–এই বাড়ি এবং সম্পদের বিষয়ে কোনো উইলপত্র নিশ্চয়ই আছে।
-তা আছে। মিঃ জোসিয়া ক্রাকেনথর্প তার বিশাল সম্পত্তি ট্রাস্টের হাতে দিয়ে গেছেন। উইলের শর্ত অনুযায়ী, লুথার যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন সঞ্চিত বিত্ত থেকে অর্জিত আয় তিনি পাবেন। লুথারের মৃত্যুর পর সমস্ত বিত্ত তার সন্তানদের অর্থাৎ এডমান্ড, কেড্রিক, হারল্ড, আলফ্রেড, এমা এবং এডিথের মধ্যে সমান ভাবে বণ্টন করা হবে। এডমান্ড যুদ্ধে মারা গেছে। সম্পত্তির ভাগিদার বর্তমানে কেড্রিক, হারল্ড, আলফ্রেড, এমা এবং এডিথের ছেলে আলেকজান্ডার। বাড়িটার বিষয়ে শর্ত হল, এটা পাবে লুথারের জীবিত ছেলেদের মধ্যে যে জ্যেষ্ঠ অথবা তার সন্তান।
–এডমান্ড ক্রাকেনথপই তো মিঃ লুথারের জ্যেষ্ঠপুত্র, তাই তো?
–হ্যাঁ।
–তিনি কি বিবাহিত ছিলেন?
–না।
–তাহলে বাড়িটা পাচ্ছে দ্বিতীয় ছেলে কেড্রিক?
–হ্যাঁ।
মিঃ লুথার ক্রাকেনথর্প এবাড়ি বিক্রি করতে পারবেন না?
-না। কেবল তাই নয়, উইল অনুযায়ী, মূলধনের ওপরে তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বললেন মিঃ উইমবোর্ন।
-বাপ ছেলের ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন না বোঝা যাচ্ছে। বললেন ক্রাডক।
-আপনার অনুমান ঠিক। পারিবারিক ব্যবসায়ে জ্যেষ্ঠ পুত্রের অনাগ্রহ লক্ষ্য করে বৃদ্ধ জোসিয়া হতাশ হয়েছিলেন। তাই তিনি তাঁর বিত্ত পরবর্তী বংশধরদের জন্য ট্রাস্টের হাতে তুলে দেন।
–কিন্তু লুথার যতদিন জীবিত থাকছেন, ততদিন জীবিত বংশধররা সম্পত্তি থেকে কিছুই পাচ্ছেন না। নিজেদের রোজগারের ওপরই তাদের নির্ভর করতে হচ্ছে।
–কিন্তু, আমি বুঝতে পারছি না, বিরস কণ্ঠে বললেন মিঃ উইমবোর্ন, একজন অজানা বিদেশী মহিলার মৃত্যুর সঙ্গে ক্রাকেনথর্প পরিবারের এসব বিবরণের কি সম্পর্ক থাকতে পারে।
–আপাততঃ সম্পর্ক নেই বলেই মনে হচ্ছে, সতর্ক কণ্ঠে বললেন ক্রাডক, তবে কথাগুলো অনাবশ্যক নয়। যাইহোক, মিঃ উইমবোর্ন, আপনাকে ধন্যবাদ। আপাততঃ আর কিছু জানার নেই। লাঞ্চের পরে ধরুন দুটো পনেরো নাগাদ, ইনসপেক্টর বেকন এবং আমি আবার আসব। পরিবারের সকল সদস্যোর সঙ্গে আলাদাভাবে কিছুক্ষণ কথা বলব। মৃত স্ত্রীলোকটিকে সনাক্তকরণের বিষয়ে কারো কাছ থেকে হয়তো কোনো সূত্র পাওয়া যেতে পারে।
.
