–তার নাম মিস মারপল। বর্তমানে তিনি চার নম্বর ম্যাডিসন রোডে বাস করছেন।
ইনসপেক্টর প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো লিখে নিলেন।
-কিন্তু, মিস আইলেসব্যারো, আপনার এই কাহিনীটা একটু অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না কি?
-কাহিনীর সত্যতা যাচাই করার জন্য আপনি স্বচ্ছন্দে মিস মারপলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। শান্ত কণ্ঠে বলল লুসি।
–হ্যাঁ, মহিলার সঙ্গে আমি দেখা করব।
–তাহলে মিস ক্রাকেনথর্পকে আমার বিষয়ে কি বলবেন?
–আপনার প্রশ্নটা ঠিক বুঝতে পারা গেল না।
–আমার বক্তব্য হল, মিস মারপলের সঙ্গে আমার কাজের যে চুক্তি ছিল তা শেষ হয়েছে। অর্থাৎ একটা মৃতদেহ খুঁজে বার করার জন্য তিনি আমাকে নিযুক্ত করেছিলেন, আমি তা করেছি। কিন্তু মিস ক্রাকেনথর্পের কাজে আমি এখনো নিযুক্ত রয়েছি। বর্তমানে বাড়িতে দুজন তরুণ অতিথি রয়েছে।
যে ঘটনা ঘটল, তাতে আরো কিছু লোকের আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই অবস্থায় বাড়িতে গৃহস্থালির কাজে আমার সহযোগিতা অপরিহার্য।
এখন আপনি যদি মিস ক্রাকেনথর্পকে জানান যে মৃতদেহ অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য আমি তার কাছে চাকরি নিয়েছি, তাহলে তিনি হয়তো আমাকে জবাব দিতে পারেন। তা না হলে আমি তাদের প্রয়োজনে লাগতে পারি।
ইনসপেক্টর মনোযোগ দিয়ে লুসির কথা শুনলেন। বললেন, আপনার বক্তব্যের সমর্থন না পাওয়া পর্যন্ত আমি সত্যাসত্য নিরূপণ করতে পারছি না। তাই আপাততঃ কারো কাছেই কিছু আমি বলছি না। আপনি আপনার কাজ আগের মতই চালিয়ে যেতে পারেন।
-ধন্যবাদ। তাই করব আমি।
.
ইনসপেক্টর বেকন বললেন, স্যার, মেয়েটি স্থানীয় বাসিন্দা ছিল না। আমার ধারণা সে বিদেশী।
করোনারের জিজ্ঞাসাবাদ যা হবার তোক, এব্যাপারে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সাহায্য চেয়ে পাঠানো যেতে পারে। বললেন চিফ কনস্টেবল।
–আগামীকালই করোনারের আদালত বসবে। ক্রাকেনথর্প পরিবারের সকল সদস্যই শুনেছি উপস্থিত হবে। এদের মধ্যে কোনো একজন মেয়েটিকে সনাক্ত করতে পারবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
–ক্রাকেনথর্প পরিবারের কজন উপস্থিত হচ্ছে?
নামের একটা তালিকা ইনসপেক্টরের হাতে ছিল। সেটা দেখে তিনি পড়ে শোনালেন–উপস্থিত থাকছে হারল্ড ক্রাকেনথর্প-ইনি লন্ডনের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। কেড্রিক–এ হচ্ছে সেই ছবি আঁকিয়ে, বিদেশে থাকে। আর একজন আলফ্রেড–তার কাজকর্ম বিষয়ে কিছু জানতে পারিনি।
তালিকাটা শোনানো হলে ইনসপেক্টর বেকন বললেন, কিন্তু ট্রেনের সেই অদ্ভুত কাহিনীটা কেন প্রচার করা হল এখনো বুঝতে পারছি না।
–কাজটা তো সেই বৃদ্ধ মহিলার–মিস মারপল না কি নাম, তাঁর সঙ্গে তুমি দেখা করেছিলে? জানতে চাইলেন চিফ কনস্টেবল।
-দেখা করেছিলাম স্যার। ট্রেনে যে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছিল, এবিষয়ে তিনি স্থির নিশ্চিত। আর স্পষ্টই স্বীকার করলেন, মৃতদেহটি খুঁজে বার করার জন্য তিনিই সেই তরুণী আইলেসব্যারোকে নিযুক্ত করেছিলেন।
-খুবই চমকপ্রদ ব্যাপার। বললেন চিফ কনস্টেবল, ওই মিস জেন মারপল, নামটা আগে শুনেছি বলে মনে হচ্ছে। ইয়ার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করলে হয়তো জানা যাবে।
.
