একদিন আমার মধুকর যখন তার ছোট্ট গোলাপি পদ্মফুলে অনুভূতি জাগাবে, মিনটাকাও তেমনি হবে। টর্ক ঘোষণা করল।
মিনটাকার দেহ কেঁপে উঠল। আরো একবার তার মাথা ঘুরে গেল। সে টর্কের দম্ভের কথা ভেবে এতোটাই আতংকিত হয়ে গেল যে সে প্রায় নাজার পরের কথাটা শুনতে ব্যর্থ হচ্ছিল।
অর্থাৎ সে তোমার হচ্ছে, ভাই, নাজা বলল কিন্তু তার কণ্ঠ বিস্মিত নয়। সে আমার অভিরুচির জন্য খুব দুর্দমনীয় অভদ্র কিন্তু আমি আশা করি তুমি তাকে উপভোগ করবে। তবে তার ব্যাপারে সতর্ক থেকো, টর্ক, তার মধ্যে একটা বন্যতা রয়েছে। তোমার ভাবনার চাইতেও সে বেশি সামলাতে পারে।
আমি শীঘ্রই তাকে বিয়ে করব এবং দ্রুত তাকে বাচ্চা দেব, টর্ক তাকে নিশ্চয়তা দিল। তার পেটের মধ্যে একটা বোঝা নিয়ে সে আরো সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য হবে। কিন্তু পিছনের অনেক বছর ধরে সে আমার নিতম্বের মাংসে আগুন ধরিয়েছে যা তার কচি মিষ্টি রস ছাড়া নিভবে না।
তোমার মাথা তোমার বেশি ব্যবহার করা উচিত এবং তোমার শূল কম। নাজার কণ্ঠ আত্মসমর্পিত। আমরা আশা করি যে আমাদের তোমার এই আবেগের জন্যে অনুশোচনা করতে হবে না। মিনটাকা তার পায়ের নিচের ডেকে কাঁচ ক্যাচ শব্দ শুনল যখন নাজা উঠে দাঁড়াল। তাহলে প্রভু তোমাকে ভালোবাসুক ও রক্ষা করুক। নাজা চলে যেতে উদ্যত হলো। আমাদের দুজনেরই অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। আমাদের কাল আলাদা হতে হবে কিন্তু নীলের বন্যার পর মেমফিসে যে পরিকল্পনা ইতোমধ্যে করা আছে সে বিষয়ে চলো বসি।
*
বালাসফুরা থেকে নদীর ভাটিতে বাকিটা পথ যাওয়ার সময় মিনটাকা টর্কের জাহাজে বন্দী থাকল। জাহাজটা চলার সময় সে স্বাধীন ভাবে ডেকে যেতে পারত, কিন্তু যখন তারা পাড়ে ভিড়তো তখন সে তার কেবিনে বন্দী থাকত এবং দরজায় একজন রক্ষী থাকতো।
প্রায়ই এমন হতো কারণ চলার পথের প্রতিটি মন্দিরে টর্ক তীরে নামত বলীদান দেওয়ার জন্য এবং মন্দিরের দেব বা দেবীকে তার মিশরের সিংহাসনে আরোহণের জন্য ধন্যবাদ দিল। যদিও এটা এখনো কেউ জানত না টর্ক ঐসব প্রভুদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করল যাদের সাথে শীঘ্রই সে তাদের সমকক্ষ হয়ে সর্ব দেবতার মন্দিরে যোগ দেবে।
এসব বাধ্যবাধকতা ছাড়াও নিজেকে মিনটাকার অনুগ্রহ ভাজন করে তোলার জন্য টর্কের প্রয়াস অধ্যবসায়ের সাথে চলল। প্রতিদিন কমপক্ষে সে তাকে একটা চমৎকার উপহার দিত। একদিন সে তাকে একজোড়া খোঁজা না করা ঘোড়া উপহার দিল যা সে জাহাজের ক্যাপ্টেনকে দিয়ে দিল। পরের দিনের উপহারটা ছিল একটা সোনার পাতে মোড়া ও অলংকারে সজ্জিত রথ যা তার পিতা লিবিয়ার রাজার কাছ থেকে দখল করেছিল। মিনটাকা ওটা প্রাসাদের গার্ডদের কর্নেলকে দিল যে অ্যাপেপির বলিষ্ঠ সমর্থক ছিল। অন্যদিনের উপহারটা ছিল পূর্বের থেকে আনা সিল্কের জমকালো রোল এবং আরো একদিন একটা মনিরত্ন খচিত রুপার বাক্স সে পেল যা সে তার দাসীদের মাঝে বিতরণ করে দিল। তারপর যখন তারা তাদের জমকালো পোশাকে সজ্জিত হলো মিনটাকা তাদেরকে টর্কের সামনে হাজির করল। এসব রুচিহীন টুকরোয় দাসদেরই ভালো মানায়, সে অবজ্ঞা ভরে মন্তব্য করল, কিন্তু কোন মর্যাদাসম্পন্ন মহিলাকে নয়।