করোনারের বিচার সভা থেকে ফিরে এসে লুসি লাঞ্চের রান্না ইত্যাদি প্রস্তুতির কাজে মনোযোগ দিয়েছিল।
সেই সময় বিপত্নীক ব্রায়ান ইস্টালি রান্নাঘরে এসে তার সঙ্গে গল্প জুড়ল।
নিঃসঙ্গ এই মানুষটির বয়স চল্লিশের কাছাকাছি। সে কিশোর আলেকজান্ডারের পিতা। কর্মক্ষেত্রে বিমানচালনার দক্ষতার জন্য ডি এফ সি মেডেল দ্বারা সম্মানিত।
লুসি কাজের ফাঁকে গল্প করতে করতে লোকটিকে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করার চেষ্টা করল। যথাসময়ে লুসির চমৎকার রান্নার প্রশংসার মধ্য দিয়ে লাঞ্চপর্ব সমাধা হল।
পুলিস অফিসার দুজন নির্দিষ্ট সময়েই ফিরে এলেন। কাজেই লাঞ্চের অব্যবহিত পরেই লাইব্রেরি ঘরে পরিবারের সকল সদস্যকে একে একে তাদের সামনে বসতে হল।
ইনসপেক্টর ক্রাডক প্রথমে কথা বললেন কেড্রিক ক্রাকেনথর্পের সঙ্গে।
ভদ্রলোক বেলিয়ারিকমের ইডিজাতে বিগত ছবছর ধরে আছেন। পেশায় চিত্রশিল্পী। ক্রিসমাস উপলক্ষে দিন কয়েক আগেই তিনি একবার দেশে এসেছিলেন। এবারে এমির তার পেয়ে আবার চলে এসেছেন। খুনের ঘটনার ব্যাপারে পুলিসি হাঙ্গামার সময় এমিকে পাশে থেকে সহযোগিতা করার জন্য।
কেড্রিক জানাল, মৃত স্ত্রীলোকটিকে সে আগে কখনো দেখেনি। এবাড়ির সঙ্গেও কোনোকালে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না।
কেড্রিকের পরে ডাক পড়ল হারল্ড ক্রাকেনথর্পের। ভদ্রলোক লন্ডনের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।
ইনসপেক্টরের জিজ্ঞাসাবাদের জবাবে সে-ও জানাল মেয়েটির কোনো পরিচয় বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই। ব্যাপারটাকে সে পরিবারের পক্ষে অপ্রীতিকর এবং দুর্ভাগ্যজনক মনে করে।
তৃতীয় ব্যক্তি আলফ্রেড ঘরে ঢুকলে তাকে দেখে ক্রাডকের সন্দেহ হল, পত্রিকায় তার ছবি কোনো সময় তার চোখে পড়ে অথবা কোথাও দেখেছেন।
যাইহোক, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোনো লাভ হল না।
এরপর এমা এবং লুথার ক্রাকেনথপের সাক্ষাৎকারও শেষ হল।
ইনসপেক্টর বেকন বললেন, বোঝা যাচ্ছে যাদের সঙ্গে আমরা কথা বললাম, এদের কারও সঙ্গেই খুনের কোনো সম্পর্কে নেই। যদি থাকত, তাহলে এভাবে নিজেদের বাড়ির চৌহদ্দিতে মৃতদেহটা রেখে দিত না।
ইনসপেক্টর ক্রাডক বললেন, তাহলে আপাততঃ হ্যাঁম্পটনেই ফেরা যাক।
তিনি অবশ্য মনে মনে ভাবলেন, তার পুরনো পরিচিত মানুষটির সঙ্গে একবার দেখা করবেন।
.
০৭.
ইনসপেক্টর ক্রাডককে দেখে মিস মারপল বললেন, আপনি এ কেসের দায়িত্বে নিযুক্ত হয়েছেন বলে আমি খুশি হয়েছি। আপনার ধর্মপিতা স্যার হেনরি ক্লিদারিং আমার হিতৈষী বন্ধু। এখন কতটা কি জানতে পারলেন শোনা যাক।
-আপনার বন্ধু মিসেস ম্যাকগিলিকার্ডির বিবৃতি, রেলের টিকিট কালেক্টার এবং ব্র্যাকহ্যাম্পটনের নোট সবই আমি পেয়েছি। রেলওয়ে ও পুলিস অনুসন্ধান চালিয়েও কাহিনীর কোনো সমর্থন পায়নি।
তাই সকলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ঘটনাটা এক বয়স্কা মহিলার কল্পনা ছাড়া কিছু নয়। কিন্তু আপনার অনুমান পদ্ধতি সকলের বুদ্ধিকেই টেক্কা দিয়েছে।
একটু থেমে ক্রাডক আবার বললেন, আপনার অভাবনীয় কল্পনাকে আর একটু প্রসারিত করলেই তো আমার মনে হয় হত্যাকারীরও একটা হদিস মিলে যেতে পারে।
