ক্ষমা করবেন, মাই লর্ড! অন্ধকারে বুঝতে পারিনি কার সাথে কথা বলছি। কাছে এসে বাতিটা উঁচু করে ধরল ছেলেটা।
চিঠির ভাঁজ খুলল থিবল্ট, লেখা:
প্রিয় রাউল,
ভালবাসার দেবী নিশ্চয়ই আমাদের পক্ষে আছে। আগামীকাল একটা বড় শিকারের আয়োজন হয়েছে। সেটায় যোগ দিতে আজ সন্ধ্যায় বেরিয়ে যাচ্ছে ও। তুমি নটার দিকে রওনা দিলে সাড়ে দশটার মধ্যে চলে আসতে পারবে। কোন দিক দিয়ে আসবে সেটা তো তুমি জানোই। পরিচিত একজন তোমাকে আনতে যাবে। তোমার দোষ ধরছি না, তবে মনে হলো গতবার তুমি করিডোরে অনেকক্ষণ ছিলে।
নিচে কোন সই নেই।
কপাল! স্বগতোক্তি করল থিবল্ট।
কিছু বললেন, মাই লর্ড?
কিছুই না, তোমার কাজ শেষ তুমি এখন যেতে পারো।
শুভ যাত্রা, মাই লর্ড। মাথা ঝাঁকিয়ে চলে গেল ছেলেটা।
কপাল! প্রেমের দেবী আমাদের পক্ষে আছে, কোতেসের খ্রিষ্টান নাম জেন, জেনের স্বামী সন্ধ্যায় বেরিয়ে যাচ্ছে, আর ও আমাকে সাড়ে দশটায় আশা করছে। এর বাইরে, কোন পথে যেতে হবে সেটা আমার জানা থাকার কথা। পরিচিত কেউ একজন এসে আমাকে নিয়ে যাবে। দুশ্চিন্তায় কান চুলকাতে লাগল থিবল্ট। ওর শরীরে বন্দী লর্ড ভোপাফোঁকে জিজ্ঞেস করবে নাকি? নাহ, তাতে ঝামেলার সম্ভাবনা আছে। ব্যাটা নিজের শরীরের সাথে যোগ দিতে চাইলে মারামারি লেগে যাবে। তাতে ওর শরীরের কোন ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। অন্য কোন উপায় খুঁজে বের করতে হবে। ও বহুবার শুনেছে ঘোড়ার ইন্দ্রিয় খুব প্রখর। ঘোড়াটাকে নিজের মতো চলতে দিয়ে দেখা যেতে পারে। প্রধান সড়কে এসে তাই মন-গুবের দিকে মুখ করে ঘোড়াটাকে ইচ্ছামতো চলতে দিল ও। ঘোড়াটাও বুঝতে পেরে ছুটতে শুরু করল। পার্কের কোনার কাছে এসে ঘোড়াটা ইতস্তত করতে শুরু করল। কান খাড়া করে ফেলেছে। থিবল্টের মনে হলো দুটো ছায়া দেখতে পেয়েছে। ঘোড়া থামিয়ে আশেপাশে তাকিয়ে অবশ্য আর কিছু দেখতে পেল না ও। সম্ভবত কোন চোরাশিকারি হবে। ঘোড়াটা আবার চলতে শুরু করল। দেয়ালের গা ঘেঁষে নরম মাটির ওপর দিয়ে, যাতে শব্দ না হয় বা খুব কম হয়। বুদ্ধিমান প্রাণীটা জানে এখানে কীভাবে চলতে হবে।
একপর্যায়ে দেয়ালে একটা ভাঙা অংশ চোখে পড়ল। ঘোড়াটা সেই ফাঁক দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ল। একটা সমস্যার সমাধান হয়েছে। চেনা পথে এসে পড়েছে প্রাণীটা। এরপর ওর পরিচিত লোককে খুঁজে বের করতে হবে। আরও মিনিট পাঁচেক চলার পর দুর্গ থেকে একটু দূরে অমসৃণ কাঠ, খড় আর কাদা দিয়ে বানানো একটা কুঁড়ের সামনে এসে দাঁড়াল থিবল্টের বাহন। ঘোড়ার পায়ের আওয়াজ শুনে খুলে গেল দরজা। একটা সুন্দর মেয়ে বেরিয়ে এল, কে, মঁসিয়ে রাউল?