তবে নতুন ফারাও ছিল নাছোড়বান্দা এবং যখনই তারা নিম্ন রাজ্যের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছিল, সে একটা ঘাসে ঢাকা ও উর্বর জমি নির্দেশ করল যা প্রায় পূর্ব তীরে এক ক্রোশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
ওটা এখন আপনার মহামাননীয়া, আমার তরফ থেকে আপনার জন্য উপহার। এটা আপনার মালিকত্বের দলিল। টর্ক একটা নির্বোধের মতো হাসি দিয়ে দলিলটা তার হাতে তুলে দিল।
মিনটাকা সেদিনই অনুলেখকদের ডেকে পাঠিয়ে ক্রীতদাসদের মুক্ত করার আইন পাস করলো এবং ঐ সম্পত্তির অধীনস্ত সকল দাসদের মুক্ত করে দিল। দ্বিতীয় আরেকটা দলিল করে সকল সম্পত্তি মেমফিসের হাথোর মন্দিরে দান করে দিলো।
যখন মিনটাকা তার সহচারীদের সাথে জাহাজের পিছন দিকে নেচে গেয়ে, বাও খেলে এবং ধাঁধা বলে তার দুঃখ ও বেদনা দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছিল তখন টর্ক চেষ্টা করল তার সাথে খেলায় যোগ দিতে। সে তার সাথে দুজন মেয়েকে নাচতে বাধ্য করল, তারপর মিনটাকার দিকে ঘুরে বলল, আমাকে একটা ধাঁধা দিন, রাজকন্যা! সে অনুনয় করল।
কিসের গন্ধ মোষের মতো, মোষের মতো যা দেখতে এবং যখন গজলা হরিণের সাথে তিরিং বিড়িং লাফায় তখন মেষের মতোই সে করে? সে মিষ্টি করে জিজ্ঞেস করল। মেয়েরা ফিক করে হেসে উঠল।
টর্ক ভ্রুকুটি করল ও উত্তর দিতে না পেরে রাঙা হয়ে উঠল। আমাকে ক্ষমা করুন, এটা আমার জন্য খুব কঠিন। বলে সে ধীর ও দৃঢ় পদক্ষেপে তার অফিসারদের সাথে যোগ দিতে চলে গেল।
পরের দিন সে অপমানটা ক্ষমা করে দিল তবে ভুলল না। তারপর যখন জাহাজটা সামালুত গ্রামে নোঙ্গর করল, সে মিনটাকাকে আনন্দ দেওয়ার জন্যে একটা বিনোদনকারী যাদুকর ও গায়কের দলকে জাহাজে আসতে আদেশ দিলো। একজন যাদুকর ছিল খুব চমৎকার, দ্রুত অনেক কথা বলতে পারত। যাই হোক, তার যাদু ছিল নীরস ও তাতে চাতুর্যতার অভাব ছিল। কিন্তু যখন মিনটাকা জানতে পারল যে দলটি হাথোরের শান্তি চুক্তির সুবিধা নিচ্ছে এবং নদীর উজানে থেবস্ যাচ্ছে এবং সেখানে তারা দক্ষিণের ফারাও-এর রাজসভায় খেলা দেখাবে, মিনটাকা তাদের প্রদর্শনীতে শিহরিত হল, বিশেষ করে ঐ যাদুকরের যাদুতে যার নাম লাসো। প্রদর্শনীর পর সে তাকে তার সাথে শরবত ও মধু মাখা খজুর খাওয়ার। আমন্ত্রণ জানাল। সে যাদুকরটিকে ইশারায় তার পায়ের কাছে রাখা কুশনে বসতে বলল। যাদুকরটি শীঘ্রই তার প্রতি তার ভয় জয় করল এবং আরো কিছু গল্প বলে তাকে আনন্দ দিল, সাথে সাথে সেও আনন্দে শিহরিত হল।
