ভ্ৰষ্টাচার! ইশতার হাহাকার করে উঠল, টর্ক উরুক, এবার তোমার উদ্যোগ নিশ্চিত ধ্বংস হয়ে যাবে। সে নিজেকে রক্তের লেই এর মধ্যে ঢুকিয়ে দিল, এতো ভয়ার্ত যে সে তার চোখ মূর্তিটার দিকে তুলতে পারল না।
একটা ভয়ংকর নিস্তব্ধতা নেমে এল পবিত্র স্থানে। পাথুরে বলির চুল্লীর আগুনের ক্ষীণ পটপট শব্দ যার উপর তারা দাঁড়িয়ে ছিল মনে হল তা বেড়ে গেল।
তারপর একটা শব্দ হলো, নরম কিন্তু সন্দেহাতীত। এটা শ্বাসটানার শব্দ, একটা ঘুমন্ত শিশুর দম টানার মত, কিন্তু তারপর আরো কর্কশ ও শক্তিশালী হতে লাগল। এখন এটা একটা বন্য পশুর শ্বাসে পরিণত হল, তারপর দৈত্যের, যা মন্দিরের মধ্যে প্রতিধ্বনি তুলল। শেষে তা একজন রাগান্বিত প্রভুর হিংস্র তীব্র শব্দ হয়ে গেল, স্বর্গের ঝড়ের গর্জনের ন্যায়, প্রচন্ড বায়ু তাড়িত সাগরের ঢেউ ভাঙার মতন। তার এতো ভয়ানক যে এমনকি ইশতার দি মেডিও শিশুর মতো কাতর স্বরে কেঁদে উঠল।
প্রভু এখন আর কখনো তোমাকে সফল হওয়ার অনুমতি দিবে না। তুমি টাইটা ও তার অনুগ্রহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস করো না যতোদিন ওয়ারলক মারা যায়। ইশতার ফিসফিসিয়ে বলল।
তারপর একটা ভয়ংকর কণ্ঠ কথা বলল এতো রুক্ষ ও অপার্থিব যে এটা টর্কের নার্ভ নাড়িয়ে দিল এবং তাকে কাঁপিয়ে দিল। আমাকে শুনছ! টর্ক উরুক! তুমি নশ্বর মানুষ যে প্রভু মাথার অংশ হতে চাও! বজ্রটা পবিত্র স্থানের অন্ধকার কক্ষে প্রতিধ্বনি তুলল এবং তা দেয়াল থেকে দেয়ালে ঘুরে বেড়াল। তুমি জান যে তুমি কোন প্রভু নও। শুনছো আমাকে, ঈশ্বরে নিন্দুক! যদি তুমি আমার ও আমার প্রতিনিধি ইশতার দি মেডির ভবিষ্যৎ বাণী অবাধ্য করে গালালার দিকে যাও, আমি তোমাকে ধ্বংস করব এবং তোমার আর্মিকেও যেমনটা আমি তোমার অন্য আর্মিদের মরুতে সমাহিত করেছিলাম। এবার তুমি আমার ক্রোধ থেকে পালাতে পারবে না।
যদিও ধূপের কড়াইয়ের বিষাক্ত ধূয়ায় সে বিভ্রান্ত ও মারজুকের রাগে ভয়ার্ত ছিল যা মন্দির পূর্ণ করে দিয়ে ছিল, তবুও টর্ক এখনো যথেষ্ট চতুর ছিল ইশতারের প্রতিবাদের কিছু ভুল অনুভব করার জন্যে, কিছু একটা মারডুকের রাগে বিশ্বাসযোগ্য নয়।
সে তার সাহস একত্রিত করল, যা প্রভুর অতিপ্রাকৃতিক আবির্ভাবে হারিয়ে গিয়েছিল এবং ঠিকভাবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করল যা তাকে থামিয়ে দিয়েছিল। সে বুঝল যে নিষ্ঠুর শব্দ এবং বজের মতো কণ্ঠটা সোনার মূর্তির পেট থেকে আসছিল। সে ওটার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল এবং দেখল যে প্রভুর নাভিতে একটা কালো ফাটল। সে মূর্তিটার দিকে এক পদক্ষেপ আগে বাড়ল এবং ইশতার বিপদসংকেতে তার হাত তুলল এবং চিৎকার করল, সাবধান, ফারাও! প্রভু রাগান্বিত, তার কাছে যাবেন না।