হ্যাঁ, আমি, ঘোড়া থেকে নামতে নামতে বলল থিবল্ট।
মাদাম ভয় পাচ্ছিলেন, মাতাল শস্পেন আপনাকে চিঠিটা ঠিকমতো দিতে পেরেছিল কি না ভেবে।
ভয় নেই। শস্পেন সময়মতোই চিঠি পৌঁছে দিয়েছে।
ঘোড়াটা রেখে চলে আসুন।
ঘোড়াটা দেখবে কে?
খামোজি। ও-ই তো সবসময় দেখে।
ও আচ্ছা, খামোজি দেখবে, এমনভাবে বলল থিবল্ট যেন এটা ওর আগে থেকে জানা।
তাড়াতাড়ি আসুন, নইলে মাদাম আবার অভিযোগ করবেন আমরা করিডোরে বেশি সময় কাটিয়েছি।
রাউলকে লেখা চিঠিতে এ ধরনের একটা কথা ছিল। মনে পড়ল ওর। মেয়েটা মুক্তোর মতো সাদা দাঁত বের করে হাসল। তাই দেখে থিবল্টের ইচ্ছা করল করিডোরে ঢোকার আগে পার্কেই কিছু সময় কাটায়।
হঠাৎ থেমে গেল মেয়েটা। ঘাড় কাত করে কী যেন শোনার চেষ্টা করল।
কী হলো?
কারও পায়ের চাপে ডাল ভাঙার শব্দ শুনলাম বলে মনে হলো।
হয়তো খামোজি।
সে কারণেই, এখানে যা-ই করুন খুব সাবধানে করবেন।
মানে?
আপনি কি ভুলে গেছেন যে আমি খামোজির বাগদত্তা?
হ্যাঁ, হ্যাঁ, অবশ্যইতোমার সাথে একা থাকলেই এসব ভুলে যাই রাণী।
রাণী! এখন আমার নাম হয়ে গেল রাণী? জানতাম না আপনি এতটা ভুললামনের মানুষ, মঁসিয়ে রাউল।
তোমাকে রাণী ডাকলাম কারণ, তুমি মহিলা পরিচারিকাদের রাণী!
সত্যি কথা বলতে কী, মাই লর্ড, আপনাকে সজীব, বুদ্ধিমান একজন মানুষ বলেই জানি। তবে আজ আপনি সব ধারণা ছাড়িয়ে যাচ্ছেন।
এই মন্তব্যে খুশি হলো থিবল্ট।
আশা করি, তোমার মালকিনও তেমনটাই ভাববেন।
সে ব্যাপারে এটুকু বলতে পারি, জিভ সংবরণ করতে পারলেই এইসব কেতাদুরস্ত মহিলারা, পুরুষদের চালাক-চতুর ভাবে।
ধন্যবাদ, পরামর্শটা মনে রাখব।
চুপ! ড্রেসিং রুমের পর্দার আড়ালে মাদাম দাঁড়িয়ে আছেন। আমার পেছন পেছন আসুন।
পার্কের প্রান্ত থেকে দুর্গের সিঁড়ি পর্যন্ত একটা খোলা জায়গা আছে। থিবল্ট সেদিকে এগোতে যেতেই মেয়েটা বাধা দিল।
হাত চেপে ধরে বলল, বোকার মতো কী করছেন?
কী করছি আমি? সুযেত, স্বীকার করছি। আমি আসলেই জানি না কী করছি!
সুযেত! এখন আমার নাম, সুযেত! মঁসিয়ে বোধহয় আমাকে একের পর এক সব রক্ষিতাদের নাম ধরে ডেকেই যাচ্ছেন। রিসেপশন রুম দিয়ে নিশ্চয়ই যাওয়ার চিন্তা করছেন না? তাহলে লর্ড কাউন্টের হাতে ধরা খেতে সময় লাগবে না। এদিক দিয়ে আসুন।
মেয়েটা ছোট একটা দরজা পেরিয়ে প্যাচানো সিঁড়িতে তুলল ওকে। অর্ধেক উঠতেইথিবন্ট সঙ্গীর সরু কোমর জড়িয়ে ধরল।
আমরা করিডোরে চলে এসেছি তাই না? মেয়েটার সুন্দর গালে চুমু খাবার চেষ্টা করতে করতে বলল থিবল্ট।
