর রুইজ দু’জনেই খুব খারাপ লোক। আমরা তাদের জায়গায় এক নতুন রাজা ও প্রধান পুরোহিতকে বসাতে চাই। রাজ্যের লোকেরা তোমাকে তাদের দেবতা বলে বিশ্বাস করলে রাজা দা গামার বিরুদ্ধে তাদের বিদ্রোহী করে তোলাটা কঠিন হবে না।
টারজান বলল, তাহলে তুমি রাজা হবে?
দা সেরা বলল, রাজ্যের সামন্ত আর যোদ্ধারা যাকে রাজা করবে সেই রাজা হবে।
দা সেরার কথা শেষ হতেই একজন দূত এসে বলল, দেবতা আর আপনাকে দরবার ঘরে রাজা ডাকছেন।
দূত টারজানকে দেখেই তাকে দেবতা ভেবে নতজানু হলো।
দা সেরা বলল, রাজাকে বলগে, তিনি যেন দরবার ঘরে রাজ্যের সব সামন্ত আর যোদ্ধাদের ডাকেন যাতে তারা আমাদের আসল দেবতাকে বরণ করে নিতে পারে।
এদিকে নতুন দেবতার কথাটা শোনার পর থেকে ক্ষেপে গিয়েছিল দা গামা। সে বলছিল, এটা দা সেরার চালাকি।
প্রধান পুরোহিত রুইজ তখন বলল, তাহলে কেন তাদের বলছ না যে লোকটা দেবতা নয়, একটা ভণ্ড প্রতারক?
ব্লাজা বলল, সেটা বলবে তুমি। তুমি প্রধান পুরোহিত। তুমি দেখলেই বুঝতে পারবে কে দেবতা বা দেবতা নয়।
দরবার ঘরে গিয়ে দা গামা সিংহাসনে বসল। রুইজ বেদীর সামনে দাঁড়িয়ে বলল, তোমরা সবাই জান, আমাদের আসল দেবতাকে মুসলমানরা ধরে নিয়ে গেছে। সেই আসল দেবতা যদি ফিরে আসে তাহলে কৃতজ্ঞচিত্তে তাকে বরণ করে নেব আমরা। আর যদি সে ভণ্ড হয় তাহলে তাকে দাসত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করা হবে চিরদিনের জন্য অথবা আলেমতেজোর অভিভাবকদের মুখে ফেলে দেয়া হবে।
দরবার ঘরে সমবেত জনতার মধ্যে গুঞ্জনধ্বনি শোনা গেল।
এমন সময় ঘরের মাঝখানে এসে দাঁড়িয়ে দা সেরা বলল, আসল দেবতা এসে গেছেন।
উপস্থিত সকলেই দা সেরা ও টারর্জনের দিকে তাকাতে লাগল।
টারজানকে দেখে অনেকেই নতজানু হয়ে বলল, আসল দেবতা। কেউ কেউ আবার নতজানু হলো না, বলল, ভণ্ড।
দা সেরা আবার বলতে লাগল, তোমরা সবাই দেখেছ এই দেবতা কি ভাবে একটা পাগলা মোষকে থামিয়ে দেয় এবং তার সঙ্গে লড়াই করে তাকে ফেলে দিয়ে বশীভূত করে। কোন মানুষ কখনো এক কাজ করতে পারে ন। আর আমরা যাকে আসল দেবতা ভাবতাম সে ভণ্ড লোকটা নিগ্রো মুসলমানদের হাতে ধরা পড়ে।
এ কথা সামন্ত আর যোদ্ধারা মেনে নিল। তাদের প্রায় সবাই নতজানু হয়ে টারজানকে আসল দেবতা হিসেবে বরণ করে নিল।
রুইজ বলল, ও দেবতা নয়, ভণ্ড।
দা গামা বলল, ওদের দুজনকেই ধরে সিংহের মুখে ফেলে দাও। ওদের মধ্যে একজন ভণ্ড আর একজন বিশ্বাসঘাতক।
এ কথা শুনে রাজার অনুগত একজন যোদ্ধা টারজানকে তার মুক্ত তরবারি দিয়ে আঘাত করতে গেল। কিন্তু টারজান তাকে তুলে মেঝের উপর আছড়ে ফেলে দিল।
