এতক্ষণে বুঝতে পারলাম আমি একটা আস্ত নির্বোধ, বললেন স্যার জন ফলস্টাফ।
সাথে সাথে মিসেস পেজ আর মিসেস ফোর্ড, আপনি শুধু নির্বোধ নন, গোরু-ছাগলের চেয়েও নিকৃষ্ট জীব আপনি। মেয়েদের আপনি কী মনে করেন? জবাব দিতে না পেরে মুখ বুজে রইলেন স্যার জন্য ফলস্টাফ। এর মাঝে স্লেন্ডার এসে জানাল এ্যানি ভেবে সে যাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, গির্জায় পৌঁছে দেখে সে এখানকার পোস্ট মাস্টারের ছেলে। স্লেন্ডারের পেছু পেছু ড. কেইয়াসও হাজির হলেন সেখানে। তিনিও জানালেন সবুজ পোশাক পরা যে মেয়েটিকে তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন, গির্জায় গিয়ে দেখেন সেও একটি ছেলে, সদ্য গোফ গজিয়েছে তার।
এবার অ্যানি পেজ-দম্পতির সামনে এগিয়ে এলেন ফেনটনের হাত ধরে। বাবা-মার দিকে তাকিয়ে বললেন, আমরা পরস্পর পরস্পরকে ভালোবাসি। তোমরা আমাদের বিয়ের অনুমতি দাও।
তাদের উভয়কে বুকে জড়িয়ে ধরে পেজ দম্পতি বললেন, আমরা আশীর্বাদ করছি ঈশ্বর যেন তোমাদের সুখী রাখুন।
পেরিক্লিস, দ্য প্ৰিন্স অব টায়ার
চারদিক দিয়ে সারি সারি পাহাড়ে ঘেরা ছোট্ট একটি রাজ্য–নাম অ্যান্টিওক। সে দেশের রাজার নাম অ্যান্টিওকাস। রাজা ঠিক করেছেন তার রূপসি মেয়ের বিয়ে দেবেন। সেই অপরাপা সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে দেশ-দেশান্তর থেকে রাজা আর রাজপুত্ররা এসে সমবেত হয়েছেন অ্যান্টিওকে। এখানে এসেই তারা শুনলেন বিয়ের এক অদ্ভূত শর্তের কথা। শর্তটা এই — যে রাজকন্যার ধাঁধার সঠিক জবাব দিতে পারবে, রাজকন্যা তাকেই বিয়ে করবেন। আর ধাঁধার সঠিক জবাব দিতে না পারলে মৃত্যুদণ্ড হবে। রাজকন্যাকে বিয়ে করতে এ যাবত কত না রাজা ও রাজপুত্র এসেছে তার ঠিক নেই। তবে ধাঁধার সঠিক জবাব দিতে না পেরে তারা কেউ আর প্রাণে বাঁচেনি।
এবার টায়ারের রাজা পেরিক্লিস এলেন রাজা অ্যান্টিওকের সেই অসামান্যা সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করতে। রাজকুমারীর ধাঁধার সঠিক জবাব দিতে না পারলে তার প্রাণদণ্ড হবে – সে কথা নিজমুখে তাকে বলে দিলেন রাজা অ্যান্টিওক্যাস। মৃত্যুতে ভয় নেই পেরিক্রিসের। তাই এই ভয়ানক শর্তের কথা শুনেও তিনি রাজি হলেন সরাসরি রাজকন্যার সাথে দেখা করতে। এরপর অ্যান্টিওক্যাসের আর বলার কিছুই রইল না। তাঁর আদেশে অন্দরমহলের প্রহরীরা রাজকুমারীকে নিয়ে এসে হাজির করল পেরিক্রিসের সামনে। রাজকন্যার এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন তিনি। রক্ত-মাংসে গড়া কোনও মেয়ে যে এত সুন্দরী হতে পারে তা জানতেন না তিনি। জীবনে এরূপ সৌন্দর্যবতী যুবতির মুখোমুখি হননি তিনি।
রাজকুমারীর একজন সহচরী বললেন, মহারাজ! এবার আমাদের রাজকুমারী আপনাকে একটি ধাঁধা বলবেন তার সঠিক জবাব দিতে হবে আপনাকে। জবাব সঠিক না হলে তার পরিণতি অবশ্যই আপনারা জানা আছে। প্রহরীরা আপনাকে বধ্যভূমিতে নিয়ে যাবে আর জল্লাদ এককোপে আপনার মুণ্ডুটা কেটে ফেলবে। এবার বলুন আপনি কি ধাঁধা শুনতে রাজি আছেন?