টর্ক তাকে এড়িয়ে গেল এবং সামনে আরেক পদক্ষেপ বাড়ল, প্রভুর পেটের বোতামের দিকে তাকিয়ে রইল। সে ফাটলের গভীরে একটা ক্ষীণ ঝলক দেখল; একটা সঠিক সময় অনুভব করেছে যখন ভাগ্য তার সহায় হয়েছে এবং সে তা এখন অনুভব করল। সে নিজেকে শক্ত করল এবং চিৎকার দিল, প্রভুর শ্বাসের ভয়ংকর আওয়াজের উপর দিয়ে, আমি তোমাকে ত্যাগ করলাম, মারডুক রাক্ষস! আমাকে আঘাত কর, যদি তুমি সক্ষম হও। তোমার মন্দিরের আগুন আমার উপর নিক্ষেপ কর যদি তুমি পার।
সন্দেহ স্পষ্ট হয়ে গেল যখন ঐ ক্ষীণ আলো আবার প্রভুর পেটের ফাটলে দেখা দিল এবং শ্বাসটা দ্বিধাগ্রস্থ হল। টর্ক তার তলোয়ার বের করল, তার ফলার ধারালো অংশ দিয়ে ইশতারকে তার রাস্তা থেকে সরাল। তারপর সে দৌড়ে সামনে গেল, তারপর দ্রুত বেগে দৌড়ে সোনালি মূর্তির পিছনে। সে পিছনটা পরীক্ষা করল, তার ফলার ডগা দিকৈ ধাতুটা আঘাত করল। এটা ড্রামের ন্যায় ফাপা আওয়াজ করল এবং সে আরো নিবিষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করে সেখানে একটা অপসারণ যোগ্য প্যানেল আবিষ্কার করল যা প্রায় নিখুঁতভাবে লাগালো।
একটা লুকানো দরজা! সে গর্জে উঠল। মনে হচ্ছে সে মারজুকের পেটে যা তার মুখ দিয়ে এতোদিন গিয়েছে তার চেয়ে বেশি কিছু।
সে দ্রুত ফিরে এল এবং প্রভুর পেটের ফাটল দিয়ে উঁকি দিল। একটা মনুষ্য চোখ তার দিয়ে চেয়ে আছে। দৃষ্টি বিস্ময়ে প্রশস্ত হয়ে গেল এবং টর্ক একটা বিশাল চিৎকার দিল। ওখান থেকে বেরিয়ে আয়, তুই বিশাল পশুর কীট। সে তার কাঁধ মূর্তি ঘেষে স্থাপন করল এবং তার সব শক্তি দিয়ে ধাক্কা দিল। মূর্তিটা এটার পাথুরে ভিত্তির উপর নড়ে উঠল এবং টর্ক আবার ধাক্কা দিল। ধীরে ধীরে মূর্তিটা নিচে চলে গেল এবং পাথুরে সমতলে বিস্ফোরিত হল। ইশতার চিৎকার দিল এবং লাফিয়ে পথ থেকে সরে এল যখন তা তার উপর পড়ছিল।
প্রভুর মাথা কোনাকুনি হয়ে পড়ে রইল এবং চুরমার সংঘর্ষের পর নিস্তব্ধতায় হাতড়ে বেড়ানোর শব্দ হল, চমকিত ইঁদুরের মতো, পতিত মূর্তির ভেতরে। গুপ্ত দরজা খুলে গেল এবং একটা ছোট দেহ হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে এল। টর্ক ওটাকে ওটার ঘন চুল ধরে টেনে তুলল। দয়া করুণ, মহান রাজা টর্ক, মেয়েটা অনুনয় করল, মধুময় মিষ্টি কণ্ঠে, এটা আমি নয় সে আপনাকে প্রতারণা করার চেষ্টা করেছে। আমি অন্যদের আদেশ পালন করছিলাম। সে এতো সুন্দর একটা শিশু ছিল যে, মুহূর্তের জন্যে টর্ক তার রাগ কম অনুভব করল।
