ডাটন বলল, কোন টারজান।
টারজান বলল, টারজান একটাই আছে। অন্য একটা লোক আমার নাম নিয়ে কুকর্ম করে বেড়াচ্ছে। আমি তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি।
ডাটন বলল, তুমিই তাহলে মিস পিকারেলকে উদ্ধার করেছিলে এবং তোমাকেই ক্রাম্প গুলি করেছিল?
টারজান বলল, হ্যাঁ, ক্রাম্প আমায় গুলি করেছিল। সে অত্যন্ত দুষ্ট প্রকৃতির লোক। সে শুধু পুরস্কার আর প্রতিশোধের কথা ভাবছে। আমি তাকে একদিন হাতে পাবই। কিন্তু তুমি একা বনের মধ্যে কি করছিলে?
ডাটন বলল, নিগ্রোভৃত্যরা আমাদের সব খাবার নিয়ে পালিয়েছে শিবির ছেড়ে। তাই শিকার করতে বেরিয়েছি।
টারজান বলল, শিবিরে আর কে কে আছে? ক্রাম্প, মিনস্কি আর গান্ট্র।
ডাটন বলল, হ্যাঁ, কিন্তু তুমি কি করে ওদের নাম জানলে?
টারজান বলল, মেয়েটি আমাকে সব বলেছিল। বলেছিল একমাত্র তোমাকেই সে বিশ্বাস করে।
ডাটন বলল, আমিও ক্রাম্প আর মিনস্কিকে বিশ্বাস করি না। সম্প্রতি গাকেও ভাল মনে হচ্ছে না, কারণ ও প্রায়ই ওদের সঙ্গে চুপি চুপি সলাপরামর্শ করে। ওদের সবার লোভ পুরস্কারটার উপর। এখন আবার ক্রাম্প বলছে রুকুরি পাহাড়ে তাল তাল সোনা আছে।
টারজান বলল, কিন্তু সে সোনা ওরা কোনদিনও পাবে না। মেয়েটি এখন শিবিরে আছে ত?
ডাটন বলল, টারজান নামধারী একজন শ্বেতাঙ্গ কয়েকটা বাঁদর-গোরিলা নিয়ে এসে তাকে আবার চুরি করে নিয়ে গেছে শিবরি থেকে।
টারজান বলল, তোমরা তার খোঁজে বেরিয়েছ?
ডাটন বলল, হ্যাঁ।
টারজান বলল, তাহলে আমরা একই পথের পথিক। আমি আমার নামধারী সেই লোকটাকে খুঁজে বার করবই। আমি তাকে শেষ করব।
ডাটন বলল, তাহলে আমাদের সঙ্গে যাবে।
টারজান বলল, না, আমি একা যাব। তোমার সঙ্গীদের আমার ভাল লাগে না। ওরা আমায় হত্যা করার চেষ্টা করবে পুরস্কারের লোভে।
ডাটন বলল, তাহলে আমি তোমার সঙ্গে যাব। তুমি লোকটাকে খুঁজে বার করবে আর তাহলেই আমি মিস পিকারেলকে খুঁজে পাব। আমার সঙ্গীরা শুধু সোনার খোঁজ করবে। তারা আমাকে সাহায্য করবে না।
টারজান বলল, তুমি ঠিকই বলেছ। তাহলে তুমি আমার সঙ্গে আসতে পারো।
ডাটন টারজনের সঙ্গে যোগ দিল। তখনই যাত্রা শুরু করল ওরা। সেই ফাঁকা জায়গাটা পার হয়ে বনের মাঝে ঢুকে একটা পথ পেল। কিছুদূর গিয়েই একদল বদর-গোরিলা দেখে গুলি করতে যাচ্ছিল ডাটন। কিন্তু টারজান তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, ওরা তোমার কোন ক্ষতি করবে না। ওরা আমার বন্ধু। ওদের আমি বুঝিয়ে বলল।
ডাটন বলল, ক’দিন ধরে আমরা মাংস পাইনি। শুধু কিছু ফল খেয়ে আছি।
টারজান তখনই চলে গলে। কিছুক্ষণ পর সে একটা হরিণ মেরে নিয়ে এসে ডাটনকে বলল, আগুন জ্বালাও।