পেরিক্লিস বললেন, আমি বুঝতে পারছি না বারবার একই শর্তের কথা বলে লাভ কি। তোমাদের রাজকুমারীকে বল ধাঁধাটা শুনিয়ে দিতে।
রাজকুমারী ধাঁধাটি শুনিয়ে দিলেন। মাথা খাটিয়ে বুদ্ধিমান পেরিক্লিস তার অর্থ ঠিকই বের করলেন তবে তা এতই নোংরা যে কথায় তা প্রকাশ করা যায় না। ধাঁধার সঠিক অর্থ হল অ্যান্টিওক্যাস তার সুন্দরী মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। পেরিক্রিসের বুঝতে বাকি রইল না। এই রূপসী রাজকন্যা আসলে এক ব্যভিচারিণী নারী।
ধাঁধার সঠিক জবাব পেরিক্লিস বুঝতে পেরেছেন জেনে রাজা অ্যান্টিওকাস ভয় পেয়ে গেলেন। বাবা-মেয়ের কুকর্মের কথা জেনে পেরিক্লিস তার মেয়েকে বিয়ে করা তো দূরের কথা, উলটে সবাইকে জানিয়ে দেবেন তার চরিত্রহীনতার কথা। এ ব্যাপারে নিঃসন্দেহ অ্যান্টিওক্যাস। ধাধার সঠিক অর্থ খুজে বের করার পর তার বেঁচে থাকাটা যে রাজার কাছে বিপজ্জনক, সেটা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছেন পেরিক্লিস। তাই রাজা কিছু টের পাবার আগেই তিনি অ্যাস্টিওক ছেড়ে পালিয়ে এলেন নিজ রাজ্য টায়ারে। পেরিক্রিসের পালিয়ে যাবার খবর শুনে রেগে আগুন হয়ে উঠলেন অ্যান্টিওক্যাস। তিনি স্থির করলেন পেরিক্লিস কোনও কিছু রটিয়ে দেবার আগেই তিনি তাকে হত্যা করবেন। অ্যান্টিওকাস তার সভাসদ থেলিয়ার্ডকে ডেকে বললেন, যত তাড়াতাড়ি পারেন। আপনি টায়ারে চলে যান। সেখানে গিয়ে সবার অগোচরে বিষপ্রয়োগে হত্যার ব্যবস্থা করুন পেরিকিসকে। সঠিক ভাবে কাজটা না করতে পারলে আপনিও বাঁচবেন না। দেশে ফিরে এলেই আপনার শিরশ্ছেদ করা হবে।
প্ৰাণ নিয়ে অ্যান্টিওক্যাসের রাজ্য থেকে ফিরে এলেও শান্তি নেই পেরিক্রিসের মনে। কারণ অ্যান্টিওক থেকে টায়ার অনেক ছোটো রাজ্য। ইচ্ছে করলেই সেখানকার রাজা যে কোনও সময় তার বিশাল বাহিনী নিয়ে টায়ার আক্রমণ করতে পারেন। পেরিক্লিস জানেন সেরূপ কিছু ঘটলে তিনি তার দেশ ও প্রজাদের রক্ষা করতে পারবেন না। — কারণ তার এমন সৈন্যবাহিনী নেই যা অ্যান্টিওক্যাসের আক্রমণ ঠেকাতে পারে। পেরিক্লিস তার প্রধান অমাত্য হেলিকেন্যাসকে আদেশ দিলেন, আপনি এখনই বন্দরে গিয়ে সেখানে সেনাবাহিনী নিয়োগ করুন। দূর থেকে কোনও যুদ্ধজাহাজের মাস্তুল দেখা গেলেই আমায় সংবাদ দেবেন। যাবার আগে সেনাপতিকে এখনই আমার কাছে পাঠিয়ে দিন। রাজার নির্দেশ শুনে চমকে উঠলেন হেলিকেন্যাস। তিনি বুঝতে পারলেন কোনও কারণে যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে রাজার মনে। আসল ব্যাপারটা কী তা জানার জন্য তিনি একদৃষ্টি তাকিয়ে রইলেন রাজার মুখের দিকে।