করোনারের বিচার অনুষ্ঠানে লুসির সাক্ষ্য নেওয়া হল। ডাক্তারের রিপোর্টও হাজির করা। হল। কিন্তু কেউ মৃত মেয়েটিকে সনাক্ত করতে পারল না।
ক্রাকেনথর্প পরিবারের মোট পাঁচজন উপস্থিত ছিল। এমা, কেড্রিক, হারল্ড, আলফ্রেড এবং ব্রায়ান ইস্টালি।
এই পরিবারের মৃতকন্যা এডিথের স্বামী ব্রায়ান ইস্টালি। এদের সঙ্গে ছিলেন, পরিবারের আইন সংক্রান্ত উপদেষ্টা সলিসিটর ফার্মের প্রধান মিঃ উইমবোর্ন।
সমস্ত ব্যাপারটা ক্রাকেনথর্প পরিবারের কাছে খুবই দুঃখজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই অনতিবিলম্বেই এর ঝামেলা মেটাবার জন্য মিঃ উইমবোর্ন বাড়িতে ইনসপেক্টরের সঙ্গে একটা সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করেছিলেন।
করোনারের বিচার সভা থেকে ফিরে সকলে পড়ার ঘরে উপস্থিত হলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইনসপেক্টর বেকন এবং স্কটল্যান্ডইয়ার্ড থেকে আগত ডিটেকটিভ ইনসপেক্টর ডারমট ক্রাডক।
পরিচয় পর্ব সম্পূর্ণ হলে ক্রাডক মিঃ উইমবোর্নকে বললেন, শুনেছি আপনি ক্রাকেনথর্প পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাই আপনাকে জানানো উচিত বলে মনে করছি। মৃত স্ত্রীলোকটিকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এটা খুবই স্বাভাবিক। কেননা সে স্থানীয় বাসিন্দা ছিল না। সে এসেছিল লন্ডন থেকে, আর আমরা অনুমান করছি, সে এসেছিল ফ্রান্স থেকে।
মিঃ উইমবোর্ন বললেন, ব্যাপারটা আমাদের পরিবারের পক্ষে খুবই দুর্ভাগ্যজনক হয়ে উঠেছে। অথচ পরিবারের কেউই ব্যক্তিগতভাবে ব্যাপারটার সঙ্গে জড়িত নয়।
তবুও পরিবারের প্রত্যেক সদস্যোর সঙ্গে আমি কিছুক্ষণ কথা বলতে চাই। আর আশা করছি, এই বাড়ি এবং পরিবারের সম্পর্কে আপনি আমাদের ওয়াকিবহাল করতে পারবেন।
মিঃ উইমবোর্ন অনিচ্ছা সত্ত্বেও বলতে লাগলেন, এই বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন লব্ধ প্রতিষ্ঠ ব্যবসায়ী জোসিয়া ক্রাকেনথর্প, ১৮৮৪ সালে। ব্যবসার সূত্রে প্রচুর বিত্ত সম্পদের অধিকারী হয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে তার বড় ছেলে লুথার ক্রাকেনথর্প এই বাড়িতে বাস করছেন।
–শুনেছি মিঃ লুথার ক্রাকেনথর্পের আরেক ভাই ছিল?
–হ্যাঁ। তিনি ১৯১১ সালে মোটর দুর্ঘটনায় মারা যান।