ডাটন আগুন জ্বালিয়ে তার খাবার মাংসটা আগুনে ঝলসিয়ে সিদ্ধ করে নিল। টারজান বাঁদর গোরিলাদের সঙ্গে কাঁচা মাংস ছুরি দিয়ে কেটে খেয়ে নিল। তা দেখে আশ্চর্য হয়ে গেল সে।
খাওয়ার পর রাত্রি হলে টারজান ডাটনকে বলল, তুমি থাক, এইখানেই শুয়ে পড়। বাঁদর গোরিলাগুলো পাহারা দেবে। কোন বিপদ দেখলে তোমাকে জাগিয়ে দেবে। আমি এক জায়গায় যাচ্ছি। এখনি ফিরে আসব।
এদিকে ক্রাম্প, মিনস্কি আর গান্ট্র শিবিরে ফিরে এসে দেখল ডাটন ফেরেনি। তারা কেউ কোন শিকার পায়নি। সবাই শুধু কিছু করে ফল এনেছিল যোগাড় করে। তাই খেয়ে আগুন জ্বালল শিবির পাহারার জন্য।
ক্রাম্প বলল, ডাটন না আসুক। বাঁচা গেছে।
গান্ট্র বলল, লোকটা কিন্তু ভালই ছিল।
ক্রাম্প গান্ট্রকে বলল, তোমরা শুয়ে পড়। আমি চার ঘণ্টা আগুনের পাশে বসে পাহারা দেব।
কিন্তু ওরা শুয়ে পড়তেই বনের ভিতর থেকে অদৃশ্য অবস্থায় কে ওদের উদ্দেশ্যে বারবার বলতে লাগল, তোমরা ফিরে যাও। বাঁচতে চাও ত ফিরে যাও। তা না হলে মৃত্যু তোমাদের অনিবার্য।
সে রাতে গান্ট্র একটুও ঘুমোতে পারেনি। বনের ভিতর থেকে আসা সেই রহস্যময় কণ্ঠের কথাগুলো শুনে ভয় পেয়ে যায় তারা সবাই।
সকালে উঠে গান্ট্র দেখল ক্রাম্প আর মিনস্কি আগেই উঠে পড়েছে। গান্টু বলল, কাল রাতে শুনেছ? লোকটা কে কিছু বুঝতে পারছ?
ক্রাম্প বলল, ওসব কথা বাদ দাও। এখন আমাদের খাবার নেই। এখনি বার হতে হবে।
গান্ট্র বলল, কোন্দিকে যাবে?
ক্রাম্প বলল, আমরা যাব রুকুরি পাহাড়ের দিকে।
গান্ট্র বলল, তাহলে আমি যাব না।
ক্রাম্প বলল, না যাও, ভালই হবে। একটা লোকের ভাগ বেঁচে যাবে।
গান্ট্র বলল, মরা লোকে কখনো কোন পুরস্কার দিতে বা নিতে পারে না।
ক্রাম্প বলল, এখনি চলে যাও। গান্ট্র তার রাইফেলটা নিয়ে শিবির ছেড়ে দক্ষিণ দিকে রওনা হয়ে পড়ল।
টারজান বাঁদর-গোরিলাদের কাছে ডাটনকে রেখে সে রাতে চলে গেলে ঘুম এল না ডাটনের। বাঁদর গোরিলাগুলোকে টারজনের দলে দেখার পর থেকেই সন্দেহ জাগে ডাটনের। সুতরাং এই মুহূর্তেই চলে যাওয়া ভাল।
এই ভেবে তখনি উঠে পড়ল ডাটন। যে বাঁদর-গোরিলাগুলোর উপর ডাটনের নিরাপত্তার ভার দিয়ে গিয়েছিল টারজান তাদের অনেকে ঘুমিয়ে পড়েছিল। আর যারা জেগে ছিল তারা তত গ্রাহ্য করল না।
টারজান ফিরে এসে ডাটনকে দেখতে না পেয়ে বাঁদর-গোরিলাদের কাছ থেকে সবকিছু জানল। সে তাদের কথা বিশ্বাস করল। কারণ সে জানত পশুরা কখনো মিথ্যা কথা বলে না মানুষদের মত। সে। ডাটনের নাম ধরে বারকতক ডাকল। কিন্তু সাড়া পেল না। সে এগিয়ে বনটার আশেপাশে একবার দেখল। কিন্তু কোথাও কোন সন্ধান পেল না।
